📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 দুই. খারাজ

📄 দুই. খারাজ


(الخراج) আল-খারাজ আভিধানিক অর্থে জমিনে উৎপাদিত ফসল। ‘মা ওয়াদাআ আলা রিকাবিল আরদি মিন হুকুুুনি তুয়াদ্দা আনহা’ অর্থাৎ জমির ওপর যে নির্ধারিত প্রাপ্য ধার্য করা হয়, তাকে খারাজ বলা হয়।

খারাজের ভূমি মূলত জিহাদের মাধ্যমে দখলকৃত বা সন্ধির কারণে অমুসলিমদের হাত থেকে মুসলিমদের হাতে আসা ভূমি। এ ক্ষেত্রে ভূমিকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমত, যে ভূমি সম্পূর্ণভাবে মুসলিমগণ আবাদ করেছেন। এ ধরণের ভূমি ওশরি হবে, খারাজি নয়। অর্থাৎ যে ভূমি কোনো মুসলিম আবাদ করেছে, তা তার মালিকানায় থাকবে। হাদিসের ভাষ্য হলো : 'মান আহইয়া আরদান মাইয়িতাতান ফাহিয়া লাহু' (মালিকানাহীন কোনো অনাবাদি জমি যে মুসলিম আবাদ করল, তা তার মালিকানায়।)

দ্বিতীয়ত, যে ভূমির আবাদকারী অমুসলিম। এরপর সে ইসলাম কবুল করল। তাহলে সে-ই উক্ত জমির ব্যাপারে অধিক হকদার এবং সে-ই তার মালিক হবে। যেমন মদিনা, তায়েফ, ইয়ামান, বাহরাইন। এ ধরনের ভূমি শাফিয়ি মাজহাবে ওশরি ভূমি হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা-এর মতে রাষ্ট্রপ্রধান এ বিষয়ে অনুমতিপ্রাপ্ত যে, তিনি ওশরি ও খারাজির মধ্য হতে যেটার মাঝে মুসলিমদের অধিক কল্যাণ মনে করবেন, সে অনুসারেই ফয়সালা করবেন। সুতরাং যদি সে সকল ভূমি ওশরি ভূমির অন্তর্ভুক্ত করলে মুসলিমদের কল্যাণ অধিক হয়, তবে তাই করবে। আর ওশরি না রেখে যদি খারাজি ভূমির অন্তর্ভুক্ত করা হলে অধিক কল্যাণকর হয়, তবে তা খারাজি ভূমির অন্তর্ভুক্ত বলে ঘোষণা দেবে।

তৃতীয়ত, মুসলিমগণ কাফিরদের থেকে যুদ্ধ করে যে ভূমি দখল করেছে, তা মুজাহিদদের মধ্যে ভাগ করে না দেওয়া হলে সে সকল ভূমি মুসলমানদের সাধারণ মালিকানায় চলে যায়। যেমন ইরাক, মিসর, শাম ও এগুলোর আশপাশের অঞ্চলসমূহ, এমনিভাবে পারস্যের অনেক এলাকা। এ ধরনের ভূমি তার পূর্বের মালিকদের মালিকানা থেকে বের হয়ে গেলেও জমিগুলো তাদের অধীনেই থাকবে, যেন তারা তাতে কর্মচারী ও চাষাবাদকারী হিসাবে কাজ করতে পারে। তারপর এসব জমিকে খারাজি ভূমির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রথমবার খারাজ ধার্য করা হয় উমর ফারুক (রা)-এর সাথে উসমান ও আলি এবং অন্য একদল সাহাবায়ে কিরামের পারস্পরিক আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের পর, যাদের মধ্যে আছেন বিলাল, জুবাইর, আব্দুর রহমান বিন আওফ ও প্রমুখ সাহাবায়ে কিরাম। তাঁরা বলেছিলেন যে, যুদ্ধে বিজিত ভূমি পাঁচ ভাগ করা হবে। এক-পঞ্চমাংশ দেওয়া হবে যোদ্ধাদের। আর বাকি সব হবে ইসলামি রাষ্ট্রের। কিন্তু উমর তাঁর অন্তর্দৃষ্টি থেকে বললেন, এ বিরাট ভূমি যোদ্ধাদের মাঝে ভাগ করে দিলে সম্পদকে সীমাবদ্ধকরণ হবে এবং তা কিছু মানুষের মাঝে পুঞ্জীভূত হয়ে যাবে। আগত প্রজন্ম এ থেকে বঞ্চিত হবে। সীমান্ত রক্ষায়, সীমান্তরক্ষীদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ক্রয় করার ক্ষেত্রে এ অর্থের প্রয়োজন পড়বে। শহর আবাদকরণ ও অবকাঠামো নির্মাণে, যেমন: পথ, সেতু, পুল, মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন জনহিতকর কাজের জন্য এ অর্থের প্রয়োজন পড়বে।

অতঃপর বিরোধিতাকারীদের সাথে উমর (রা)-এর দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি কিতাবুল্লাহ থেকে নির্দেশনা বুঝতে পারেন, যেখানে বিজিত অঞ্চলে আগামী প্রজন্মের অংশের কথা সাব্যস্ত হয়েছে। সে সকল আয়াত হলো : {মَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَىٰ...} 'আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসুলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রাসুলের, তাঁর আত্মীয়-স্বজনের, এতিমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্য, যাতে ধন-সম্পদ কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়...।'

আল্লাহ তাআলার এ বাণীর কারণে আগামী প্রজন্মের জন্য এসব গনিমতের মাঝে অধিকার থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। উমর এ আয়াতের আলোচনায় বলেন, 'এ আয়াতটি সকল মুসলমানকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে, ফলে এতে সকল মুসলমানের হক রয়েছে।' তারপর উমর এ ধরনের ভূমিগুলোকে পূর্বের মালিকদের হাতে রেখে দেন, যেন তারা এতে কর্মচারী ও চাষাবাদকারী হিসাবে থাকে। এটিই জমহুর আহলে ইলমের মত। তবে ইমাম শাফিয়ি বলেন, বিজিত ভূমি মালে গনিমতের অংশ। আয়াত অনুসারে তাকে পাঁচ ভাগ করতে হবে। যদি তারা সন্তুষ্টচিত্তে তা ছেড়ে দেয়, তবে তা সকল মুসলমানের কল্যাণে ব্যয় হবে। ইমাম আবু হানিফা-এর মতে, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর বলে যা মনে করবেন, সে অনুপাতেই ফয়সালা করবেন।

চতুর্থত, মুশরিকদের হাতে থাকা ভূমি সন্ধির মাধ্যমে মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে আসলে এ ধরনের ভূমির হুকুম আগের প্রকারের ন্যায়। অর্থাৎ এসব জমি খারাজি হিসাবে বিবেচিত হবে। তারা জিজিয়া দেওয়ার সাথে সাথে এগুলোর খারাজও দেবে। খারাজের ভূমিগুলো তাদের পূর্বের মালিকদের হাতেই থাকবে। এ ভূমিগুলোর প্রকৃত মালিক হবে ইসলামি রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এসব ভূমির খারাজ উত্তোলন করা হবে। রাষ্ট্রপ্রধানকে খারাজের পরিমাণ নির্দিষ্টকরণের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তাকে দেখতে হবে জমিন উত্তমমানের নাকি নিম্নমানের এবং সেচ পদ্ধতির ধরন কী রকম।

টিকাঃ
৮৫৬. আল-মুজামুল অসিত: পৃ. নং ২২৪ (দারুদ দাওয়াহ, ইসকানদারিয়া)
৮৫৭. আত-তারিফাত, জুরজানি: পৃ. নং ৯৮ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৮৫৮. সুনানু আবি দাউদ: ৩/১৭৮, হা. নং ৩০৭৩ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৮৫৯. সুরা আল-হাশর: ৭-১০
৮৬০. তাফসিরু ইবনি কাসির: ৮/১০২-১০৩ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৮৬১. আল-আহকামুস সুলতানিয়া: পৃ. নং ২৩০ (দারুল হাদিস, কায়রো)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 তিন. ওশর

📄 তিন. ওশর


ইসলামি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সীমান্ত পার হওয়া ব্যবসায়ীদের থেকে যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ আদায় করে থাকেন, তাকে ওশর বলা হয়। তা কখনো পণ্যের দশ ভাগের একভাগ, কখনো বিশ ভাগের একভাগ এবং কখনো চল্লিশ ভাগের এক ভাগ হয়ে থাকে। উমর (রা)-এর সিদ্ধান্ত থেকে এরকমই প্রমাণিত।

ইমাম আবু হানিফা (রহ) বলেন, দারুল ইসলাম থেকে মুসলিম ব্যবসায়ী দারুল হারবে গেলে যদি তারা শুল্ক নেয় তাহলে তাদের দেশ থেকে কোনো ব্যবসায়ী আমাদের দেশে এলে আমরাও তাদের থেকে ওশর বা শুল্ক নেব। একবার আবু মুসা আশআরি (রা) উমর (রা)-এর নিকট লিখে পাঠালেন, আমাদের মুসলিম ব্যবসায়ী ভাইয়েরা যখন দারুল হারবে যায়, তখন তারা মালের এক-দশমাংশ শুল্ক হিসাবে নিয়ে নেয়। উত্তরে উমর (রা) লিখে পাঠান, তারা যেরকম মুসলিম ব্যবসায়ীদের থেকে নিয়ে থাকে আপনিও তাদের কাছ থেকে সেরূপ (এক-দশমাংশ) নিন। জিম্মিদের থেকে বিশ ভাগের এক ভাগ আর মুসলিমদের থেকে (যাকাত হিসাবে) চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম নিন।

আবু দাউদের বর্ণনায় এসেছে: 'ইন্নামাল উশুরু আলাল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা, ওয়ালাইসা আলাল মুসলিমিনা উশুরুন' (ওশর ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ওপর ধার্যকৃত। মুসলিমদের ওপর ওশর প্রযোজ্য নয়।)

ইমাম কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ওশর আদায়কারী ব্যবসায়ীদের সীমান্ত পার হওয়ার সময় এ ওশর উত্তোলন করবে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বছরে একবারের বেশি উত্তোলন করবে না। বর্ণিত আছে যে, একবার এক বৃদ্ধ খ্রিষ্টান থেকে একই বছর দুবার ওশর নেওয়া হয়। তখন খ্রিষ্টানটি উমর বিন খাত্তাব-এর নিকট এসে অভিযোগ করলে উমর বললেন, 'তার এমন করা উচিত হয়নি; বরং তা বছরে একবারই দিতে হয়।'

টিকাঃ
৮৬২. আওনুল মাবুদ : ৮/২০৮ (দারুল কুতুবিল ইসলামিয়্যা, বৈরুত)
৮৬৩. আল-খারাজ, ইমাম আবু ইউসুফ: পৃ. নং ১৪৮-১৪৯ (আল-মাকতাবুল আজহারিয়‍্যা)
৮৬৪. আল-আমওয়াল, আবু উবাইদা: পৃ. নং ৬৪০ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
৮৬৫. সুনানু আবি দাউদ: ৩/১৬৯, হা. নং ৩০৪৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৮৬৬. আল-আমওয়াল, আবু উবাইদা: পৃ. নং ৬৪৬ (দারুল ফিকর, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 চার. ফাই

📄 চার. ফাই


(الفيء) আল-ফাই এর অর্থ হলো এমন ছায়া যা সূর্যের কিরণকে দূর করে দেয়। শরিয়তের পরিভাষায় ফাই বলা হয়, যে সম্পদ দ্বীনের শত্রুদের সাথে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করা ব্যতীতই তাদের উচ্ছেদ বা তাদের ওপর জিজিয়া আরোপের মাধ্যমে আল্লাহ দান করেন।

এ সম্পদ রাসুলুল্লাহ ﷺ ও মুসলমানদের জন্য। জাকাতের সম্পদে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কোনো অংশ ছিল না। তাঁর জীবদ্দশায় ফাইয়ের অর্থ থেকে তিনি নিজের ও তাঁর পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতেন। ফাইয়ের অর্থ থেকে যা কিছু উদ্বৃত্ত থাকত, তা মুসলিমদের কল্যাণে ব্যয় হতো। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন :
{ وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ... }
'আল্লাহ ইহুদিদের কাছ থেকে রাসুলকে যে ফাই দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে আরোহণ করে যুদ্ধ করোনি...।'

আল্লাহ তাআলা সে সকল সম্পদের ক্ষেত্রে সর্বকালে ও সর্বস্থানে এ হুকুম আরোপিত হওয়ার ব্যাপারে বলেন :
{ مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَىٰ... }
'আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসুলকে যা কিছু দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রাসুলের, রাসুলের স্বজনদের, এতিমদের, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরদের; যাতে তোমাদের মধ্যে যারা বিত্তবান, কেবল তাদের মধ্যেই ধন-সম্পদ পুঞ্জীভূত না হয়...।'

সুতরাং বলা যায়, যুদ্ধ ও লড়াই ব্যতীত কাফিরদের থেকে পাওয়া সম্পদকে ফাই বলা হয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ ও সকল মুসলমানের জন্য তা বৈধ। তা মুসলিমদের বিপদাপদে ও তাদের কল্যাণে ব্যয় হবে। যেমন: ফকির, মিসকিন, এতিম ও মুসাফিরদের সাহায্যে এবং রাস্তা, সেতু, বাঁধ, মসজিদ ইত্যাদি নির্মাণে ব্যয় করা হবে।

টিকাঃ
৮৬৭. আল-কামুসুল মুহিত: পৃ. নং ৪৮ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)
৮৬৮. আত-তারিফাত, জুরজানি: পৃ. নং ১৭০ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৮৬৯. সুরা আল-হাশর: ৬
৮৭০. সুরা আল-হাশর: ৭
৮৭১. তাফসিরুল কুরতুবি: ৮/১১ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়‍্যা, কায়রো)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 পাঁচ. গনিমতরে এক-পঞ্চমাংশ

📄 পাঁচ. গনিমতরে এক-পঞ্চমাংশ


শরিয়তের পরিভাষায় মুসলমানগণ কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় লাভ করে যে সম্পদ হস্তগত করে তাকে গনিমত বলে। যুদ্ধের ময়দানে গনিমতের মালকে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের অধিকার বানিয়ে দিয়েছেন। গনিমত মুসলিমদের জন্য হালাল। আল্লাহ তাআলা বলেন:
{ فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلَالًا طَيِّبًا ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ }
'সুতরাং গনিমত হিসাবে তোমরা যে পরিচ্ছন্ন ও হালাল বস্তু অর্জন করেছ, তা থেকে ভক্ষণ করো। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।'

বণ্টন পদ্ধতি
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন :
{ ۞ وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُم مِّن شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ }
'আর জেনে রাখো যে, বস্তুসামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনিমত হিসাবে পাবে, তার এক-পঞ্চমাংশ হলো আল্লাহর জন্য, রাসুলের জন্য, তাঁর নিকটাত্মীয়দের জন্য এবং এতিম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য।'

মুসলিমগণ যে গনিমত লাভ করে, তা পাঁচ ভাগ করে চার-পঞ্চমাংশ যোদ্ধাদের দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইজমা রয়েছে। কিন্তু বাকি এক পঞ্চমাংশের বণ্টন নিয়ে ফুকাহা ও উলামায়ে কিরামের মাঝে ইখতিলাফ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা-এর মতে এক-পঞ্চমাংশকে এতিম, মিসকিন ও মুসাফির এ তিনটি অংশে ভাগ করে দেওয়া হবে। হানাফিগণ বলেন, এক-পঞ্চমাংশের বণ্টন সেতু সংস্কার, মসজিদ নির্মাণ, কাজি ও সৈনিকদের বেতন থেকে শুরু করতে হবে। ইমাম মালিক-এর মতে এক-পঞ্চমাংশের বিধান ফাইয়ের মতোই। ইমাম শাফিয়ি-এর মতে, এক-পঞ্চমাংশকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করা হবে। এক ভাগ হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের। আর বাকি চার ভাগ রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য।

উমর বিন আনবাসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ একটি উটের লোম তুলে নিয়ে বললেন :
'ওয়ালা ইয়াহিল্লু লী মিন গানাইমিকুম মিছলু হাজা ইল্লাল খুমুসু ওয়াল খুমুসু মারদুদুন ফিকুম'
(এক-পঞ্চমাংশ ব্যতীত তোমাদের গনিমত থেকে আমার জন্য এ লোম পরিমাণও হারাম। আর এক-পঞ্চমাংশ তোমাদের কল্যাণেই ব্যয় হবে।)

টিকাঃ
৮৭২. সুরা আল-আনফাল : ৬৯
৮৭৩. সুরা আল-আনফাল: ৪১
৮৭৪. তাফসিরুল কুরতুবি: ৮/১১ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়‍্যা, কায়রো)
৮৭৫. প্রাগুক্ত
৮৭৬. সুনানু আবি দাউদ: ৩/৮২, হা. নং ২৭৫৫ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px