📄 জাকাতের খাতসমূহ
জাকাতের অর্থ যাকে তাকে দিলে হবে না; বরং এর জন্য শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত কিছু খাত আছে। এ নির্দিষ্ট খাতগুলো ছাড়া অন্য কোথাও জাকাতের অর্থ দান করলে জাকাত আদায় হবে না। এ খাত মোট আটটি শ্রেণিতে বিভক্ত।
এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হচ্ছে :
{ إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ }
'জাকাত কেবল ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক এবং তা দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথের মুজাহিদদের জন্য ও মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।'
১. ফকির: যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। শরিয়তের পরিভাষায় নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকলে তাকে ফকির বলা হয়।
২. মিসকিন: মিসকিন ফকিরের মতোই নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নয়। ফকির মানুষের নিকট ভিক্ষা ও সাহায্য চায়, কিন্তু মিসকিন বেচারা কষ্টে থাকলেও আত্মমর্যাদাবোধের কারণে মানুষের নিকট হাত পাতে না। এ জন্য তুলনামূলকভাবে ফকিরদের চেয়ে মিসকিনরা অধিক কষ্ট ভোগ করে থাকে। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'লাইসাল মিসকিনু বিহাজাত তাওয়াাফিল্লাজি ইয়াতুফু আলান নাস...'
(মিসকিন সে নয়, যে মানুষের নিকট ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা চায়, যাকে এক বা দু'লোকমা খাবার কিংবা একটি বা দুটি খেজুর দিয়ে দেওয়া হয়। সাহাবায়ে কিরাম প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, তাহলে মিসকিন কে? রাসুলুল্লাহ বললেন, মিসকিন হলো, যে অর্জনের উপায় করতে পারে না, তাদের দারিদ্র্য বুঝতেও দেয় না, যদ্দরুন তাদের কিছু সদকা করা হবে।)
৩. জাকাতের কর্মচারী: এ খাতের আওতায় পড়বেন জাকাত উত্তোলনকারী, জাকাত বণ্টনকারী, এ কাজে নিয়োজিত লেখক ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীগণ।
৪. ইসলামের প্রতি অনুরাগী অমুসলিম: ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য লোকদের জাকাতের অংশ থেকে প্রদান করা যাবে। হতে পারে এমন কাফির, যার ইসলাম গ্রহণের আশা করা যায়, অথবা দুর্বল ইমানদার, যাকে অর্থ-সম্পদ দিলে তার ইমান শক্তিশালী হবে।
৫. গোলাম আজাদকরণ: মুকাতিব গোলাম, সাধারণ গোলাম এবং মুসলিম বন্দীদের মুক্তকরণে জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে।
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি: মীমাংসাকারী ব্যক্তি যিনি দুপক্ষের বিরোধ মিটাতে ঋণ করেছেন অথবা এমন সাধারণ ঋণকারী যে নিজের প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে ঋণ করেছে কিন্তু পরিশোধের সামর্থ্য নেই।
৭. আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা: এখানে 'ফী সাবীলিল্লাহ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধরত মুজাহিদগণ। রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো কোন জিহাদ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, যে আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করার জন্য যুদ্ধ করে।
৮. মুসাফির: এমন মুসাফিরকেও এ অর্থ দেওয়া যাবে, সফররত অবস্থায় যার রসদ ফুরিয়ে গেছে, যদিও সে নিজ শহরে ধনী।
টিকাঃ
৮৪৬. সুরা আত-তাওবা: ৬০
৮৪৭. সুনানু আবি দাউদ: ২/১১৭, হা. নং, ১৬৩০ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৮৪৮. সহিহু মুসলিম: ২/৭১৯, হা. নং ১০৩৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৮৫০. মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনি উসাইমিন: ১৮/৩৩২ (দারুল ওয়াতন)
৮৫৪. সহিহু মুসলিম: ৩/১৫১৩, হা. নং ১৯০৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)