📄 ব্যবসার জাকাত
ব্যবসায়িক সম্পদের ওপর জাকাত দিতে হয়। অর্থাৎ যেসব পণ্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা হয়, সেগুলোর জাকাত দিতে হবে। তবে শর্ত হলো, এক বছর পূর্ণ হতে হবে এবং নিসাব পরিমাণ হতে হবে। ব্যবসা যদি সোনার হয়ে থাকে, তাহলে সোনার নিসাব তথা সাড়ে সাত ভরি পরিমাণ সোনা থাকলে জাকাত আবশ্যক হবে, এর কম থাকলে নয়। আর যদি রুপার ব্যবসা হয়, তাহলে রুপার নিসাব তথা সাড়ে বায়ান্নো ভরি রুপা থাকলে জাকাত আবশ্যক হবে, এর কম থাকলে নয়। আর ব্যবসায়িক পণ্য যদি সোনা-রুপা ছাড়া অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী হয়, তাহলে সেগুলো মূল্য হিসাব করে সোনা বা রুপার মধ্যে কোনো একটি নিসাবের মূল্যের সমপরিমাণ হলে তার জাকাত দিতে হবে, অন্যথায় নয়। আর পূর্বে গত হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে রুপার নিসাবের মূল্য হিসাব করবে, সোনার নিসাবের মূল্যের নয়। সুতরাং সোনা-রুপা ছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়িক পণ্যের মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্নো ভরি রুপার সমমূল্যের হয়, তাহলেই তার ওপর জাকাত আবশ্যক হয়ে যাবে।
ব্যবসার সম্পদ স্থাবর, অস্থাবর যে ধরনেরই হোক না কেন, তাতে গরিব ও অসহায়দের একটি অংশ নির্ধারিত হয়ে যায়। সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'ফাইন্না রাসুলাল্লাহি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা কান ইয়ামুরুনা আন তুখরিজাস সাদাকাতা মিনাল্লাজি নুয়িদ্দু লিল বায়ি'
(রাসুলুল্লাহ আমাদের বিক্রির জন্য রাখা পণ্যের জাকাত দেওয়ার নির্দেশ দিতেন।)
টিকাঃ
৮৩৩. সুনানু আবি দাউদ : ২/৯৫, হা. নং ১৫৬২ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
📄 নিসাব পরিপূর্ণ হওয়ার সময়
বছরের শুরু ও শেষ সময় নিসাব পূর্ণ থাকলেই যথেষ্ট। বছরের মাঝামাঝি সময়ে নিসাব অসম্পূর্ণ থাকলে সমস্যা নেই। মোটকথা, নিসাবের মালিক হওয়ার দিন থেকে বছরের শেষদিন পর্যন্ত সারাবছর নিসাব পূর্ণ থাকা আবশ্যক নয়। বছরের মাঝ দিয়ে লস বা বিভিন্ন কারণে নিসাব কমে গেলেও বছরের শেষ দিন যদি আবার নিসাব পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে শেষদিন যে পরিমাণ অর্থ বা পণ্য হাতে থাকবে, সে পরিমাণেরই জাকাত দিতে হবে। তা বছরের শুরু সময়ের অর্থ বা পণ্যের চেয়ে কমও হতে পারে, বেশিও হতে পারে আবার সমান সমানও হতে পারে।
📄 গবাদি পশুর জাকাত
গবাদি পশু দ্বারা এখানে শুধু তিন ধরনের পশু উদ্দেশ্য। যথা: উট, গরু ও ছাগল। এ তিন ধরনের পশু ছাড়া অন্য কোনো পশুর ওপর কোনো জাকাত নেই। হ্যাঁ, যদি সেগুলো ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা হয়, তাহলে সেগুলোর ওপর ব্যবসায়িক পণ্য হিসাবে জাকাত আসবে। সেগুলোর জন্য গবাদি পশুর নিসাব বা শর্ত প্রযোজ্য নয়।
গবাদি পশুর জাকাত আবশ্যক হওয়ার জন্য আলাদা শর্ত, আলাদা নিসাব। শর্ত হলো পশু সায়িমা হতে হবে। সায়িমা না হলে যত পশুই থাকুক না কেন, তাতে জাকাত ওয়াজিব হবে না। শরিয়তের পরিভাষায় যেসব পশু বছরের অধিকাংশ সময় চারণভূমিতে ঘুরে ঘুরে ঘাস খায়, বছরের বেশিরভাগ সময় যার আলাদা করে খাওয়ার খরচ বহন করতে হয় না, তাকে সায়িমা পশু বলে। সাধারণত সায়িমা পশু দুধ খাওয়ার জন্য এবং তাদের বাচ্চা হওয়ার জন্য পালা হয়। সুতরাং যেসব পশুকে বছরের অধিকাংশ সময় নিজের খরচে ঘাস-পানি খাওয়াতে হয় কিংবা সেগুলোকে কাজকর্ম ও বহনের জন্য খাটানো হয়, সেগুলোর ওপর জাকাত আসবে না।
আলি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'ওয়ালাইসা আলাল আওয়ামিলি শাইয়ুন'
(যে পশুকে কাজে-কর্মে খাটানো হয়, তাতে কোনো কিছু অর্থাৎ জাকাত দেওয়া লাগবে না।)
টিকাঃ
৮৩৪. আল-জাওহারাতুন নাইয়ারা: ১/২১২ (আল মাতবাআতুল খাইরিয়্যা)
৮৩৫. সুনানু আবি দাউদ: ২/১০০, হা. নং ১৫৭২ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
📄 ফসল ও ফলফলাদির জাকাত
জমিনে উৎপাদিত যে সকল ফসল মানুষ প্রতিনিয়ত ভক্ষণ করে বা গুদামজাত করে রাখে, সেগুলোতে জাকাত তথা ওশর দেওয়া ওয়াজিব। চাই তা গম, খেজুর, জব, ফলফলাদি অথবা এ জাতীয় অন্য কিছু হোক।
সালিম বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
'ফীমা সাক্বাতিস সামাউ ওয়াল আনহারু ওয়াল উয়ুনু আও কানা বা'লান আল-উশরু, ওয়ামা সুক্বিয়া বিসসা ওয়ানী ওয়াননাদহি নিসফুল উশরি'
(যেসব জমি বৃষ্টির পানি, খাল-বিল ও ঝর্ণার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়েছে কিংবা যে জমিতে সেঁচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, তাতে ওশর তথা দশ ভাগের এক ভাগ দিতে হবে। আর যেসব জমি উট বা বালতি দ্বারা বা যান্ত্রিক উপায়ে সেচপ্রাপ্ত হয়, সেগুলোতে ওশরের অর্ধেক তথা উৎপাদিত ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ জাকাত দিতে হবে।)
উল্লিখিত হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, যেসব জমি নদী, বৃষ্টি বা ঝর্ণার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয় এবং তাতে তেমন কোনো আর্থিক বা শারীরিক কষ্টের প্রয়োজন হয় না, সে সকল জমির জাকাত হলো দশ ভাগের এক ভাগ। আর যে সকল জমিতে মালিকের শ্রম দিতে হয় এবং সিঞ্চনের জন্য তার অর্থ খরচ হয়, সেগুলোতে বিশ ভাগের এক ভাগ জাকাত দিতে হবে।
টিকাঃ
৮৪০. সুনানুন নাসায়ি: ৫/৪১, হা. নং ২৪৮৮ (মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) - হাদিসটি সহিহ।