📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 তিন. হিন্দুধর্ম

📄 তিন. হিন্দুধর্ম


এটা ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহৎ একটি গোষ্ঠীর ধর্ম। এটা এমন এক ধর্ম, যা পূজা-অর্চনা ও তার বিভিন্ন রূপকে একত্রিত করেছে। যে ধর্মে যে কেউ যে কোনো খারাপ কাজই করুক, ধোঁকাবাজি করুক অথবা প্রবৃত্তির অনুসরণ করুক, সে কৃতকর্মের ফলভোগ থেকে মুক্ত। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার, পৌরাণিক কল্পকাহিনী ও বিভিন্ন কুধারণার জপমালা। ৯১৮

হিন্দু ধর্মে এ পূজা করার আধিক্য অনেক বেশি। ভারতে পূজনের এমন অনেক রূপেরই দেখা পাওয়া যায়, যা কল্পনারও বাইরে। তারা পাহাড়, নদী, তারা-নক্ষত্র, যুদ্ধের সরঞ্জাম, নর-নারীর যৌনসংক্রান্ত বিভিন্ন বস্তুকে পূজা দেয়। তারা বিভিন্ন রকমের পশুকে পূজা করে। তন্মধ্যে তাদের নিকট অধিক সম্মানিত হলো গরু। বর্তমানে এটি এমন এক পবিত্র বস্তুর নাম হয়ে গেছে যে, কোনো রকম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তাকে ছোঁয়া যাবে না অথবা জবাই কিংবা অন্য কিছু করার দ্বারা তাকে কোনো প্রকারের কষ্ট দেওয়া যাবে না। ৯১৯

হিন্দু জাতি প্রতিবেশী মুসলিমদের প্রতি সব সময় শত্রুতা পোষণ করে। জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটি পর্যন্ত তারা সে শত্রুতা জিইয়ে রাখে। ব্যষ্টিক, সামাজিক, রীতিগতভাবে প্রতিটি স্তরে তারা মুসলিমদের ঘৃণা করে। মুসলিমরা এ সকল পূজক হিন্দুদের হাতে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। তারা মুসলিমদের নানা ধরনের কষ্ট ও শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে। তারা লাখ লাখ মুসলিম হত্যা করেছে। অগণিত মুসলিম ললনাদের সম্ভ্রম বিনষ্ট করেছে। সে হিংস্রতা ও বর্বরতার ভাষা কী হতে পারে, যা ভারতের মজলুম মুসলিমদের ওপর চলছে!?

মুসলিমদের গরু জবাই ও তা ভক্ষণের কারণে হিন্দুরা তাদের গৃহীত প্রভু গরুর অসম্মান ও মর্যাদাহানি মনে করায় তাদের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে। যদিও ভারতই হলো গরুর গোশত রপ্তানিতে বিশ্বতালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারী। তবুও যখন মুসলিমরা গরু জবাই করে, তখন তাদের মনের ভক্তি জেগে ওঠে! নিজেরা নিজেদের দেবতাকে কেটে টুকরো টুকরো করে বহির্বিশ্বে ঠিকই রপ্তানি করতে পারে। কিন্তু মুসলিমরা বাজার থেকে গোশত কিনেও খেতে পারবে না। এটা মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের শত্রুতার প্রকৃষ্ট প্রমাণ বহন করে।

যদিও পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিমদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি পূর্ণ হয়েছিল, তবুও হিন্দুরা তাদের হিংসা ও শত্রুতা ছাড়ল না। এমনকি পরবর্তীকালে বিষয়টি রক্তক্ষয়ী ও ভয়ংকর যুদ্ধ পর্যন্ত গড়াল। একদিকে গোঁড়া-কট্টর-পূজক হিন্দুশ্রেণি অন্যদিকে পাকিস্তানের ধৈর্যশীল মুসলিম জাতি—যারা অনেক আগ থেকে হিন্দুদের শত্রুতা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। শিকার হয়ে আসছে এমন হত্যাযজ্ঞের, যার সাথে তুলনা হতে পারে রক্তক্ষয়ী ক্রুসেডের, বা তাতারীদের হিংস্র হত্যাকর্মের। এখনও কাশ্মীরে মুসলিমরা মূর্তিপূজক হিন্দুদের শত্রুতার মুখে প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে।

মুসলিমদের প্রতি এ শত্রুতার ফলে ভারত পাকিস্তানের ওপর সে জুলুমপূর্ণ যুদ্ধকে চাপিয়ে দেয়, যার মাধ্যমে ভারতের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় এবং পাকিস্তান দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি পশ্চিম পাকিস্তান ও অপরটি পূর্ব পাকিস্তান। যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের নাম পাল্টে রাখা হলো বাংলাদেশ। এ যেন কাফিরদের Divide & Rule মূলনীতির আরেকটি নমুনা। কাফিররা অনেক আগ থেকেই মুসলিমদের বিভক্ত করে তাদের শোষণ করার জন্য এ মূলনীতি প্রয়োগ করে আসছে। ভারতের এ কর্ম ছাড়াও তাদের আরও অনেক ষড়যন্ত্রই রয়েছে আড়ালে। এ যুদ্ধে তাদের সহযোগী হিসাবে ছিল কমিউনিস্ট রাষ্ট্র রাশিয়া, যে রাষ্ট্র মুসলিমদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য তার সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছিল।

টিকাঃ
৯১৮. আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ৩/৯৫ (মুআসসাসাতুর হালবি)
৯১৯. মা-জা খাসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমিন: পৃ. নং ৪৯ (মাকতাবাতুল ইমান, মানসুরা, মিশর)

ফন্ট সাইজ
15px
17px