📄 কিয়াস থেকে দলিল
সকলের জানা, রাসুল ﷺ-এর ওফাতের পর আবু বকর খিলাফতের গুরুদায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলেন। তখন একদল লোক জাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানাল। তাদের নিকট কারণ দর্শানোর আদেশ করা হলে তারা কুরআনের এ আয়াত থেকে দলিল পেশ করল, { خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً } 'আপনি তাদের সম্পদ থেকে সদকা (জাকাত) গ্রহণ করুন।' [সুরা আত-তাওবা: ১০৩] তারা যুক্তি পেশ করে বলল, এখানে জাকাত আদায়ের আদেশ রাসুল ﷺ-কে সম্বোধন করে দেওয়া হয়েছে। আর এখন তো রাসুল নেই, তাই আমরা জাকাত দেবো না। অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ করে তাদের মাল-সম্পদ গনিমত হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তাদের পরিবার-পরিজনকে বন্দী করেন। ইমাম জাসসাস, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, কাজি আবু ইয়ালা, ইমাম ইবনে তাইমিয়া-সহ অসংখ্য ফকিহ ও মুহাদ্দিস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সাহাবায়ে কিরাম তাদের মুরতাদ আখ্যায়িত করেই তাদের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন।
অনেক ফকিহ এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরাম-এর ইজমা ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। সাহাবায়ে কিরাম-এর যুদ্ধের ধরনও এর সত্যতা প্রমাণ করে। কেননা, সাহাবায়ে কিরাম তাদের পরিবার-পরিজনকে যুদ্ধবন্দী করেছিলেন। তারা কালিমা পাঠ করত, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ-এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করত। নামাজ, রোজা, হজ, তাহাজ্জুদসহ অন্যান্য সকল বিধানও পালন করত। কিন্তু শুধুমাত্র একটি বিধান মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সাহাবায়ে কিরাম সর্বসম্মতিক্রমে তাদের মুরতাদ ঘোষণা করেছিলেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের যুদ্ধবন্দী হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।
সুতরাং দ্বীনের একটি মাত্র বিধানকে অমান্য করলে যেখানে মানুষের ইমান থাকে না, তাহলে যে শাসনব্যবস্থা পুরো রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করে দিয়েছে এবং স্লোগান তুলছে, 'ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার', শুধু তাই-ই নয়; বরং নিজেদের স্বপক্ষে কুরআনের এ আয়াত থেকে দলিলও পেশ করছে যে, { لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ } 'দ্বীনের ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই' [সূরা বাকারা: ২৫৬]; একটি নয় দুটি নয়, আল্লাহর শত শত বিধানকে অমান্য করা হচ্ছে; শুধু অমান্য করছে এমনটি নয়, বরং গণতান্ত্রিক পন্থায় সবকিছু করেও দাবি করছে, মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চলছে; যে ক্ষমতায় যায় সেই বলছে, আমরা কুরআন সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করিনি, করব না; অথচ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী অসংখ্য আইন বিদ্যমান রয়েছে। যদি একটি বিধান প্রত্যাখ্যানের কারণে মুরতাদ হয়, তাহলে এত অসংখ্য বিধান অমান্য ও নিষিদ্ধ করার পরও কি এ গণতন্ত্র কুফরি না হয়ে থাকতে পারে?!