📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ছয়. জিজিয়া

📄 ছয়. জিজিয়া


আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টানরা দারুল ইসলামে বসবাস করার সুবাদে ইসলামি রাষ্ট্রকে প্রতি বছর যে অর্থ দিয়ে থাকে তাকে জিজিয়া বলে। জিজিয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
{ قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ... حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ }
'যে সমস্ত আহলে কিতাব আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ইমান রাখে না... তাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করো; যতক্ষণ না তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় করজোড়ে জিজিয়া প্রদান করে।'

এ আয়াতের মাধ্যমে মুমিনদের ওপর সকল কাফিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ফরজ করা হয়েছে। আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে হলে তাকে দুটি পন্থার যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে: ১. ইসলাম কবুল করা। ২. জিজিয়া প্রদান করা। আয়াতে 'আন ইয়াদিন' এর ব্যাখ্যা হলো, তারা ধনী ও সচ্ছল হলে জিজিয়া দেবে। আর 'সাগিরুন' এর ব্যাখ্যা হলো, তাদের ওপর মুসলিমদের বিজয়ী হওয়ার কারণে মুসলিম শাসকের প্রতি তাদের নতি স্বীকার ও আনুগত্য।

জিজিয়ার পরিমাণ
জিজিয়া কী পরিমাণ হবে, এ বিষয়ে উলামায়ে কিরামের মাঝে ইখতিলাফ রয়েছে। ইমাম শাফিয়ি-এর মতে সর্বনিম্ন জিজিয়া বছরে এক দিনার। ইমাম আহমাদ-এর মতে জিজিয়ার সর্বোচ্চ পরিমাণটি ইজতিহাদমূলক। ইমাম মালিক-এর মতে জিজিয়ার ওয়াজিব পরিমাণ হলো উমর বিন খাত্তাব কর্তৃক নির্ধারিত চার দিনার অথবা চল্লিশ দিরহাম। ইমাম আবু হানিফা-এর মতে জিজিয়ার ক্ষেত্রে আহলে কিতাবগণ তিনটি স্তরে বিভক্ত: উচ্চবিত্ত (৪৮ দিরহাম), মধ্যবিত্ত (২৪ দিরহাম) ও নিম্নবিত্ত (১২ দিরহাম)।

কাদের ওপর জিজিয়া দেওয়া বাধ্যতামূলক
জিজিয়া শুধু স্বাধীন বিবেকসম্পন্ন সাবালক পুরুষদের ওপরই ওয়াজিব; নারী, শিশু, পাগল ও দাসের ওপর কোনো জিজিয়ার বিধান নেই। জিজিয়া আদায় অমুসলিমদের ওপর জুলুম নয়, বরং এটি তাদের নিরাপত্তা দানের বিনিময়ে গৃহীত একটি কর যা জাকাতের তুলনায় অনেক সহজ ও নগণ্য।

টিকাঃ
৮৭৭. তাজুল আরুস : ৩৭/৫৩ (দারুল হিদায়া, বারিদা)
৮৭৮. সুরা আত-তাওবা: ২৯
৮৭৯. আল-আহকামুস সুলতানিয়্যা: পৃ. নং ২২৩ (দারুল হাদিস, কায়রো)
৮৮০. প্রাগুক্ত
৮৮১. আল-মাজমু শারহুল মুহাজ্জাব: ১৯/৩৯১ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
৮৮২. আল-মুগনি, ইবনু কুদামা : ৯/৩৩৪ (মাকতাবাতুল কাহিরা, মিশর)
৮৮৩. বিদায়াতুল মুজতাহিদ: ২/১৬৬ (দারুল হাদিস, কায়রো)
৮৮৪. আল-মাবসুত, সারাখসি: ১০/৭৮ (দারুল মারিফা, বৈরুত)
৮৮৫. আল-আহকামুস সুলতানিয়্যা: পৃ. নং ২২৩ (দারুল হাদিস, কায়রো)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সাত. খনিজ পদার্থ

📄 সাত. খনিজ পদার্থ


খনিজ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাআলা ভূমধ্যে যে সকল উপকারী ও মূল্যবান ধাতু সৃষ্টি করেছেন সেসব সম্পদ। যেমন: তামা, সীসা, লোহা, ফসফেট, সোনা, রুপা ইত্যাদি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ الْأَرْضِ} 'হে ইমানদারগণ, তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করো।'

খনিজের প্রকারভেদ
ইমাম মাওয়ারদি খনিজ পদার্থকে দুভাগে ভাগ করেছেন: ১. প্রকাশ্য খনিজ পদার্থ: যা সহজে পাওয়া যায়, যেমন লবণ, খনিজ তেল ইত্যাদি। এতে সকল মানুষের অধিকার রয়েছে। ২. অপ্রকাশ্য খনিজ পদার্থ: যা পরিশ্রম ছাড়া পাওয়া যায় না, যেমন সোনা, লোহা ইত্যাদি।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : 'আল মুসলিমুনা শুরাকাউ ফী ছালাছিন: ফিল কালা-ই ওয়াল মা-ই ওয়ান নারি' (তিনটি জিনিসে সকল মুসলিমের অধিকার সমান। যথা: ঘাস, পানি ও আগুন।)

খনিজ-সংশ্লিষ্ট আরেকটি বিষয় হলো রিকাজ। ইমাম আবু হানিফা-এর মতে খনিজ সম্পদকেই রিকাজ বলা হয়। আর ইমাম শাফিয়ি ও ইমাম মালিক-এর মতে পুঁতে রাখা সম্পদকে রিকাজ বলে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: '...ওয়াফীর রিকাজি আল-খুমুসু' (এবং রিকাজে এক-পঞ্চমাংশ দেওয়া আবশ্যক।)

টিকাঃ
৮৮৬. আল-মুজামুল অসিত: ২/৫৮৮ (দারুদ দাওয়াহ, ইসকানদারিয়া)
৮৮৭. সুরা আল-বাকারা : ২৬৭
৮৮৮. সুরা আল-হজ : ৬৫
৮৮৯. সুরা আল-জাসিয়া : ১৩
৮৯০. আল-আহকামুস সুলতানিয়া: ২৯৪-২৯৫ (দারুল হাদিস, কায়রো)
৮৯১. সুনানু আবি দাউদ: ৩/২৭৮, হা. নং ৩৪৭৭ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৮৯২. নাইলুল আওতার: ৫/৩৬৬ (দারুল হাদিস, কায়রো)
৮৯৩. নাইলুল আওতার: ৪/১৭৬ (দারুল হাদিস, কায়রো)
৮৯৪. সহিহুল বুখারি: ২/১৩০, হা. নং ১৪৯৯ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৮৯৫. মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার ৬/১৬৪, হা. নং ৮৩৬১ (জামিআতুদ দিরাসাতিল আরাবিয়্য, করাচি) - হাদিসটি জইফ।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আট. পানি সম্পদ

📄 আট. পানি সম্পদ


পানি সম্পদের আওতায় সাগরের বিভিন্ন প্রকার বস্তু অন্তর্ভুক্ত। যেমন : মাছ, মুক্তা, আম্বর, মণি-মাণিক্য এবং আরও অনেক বস্তু। সামুদ্রিক সম্পদের ব্যাপারে উলামায়ে কিরামের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, সাগরে থাকা এসব সম্পদ যে পাবে, তাতে তার অধিকার সাব্যস্ত হবে। কেউ কেউ বলেন, সমুদ্র থেকে অর্জিত সম্পদে রিকাজের ন্যায় এক-পঞ্চমাংশ ওয়াজিব হবে। আবার কেউ কেউ বলেন এক-দশমাংশ বা জাকাতের নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত ওয়াজিব হবে। এ সকল মত পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, সাগর ও নদী থেকে উপার্জিত সম্পদে সাধারণভাবে সকল মুসলমানের অধিকার রয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্র এ বিষয়ে সঠিক নিয়ম তৈরি করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।

টিকাঃ
৮৯৬. আল-আমওয়াল, আবু উবাইদা: ৪৩২-৪৩৬ (দারুল ফিকর, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 নয়. প্রয়োজনীয় কর

📄 নয়. প্রয়োজনীয় কর


ইসলামি রাষ্ট্র যেকোনো জরুরি অবস্থায় মুসলিমদের সামর্থ্যের ভিত্তিতে তাদের ওপর বিভিন্ন কর আরোপ করার ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত। যখন মুসলিমদের ওপর এমন কঠিন ও সংকটপূর্ণ অবস্থা আপতিত হয় যার ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য হয়ে পড়ে, তখন রাষ্ট্র সচ্ছলদের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর আরোপ করবে। এ বিষয়ে উমর বিন খাত্তাব (রা)-এর একটি বাণী রয়েছে: 'লও ইস্তাকবালতু মিন আমরি মা ইস্তাদবারতু লাআখাজতু ফুদুলা আমওয়াইল আগনিয়াই...' (যদি অতীত অবস্থার মতো কোনো পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গ্রহণ করব এবং তা গরিব মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।)

এমন সংকটের সময় কর আরোপ করাই আবশ্যক যাতে রাষ্ট্র ফিতনা ও লোভীদের ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যবস্তু হওয়া থেকে বাঁচতে পারে।

টিকাঃ
৮৯৭. আল মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৮৯৮. মালিক, হায়াতুহু ওয়া আসরুহু: ৩৯৯-৪০০, শাইখ আবু জাহরা কর্তৃক রচিত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px