📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 এক. জাতীয়তাবাদ

📄 এক. জাতীয়তাবাদ


দেশ, ভাষা, বংশ, ভৌগোলিক সীমারেখা প্রভৃতির ভিত্তিতে জাতীয়তা দাঁড় করিয়ে শুধু এর জন্যই জান-জীবন কুরবান করা এবং এর জন্যই লড়াই করার নাম জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদের অনেক শ্রেণি রয়েছে। আমরা এখানে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রকার উল্লেখ করছি।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 দুই. রক্তসম্পর্ক ও বংশপরম্পরা

📄 দুই. রক্তসম্পর্ক ও বংশপরম্পরা


মর্যাদার মাপকাঠিতে ইসলামে রক্তসম্পর্ক, বংশপরম্পরা ইত্যাদির বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই। ইসলাম এগুলোর প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপও করে না; বরং ইসলাম মানুষকে পরিমাপ করে ইমান, তাকওয়া ও ইলমের মানদণ্ড দ্বারা। কেননা, যে ব্যক্তি মুমিন-মুত্তাকি-আলিম হবে, সে অন্যদের থেকে উত্তম ও সম্মানিত হবে। তার শান-শওকত, বংশমর্যাদা, অঢেল সম্পদ থাকুক বা না থাকুক; মুসলিম হিসাবে সে সম্মানিত। তাকে পরিমাপ করা হবে একমাত্র ইমান, তাকওয়া ও ইলমের মানদণ্ডে।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে :
يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
'তোমাদের মধ্যে যারা ইমানদার এবং যারা জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন। আল্লাহ খবর রাখেন, যা কিছু তোমরা করো।' ৯১৪

ইসলামে রক্তসম্পর্ক, বংশ ইত্যাদির বিশেষ কোনো মর্যাদা নেই। যেমন জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা)-এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজের দিন আমাদের উদ্দেশ্য করে বক্তৃতা প্রদান করেন :
يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ، وَإِنَّ أَبَاكُمْ وَاحِدٌ، أَلَا لَا فَضْلَ لِعَرَبِي عَلَى عَجَمِيٌّ، وَلَا لِعَجَمِيٌّ عَلَى عَرَبِي، وَلَا لَأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ، وَلَا لِأَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ ، إِلَّا بِالتَّقْوَى، إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
'হে লোকসকল, নিশ্চয় তোমাদের প্রভু একজন এবং তোমাদের পিতা একজন। সাবধান! অনারবের ওপর কোনো আরবের মর্যাদা নেই এবং আরবের ওপর কোনো অনারবের মর্যাদা নেই। অনুরূপ কৃষ্ণাঙ্গের ওপর কোনো শ্বেতাঙ্গের ফজিলত নেই এবং শ্বেতাঙ্গের ওপর কোনো কৃষ্ণাঙ্গের ফজিলত নেই। মর্যাদার মাপকাঠি হলো, একমাত্র তাকওয়া।' ৯১৫

আবু হুরাইরা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
وَمَنْ أَبْطَأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِهِ نَسَبُهُ
'যার আমলে কমতি করল, আখিরাতে বংশমর্যাদা তাকে কোনো উপকার করবে না।' ৯১৬

জাতীয়তাবাদ মানুষকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি ও জাতির মাঝে আবদ্ধ করে ফেলে। অন্যদিকে ইসলাম সমগ্র মানবজাতিকে শামিল করে নেয়, যার মাঝে সকল সমাজ ও জাতি একত্রিত থাকে। জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই ইসলামের অধীনে এক ও অভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। জাতীয়তাবাদ মানুষকে একটি ভূমি, একটি বর্ণ, একটি ইতিহাসের মাঝে আবদ্ধ করে ফেলে। অপরদিকে ইসলাম মানুষকে সমগ্র পৃথিবী, প্রতিটি বর্ণ ও বিস্তৃত ইতিহাসের অধিকারী করে। কোনো ধরনের ভেদাভেদ ব্যতিরেকে সকলকে এক উম্মাহর অধীন করে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّাসِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا
'আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি।' ৯১৭

ইসলামের সাথে জাতীয়তা ব্যাপকভাবে সাংঘর্ষিক। জাতীয়তা নিয়ে পড়ে থাকা অত্যন্ত জঘন্য বিষয়। ইসলামে এটি মূর্তিপূজার সমান অপরাধ। জাতীয়তাকে লালন করার অর্থ হলো আল্লাহকে ছেড়ে জাতি, ভাষা ও বংশকে পূজা করা।

কওমচেতনা বা গোত্রভিত্তিক জাতীয়তার প্রতিষ্ঠা হলো আবেগের ওপর, যা আমরা দেশাত্মবোধ সম্পর্কে উল্লেখ করেছি। এটি শুধুই আবেগের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা পূর্ণাঙ্গ কোনো জীবনব্যবস্থা হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। এটা এমন কোনো আকিদা-বিশ্বাস বা দর্শন হতে পারে না, যা মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য সত্যিকারভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি প্রণয়ন করবে। মানবজীবনের প্রতিটি স্তরের সুচারু সমাধান দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি স্তর, প্রতিটি সমস্যা, প্রতিটি জিজ্ঞাসার স্পষ্ট সমাধান করে দিয়েছে।

ইসলামের সাথে জাতীয়তার আরেকটি বিরোধপূর্ণ স্থান বুঝার জন্য আমরা আরব চেতনাকে উদাহরণ হিসাবে নিতে পারি। আরবরা অনারব কারও প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না, কোনো মুসলিমের প্রতি এ কারণে এতটুকু গুরুত্ব দেয় না যে, সে মুসলিম। আরব-চেতনাধারীদের বিশ্বাস হলো, সে আরব নয়, তাই সে সম্মানের উপযুক্ত নয়। তাদের নিকট মানদণ্ড হলো, আরব হওয়া। তাদের নিকট কোনো অনারব মুসলিমের মর্যাদা নেই। সে-ও তাদের নিকট বিদেশী ও অপরিচিত। কিন্তু এ ভাব ও ধরন ইসলামের চোখে চরম ন্যক্কারজনক। কেননা, ইসলাম এটা দেখে না যে, কে আরব আর কে অনারব; বরং এখানে মর্যাদা পরিমাপের একমাত্র ভিত্তি হলো তাকওয়া।

ইসলামের বিধান তো হলো, মুসলিমগণ ভাষা, বর্ণ, বংশ, জাতি, দেশ নির্বিশেষে সকলেই এক ও অভিন্ন। ইসলামি আকিদা সকলের মাঝে ভালোবাসা স্থাপনকারী। তারা একটি উম্মাহ, একটি জাতি। যেখানে আরব, অনারব, কুর্দি, হিন্দুস্তানি, বাংলাদেশি, তুর্কি, হাবশি সকলে এক সমান, এক মর্যাদার। যেমন আম্মার আরাবি (রা), সুহাইব রুমি (রা), বিলাল হাবশি (রা), সালমান ফারসি (রা), সালাহুদ্দিন আইয়ুবি কুর্দি প্রমুখ। তাঁরা ছিলেন মুসলিমদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠদের অন্তর্গত। যদিও তাঁদের বংশ ভিন্ন ছিল এবং তাঁরা ছিলেন বিভিন্ন জাতির।

মুসলিমদের মাঝে যারা ইলমের ময়দানে অকুণ্ঠ খিদমত পেশ করেছেন, তাদের অধিকাংশ আরব ছিলেন না। উদাহরণত ইমামুল মুফাসসিরিন মুহাম্মাদ বিন জারির তাবারি (রা) আরব ছিলেন না। ইমামুল মুহাদ্দিসিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বুখারি (রা) আরব ছিলেন না। ইমামুল ফুকাহা আবু হানিফা নুমান (রা) আরব ছিলেন না।

এরকম হাজারো উদাহরণ আছে, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, ইসলামি আকিদা, ইসলামি শরিয়ত ও ইসলামি জীবনব্যবস্থাকে নিজেদের জীবনে একমাত্র আদর্শরূপে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা ইসলামের কারণেই শ্রেষ্ঠ হয়েছেন, আরব বা অনারব হওয়ার ভিত্তিতে নয়। এরকম আরও অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যে, আরব হওয়া শ্রেষ্ঠত্বের কোনো মানদণ্ড নয়; বরং অনারব হয়েও ইলমের আকাশে, কিতালের ময়দানে তাঁরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন।

জাতীয়তাবাদ দেশাত্মবোধের রক্ষাকবচ। উভয়টির উৎপত্তিস্থল হলো আবেগ। এগুলো মানবজীবনের সকল জিজ্ঞাসার সমাধান ও সকল স্তরের করণীয়বিশিষ্ট কোনো আদর্শ বা জীবনব্যবস্থা নয়। ইসলামের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে এগুলোকে আপন করে নেওয়াই হলো, এগুলোর পূজা করা, যা আল্লাহর আনুগত্য থেকে বের হয়ে জাতীয়তাপূজা ও দেশপূজা গ্রহণ করার নামান্তর।

টিকাঃ
৯১৪. সুরা আল-মুজাদালা : ১১
৯১৫. মুসনাদু আহমাদ: ৩৮/৪৭৪, হা. নং ২৩৪৮৯ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৯১৬. মুসনাদু আহমাদ: ১২/৩৯৩, হা. নং ৭৪২৭ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৯১৭. সুরা সাবা: ২৮

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 তিন. হিন্দুধর্ম

📄 তিন. হিন্দুধর্ম


এটা ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহৎ একটি গোষ্ঠীর ধর্ম। এটা এমন এক ধর্ম, যা পূজা-অর্চনা ও তার বিভিন্ন রূপকে একত্রিত করেছে। যে ধর্মে যে কেউ যে কোনো খারাপ কাজই করুক, ধোঁকাবাজি করুক অথবা প্রবৃত্তির অনুসরণ করুক, সে কৃতকর্মের ফলভোগ থেকে মুক্ত। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার, পৌরাণিক কল্পকাহিনী ও বিভিন্ন কুধারণার জপমালা। ৯১৮

হিন্দু ধর্মে এ পূজা করার আধিক্য অনেক বেশি। ভারতে পূজনের এমন অনেক রূপেরই দেখা পাওয়া যায়, যা কল্পনারও বাইরে। তারা পাহাড়, নদী, তারা-নক্ষত্র, যুদ্ধের সরঞ্জাম, নর-নারীর যৌনসংক্রান্ত বিভিন্ন বস্তুকে পূজা দেয়। তারা বিভিন্ন রকমের পশুকে পূজা করে। তন্মধ্যে তাদের নিকট অধিক সম্মানিত হলো গরু। বর্তমানে এটি এমন এক পবিত্র বস্তুর নাম হয়ে গেছে যে, কোনো রকম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তাকে ছোঁয়া যাবে না অথবা জবাই কিংবা অন্য কিছু করার দ্বারা তাকে কোনো প্রকারের কষ্ট দেওয়া যাবে না। ৯১৯

হিন্দু জাতি প্রতিবেশী মুসলিমদের প্রতি সব সময় শত্রুতা পোষণ করে। জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটি পর্যন্ত তারা সে শত্রুতা জিইয়ে রাখে। ব্যষ্টিক, সামাজিক, রীতিগতভাবে প্রতিটি স্তরে তারা মুসলিমদের ঘৃণা করে। মুসলিমরা এ সকল পূজক হিন্দুদের হাতে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। তারা মুসলিমদের নানা ধরনের কষ্ট ও শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে। তারা লাখ লাখ মুসলিম হত্যা করেছে। অগণিত মুসলিম ললনাদের সম্ভ্রম বিনষ্ট করেছে। সে হিংস্রতা ও বর্বরতার ভাষা কী হতে পারে, যা ভারতের মজলুম মুসলিমদের ওপর চলছে!?

মুসলিমদের গরু জবাই ও তা ভক্ষণের কারণে হিন্দুরা তাদের গৃহীত প্রভু গরুর অসম্মান ও মর্যাদাহানি মনে করায় তাদের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে। যদিও ভারতই হলো গরুর গোশত রপ্তানিতে বিশ্বতালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারী। তবুও যখন মুসলিমরা গরু জবাই করে, তখন তাদের মনের ভক্তি জেগে ওঠে! নিজেরা নিজেদের দেবতাকে কেটে টুকরো টুকরো করে বহির্বিশ্বে ঠিকই রপ্তানি করতে পারে। কিন্তু মুসলিমরা বাজার থেকে গোশত কিনেও খেতে পারবে না। এটা মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের শত্রুতার প্রকৃষ্ট প্রমাণ বহন করে।

যদিও পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিমদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি পূর্ণ হয়েছিল, তবুও হিন্দুরা তাদের হিংসা ও শত্রুতা ছাড়ল না। এমনকি পরবর্তীকালে বিষয়টি রক্তক্ষয়ী ও ভয়ংকর যুদ্ধ পর্যন্ত গড়াল। একদিকে গোঁড়া-কট্টর-পূজক হিন্দুশ্রেণি অন্যদিকে পাকিস্তানের ধৈর্যশীল মুসলিম জাতি—যারা অনেক আগ থেকে হিন্দুদের শত্রুতা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। শিকার হয়ে আসছে এমন হত্যাযজ্ঞের, যার সাথে তুলনা হতে পারে রক্তক্ষয়ী ক্রুসেডের, বা তাতারীদের হিংস্র হত্যাকর্মের। এখনও কাশ্মীরে মুসলিমরা মূর্তিপূজক হিন্দুদের শত্রুতার মুখে প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে।

মুসলিমদের প্রতি এ শত্রুতার ফলে ভারত পাকিস্তানের ওপর সে জুলুমপূর্ণ যুদ্ধকে চাপিয়ে দেয়, যার মাধ্যমে ভারতের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় এবং পাকিস্তান দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি পশ্চিম পাকিস্তান ও অপরটি পূর্ব পাকিস্তান। যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের নাম পাল্টে রাখা হলো বাংলাদেশ। এ যেন কাফিরদের Divide & Rule মূলনীতির আরেকটি নমুনা। কাফিররা অনেক আগ থেকেই মুসলিমদের বিভক্ত করে তাদের শোষণ করার জন্য এ মূলনীতি প্রয়োগ করে আসছে। ভারতের এ কর্ম ছাড়াও তাদের আরও অনেক ষড়যন্ত্রই রয়েছে আড়ালে। এ যুদ্ধে তাদের সহযোগী হিসাবে ছিল কমিউনিস্ট রাষ্ট্র রাশিয়া, যে রাষ্ট্র মুসলিমদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য তার সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছিল।

টিকাঃ
৯১৮. আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ৩/৯৫ (মুআসসাসাতুর হালবি)
৯১৯. মা-জা খাসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমিন: পৃ. নং ৪৯ (মাকতাবাতুল ইমান, মানসুরা, মিশর)

ফন্ট সাইজ
15px
17px