📄 ৫. شركة المساهمة - অংশীদারত্বের চুক্তিতে ব্যবসা
যৌথব্যবসার প্রকারগুলোর মধ্যে এটিও একটি প্রকার। মুসলমানদের একটি গোষ্ঠী যেকোনো এক ধরনের ব্যবসায়িক প্রকল্পে নির্দিষ্ট অর্থ জোগান দেবে এ শর্তে যে, সেখানে প্রত্যেক অংশীদারের জন্য একটি অংশ নির্ধারিত থাকবে। আর প্রত্যেকের অংশ নির্ধারিত হবে তার বিনিয়োগকৃত সম্পদের পরিমাণ অনুযায়ী। এই প্রকারের শেয়ার ব্যবসা মুদারিবের ওপর নির্ভরশীল। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সক্ষম ব্যক্তিকে মালিকগণ অর্থের যোগান দেবে। এই পদ্ধতির ব্যবসা বৈধ; যদি চুক্তির রুকন তথা ইজাব ও কবুল, শিরকাতুল মুসাহামা সহিহ হওয়ার শর্তসমূহ এবং চুক্তি সম্পন্নকারী উভয়পক্ষ পাওয়া যায়। চুক্তি সম্পন্নকারী পক্ষদ্বয় হলো : এক. শেয়ার হোল্ডার তথা সম্পদের অংশীদার। দুই. যৌথব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান।
এ ক্ষেত্রে ব্যবসা নিয়ে কথা বলবে ব্যবসা-পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এর কারণ, শিরকাতুল মুসাহামা নামক এ যৌথব্যবসা একটি সংস্থার মতো, যে সংস্থা তার পরিচালনাধীন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করবে। যেমন : বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, পাবলিক লাইব্রেরি, প্রকাশনা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর ন্যায়। সুতরাং কারও সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদনের সময় উপস্থিত প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক অংশীদারই থাকতে হবে, এমন চিন্তা করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং এ ক্ষেত্রে সংগত নিয়ম হলো, সকল অংশীদারের পক্ষ থেকে নিয়োজিত উকিল হিসাবে প্রতিষ্ঠান-প্রধান অথবা তাদের চুক্তি সম্পাদনকারী বিভাগ চুক্তি সম্পাদন করবে। যৌথব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান পরিচালক হচ্ছে উকিল এবং সকল অংশীদার হচ্ছে মুআক্কিল বা উকিল নিয়োগকারী।
এ ক্ষেত্রে এই ব্যবসায় কারও অংশ বেশি হওয়ার কারণে স্বেচ্ছাচারী হয়ে প্রতিষ্ঠানের ওপর কেউ সীমালঙ্ঘন করতে পারবে না; যেমনটি পুঁজিবাদি পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। আর পুঁজিবাদের মধ্যে যার সম্পদ বা অংশ বেশি থাকে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার চাবিকাঠি হস্তগত করে নেয়। এমন আচরণ অন্যায়, স্বেচ্ছাচারিতা ও জুলুম। এ বিষয়ে সঠিকতর পদ্ধতি হলো, অভিজ্ঞ ও যৌথ ব্যবসা সম্পর্কে জ্ঞাত যেকোনো একজন ব্যক্তির নিকট পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা। আর কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে নিরপেক্ষ বাছাইয়ের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা সম্ভব, যে যৌথ কারবারের কলাকৌশল, আর্থিক ও সার্বিক বিষয়াদি সম্পর্কে অভিজ্ঞ হবে। এই পদ্ধতিই হচ্ছে মূলধনে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা থেকে বেঁচে থাকার উপায়।
অনেক সময় বলা হয়ে থাকে, দ্বিতীয় পক্ষকে না দেখে কীভাবে তার সাথে চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে? এর জবাব হলো, চুক্তি শুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয়পক্ষ উপস্থিত থাকা এবং ইজাব-কবুল সরাসরি-সামনাসামনি মুখে উচ্চারণ করা শর্ত নয়। চুক্তির মজলিসে ইজাব-কবুল হলেই চুক্তি পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। এ সময় দুজন পরস্পরকে না দেখলেও চলবে। কেননা স্থান-কাল ভেদে চুক্তির ধরন নির্ধারিত হয়। যেমন, দূরত্বের কারণে প্রস্তাবদাতার পক্ষ থেকে গ্রাহকের নিকট পত্র প্রেরণের মাধ্যমেও চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে। এ ব্যাপারে ফুকাহায়ে কিরামের বক্তব্য হলো, পত্র মারফত চুক্তি করা সরাসরি কথা বলার মতোই। এমনিভাবে হাজার মাইল দূরে থেকেও মোবাইলে কথা বলার মাধ্যমে দুজনের মাঝে চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে। এমন পদ্ধতির বৈধতা মুসলমানদের সুবিধার জন্যই দেওয়া হয়েছে।
সারকথা হলো, যৌথব্যবসার সব ধরনের শর্ত পাওয়া গেলে এমন পদ্ধতিতে চুক্তি করা জায়িজ। তবে সতর্ক থাকতে হবে, সবার মধ্যে যার অংশ বা অর্থ অন্যদের চেয়ে বেশি, সে যেন প্রতিষ্ঠানের ওপর জেঁকে না বসে এবং ব্যবসার সাথে যেন কোনো সুদি কারবার যুক্ত না করে।