📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আট. উপটৌকন ও দান

📄 আট. উপটৌকন ও দান


(الهبة) আল-হিবা হলো দু'ব্যক্তির মাঝে শরিয়াসম্মত কোনো উপকারী বস্তু প্রদানের চুক্তি। যে বস্তু একজন অপরজনকে কোনো বিনিময় ছাড়া দিয়ে থাকে। ফলে যাকে দান করা হয়েছে, সে দানকৃত বস্তুর মালিক হয়ে যায়। হিবা উপার্জনের শরিয়াসম্মত একটি পন্থা। যার মাধ্যমে আত্মা পবিত্র হয়, পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য সৃষ্টি হয় এবং মানুষের মন থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে যায়।

হিবা করলে তা আবশ্যক হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কিরামের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম শাফিয়ি-এর মতে, হিবা করলে তা আবশ্যক হয়ে যায়; ফেরত নেওয়ার বৈধতা রহিত হয়ে যায়। যাকে দান করা হয়েছে, তার কাছে ওই জিনিস আর চাওয়া যাবে না। তবে শুধু পিতার বিষয়টি ব্যতিক্রম। সুতরাং পিতা নিজ সন্তানকে কোনো কিছু দেওয়ার পর তা ফেরত নিতে পারবে। আর ইমাম আবু হানিফা-এর মতে, সাধারণভাবে হিবা আবশ্যক হয় না। দাতা কোনো কিছু দান করার পর পুনরায় তা ফিরিয়ে নিতে পারবে। যাকে দান করা হয়েছে, তার কাছে উক্ত জিনিস চাইতে পারবে। ৭৭২

অবশ্য বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে তা আর ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার থাকে না। যেমন আত্মীয়স্বজনকে হিবা করলে, অনুরূপ হিবাকৃত বস্তু আর বিদ্যমান না থাকলে কিংবা থাকলেও তাতে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে থাকলে, তখন আর তা ফেরত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। ৭৭৩

টিকাঃ
৭৭২. বাদায়িউস সানায়ি: ৬/১২৭ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৭৭৩. বাদায়িউস সানায়ি: ৬/১৩২ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 নয়. ভাড়া দেওয়া

📄 নয়. ভাড়া দেওয়া


আল-ইজারাহ বা ভাড়া হলো ভাড়াদাতা ও ভাড়াগ্রহীতার মধ্যে ভাড়ায় গৃহীত বস্তু থেকে উপকার গ্রহণের বিনিময়ে উভয়ের সম্মতিক্রমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা। যেমন: থাকার ঘর, পরিবহনের গাড়ি অথবা কোনো পশু প্রভৃতির মাধ্যমে উপকার গ্রহণ করা। উপার্জনের জন্য আল-ইজারাহ একটি হালাল মাধ্যম। এর মাধ্যমে ভাড়া দানকারী ব্যক্তি হালালভাবে উপার্জনের সুযোগ পায় এবং বিভিন্ন উপকার গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।

ভাড়া থেকে উপার্জন হালাল হওয়ার জন্য শর্ত হলো, তা বৈধ খাতে হতে হবে। অবৈধ খাত থেকে উপার্জিত অর্থ হালাল হবে না। পাশাপাশি ভাড়ার সময় ভাড়ার পরিমাণ, মেয়াদ ও শর্ত ইত্যাদি সব স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি, অন্যথায় তা ফাসিদ বলে বিবেচিত হবে।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 দশ. স্বাধীন পেশা

📄 দশ. স্বাধীন পেশা


বিভিন্ন জায়গায় নানাভাবে বৈধ উপার্জনের জন্য মানুষ করে থাকে, এমন পেশাকে স্বাধীন পেশা বলা হয়। যেমন: কামার, কাঠমিস্ত্রি, নাপিত, কসাইসহ বিভিন্ন পেশার লোক, যারা নিজের স্বাধীনমতো কাজ করে অর্থ উপার্জন করে। ইসলামে শ্রমের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। শ্রম ও কর্মের প্রতি ইসলাম খুবই উৎসাহ প্রদান করেছে। যেন মানুষ বৈধ উপার্জন ও মানসম্মতভাবে জীবনযাপন করতে পারে। পবিত্র কুরআনেও এ ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। মানুষকে নামাজ আদায় করার পরপরই রিজিক অন্বেষণের জন্য বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া বা কঠোর পরিশ্রম ছাড়া জীবিকা অন্বেষণ সম্ভব নয়।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
{ فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ }
'অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো।' ৭৭৪

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেন :
'লায়ঁ ইয়াহতাতিবা আহাদুকুম হুজমাতান আলা জাহরিহি খায়রুল লাহু মিন আইঁ ইয়াসআলা আহাদান ফাইয়ু'তিয়াহু আও ইয়ামনাআহু' (অন্যের কাছে হাত পাতলে হয়তো সে দেবে বা ফিরিয়ে দেবে। এ হাত পাতার চেয়ে পিঠের ওপর লাকড়ির বোঝা বহন করা উত্তম।) ৭৭৫

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
'কানা যাকারিয়া নাজ্জারান' (জাকারিয়া কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।) ৭৭৬

মিকদাদ বিন মাদিকারাব থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'মা আকাল্লা আহাদুন তয়া-মান ক্বাত্তু খাইরাম মিন আইঁ ইয়াকুলা মিন আমালি ইয়াদিহি...' (তোমাদের কেউ নিজ হাতের উপার্জন করা খাবারের চেয়ে উত্তম খাবার কখনো ভক্ষণ করেনি। আর আল্লাহর নবি দাউদ তাঁর নিজ হাতের উপার্জন থেকে ভক্ষণ করতেন।) ৭৭৭

টিকাঃ
৭৭৪. সুরা আল-জুমআ : ১০
৭৭৫. সহিহুল বুখারি : ৩/৫৭, হা. নং ২০৭৪ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৭৭৬. সহিহ মুসলিম : ৪/১৮৪৭, হা. নং ২৩৭৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৭৭৭. সহিহুল বুখারি : ৩/৫৭, হা. নং ২০৭2 (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

ফন্ট সাইজ
15px
17px