📄 নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি
সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, কলকারখানা, জমি, সম্পদ ও উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণের ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা স্বীকৃত থাকবে। এই অর্থব্যবস্থায় জাতীয় আয় বণ্টনের মূলনীতি হলো, প্রত্যেকে তার নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করবে এবং কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে। এভাবে আয় ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
📄 রাষ্ট্রীয় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা
এখানে ব্যক্তিসত্তার কোনো মূল্যই নেই। তার কথা বলার, প্রতিবাদ করার কোনোই অধিকার নেই। তার জীবনের সর্বক্ষেত্র—পরিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সবই রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে। যতটুকু স্বাধীনতা পার্টি অনুমোদন করবে, তার বেশি চাওয়ার অধিকার তার নেই। পার্টিই ঠিক করে দেবে, কেমন হবে তার আচরণ, কর্মক্ষেত্র, বিশ্বাস; এমনকি তার পরিবারও। এর ব্যত্যয় ঘটল কি না, তার তদারকি ও খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য রয়েছে গোয়েন্দা বাহিনী। সে বাহিনী এতই বিশাল এবং এতই ব্যাপক তার নেটওয়ার্ক যে, সেখানে স্বামী তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে, স্ত্রী তার স্বামীর বিরুদ্ধে, পুত্র তার পিতার বিরুদ্ধে ও পিতা তার পুত্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করে। পার্টি বস—এলাকার কমরেড চীফের সন্তুষ্টি অর্জন হয়ে দাঁড়ায় জীবনের সর্বপ্রধান বা একমাত্র ব্রত।
📄 শ্রেণিহীনতা
কমিউনিজম বা সাম্যবাদের মূলমন্ত্রটি হলো, এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা, যেখানে সবাই সমান অধিকার লাভ করবে। ধনী-গরিব বলতে কোনো শ্রেণিবিভাগ থাকবে না।
📄 সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন
কমিউনিজমের এক পর্যায়ে এসে এমন অবস্থা দাঁড়ায় যে, একদল বলে ওঠে, এ মতবাদ বিশ্বে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং সবাইকে এ মতবাদ গ্রহণে বাধ্য করতে হবে। অন্যদিকে অপরদল বলে, এ ব্যবস্থা যে দেশে প্রতিষ্ঠিত তাতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। প্রথম দলকে উগ্র সমাজতন্ত্রী বা উগ্র কমিউনিজম বলে। আর দ্বিতীয়টিকে নরমপন্থী কমিউনিজম বলে। উগ্র সমাজতন্ত্রী বা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি পরবর্তীতে শক্তিশালী হয়ে বিভিন্ন দেশ দখল করতে থাকে। একসময় তারা আফগানিস্তানে তাদের নাপাক পা ফেললে এখান থেকেই তাদের ধ্বংসের ঘন্টি বেজে ওঠে।