📄 হাদিস থেকে দলিল
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন :
'ইয়াকুনু ফী আখিরিজ জামানি ক্বাওমুন ইয়াহদুরুনাশ সুলতানা ফাইয়াহকুমুনা বিগাইরি হুকমিল্লাতি ওয়ালা ইয়ানহাওনা ফাআলাইহিম লানাতুল্লাহ' (শেষ যুগে একটি জাতি আসবে, যারা এমন শাসকের কাছে যাতায়াত করবে, যারা আল্লাহর হুকুম বাদ দিয়ে মানবরচিত আইন দ্বারা বিচার ও শাসন করবে। তারা সে শাসককে এ থেকে বাধা দেবে না। তাদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।) ৯৪৪
মুআজ বিন জাবাল থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'আলা ইন্নাহু সাইয়াকুনু উমারা-উ ইয়াক্বদুনা লাকুম, ফাইন আতা'তুমুহুম আদল্লুকুম ওয়াইন আসাইতুমুহুম ক্বাতালুকুম' (...সাবধান! অচিরেই এমন কিছু শাসক আসবে, যারা তোমাদের ওপর বিচারকার্য পরিচালনা করবে। তোমরা যদি তাদের আনুগত্য করো, তাহলে তারা তোমাদের পথভ্রষ্ট করে দেবে। আর যদি তাদের বিরোধিতা করো, তাহলে তারা তোমাদের হত্যা করবে।) ৯৪৫
টিকাঃ
৯৪৪. আল-ফিরদাউস বি-মাসুরিল খিতাব (দাইলামি): ৫/৪৫৫, হা. নং ৮৭২৭ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৯৪৫. আল-মুজামুস সগির, তাবারানি: হা. নং ৭৪৯ (আল-মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
📄 ইজমা থেকে দলিল
উম্মতের সকল উলামায়ে কিরাম গণতন্ত্র কুফরি হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। বিখ্যাত ইমাম ও মুফাসসির আল্লামা জাসসাস নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন :
আহকামুল হাকিমিন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন : { فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا }
'কিন্তু না, তোমার রবের কসম! তারা ইমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে ব্যাপারে নিজেদের অন্তরে কোনো দ্বিধা-সংকোচ অনুভব না করে এবং পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে।' ৯৪৬
ইমাম জাসসাস এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: 'এই আয়াতে এ কথার প্রমাণ রয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা অথবা তাঁর রাসুল ﷺ-এর আদেশ-নিষেধসমূহ থেকে কোনো একটি বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করবে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। চাই সে সন্দেহবশত প্রত্যাখ্যান করুক অথবা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাক এবং মেনে নেওয়া থেকে বিরত থাকুক। আয়াতটি সাহাবায়ে কিরাম কর্তৃক জাকাত আদায়ে অস্বীকারকারীদের মুরতাদ আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যা ও তাদের পরিবার পরিজনদের বন্দী করার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে সাব্যস্ত করে। কেননা, আল্লাহ তাআলা ফয়সালা দিয়েছেন, যে ব্যক্তি রাসুল ﷺ-এর বিচার ও বিধানকে মেনে নেবে না, সে ইমানদার নয়।' ৯৪৭
আল্লাহ তাআলার একটি বিধান মেনে না নেওয়ার কারণে সাহাবায়ে কিরাম উক্ত ব্যক্তিদের মুরতাদ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। ইমাম জাসসাস-এর ভাষ্যমতে 'যে ব্যক্তি কোনো একটি বিধানকে প্রত্যাখ্যান করবে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।' অতএব যে শাসনব্যবস্থা পুরো রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করে দিয়ে এ স্লোগান প্রচার করছে, 'ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার' এবং আল্লাহপ্রদত্ত হালালগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অবৈধ আর হারামগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধ করছে—এসব পদ্ধতি কি স্পষ্ট কুফর নয়?!
টিকাঃ
৯৪৬. সুরা আন-নিসা: ৬৫
৯৪৭. আহকামুল কুরআন, জাসসাস: ২/২৬৮ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
📄 কিয়াস থেকে দলিল
সকলের জানা, রাসুল ﷺ-এর ওফাতের পর আবু বকর খিলাফতের গুরুদায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলেন। তখন একদল লোক জাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানাল। তাদের নিকট কারণ দর্শানোর আদেশ করা হলে তারা কুরআনের এ আয়াত থেকে দলিল পেশ করল, { خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً } 'আপনি তাদের সম্পদ থেকে সদকা (জাকাত) গ্রহণ করুন।' [সুরা আত-তাওবা: ১০৩] তারা যুক্তি পেশ করে বলল, এখানে জাকাত আদায়ের আদেশ রাসুল ﷺ-কে সম্বোধন করে দেওয়া হয়েছে। আর এখন তো রাসুল নেই, তাই আমরা জাকাত দেবো না। অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ করে তাদের মাল-সম্পদ গনিমত হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তাদের পরিবার-পরিজনকে বন্দী করেন। ইমাম জাসসাস, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, কাজি আবু ইয়ালা, ইমাম ইবনে তাইমিয়া-সহ অসংখ্য ফকিহ ও মুহাদ্দিস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সাহাবায়ে কিরাম তাদের মুরতাদ আখ্যায়িত করেই তাদের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন।
অনেক ফকিহ এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরাম-এর ইজমা ছিল বলে উল্লেখ করেছেন। সাহাবায়ে কিরাম-এর যুদ্ধের ধরনও এর সত্যতা প্রমাণ করে। কেননা, সাহাবায়ে কিরাম তাদের পরিবার-পরিজনকে যুদ্ধবন্দী করেছিলেন। তারা কালিমা পাঠ করত, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ﷺ-এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করত। নামাজ, রোজা, হজ, তাহাজ্জুদসহ অন্যান্য সকল বিধানও পালন করত। কিন্তু শুধুমাত্র একটি বিধান মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সাহাবায়ে কিরাম সর্বসম্মতিক্রমে তাদের মুরতাদ ঘোষণা করেছিলেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের যুদ্ধবন্দী হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।
সুতরাং দ্বীনের একটি মাত্র বিধানকে অমান্য করলে যেখানে মানুষের ইমান থাকে না, তাহলে যে শাসনব্যবস্থা পুরো রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করে দিয়েছে এবং স্লোগান তুলছে, 'ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার', শুধু তাই-ই নয়; বরং নিজেদের স্বপক্ষে কুরআনের এ আয়াত থেকে দলিলও পেশ করছে যে, { لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ } 'দ্বীনের ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই' [সূরা বাকারা: ২৫৬]; একটি নয় দুটি নয়, আল্লাহর শত শত বিধানকে অমান্য করা হচ্ছে; শুধু অমান্য করছে এমনটি নয়, বরং গণতান্ত্রিক পন্থায় সবকিছু করেও দাবি করছে, মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চলছে; যে ক্ষমতায় যায় সেই বলছে, আমরা কুরআন সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করিনি, করব না; অথচ কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী অসংখ্য আইন বিদ্যমান রয়েছে। যদি একটি বিধান প্রত্যাখ্যানের কারণে মুরতাদ হয়, তাহলে এত অসংখ্য বিধান অমান্য ও নিষিদ্ধ করার পরও কি এ গণতন্ত্র কুফরি না হয়ে থাকতে পারে?!