📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 দ্বিতীয় ক্রুসেড

📄 দ্বিতীয় ক্রুসেড


ইমাদুদ্দিন জিনকির ইনতিকালের পর ১১৪৪ খ্রিষ্টাব্দে তার যোগ্যপুত্র নুরুদ্দিন জিনকি পিতার স্থলাভিষিক্ত হন। ক্রুসেডারদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে তিনি মুসলমানদের মধ্যে জিহাদের নতুন প্রাণশক্তি সঞ্চারিত করেন এবং খ্রিষ্টানদের কাছ থেকে প্রচুর এলাকা ছিনিয়ে নেন। তার নেতৃত্বে রাওহা শহরটি পুনরায় মুসলমানদের দখলে চলে আসে। ক্রুসেডারদের পরাজয়ের খবর শুনে পোপ তৃতীয় কনরাড ও ফ্রান্সের শাসক সপ্তম লুইয়ের নেতৃত্বে নয় লাখ সৈন্যের বিশাল বাহিনী পুনরায় রওয়ানা হয়। সপ্তম লুইয়ের বাহিনীর একটি বড় অংশ সেলজুকিদের হাতে ধ্বংস হয়। দ্বিতীয় ক্রুসেড যুদ্ধে খ্রিষ্টানরা ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়।

মিসরে নুরুদ্দিন জিনকির দখল প্রতিষ্ঠা: মিশরের ফাতিমি খলিফা ফাইজ বিল্লাহর দুর্বলতার সুযোগে নুরুদ্দিন জিনকি নিজ ভাই আসাদুদ্দিন শিরকোহকে অভিযানে নিযুক্ত করেন। ১১২৭ খ্রিষ্টাব্দে শিরকোহ মিসরের অধিকাংশ এলাকা আয়ত্ত করে নেন। সালাহুদ্দিন আইয়ুবি এসব অভিযানে শিরকোহের সহযোগী ছিলেন। শিরকোহের পর সালাহুদ্দিন আইয়ুবি তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং খলিফা তাকে আল মালিকুন নাসির উপাধি দেন।

হিত্তিন যুদ্ধ: ১১৮৬ খ্রিষ্টাব্দে রিজনাল্ড মদিনা মুনাওয়ারায় হামলার উদ্দেশ্যে হিজাজে অভিযান চালালে সালাহুদ্দিন আইয়ুবি তাকে ধাওয়া করে হিত্তিন গিয়ে ধরেন। ১১৮৭ খ্রিষ্টাব্দে হিত্তিনে সংঘটিত ভয়াবহ যুদ্ধে ত্রিশ হাজার খ্রিষ্টান সৈন্য নিহত হয় এবং সমপরিমাণ বন্দী হয়।

বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়: হিত্তিনে জয় লাভের পর সালাহুদ্দিন আইয়ুবি বাইতুল মুকাদ্দাস অবরোধ করেন। এক সপ্তাহ যুদ্ধের পর খ্রিষ্টানরা আত্মসমর্পণ করে। দীর্ঘ ৯১ বছর পর বাইতুল মুকাদ্দাস পুনরায় মুসলমানদের আয়ত্তে আসে। সুলতান খ্রিষ্টানদের ওপর কোনো অত্যাচার করেননি, বরং মুক্তির জন্য মামুলি অর্থ নির্ধারণ করেন এবং যারা অপারগ ছিল তাদের এমনিতেই মুক্তি দেন।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 তৃতীয় ক্রুসেড

📄 তৃতীয় ক্রুসেড


১১৮৯ থেকে ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সংঘটিত এ যুদ্ধে জার্মান সম্রাট ফ্রেডারিক বারব্রোসা, ফ্রান্সের ফিলিপ অগাস্টাস ও ইংল্যান্ডের রিচার্ড অংশ নেয়। খ্রিষ্টান বাহিনী আক্কা বন্দর অবরোধ করে। যেহেতু অন্য কোনো ইসলামি রাষ্ট্র থেকে সালাহুদ্দিন আইয়ুবিকে সহায়তা করা হলো না, তাই শহরবাসীরা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিতে শহরটি খ্রিষ্টানদের হাতে ছেড়ে দেয়। রিচার্ড বিশ্বাসঘাতকতা করে মুসলমানদের হত্যা করে। পরবর্তীতে বাইতুল মুকাদ্দাস জয়ের আশা দেখতে না পেয়ে ক্রুসেডাররা সন্ধি করে। শর্ত ছিল বাইতুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের হাতে থাকবে এবং আসকালান স্বাধীন থাকবে।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 চতুর্থ ক্রুসেড

📄 চতুর্থ ক্রুসেড


১২০১ থেকে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী এ ক্রুসেড মূলত সাজানো হয়েছিল মিশরে হামলা চালিয়ে জেরুজালেম জয় করার উদ্দেশ্যে। আইয়ুবি সুলতান আল-মালিকুল আদিলের হাতে খ্রিস্টানরা পরাজয় বরণ করে এবং ইয়াফা শহর মুসলমানদের আয়ত্তে চলে আসে। পরিবর্তে ক্রুসেডাররা কনস্টান্টিনোপলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুণ্ঠন ও ধ্বংস সাধন করে।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 পঞ্চম ক্রুসেড

📄 পঞ্চম ক্রুসেড


১২১৭ থেকে ১২২১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চলা পঞ্চম ক্রুসেড ছিল ইউরোপের খ্রিস্টানদের জেরুসালেম ও পবিত্র ভূমি পুনর্দখলের একটি প্রচেষ্টা, যাতে প্রথমে মিশরের শক্তিশালী আইয়ুবি রাজ্যকে পরাজিত করার চেষ্টা করা হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px