📄 জড়বাদী দৃষ্টিভঙ্গি
জড়বাদী বলতে বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি উদ্দেশ্য। যার মূলমন্ত্র হলো—খাও, দাও ফুর্তি করো। দুনিয়া ভোগের জায়গা, তাই এখানে ভোগ করতে থাকো। আখিরাত বলতে কোনো জগৎ নেই! তাই দুনিয়াতেই সব উপভোগ করে নাও!
📄 ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রদর্শন
এ ব্যবস্থায় সরকার একজন ব্যক্তিকে যতটুকু সুযোগ দেয়, ব্যক্তি ততটুকু ধর্ম পালনেরই কেবল সুযোগ পেয়ে থাকে। পুঁজিবাদে সব ধর্মই সহাবস্থান করে একই সাথে। কর্মক্ষেত্রে অসুবিধার কারণ না হয়ে, পুঁজিবাদী উৎপাদন চক্রের কোনো রকম বিঘ্নতা না ঘটিয়ে বা রাষ্ট্র ক্ষমতায় হস্তক্ষেপের কোনো আশঙ্কা সৃষ্টি না করে ব্যক্তি তার নিজ ঘরের কোণে অথবা ইবাদতখানায় ধর্ম পালন করতে পারে।
📄 অবাধ ব্যক্তি স্বাধীনতা
এখানে ব্যক্তি নিজের অর্থসম্পদ যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যবহার করতে পারে। একজনের নিজের খেয়াল-খুশিমতো যেকোনো কিছুই করার স্বাধীনতা রয়েছে। তার এই স্বাধীনতার সামনে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে কেবল তারই তৈরি আইন, স্বৈরাচারী শাসক ও ক্ষেত্রবিশেষে সামরিক শক্তির। ভোগের ক্ষেত্রে উন্মত্ত-উন্মাদ হয়ে পড়লেও তাতে কোনো ক্ষতি নেই। সে নিজে নিবৃত্ত না হলে তাকে নিবৃত্ত করার সাহস কারও নেই। পৃথিবীর বুকে লক্ষ লক্ষ মানবসন্তান ক্ষুধা-পিপাসায় মারা যাক, কিন্তু তার টেবিলে খাবারের পসরা থাকা চাই। এমনিভাবে বিনিয়োগ, বণ্টন, উৎপাদন, পারিবারিক জীবনসহ সর্বত্রই তার এই স্বাধীনতা স্বীকৃত ও ব্যবহৃত।
📄 অবাধ অর্থনীতি
উৎপাদকদের মধ্যে উৎপাদনের নতুন নতুন কলাকৌশল, অধিক মুনাফা, কম খরচে উৎপাদন ও কম মূল্যে ভোক্তাদের কাছে দ্রব্য সরবরাহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকে সব সময়। বেশি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদকশ্রেণি শ্রমিকদের ওপর চালায় নির্মম শোষণ, তাদের বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়, কম পারিশ্রমিক প্রদান করা এবং কম টাকায় বেশি শ্রম আদায়ের চেষ্টা করা হয়। পুঁজিবাদ অর্থ উপার্জনের জন্য হারাম-হালালের কোনো তোয়াক্কা করে না।