📄 ধর্মনিরপেক্ষতার রূপসমূহ
ধর্মনিরপেক্ষতার দুটি রূপ রয়েছে, যার একটি অপরটি থেকে নিকৃষ্টতর। ৯২৩
টিকাঃ
৯২৩. ধর্মনিরপেক্ষতাকে সরাসরি নাস্তিকতা ও পরোক্ষ নাস্তিকতা দুভাগে বিভক্ত করা হলেও উভয়টির একই বিধান। অর্থাৎ উভয় প্রকারই কুফরি।
📄 সারকথা
নিঃসন্দেহে উভয় প্রকার ধর্মনিরপেক্ষতাই সুস্পষ্ট কুফরি। যদি কেউ উল্লেখিত কোনো প্রকার ধর্মনিরপেক্ষতাকে মনেপ্রাণে মেনে নেয়, তবে সে ইসলাম থেকে বহিস্কৃত ও মুরতাদ হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন।
ইসলামই হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রে তার স্পষ্ট বিধান রয়েছে; চাই তা আধ্যাত্মিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, চারিত্রিক, সামাজিক বা যেকোনো শাখা হোক। ইসলাম কখনো কোনো মতবাদকে তার বিধানে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি দেয় না। ইসলামের প্রমাণিত কোনো বিষয় যে প্রত্যাখ্যান করল, সে কাফির ও পথভ্রষ্ট; যদিও তা পরিমাণে সামান্যই হোক না কেন।
ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের অনুসারীদের মাঝে ইমান ভঙ্গের অনেক কারণ পাওয়া যায়। তন্মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে, তারা বিশ্বাস করে যে, নবিজি ﷺ-এর আদর্শ থেকে অন্য কারও আদর্শ উত্তম, তাঁর ফয়সালার চেয়ে অন্য কারও ফয়সালা উত্তম। আর এটি যে ইমান ভঙ্গের কারণ, তাতে কারও মতানৈক্য নেই।
📄 ধর্মনিরপেক্ষ মতাবলম্বীদের শ্রেণিভাগ
ইসলামি বিশ্বে ধর্মনিরপেক্ষ মতালম্বীরা সংখ্যায় অগণিত। তাদের অনেকে লেখক, সাহিত্যিক বা সাংবাদিক, কেউ ইসলামি চিন্তাবিদ, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরূপে অবস্থান করছে। তাদের বিরাট একটি অংশ বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে নানাভাবে কর্মরত ও কর্তৃত্বকারী। এ ছাড়া অন্যান্য পেশায়ও তাদের সংখ্যা কম নয়।
📄 ধর্মনিরপেক্ষতার বাস্তবতা
ধর্মনিরপেক্ষতা এমন একটি পরিভাষা, যা দ্বীনকে দুনিয়া থেকে পরিপূর্ণ পৃথক করাকে বুঝিয়ে থাকে। বস্তুবাদের সাথে আধ্যাত্মিকতার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতাকে বোঝায়। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ একপ্রকার নাস্তিকতার অর্থ ও সংজ্ঞার সমার্থক। ৯২৪
ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ হলো এমন এক মতবাদ, যার অধীনে সকল ধর্ম ও জড়বাদী আদর্শ স্থান পায়। যে জড়বাদ ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা থেকে সম্পূর্ণরূপে খালি। তাই বলতে গেলে এখানে সকল ধর্ম ও আদর্শ; চাই তা বাতিল হোক বা সঠিক হোক—সকলের সমঅধিকার রয়েছে। ফলে এখানে কুফর ও নাস্তিকতার সকল প্রকার, যেমন: ফ্রীম্যাসনারি, অস্তিত্ববাদী, জাতীয়তাবাদী, সমাজতন্ত্রী ও পূজনবাদের সকল প্রকার, তা চাই পাথরপূজা, গোত্রপ্রীতি, বর্ণবাদ যাই হোক—সকল প্রকার কুফর এখানে সমান। এগুলোর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
যে মৌলিক বিষয়টির ওপর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রতিষ্ঠিত, তা হলো ধর্ম ও জীবনের মধ্যকার সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করা। যেন ধর্মের সাথে বাস্তব জীবনের সামান্য পরিমাণও সম্পর্ক না থাকে। জীবনের প্রতিটি দিক—রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পারিবারিক, সাংস্কৃতিক, চারিত্রিক; মোটকথা জীবনের সকল দিকের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। এটাই ধর্মনিরপেক্ষতার মূল কথা।
ধর্মনিরপেক্ষতার রূপটি এমন নয় যে, জীবনের সাথে ধর্মের কিছু হলেও সম্পর্ক থাকবে অথবা ধর্মের কিছু নিয়ম-রীতি হলেও মানুষের বাস্তবিক জীবনে প্রতিফলিত হবে। কিন্তু মানুষ সহজে এ ব্যাপারটি বুঝতে পারে না। কারণ, মানবরচিত সংবিধান এ বাস্তবতাকে গোপন রাখে।
বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র যে অবস্থার মাঝে বিরাজ করছে, তা হলো কুফরি ধর্মনিরপেক্ষতার অবস্থা। যেখানে ধর্মকে এক ঘরে করে রাখা হয়। ধর্মের যাবতীয় অনুষঙ্গ নিয়ে এবং জমিনের সাথে আসমানি সম্পর্ককে বিচ্ছিরি রকমের উপহাস করা হয়। ধর্মের এ নিক্ষেপণ এবং ধর্মের প্রতি এরূপ উপহাসকরণ একরকম প্রকাশ্যই চলছে, যা বিভিন্ন কুফরি ও নাস্তিক্যবাদী রাষ্ট্রের মিডিয়াগুলো ফলাও করে প্রচার করেছে। যেমন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো ও তার শীর্ণকায় আবর্জনাতুল্য অনুসারী রাষ্ট্রগুলো অথবা স্বল্পসংখ্যক লোকবলবিশিষ্ট সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সে অনুসারী দলগুলো, যারা ধর্মনিরপেক্ষতা ও নাস্তিকতার প্রতি আহ্বান করে, বা বাস্তব জীবন থেকে ধর্মকে পৃথক করে দেয়।
টিকাঃ
৯২৪. ড. আলি জারিশাহ কৃত আসালিবুল গাজওয়ায়িল ফিকরি: পৃ. নং ৫৯, উস্তাজ মুহাম্মাদ কুতুব কৃত মাজাহিবু ফিকরিয়্যাতিম মুআসিরা: পৃ. নং ৪৪৫