📄 দ্বিতীয় রূপ : পরোক্ষ নাস্তিকতা
এ প্রকার নাস্তিকতা প্রকাশ্যে আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে না, তাত্ত্বিকভাবে তার ওপর ইমান আনে, তবে দুনিয়ার কোনো বিষয়ে দ্বীনের কর্তৃত্ব মানে না। তাদের নিকট দ্বীন হলো নির্জীব এক বস্তুর নাম। তাদের আহ্বান পার্থিব সকল বিষয়কে দ্বীন থেকে পৃথক করা। সাধারণ মুসলিমদেরকে ধোঁকা দেওয়া ও বিপথগামী করার ক্ষেত্রে এ প্রকার নাস্তিকতা বা ধর্মনিরপেক্ষতা অধিক বিপজ্জনক। কারণ, তারা প্রকাশ্যে আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে না বা তার দ্বীনের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ করে না, তাই তাদের কুফরির প্রকৃত অবস্থা অনেক মুসলিমের নিকট অস্পষ্ট থাকে। দ্বীনের সঠিক জ্ঞান ও পর্যাপ্ত ইলমের অভাবে তারা ধর্মনিরপেক্ষতাকে কুফরি বলে মনে করে না। মুসলিম দেশসমূহের অধিকাংশ সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিমই তাদের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে জানে না।
অনেকের নিকট দ্বীনের সাথে পরোক্ষ নাস্তিকতার সাংঘর্ষিকতা স্পষ্ট নয়। কারণ, তাদের নিকট দ্বীনের রূপ হচ্ছে কয়েকটি ইবাদতের নাম। এদিকে পরোক্ষ ধর্মনিরপেক্ষতা যেহেতু মসজিদে নামাজ আদায়, রমজানের রোজা রাখা, বাৎসরিক জাকাত দেওয়া ও বাইতুল্লাহ শরিফে হজ করাকে নিষেধ করে না, তাই তারা ধারণা করে নিয়েছে যে, ধর্মনিরপেক্ষতা দ্বীনের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কিন্তু যারা দ্বীনের সঠিক বুঝ রাখেন, তারা জানেন যে, ধর্মনিরপেক্ষতা দ্বীনের সাথে কতটা সাংঘর্ষিক। যে মতবাদ মানুষের জীবনের সব শাখায় আল্লাহর শরিয়তকে নিষিদ্ধ ও হারাম ঘোষণা করেছে, তার চেয়ে স্পষ্ট ও কঠিন ইসলামবিরোধী কোনো মতবাদ আছে কি? হায়, যদি তারা তা বুঝত!
এ প্রকার ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী সংগঠনগুলো দ্বীন ও দ্বীনের দাওয়াত প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেও নিশ্চিন্ত থাকে। কেননা, তারা জানে যে, কেউ তাদের কাফির ও দ্বীন থেকে বহিস্কৃত বলবে না। কারণ, তারা প্রথম প্রকারের ন্যায় নাস্তিকতাকে প্রকাশ করেনি। তাদের কাফির না বলা মুসলিমদের মূর্খতার প্রমাণ। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের ও সকল মুসলিমকে সঠিক জ্ঞান দান করেন এবং এসব সংস্থা ও সংগঠনকে প্রতিরোধ করার ও সকল বাতিলকে নস্যাৎ করার তাওফিক দান করেন। আমিন!