📄 পুঁজিবাদের উদ্ভব
ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পূর্বে সে সমাজে সামন্তবাদ ৯২৫ প্রথা চালু ছিল। এ প্রথার বিরুদ্ধে ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লব ঘটে। এতে কৃষকশ্রেণির ওপর অত্যাচার কিছুটা কমে আসলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এ সময়ে ইউরোপে যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হলে কল-কারখানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ হয়। তখন জমিদাররা ব্যাপকহারে কল-কারখানায় বিনিয়োগ করতে থাকে। হস্তশিল্পে তৈরি হওয়া জিনিস তখন থেকে মেশিনে তৈরি হতে থাকে। কুটিরশিল্পের মালিকগণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। কৃষক, শ্রমিক ও এ ধরনের কুটির শিল্পের মালিকগণ কল-কারখানার শ্রমিকে পরিণত হয়। পুঁজিপতিরা এ শ্রমিকদের স্বল্পই বেতন দিত। ফলে শ্রমিকদের বিরাট সংখ্যার বিপরীতে স্বল্পসংখ্যক বুর্জোয়া শ্রেণি ধনের মালিক হতে লাগল, যার কারণে ধন-বৈষম্য ক্রমেই প্রকট হতে থাকল。
টিকাঃ
৯২৫. এ ব্যবস্থায় রাজা তার অধীন সামন্ত জমিদারদেরকে জমি ভাগ করে দিত। সামন্ত জমিদাররা সে জমিকে নিম্ন ভূস্বামীদের নিকট বণ্টন করে দিলে নিম্ন ভূস্বামীরা তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে দিত। কৃষক মূলত চাষ করত, তবে জমি বা ফসলে তাদের কোনো অধিকার থাকত না। তাদের হাড়ভাঙা খাটুনিতে উৎপাদিত ফসলের নগণ্য পরিমাণই তারা ভোগ করতে পারত।
📄 পুঁজিবাদের প্রকৃত রূপ
পুঁজিবাদ এমন একটি ব্যবস্থা, যা সম্পদ উৎপাদন ও উপার্জনের বিভিন্ন পন্থা প্রতিষ্ঠা করে থাকে। এ থেকে বুঝা যায় যে, পুঁজিবাদের মৌলিক উদ্দেশ্য হলো সম্পদ। এটি এমন এক সংগঠন, যাতে পণ্য সম্পর্ক থাকে মুখ্য, ক্রয়-বিক্রয়ের সম্পর্ক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার ক্রমাগত ক্ষুদ্র নিঃসঙ্গ পর্যায়ে নিছক বাণিজ্যিক বোঝাপড়ার জায়গায় পরিণত হয়। রাষ্ট্র এখানে শাসন ও শোষণে হাত পাকিয়ে থাকে। রাষ্ট্রীয় সেবা ক্রয়-বিক্রয়ের দালালিতে গিয়ে ঠেকে।
এ থেকে বুঝে আসে যে, পুঁজিবাদ এমন ব্যবস্থার নাম, যাতে সম্পদই হলো সকল সমস্যার সমাধান ও যৌক্তিকতার ভিত্তি। এটি সকল পরিমাপকের ঊর্ধ্বে, চাই তা ধর্মীয় বা প্রচলিত নিয়ম হোক, কিংবা মূল্যবোধ ও চারিত্রিক দিক হোক। তাই রাজনৈতিক সমস্যা, ব্যষ্টিক ও সামাজিক আচার-আচরণের সকল দিক ও গুরুত্ব বিবেচনায় কল্যাণের পরিমাপক হলো সম্পদ। ফলে প্রমাণ উপস্থাপন বা দাবি পেশ করার জন্য কারও কাছে চারিত্রিক, দ্বীনি বা আসমানি শিক্ষার কোনো মূল্য থাকে না।
📄 পুঁজিবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
পুঁজিবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ :
📄 সংক্ষেপে পুঁজিবাদের বর্তমান চরিত্র
১. একক পরাশক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ।
২. অর্থনৈতিক বৈষম্যের চরম অবস্থা। ১৯৯৬ সালের রিপোর্ট মতে ধনী-দরিদ্রের জীবনযাপনের ব্যয়সূচক বিগত দুই দশকে ১০ : ১ হতে ৭০ : ১ এ উন্নীত হয়েছে।
৩. বিশ্বায়ন ও উদারীকরণের ছলে বিশ্বকে শোষণের কৌশল গ্রহণ।
৪. যুগপৎ চরম দারিদ্র্য ও ভোগ-বিলাসপূর্ণ জীবনযাপনের নিত্যকার দৃশ্য।
৫. স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রবাহ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে পুঁজিবাদী জীবনাদর্শের স্লো পয়জনিং।
৬. এনজিও কালচার পত্তনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে শোষণের বিস্তৃতি।
৭. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের মোড়লগিরি গ্রহণ।
৮. ইসলামের মোকাবেলায় সমাজতন্ত্রের সাথে অভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ।
টিকাঃ
৯২৬. শাহ মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান কৃত, ইসলামি অর্থনীতি : পৃ. ২৯১ (দি রাজশাহী স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, রাজশাহী- ৪র্থ সংস্করণ ২০০৫)