📄 ইসলামী খেলাফত
وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي يُشْرِكُونَ ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّ لَنَّهُمْ مِّنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا بِي شَيْئًا ۖ وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُوْنَ . وَأَقِيمُوا الصلوة و أتُوا الزَّكوةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ .
অনুবাদঃ তোমাদের মধ্যকার ঐ সকল লোক যারা ঈমান এনেছে ও সৎ কর্ম সম্পাদন করেছে, তাদের প্রতি আল্লাহ পাক ওয়াদা করেছেন এই মর্মে যে, (১) তাদেরকে তিনি অবশ্য অবশ্য পৃথিবীতে খেলাফত দান করবেন। যেমন তিনি পূর্ববর্তীদেরকে দান করেছিলেন (২) তিনি অবশ্য অবশ্য তাদের দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা দান করবেন, যার উপরে তিনি রাযী হয়েছেন মুমিনদের জন্য (৩) এবং তিনি অবশ্য অবশ্য তাদেরকে ভীতির পরিবর্তে শান্তি দান করবেন। তারা যেন আমার ইবাদত করে এবং আমার সাথে অন্য কিছুকে শরীক না করে। যারা এর পরে কুফরী করবে (অর্থাৎ খেলাফত প্রাপ্তির উক্ত নে'মতের না-শোকরী করবে), তারা ফাসেক' (নূর ৫৫)। তোমরা ছালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হ’তে পার (৫৬)।
শানে নুযূলঃ রবী' বিন আনাস আবুল ‘আ-লিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবীগণ মক্কায় দশ বছর গোপনে দাওয়াতী কাজে অতিবাহিত করেন। এই সময় তাঁরা সর্বদা ভয়ের মধ্যে থাকতেন। তাদেরকে লড়াইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং কাফির-মুশরিকদের অত্যাচারে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর তাদেরকে হিজরতের অনুমতি দেওয়া হয় এবং তাঁরা মদীনায় অবস্থান গ্রহণ করেন। সেখানে তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এখানেও তাদেরকে সর্বদা অস্ত্র সাথে নিয়ে দিবারাত্রি অতিবাহিত করতে হ'ত এবং সর্বদা জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ভয় ও ত্রাসের মধ্যে থাকতে হ'ত। একদিন জনৈক ছাহাবী রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আমরা যুগ যুগ ধরে এইরূপ ভয়ের মধ্যে কাটাব? এমন দিন কি আসবে না যেদিন আমরা নিরাপদ হবো ও অস্ত্র ত্যাগ করব? তখন এই আয়াত নাযিল হয়। যেখানে তাদেরকে আরব-আজমের উপরে খেলাফত প্রদানের নিশ্চিত ওয়াদা করা হয়। যেমন ইতিপূর্বে খেলাফত দান করা হয়েছিল হযরত দাউদ ও সুলায়মান (আঃ)-কে সমগ্র পৃথিবীর উপরে এবং বনু ইসরাঈলকে মিসর, শাম প্রভৃতি অঞ্চলের উপরে'। এভাবে ভীতির বদলে নিরাপত্তা এবং অস্থিতির বদলে স্থিতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। মুসলমানগণ পৃথিবীতে চালিতের বদলে চালকের স্থান দখল করে। ফালিল্লা-হিল হাম্দ।
ব্যাখ্যাঃ আল্লাহ পাক অত্র আয়াতে মুসলমানদেরকে তিনটি বিষয়ে ওয়াদা দান করেছেন। যেখানে শেষের দু'টিকে প্রথমটির বাস্তব ফল বলা যেতে পারে। (১) পৃথিবীর শাসন ক্ষমতা প্রদান করা (২) ইসলামকে বিজয়ী দ্বীন হিসাবে প্রতিষ্ঠা দান করা (৩) ভীতির বদলে শান্তি দান করা।
আল্লাহ্র এই ওয়াদা খেলাফতে রাশেদাহ্র ত্রিশ বছরের শাসনকালে পূর্ণতা লাভ করেছে বলে অধিকাংশ মুফাসসির মত প্রকাশ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পুণ্য হাতে মক্কা, খায়বর, বাহরায়েন, হাযারামাউত, ইয়ামন ও সমগ্র আরব উপত্যকা বিজিত হয়। এমনকি হিজরের অগ্নি উপাসক ও দক্ষিণ সিরিয়ার মৃতা সহ কতিপয় এলাকা থেকে তিনি জিযিয়া কর আদায় করেন। রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াস, মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়ার সম্রাট মুকাউকাস, ওমানের শাসকবর্গ ও আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশী প্রমুখ তৎকালীন পৃথিবীর সেরা ক্ষমতাগর্বী রাজন্যবর্গ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দরবারে সম্মানসূচক উপঢৌকনাদি প্রেরণ করেন (ইবনু কাছীর)। তাঁর ওফাতের পরে ১ম খলীফা আবুবকর ছিদ্দীকু (রাঃ) পারস্য, সিরিয়া ও মিসর অভিমুখে সৈন্য পরিচালনা করেন। ইরাকের বছরা ও সিরিয়ার দামেস্ক নগরী তাঁর আমলেই বিজিত হয় এবং অন্যান্য দেশেরও কিছু কিছু এলাকা ইসলামী খেলাফতের অধীনে চলে আসে। আবুবকর (রাঃ)-এর মাত্র আড়াই বছরের খেলাফত কাল (১১-১৩হিঃ/৬৩২-৬৩৪খৃঃ) শেষে তাঁরই মনোনয়নক্রমে ওমর ফারুক (রাঃ) পরবর্তী খলীফা নিযুক্ত হন। তিনি খলীফা হয়ে শাসন ব্যবস্থা এমন সুবিন্যস্ত করেন যে, নবীগণের পরে পৃথিবী এমন সুন্দর ও সুশৃংখল শাসন ব্যবস্থা আর কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। ওমর (রাঃ)-এর দশ বছরের খেলাফতকালে (১৩-২৩হিঃ/৬৩৪-৬৪৪খৃঃ) সিরিয়া ও ইরাক পুরোপুরি বিজিত হয়। সমগ্র মিসর ও পারস্যের অধিকাংশ তাঁর করতলগত হয়। তাঁর হাতে তৎকালীন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি রোম সম্রাট 'কায়ছার' ও পারস্য সম্রাট 'কিসরা'-র সাম্রাজ্য সমূলে নিশ্চিহ্ন হয়। সিরিয়া, জর্ডান, প্যালেষ্টাইন ও মিসরের বিস্তীর্ণ ভূভাগ নিয়ে গঠিত বাইজান্টাইন বা রোমান সাম্রাজ্য পূর্ণভাবে দখলীভূত হয়। এতদ্ব্যতীত আলজেরিয়া, ফিলিস্তীন, আর্মেনিয়া, সাইলিসিয়া এবং আফ্রিকার বার্কা, ত্রিপোলী প্রভৃতি অঞ্চলে ইসলামী খেলাফত প্রসারিত হয়。
ওমর (রাঃ)-এর পরে ওছমান (রাঃ) খলীফা হন। তাঁর ১২ বছরের খেলাফতকালে (২৩-৩৫হিঃ/৬৪৪-৬৫৬ খৃঃ) ইসলামী হুকুমতের সীমানা আরও প্রসার লাভ করে। মুসলিম সেনাবাহিনী একদিকে যেমন কিরমান, মাকরান, সিজিস্তান, হিরাট, কাবুল, গযনী প্রভৃতি এলাকা দখল করে। অন্যদিকে তেমনি আর্মেনিয়া, ত্বাবারিস্তান ও তিফলিশ অধিকার করে কাস্পিয়ান সাগরের পূর্ব তীর এবং উত্তরে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত পদানত করে। এই সময় নবগঠিত নৌবাহিনীর সাহায্যে সাইপ্রাস দ্বীপ দখলীভূত হয়। এইভাবে ওছমান (রাঃ)-এর শাসনকালে ইসলামী খেলাফত শুধু প্রাচ্যেই বিস্তৃতি লাভ করেনি বরং পাশ্চাত্যেও বিস্তৃতি লাভ করে। আলী (রাঃ)-এর ছয় বছরের খেলাফত কাল (৩৫-৪০হিঃ/৬৫৬-৬৬১খৃঃ) মূলতঃ গৃহযুদ্ধেই অতিবাহিত হয়।
অতঃপর উমাইয়া, আব্বাসীয় ও ওছমানীয় খেলাফত কালে বলা চলে যে, সমগ্র এশিয়া মহাদেশ এবং ইউরোপের স্পেন ও বলকান অঞ্চলের কিছু অংশে ইসলামী খেলাফত সম্প্রসারিত হয়। যা ১৯২৪ সালে তুরষ্কের সুলতান ৬ষ্ঠ মুহাম্মাদ-এর পতনের ফলে বিলুপ্ত হয়। ইসলামের চিরশত্রু ইহুদী-খৃষ্টানদের চালান করা মতবাদ তথাকথিত গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মিথ্যা মোহে ভুলে তুরস্কের মুসলমানরা নিজেদের হাতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত খেলাফতকে ধ্বংস করে। পৃথিবী থেকে ইসলামী খেলাফতের বিধ্বস্তি শেষে ইতিমধ্যে ৮০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। অথচ এখনও মুসলমান জেগে ওঠেনি। বরং আজও তারা মুসলিম ইমারত ও খেলাফতকে হত্যাকারী তথাকথিত গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ধোঁকাবাজির মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে।
আলোচ্য আয়াতটি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নবুওয়াতের যথার্থতার অন্যতম প্রমাণ। আয়াতের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী খেলাফতে রাশেদাহ্র স্বর্ণযুগে নবুওয়াতের আদলে খেলাফত প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অতঃপর এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকায় ইসলামী খেলাফত সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে পৃথিবীর ৫৬টি দেশে মুসলমানদের শাসন কায়েম রয়েছে। যদিও ইসলামী শাসন ও আইন বিধান অধিকাংশ দেশেই নেই।
আয়াতটি কেবলমাত্র খেলাফতে রাশেদাহ বা ছাহাবায়ে কেরামের যামানার জন্য খাছ নয়। বরং সকল যুগের মুসলিম উম্মাহ্র জন্য 'আম। সর্বযুগে পৃথিবীর সর্বত্র বা যেকোন প্রান্তে মুসলমানগণ এই শক্তি ও ক্ষমতা লাভ করতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, لا يَبْقَى عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ كَلِمَةَ الاسلام، بِعِزٌ عَزِيزِ وَذُلِّ ذَلِيْلٍ إِمَّا يَعُزُّهُم اللَّهُ فَيَجْعَلُهُمْ مِّنْ أَهْلِهَا، أَو يُذِلُّهُمْ فَيُدِينُونَ لَهَا، قُلْتُ: فَيَكُونُ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ 'ভূপৃষ্ঠে এমন কোন মাটির ঘর বা ঝুপড়িও থাকবে না, যেখানে ইসলামের কলেমা প্রবেশ করবে না। হয় তারা ইসলাম কবুল করে সম্মানিত হবে, নয় কবুল না করে অসম্মানিত হবে ও ইসলামের আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য হবে। এইভাবে আল্লাহ্ দ্বীন পরিপূর্ণতা লাভ করবে'। অত্র হাদীছ ইসলামের বিশ্বব্যাপী প্রসারের সাথে সাথে তার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক বিজয়ের ইঙ্গিত বহন করে।
'আদী বিন হাতেম (রাঃ) একটি প্রতিনিধি দল নিয় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দরবারে আগমন করলে রাসূল (ছাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি 'হীরা' নামক স্থানটি চেন? তিনি বললেন, না। তবে নাম শুনেছি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيُتِمَّنَّ اللَّهُ هذَ الأَمْرَ حَتَّى تَخْرُجَ الظَّعِينَةُ مِنْ الْحَيْرَةِ حَتَّى تَطُوْفَ بِالْبَيْتِ فِي غَيْرِ جَوَارٍ ..... জীবন, তাঁর কসম করে আমি বলছি, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তাঁর এই শাসনকে পূর্ণতা দান করবেন। এমনকি অবস্থা এমন শান্তিময় হবে যে, হীরা থেকে একজন গৃহবধূ একাকী নিঃসঙ্গ অবস্থায় মক্কায় আসবে ও বায়তুল্লাহ্র ত্বাওয়াফ শেষে পুনরায় নিঃসঙ্গ অবস্থায় নিরাপদে ফিরে যাবে। কিসরা বিন হুরমুযের ধনভাণ্ডার বিজিত হবে এবং তা বিতরণ করা হবে এত বেশী পরিমানে যে, অবশেষে নেওয়ার লোক পাওয়া যাবে না। 'আদী বলেন, হীরা থেকে নিঃসঙ্গ কুলবধুকে একাকী এসে বায়তুল্লাহ্র যেয়ারত করতে দেখেছি এবং কিসরা বিন হুরমুযের সিংহাসন ও ধনভাণ্ডার বিজয়ে আমি নিজেই শরীক ছিলাম। এখন বাকী রইল তৃতীয়টি। সেটা নিশ্চয়ই বাস্তবতা লাভ করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সেটার কথা বলেছেন (অর্থাৎ পৃথিবীর সর্বত্র ইসলাম বিজয় লাভ করা)।
وَالله لَيُتِمَّنَّ اللهُ هَذَا الْأَمْرَ حَتَّى يَسِيرَ الرَّاكِبُ مِنْ صَنْعَاءَ إِلَى حَضَر مَوْتَ - (ইসলামী) শাসন পূর্ণতা লাভ করবে। এমনকি ছান'আ থেকে হাযারামাউত পর্যন্ত একজন সওয়ারী একাকী ভ্রমণ করবে। কিন্তু আল্লাহ ব্যতীত সে কাউকে ভয় পাবেনা। তবে ভয় পাবে তার ছাগল পালের উপরে নেকড়ের আক্রমনের। কিন্তু তোমরা খুব ব্যস্ততা প্রকাশ করছ'।
অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِي الْأَرْضَ فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَ مَغَارِبَهَا وَسَيَبْلُغُ مُلْكُ أُمَّتِي مَا زَوَى لِي مِنْهَا ‘আল্লাহ আমাকে সমস্ত পৃথিবীকে একত্রিত করে দেখালেন। আমি তার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত দেখলাম। সত্বর আমার উম্মতের শাসন ঐ সমস্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছানো হবে, যতদূর পর্যন্ত এলাকা আমাকে দেখানো হয়েছে’। ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, আমরা এখন সেই যুগ অতিবাহিত করছি, যার ওয়াদা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে দান করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য কথা বলেন।
টিকাঃ
১. তাফসীরে ইবনে কাছীর ৩/৩১২-১৩; মুখতাছার তাফসীরে বাগাভী ২/৬৫০।
২. আহমাদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত-আলবানী হা/৪২ 'ঈমান' অধ্যায়।
৩. তাফসীরে ইবনে কাছীর ৩/৩১৩ পৃঃ।
৪. ছহীহ আবুদাউদ, হা/২৩০৭ 'জিহাদ' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ১০৭; তাফসীরে কুরতুবী ১২/২৯৯ পৃঃ।
৫. মুসলিম, হা/২৮৮৯ 'ফিতান' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ৫; তাফসীরে ইবনে কাছীর ৩/৩১২, কুরতুবী ১২/২৯৮।
📄 ইসলামের রাজনৈতিক বিজয়ের ধারা
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,
تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَّا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النَّبُوَّةِ فَتَكُوْنُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُونُ مَلِكاً عَاضِاً فَيَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُوْنَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُوْنُ مَلِكاً جَبَرِياً فَتَكُوْنُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُوْنَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ ثُمَّ سَكَتَ -
'তোমাদের মধ্যে (১) নবুওয়াত থাকবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করেন। অতঃপর তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর (২) নবুওয়াতের তরীকায় খেলাফত কায়েম হবে। আল্লাহ পাক যতদিন ইচ্ছা তা রেখে দেবেন। অতঃপর উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর (৩) অত্যাচারী রাজাদের আগমন ঘটবে। আল্লাহ পাক স্বীয় ইচ্ছামত তাদেরকে বহাল রাখবেন। তারপর উঠিয়ে নিবেন। অতঃপর (৪) জবর দখলকারী শাসকদের যুগ শুরু হবে। আল্লাহ পাক স্বীয় ইচ্ছামত তাদেরকে বহাল রাখবেন। অতঃপর উঠিয়ে নেবেন। এরপরে (৫) নবুওয়াতের তরীকায় পুনরায় খেলাফত কায়েম হবে। এই পর্যন্ত বলার পর আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) চুপ হ'য়ে গেলেন'।
উপরোক্ত হাদীছের আলোকে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, বিশ্বব্যাপী এখন নামে ও বেনামে ৪র্থ যামানা অর্থাৎ জবর দখলকারী শাসকদের যামানা চলছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মীয় স্বৈরাচার এবং গণতন্ত্রের নামে দলীয় স্বৈরাচার ও নেতৃত্বের লড়াই এখন ঘরে ঘরে ও অফিসের চার দেওয়ালের মধ্যে প্রবেশ করেছে। ন্যায়নীতি ও ন্যায়বিচার এখন সন্ত্রাসীদের লালনকারী নেতা-নেত্রী ও শক্তিমানদের একচ্ছত্র অধিকারে। জাহেলী যুগের গোত্রদ্বন্দু এখন নগ্ন রাজনৈতিক দলীয় দ্বন্দ্বে রূপ লাভ করেছে। বিশ্বব্যাপী যালেমদের জয়জয়কার চলছে। মাযলূম মানবতা সর্বত্র ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। পুঁজিবাদ, সমাজবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও গণতন্ত্রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানবতা আজ ব্যাকুল হ'য়ে চেয়ে আছে এক সর্বব্যাপী রেনেসাঁর দিকে। পূর্ণাঙ্গ সমাজ বিপ্লবের দিকে, একটি নির্ভেজাল আদর্শ ও তার নির্ভেজাল অনুসারীদের দিকে। সে আদর্শ আর কিছুই নয়। তা হ'ল 'ইসলাম'। প্রচলিত 'পপুলার' ইসলাম নয়, কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক 'পিওর' ইসলাম। সেই ইসলামের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হ'লেই তবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে কাংখিত ইসলামী সমাজ ও কল্যাণময় ইসলামী খেলাফত। আলোচ্য আয়াতে সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য যার ওয়াদা করা হয়েছে।
তবে ইবনু খালদুন (৭৩২-৮০৮হিঃ/১৩৩২-১৪০৫খৃঃ), আবুবকর ইবনুল আরাবী (৪৬৪-৫৪৩হিঃ), মুহেব্বুদ্দীন আল-খাত্ত্বীব (১৩০৩-১৩৮৯হিঃ) প্রমুখদের মতে এই হাদীছ সকলের নিকটে ছহীহ নয়। অধিকন্তু এটি বুখারী, মুসলিমে বর্ণিত ছহীহ হাদীছের বিরোধী। যেখানে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, পৃথিবীতে ১২ জন ন্যায়পরায়ণ খলীফার আবির্ভাব সম্পর্কে। সেকারণ উক্ত বিদ্বানগণ সহ অন্যান্য বিদ্বানগণের মতে খেলাফতে রাশেদাহর মেয়াদ ৩০ বছরে সীমায়িত নয়। বরং চার খলীফার পরেও যুগে যুগে উন্নত গুণাবলী সম্পন্ন খলীফাদের আগমন ঘটেছে ও ঘটবে। যেমন উমাইয়া খলীফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (৯৯-১০১হিঃ/৭১৭-৭২০খৃঃ), আব্বাসীয় খলীফা হারুনুর রশীদ (১৭০-১৯৩হিঃ/৭৮৬-৮০৯খৃঃ) এবং তাঁদের অনুরূপ অনেক খলীফা এবং সবশেষে ইমাম মাহদী। অতএব উক্ত হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা এই যে, পূর্ণাঙ্গ ইসলামী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী খলীফাদের নমুনা হ'লেন প্রথম চারজন খলীফা। অতঃপর তাঁদের পরবর্তী খলীফাগণ তুলনামূলক ভাবে কমবেশী হবেন।
টিকাঃ
৬. আবুদাউদ, তিরমিযী, আহমাদ প্রভৃতির বর্ণনায় এই খেলাফতের মেয়াদ স্পষ্টভাবেই চার খলীফার আমলে ত্রিশ বছর বলে উল্লেখিত হয়েছে, যা হাসান (রাঃ)-এর খেলাফত সহ ১১হিঃ হ'তে ৪১ হিঃ সনের মধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। আলবানী, সিলসিলা ছাহীহাহ হা/৪৫৯।
৭. আহমাদ, সিলসিলা ছাহীহাহ হা/৫।
৮. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৯৭৪ 'মর্যাদা সমূহ' অধ্যায়; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/৫৭৩১।
৯. আবুদাউদ, সনদ হাসান; ছহীহ আবুদাউদ হা/৩৬০৪ 'মাহদী' অধ্যায়; আলবানী-মিশকাত হা/৫৪৫৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত-আফলাতুন হা/৫২২০ 'ফিৎনা সমূহ' অধ্যায় 'কিয়ামতের পূর্ব লক্ষণ সমূহ' অনুচ্ছেদ।
📄 ইসলামী খেলাফতের প্রয়োজনীয়তা
ইসলাম একটি বিশ্বজনীন আদর্শ, যা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ হ'তে বিশ্বমানবতার জন্য প্রেরিত হয়েছে। যার মধ্যে সকল যুগের সকল মানুষের সত্যিকারের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। ইসলাম মানব জীবনের সকল দিক ও বিভাগের জন্য সুস্পষ্ট ও স্থায়ী মঙ্গলের পথনির্দেশ দান করেছে। কতগুলি ব্যক্তিগত নীতি-আদর্শ ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে ইসলাম সীমাবদ্ধ নয়। বরং মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিধিবিধানসহ তার ধর্মীয় ও বৈষয়িক জীবনের সকল মৌলিক বিষয়ে এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি ব্যবহারিক বিষয়েও ইসলাম চিরস্থায়ী হেদায়াত পেশ করেছে। অতএব ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা একারণে যে, যাতে পূর্ণ নিরাপত্তা ও নিশ্চিন্ততার মধ্যে ইসলামী বিধানসমূহ যথাযথভাবে পালন করা সহজ হয় এবং মানব কল্যাণ নিশ্চিত হয়।।
ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মুসলমান তার ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ম পালনে স্বাধীন থাকলেও বৈষয়িক জীবনে অনৈসলামী আইনে শাসিত হয়। সূদ-ঘুষের পুঁজিবাদী অর্থনীতি কিংবা রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের সমাজবাদী অর্থনীতি অনুসরণের ফলে মুমিনের রূযী হারাম রূযীতে পরিণত হয়। অন্যদিকে দেশের আদালতগুলিতে ইসলামী বিধান অনুযায়ী বিচার ব্যবস্থা না থাকায় মানবরচিত আইনে মুমিনকে জেল-ফাঁসি বরণ করতে হয়। ফলে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং অবিচার, অশান্তি ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা ব্যাপকতা লাভ করে। এ সকল কারণে একজন মুমিনকে সর্বদা নিজ দেশে ও বিশ্বব্যাপী ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠায় তৎপর থাকতে হয়। কারণ ইসলামী খেলাফত শুধু মুসলমানের জন্য নয়, বরং খেলাফতের অধীনে বসবাসরত সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে কল্যাণকর। ইসলামকে যেমন কোন একটি দল বা সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট হিসাবে গণ্য করা ঠিক নয়, ইসলামী খেলাফতকেও তেমনি নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের জন্য গণ্য করা ঠিক নয়। বরং আল্লাহর বান্দাদের জন্য আল্লাহ প্রেরিত বিধান সার্বজনীন, যা দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য মঙ্গলময় ও সকলের প্রতি সমানভাবে প্রয়োগ যোগ্য। যেমন আল্লাহ্র সৃষ্ট আলো-বাতাস, মাটি ও পানি সবার জন্য কল্যাণময়।
📄 মুলুকিয়াত, জমহুরিয়াত ও খেলাফত
রাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও খেলাফত তিনটি পরিভাষার মধ্যে তিনটি আদর্শের প্রতিফলন রয়েছে। রাজতন্ত্রে রাজার ইচ্ছাই চূড়ান্ত। তাঁর হাতেই থাকে সার্বভৌমত্বের চাবিকাঠি। গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছাই চূড়ান্ত। জনগণই সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস। খেলাফতে আল্লাহ প্রেরিত অহি-র বিধানই চূড়ান্ত। আল্লাহ্ই সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস।
রাজতন্ত্রে রাজা নিজ বাহুবলে রাজ্য জয় করেন ও নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী রাজ্য শাসন ও পরিচালনা করেন। রাজা সৎ, যোগ্য ও সুশাসক হ'লে রাজ্যে সুখ-শান্তি বিরাজ করে। এমনকি রাজা ইসলামপন্থী হ'লে তাঁর দ্বারা ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠা লাভ করাও অসম্ভব কিছু নয়। বিগত দিনে এমনকি বর্তমান বিশ্বেও এর নযীর বিদ্যমান রয়েছে। এর বিপরীতটা হ'লে বিপরীত হওয়াই স্বাভাবিক। যদিও বর্তমান বিশ্বে কোন রাজাই একক ইচ্ছায় দেশ চালান না। সর্বত্রই রয়েছে একটা নির্বাচিত অথবা মনোনীত মন্ত্রণাপরিষদ। যাই-ই হৌক না কেন সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক যেহেতু রাজা বা রাণীরূপে একজন ব্যক্তির হাতে থাকে, সেকারণ এই শাসন ব্যবস্থা আদর্শিক ভাবে ইসলামের সাথে সংঘর্ষশীল।
গণতন্ত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ট দল দেশ শাসন করে। সংখ্যালঘু দল বা দলগুলি বিরোধী দল হিসাবে গণ্য হয়। তাদের সম্মিলিতভাবে প্রাপ্ত ভোট যদি সংখ্যাগুরু দলের প্রাপ্ত ভোটের চাইতে বেশীও হয়, তথাপি তারা দেশ শাসনের অনুমতি পায় না। ফলে গণতন্ত্রের নামে অধিকাংশ দেশেই চলে সংখ্যালঘুর শাসন। জনগণের নামে সেখানে চলে দলীয় শাসন। একটি দলের কিংবা দলনেতা বা নেত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছাকেই জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করা হয়। তাছাড়া প্রতি চার, পাঁচ বা ছয় বছর অন্তর নেতৃত্বের পরিবর্তনের ফলে এইসব দেশে অযোগ্য ও অদক্ষ নেতৃত্বের বিস্তার ঘটে। তাছাড়া নেতৃত্বের জন্য কোনরূপ যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও মানদণ্ড নির্ধারিত না থাকায় যেকোন ব্যক্তি নেতৃত্বের লোভী হয়ে যদৃচ্ছ আচরণ করে। যার প্রত্যক্ষ ফলভোগ করে সাধারণ জনগণ। এই সব দেশে সরকারী দল ও বিরোধী দলের লড়াই-সংঘর্ষ, হরতাল, সন্ত্রাস প্রতিপক্ষকে জব্দ করার মানসিকতা সর্বদা বিরাজ করে। ফলে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিগণ অসম্মানিত হন। যোগ্য ব্যক্তিগণ অবমূল্যায়িত হন। দলীয়করণ প্রকট রূপ ধারণ করে। নির্দলীয় বা অপর দলীয় গুণী ও যোগ্য ব্যক্তির খেদমত থেকে প্রশাসন ও জনগণ বঞ্চিত হয়। ভোটারদের উপর প্রভাব বিস্তারকারী বক্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের কদর বেশী হওয়ার কারণে প্রচারবিমুখ যোগ্য, গুণী ও আল্লাহভীরু সৎ লোকদের উপস্থিতি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে খুবই কম দেখা যায়। ফলে সৎ ও আল্লাহভীরু যোগ্য নেতৃত্ব থেকে দেশ বঞ্চিত হয়। সর্বোপরি জনমতের কোন স্থিরতা না থাকায় এবং সামান্য দুনিয়াবী স্বার্থে বা বুঝের কমবেশীর কারণে ঘন ঘন জনমতের পরিবর্তন হওয়ায় গণতান্ত্রিক সংবিধান কখনোই জনকল্যাণের স্থায়ী কোন বিধান নয়। তাছাড়া গণতন্ত্রে জনগণের অংশীদারিত্বের কথা বলা হ'লেও কেবল ভোটের সময় ব্যতীত অন্য কোন কিছুতে জনমতের কোনরূপ তোয়াক্কা করা হয় না। ফলে অসন্তুষ্ট জনগণ হরতাল, মিটিং-মিছিল, অনশন, গালি-গালাজ, হত্যা, লুণ্ঠন ও ভাঙচুরের পথ বেছে নেয়। এইভাবে গণতন্ত্র অবশেষে ঝগড়াতন্ত্র ও বন্দুকতন্ত্রে পরিণত হয়। যার পরিণাম ফল প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশেই এখন লোকেরা হাঁড়ে হাঁড়ে উপলব্ধি করছে। বর্তমানে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভোটকেন্দ্র দখলের জন্য সশস্ত্র ক্যাডার, চাঁদাবাজ ও ভাড়াটিয়া মস্তানদের কদর বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে যোগ হয়েছে ব্যাপক ঘুষ ও কালো টাকার ছড়াছড়ি। ফলে বর্তমান যুগে গণতন্ত্র জনমত প্রতিফলনের বাহন নয়। বরং এটা সন্ত্রাসী ও কালো টাকার মালিকদের নেতৃত্বে বসানোর বাহনে পরিণত হয়েছে মাত্র।
'খেলাফত' হ'ল আল্লাহর বান্দাদেরকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালনার জন্য আল্লাহ নির্ধারিত পথে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শাসনব্যবস্থার নাম। এই শাসনব্যবস্থায় আল্লাহ সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। আল্লাহ্র বিধান চূড়ান্ত ও চিরন্তন। খলীফা বা আমীর ও তাঁর মজলিসে শূরা এবং পূরা প্রশাসনযন্ত্র আল্লাহ প্রেরিত অহি-র বিধানের বাস্তবায়নকারী মাত্র।