📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষতিকর দিকগুলো

📄 ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষতিকর দিকগুলো


পৃথিবীতে আল্লাহর অবাধ্য, নির্লজ্জ, ঔদ্ধত্য মানব শয়তানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য শয়তানদের একটার নাম হলো কামাল আতাতুর্ক। যে ব্যক্তি তুরস্কের মসনদে বসে, নাস্তিকতাপূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের মতো একটি ঔদ্ধত্যপূর্ণ পাপের দিকে আহ্বান করেছিল। সে ইসলামি খিলাফতকে বাতিল ঘোষণা ও আরবদের ভ্রাতৃত্বকে ছিন্ন করেছিল এবং পুঁজিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল।

তার চেয়ে অধিক ক্ষতিকর হলো, যখন কিছু আরব নেতা এ ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে নিজেদের স্বর উঁচু করল। উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টানরা যেন একই সাথে এর অধীনে বসবাস করে!

নিশ্চয়ই এ আহ্বান ক্ষতির শেষ সীমায় নিয়ে ফেলেছে। এটি তো ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য চূড়ান্ত ক্ষতিকর। কেননা, যদি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদকে আরব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যবিধান করা হয়, তবে ইহুদি বা নাসারাদের কোনো ক্ষতি হবে না; বরং ক্ষতি হবে ইসলামের, অতঃপর মুসলিমদের।

ইহুদিরা তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি, ভাবধারাকে তাদের কিছু বাতিল গ্রন্থের সাথে সম্পর্কিত করে, যার মধ্যে বিকৃতি ও সংমিশ্রণের বেষ্টন রয়েছে। যেমন : তাওরাত, তালমুদ, মাশনা। প্রত্যেক বিশেষজ্ঞ এ বিষয়ে একমত হবেন যে, এগুলো তার বাস্তবিকতা হারিয়ে ফেলেছে। কারণ, ইহুদিদের বিকৃতিকরণ ও সীমালঙ্ঘনেনর ফলে এ সকল গ্রন্থে মানুষের বাস্তব জীবনের সাথে সামঞ্জস্যশীল হতে পারে, এমন কোনো কথা বা জ্ঞান আর অবশিষ্ট নেই।

স্পষ্টত তাদের দ্বীনদারি থেকে বিচ্যুতির ফলে যেকোনো শাসক বা ধর্মনিরপেক্ষ শাসনের অধীনে জীবনযাপন করলেও তাদের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। কারণ, তাদের হারানোর মতো তো কিছুই নেই। চাই তা যে সময় বা যে স্থানেই হোক না কেন। আপনি কি লক্ষ করেছেন যে, কমিউনিজম আন্দোলনের প্রতি সর্বাপেক্ষা আহ্বানকারী হলো ইহুদিরা? এর প্রথম চিন্তাবিদ কার্ল মার্ক্স ছিল ইহুদি। ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবকে বেগবানকারী লেনিন ছিল অধিকাংশের মতে এক ইহুদি। এ বিপ্লব প্রতিষ্ঠার সময় ও পরবর্তীকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সুপ্রিম কাউন্সিলের বেশির ভাগ সদস্য ছিল ইহুদি। আরব বিশ্বে কমিউনিজম পার্টিগুলোর প্রতিষ্ঠারা ইহুদি। এভাবে অন্যান্য অঞ্চলের কমিউনিজম কর্তাদের সকলে বা অধিকাংশই ছিল ইহুদি। কারণ, ধর্মনিরপেক্ষতার বাস্তবায়নে ইহুদিদের কোনো ক্ষতি নেই; বরং এতে তারাই অধিক লাভবান হবে। তারাই এ ধর্মনিরপেক্ষতার আবহাওয়ায় অধিক সম্মানিত, অধিক লাভবান ও সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

অন্যদিকে খ্রিষ্টানরাও ধর্মনিরপেক্ষতার ফলে, এ ধরনের রাষ্ট্রে বসবাসের কারণে তাদের দ্বীনদারি বা মূল্যবোধের কোনো কিছু হারাবে না। তাদের সামান্য পরিমাণও ক্ষতি হবে না। কারণ স্পষ্ট যে, খ্রিষ্টধর্ম প্রতিষ্ঠার কিছু পর থেকে এর অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, এটি কিছু আচারের সমষ্টিরূপ বৈ কিছু নয়। এর মাঝে আধ্যাত্মিক কোনো আলোর বিকিরণ নেই, যা আত্মা ও মনে ভালো প্রভাব ফেলতে পারে। এ মতবাদের সাথে বাস্তবিক প্রয়োগের কোনোই মিল নেই। কেননা, খ্রিষ্টবাদ কোনো নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে না। এটা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভৃতি জীবনবিধান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। খ্রিষ্টবাদ শুধু গির্জার কিছু আচারের সাথেই সম্পৃক্ত। তাই কোনো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে বা অন্য কোনো মতবাদের অধীনে বসবাসে তাদের কোনো সমস্যা নেই। এ ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ থাকা না থাকা উভয়টিই তাদের জন্য সমান।

অপরপক্ষে, ইসলাম ও মুসলিমগণ ধর্মনিরপেক্ষতার কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। যার মানে হলো, ইসলামের কর্তৃত্ব, শাসন ও তত্ত্বাবধান মানবতার সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল। মানুষের জীবনের প্রতিটি দিক ও প্রতিটি সমস্যার সমাধান রয়েছে ইসলামে। আর এ সত্য সকল গবেষক ও জ্ঞানবান মাত্রই জানেন। এটি একটি স্পষ্ট বাস্তবতা যে, ইসলাম মানবজীবনের দীর্ঘ সময়ের প্রতিটি অবস্থার নিয়মনীতি বর্ণনা করেছে। এমনকি মানুষ যখন জন্ম নেয়নি, এখনও সে ভ্রুণ অবস্থায় মায়ের পেটে, তখনও তার জন্য নিয়মনীতি ও গুরুত্বের কথা ইসলাম বর্ণনা করেছে।

যদি আমরা ধরে নিই যে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাহলে ইসলাম তার প্রতিটি অনুষঙ্গে গুটিয়ে যাওয়া ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার শিকার হবে। যার সারকথা হলো, ইসলামের অস্তগমন ও পৃথিবী থেকে বিদায়গ্রহণ। কেননা, ইসলামের স্থানে এসে যাবে নাস্তিকতাপূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, যা খ্রিষ্টবাদ বা পূজনবান কিংবা ইহুদিবাদের মতো প্রভৃতি মতবাদের জন্য ক্ষতিকারক না হলেও মুসলিমগণ এতে নিঃসন্দেহে বিপদে পড়বে। যখন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ চালু হবে, তখন একমাত্র মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের প্রতি তাদের সম্পর্কের অর্থই হবে—দ্বীন থেকে বিচ্যুতি, চিন্তা, বিশ্বাস ও আচারের মধ্যে আপসকামিতা।

যখন মুসলিমগণ দ্বীনের খুঁটি ও প্রতিরক্ষা থেকে চিন্তাগত, বিশ্বাসগত, চরিত্রগতভাবে বিচ্যুত হবে, তখন তাদের আর কীই-বা বাকি থাকবে? যখন তারা এসব থেকে বিচ্যুত হবে, তখন তারা কুৎসিত বিকৃত প্রেতাত্মায় পরিণত হবে। তারা সে অপরিচিত বহিরাগত মানুষের ন্যায় হয়ে পড়বে, যাদের প্রতিরোধ শক্তি, দৃঢ় বলবান বৈশিষ্ট্য উবে গেছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px