📄 সাত. খনিজ পদার্থ
খনিজ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাআলা ভূমধ্যে যে সকল উপকারী ও মূল্যবান ধাতু সৃষ্টি করেছেন সেসব সম্পদ। যেমন: তামা, সীসা, লোহা, ফসফেট, সোনা, রুপা ইত্যাদি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ الْأَرْضِ} 'হে ইমানদারগণ, তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো।'
খনিজের প্রকারভেদ
ইমাম মাওয়ারদি খনিজ পদার্থকে দুভাগে ভাগ করেছেন: ১. প্রকাশ্য খনিজ পদার্থ: যা সহজে পাওয়া যায়, যেমন লবণ, খনিজ তেল ইত্যাদি। এতে সকল মানুষের অধিকার রয়েছে। ২. অপ্রকাশ্য খনিজ পদার্থ: যা পরিশ্রম ছাড়া পাওয়া যায় না, যেমন সোনা, লোহা ইত্যাদি।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : 'আল মুসলিমুনা শুরাকাউ ফী ছালাছিন: ফিল কালা-ই ওয়াল মা-ই ওয়ান নারি' (তিনটি জিনিসে সকল মুসলিমের অধিকার সমান। যথা: ঘাস, পানি ও আগুন।)
খনিজ-সংশ্লিষ্ট আরেকটি বিষয় হলো রিকাজ। ইমাম আবু হানিফা-এর মতে খনিজ সম্পদকেই রিকাজ বলা হয়। আর ইমাম শাফিয়ি ও ইমাম মালিক-এর মতে পুঁতে রাখা সম্পদকে রিকাজ বলে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: '...ওয়াফীর রিকাজি আল-খুমুসু' (এবং রিকাজে এক-পঞ্চমাংশ দেওয়া আবশ্যক।)
টিকাঃ
৮৮৬. আল-মুজামুল অসিত: ২/৫৮৮ (দারুদ দাওয়াহ, ইসকানদারিয়া)
৮৮৭. সুরা আল-বাকারা : ২৬৭
৮৮৮. সুরা আল-হজ : ৬৫
৮৮৯. সুরা আল-জাসিয়া : ১৩
৮৯০. আল-আহকামুস সুলতানিয়া: ২৯৪-২৯৫ (দারুল হাদিস, কায়রো)
৮৯১. সুনানু আবি দাউদ: ৩/২৭৮, হা. নং ৩৪৭৭ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৮৯২. নাইলুল আওতার: ৫/৩৬৬ (দারুল হাদিস, কায়রো)
৮৯৩. নাইলুল আওতার: ৪/১৭৬ (দারুল হাদিস, কায়রো)
৮৯৪. সহিহুল বুখারি: ২/১৩০, হা. নং ১৪৯৯ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৮৯৫. মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার ৬/১৬৪, হা. নং ৮৩৬১ (জামিআতুদ দিরাসাতিল আরাবিয়্য, করাচি) - হাদিসটি জইফ।
📄 আট. পানি সম্পদ
পানি সম্পদের আওতায় সাগরের বিভিন্ন প্রকার বস্তু অন্তর্ভুক্ত। যেমন : মাছ, মুক্তা, আম্বর, মণি-মাণিক্য এবং আরও অনেক বস্তু। সামুদ্রিক সম্পদের ব্যাপারে উলামায়ে কিরামের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, সাগরে থাকা এসব সম্পদ যে পাবে, তাতে তার অধিকার সাব্যস্ত হবে। কেউ কেউ বলেন, সমুদ্র থেকে অর্জিত সম্পদে রিকাজের ন্যায় এক-পঞ্চমাংশ ওয়াজিব হবে। আবার কেউ কেউ বলেন এক-দশমাংশ বা জাকাতের নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত ওয়াজিব হবে। এ সকল মত পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, সাগর ও নদী থেকে উপার্জিত সম্পদে সাধারণভাবে সকল মুসলমানের অধিকার রয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্র এ বিষয়ে সঠিক নিয়ম তৈরি করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।
টিকাঃ
৮৯৬. আল-আমওয়াল, আবু উবাইদা: ৪৩২-৪৩৬ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
📄 নয়. প্রয়োজনীয় কর
ইসলামি রাষ্ট্র যেকোনো জরুরি অবস্থায় মুসলিমদের সামর্থ্যের ভিত্তিতে তাদের ওপর বিভিন্ন কর আরোপ করার ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত। যখন মুসলিমদের ওপর এমন কঠিন ও সংকটপূর্ণ অবস্থা আপতিত হয় যার ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য হয়ে পড়ে, তখন রাষ্ট্র সচ্ছলদের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর আরোপ করবে। এ বিষয়ে উমর বিন খাত্তাব (রা)-এর একটি বাণী রয়েছে: 'লও ইস্তাকবালতু মিন আমরি মা ইস্তাদবারতু লাআখাজতু ফুদুলা আমওয়াইল আগনিয়াই...' (যদি অতীত অবস্থার মতো কোনো পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গ্রহণ করব এবং তা গরিব মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।)
এমন সংকটের সময় কর আরোপ করাই আবশ্যক যাতে রাষ্ট্র ফিতনা ও লোভীদের ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যবস্তু হওয়া থেকে বাঁচতে পারে।
টিকাঃ
৮৯৭. আল মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৮৯৮. মালিক, হায়াতুহু ওয়া আসরুহু: ৩৯৯-৪০০, শাইখ আবু জাহরা কর্তৃক রচিত।
📄 দশ. সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ
ইসলামে ন্যায়পরায়ণতা ও অধিকার নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রকে নাগরিকদের ওপর এ প্রশ্ন তোলার অধিকার দেয় যে, তোমার এসব সম্পদের উৎস কী? এর ভিত্তি হলো, ইসলামি রাষ্ট্রে অবস্থানকারী নাগরিকদের সম্পদ অর্জনের পন্থার ওপর সন্দেহকরণ। এ মূলনীতিটি উমর (রা)-এর খিলাফতের সময় স্পষ্টরূপে দেখা যায়। তিনি বিভিন্ন গভর্নর ও বড় বড় কর্মচারীদের হস্তগত সম্পদের মধ্যে যেগুলোর প্রতি সন্দেহের উদ্রেক হতো সেগুলোর হিসাব নিতেন এবং অনেক সময় তা বাইতুল মালে বাজেয়াপ্ত করতেন। এ মূলনীতির কারণে খলিফা মুসলিম জনসাধারণের সম্পদ রক্ষা করতে এবং ক্ষমতার দাপটে কারও সম্পদ হাতানোর সুযোগ বন্ধ করতে সক্ষম হন।
টিকাঃ
৮৯৯. মালিক, হায়াতুহু ওয়া আসরুহু: ৩৯৯-৪০০, শাইখ আবু জাহরা কর্তৃক রচিত।