📄 ৪. شركة المفاوضة - সমান অংশীদারত্ব
আল-মুফাওজা এর আভিধানিক অর্থ সমতা। অর্থাৎ সমান স্তর বা সমমর্যাদার একটি দল, যারা একে অপরের সাথে মিলিত, মিশ্রিত ও জড়িত। তাদের মধ্যে কেউই মূল নয় অথবা প্রত্যেকে ভিন্ন ধরনের, কিংবা প্রত্যেকেই একে অন্যের সাথে মিশ্রিত। সর্বোপরি, আল-মুফাওজা হলো সর্ববিষয়ে অংশীদারত্ব। ৭৫২
এই পদ্ধতির শেয়ার ব্যবসাকে আল-মুফাওজা বলা হয় এ জন্য যে, এখানে মূলধন, লভ্যাংশ এবং সর্ববিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার সকলের জন্য সমান থাকে। কেউ বলে থাকেন যে, আল-মুফাওজা শব্দটি তাফভিজ বা সমর্পণ থেকে নির্গত। কেননা, প্রত্যেক অংশীদারই তার উপস্থিতি-অনুপস্থিতি-সর্বাবস্থায় অন্য শরিককে তার সম্পদে হস্তক্ষেপের অনুমতি দিয়ে রাখে। ৭৫৩
আল-মুফাওজা এর ধরন হলো, দুই বা ততোধিক অংশীদার প্রত্যেকেই অপরের সম্পদের মধ্যে হস্তক্ষেপ এবং ঋণের ব্যাপারে সমান অধিকারপ্রাপ্ত। ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত সকল বিষয়ে তারা প্রত্যেকে পরস্পরের পক্ষ থেকে উকিলের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবে। এই পদ্ধতিটি ব্যাপক ও বিস্তৃত। অর্থাৎ প্রত্যেক শরিক অন্য শরিককে ব্যবসায় পরিপূর্ণভাবে হস্তক্ষেপের অনুমতি দিয়ে থাকে। তা ছাড়া মুফাওজা অর্থ হচ্ছে সমতা বা সমান। সুতরাং শব্দের অর্থেরও দাবি যে, যেসব বিষয়ে যৌথব্যবসা হতে পারে, সেসব বিষয়ে তারা উভয়ে পরিপূর্ণরূপে সমান অধিকারী। ৭৫৪
ইমাম শাফিয়ি ও ইমাম আহমাদ-এর মতে এমন ব্যবসা বাতিল। শরিয়তে এর কোনো বর্ণনা নেই। এই ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ বলেন :
'কুল্লু শারতিন লাইসা ফি কিতাবিল্লাহি ফাহুয়া বাতিলুন' (আল্লাহর কিতাবে নেই, এমন সকল শর্ত বাতিল বলে বিবেচিত হবে।) ৭৫৫
এ ধরনের ব্যবসায়িক পদ্ধতি কুরআনে কারিমে নেই। তাই এটি বাতিল। তাদের আরেকটি দলিল হলো, এই পদ্ধতির ভিত্তি দুটি জায়িজ বিষয়ের ওপর। আর তা হলো, ওকালাত ও কাফালাত। আর এই দুটির প্রত্যেকটিই পৃথক পৃথকভাবে বৈধ ছিল, একত্রে নয়। অথচ উভয় অংশীদার একই ব্যবসায় উভয়টিকে একত্র করেছে। তাই এখন তা আর বৈধ থাকছে না। কিন্তু এখানে জায়িজ হওয়ার মতটিই অধিক শক্তিশালী। কেননা, লেনদেনের সকল পদ্ধতি রাসুলুল্লাহ-এর যুগে ছিল না। তাই বলে পরবর্তী সময়ে আবিষ্কৃত সকল ব্যবসায়িক পদ্ধতিকে কেউ বাতিল বলে না। এখানে মূল দেখার বিষয় হলো, নতুন আবিষ্কৃত পদ্ধতিটি শরিয়তের কোনো মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক কিনা। যদি সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা দেখতে যত ভালো পদ্ধতিই মনে হোক না কেন, সেটা বাতিল লেনদেন বলে বিবেচিত হবে। আর এরকম সাংঘর্ষিক না হলে, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। সুতরাং এ শিরকতে যেহেতু শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো কিছু পাওয়া যায় না, তাই এটাকে নাজায়িজ বলার কোনো কারণ নেই।
আল-মুফাওজা শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ :
কিছু শর্তের ভিত্তিতে আল-মুফাওজা বা সমান অংশীদারত্বে যৌথব্যবসা বৈধ। যথা:
ক. লাভের হার/পরিমাণ স্পষ্ট থাকা। অস্পষ্ট থাকলে আল-মুফাওজা নামক অংশীদারত্ব ফাসিদ হয়ে যাবে। কেননা, ব্যবসার উদ্দেশ্যই হলো লাভ। আর লাভের ওপরই চুক্তি হয়ে থাকে। তাই লাভের অস্পষ্টতা এ পদ্ধতির যৌথব্যবসাকে বিনষ্ট করে দেয়।
খ. লাভের পরিমাণ মূলধনের সর্বত্র বিস্তৃত থাকতে হবে। কোনো একটি অংশের সাথে নির্দিষ্ট করা হলে চলবে না। তাই যদি ব্যবসার লভ্যাংশের কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়, যেমন লাভ হতে দশ দিনার বা একশ দিনার পাবে, তাহলে এই শিরকত শুদ্ধ হবে না। কেননা, এমন নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে শিরকত বাতিল হয়ে যায়। কারও লভ্যাংশের পরিমাণ নির্ধারিত থাকলে তো উক্ত লাভের মধ্যে উভয়ের অংশীদারত্ব সাব্যস্ত হয় না।
গ. মূলধন সামনে উপস্থিত থাকতে হবে। অনুপস্থিত বা ধার হিসাবে অন্যের কাছে থাকা কোনো সম্পদ হলে চলবে না। কেননা, শেয়ার ব্যবসার উদ্দেশ্যই হলো লাভ। আর তা অর্জিত হয় সম্পদের মধ্যে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে। কিন্তু ধার বা অনুপস্থিত সম্পদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। তাই এ ক্ষেত্রে যেহেতু উদ্দেশ্য তথা লাভ হাসিল হয় না, সেহেতু মূলধন সামনে উপস্থিত থাকতে হবে।
ঘ. প্রত্যেক অংশীদারের জন্য ওকালাত (প্রতিনিধিত্ব) এবং কাফালাত (দায়িত্ব) এর অধিকার থাকতে হবে। যদি উভয়ে স্বাধীন ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হয়, তবে এটা সম্ভব হবে। আর যৌথ কারবারে এটি আবশ্যকীয় একটি বিষয়। ওকালাত (প্রতিনিধিত্ব) এর মর্মার্থ হলো, তাদের প্রত্যেকেই তার অপর অংশীদারের পক্ষ থেকে যৌথ সম্পদে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে উকিল হবে। তারা একজন অন্যজনকে ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়ে রাখবে এবং তাদের উভয়ের যেকোনো কাজ গ্রহণ করা হবে। কারণ, যৌথ ব্যবসার চাহিদা এমনই। আর উকিল তো হলো, তার অংশীদারের অনুমতিক্রমে হস্তক্ষেপকারী। সুতরাং এখানে ওকালতির অধিকার থাকা শর্ত। এমনিভাবে কাফালাত বা দায়িত্ব গ্রহণও মুফাওজা চুক্তির চাহিদা। কেননা, ব্যবসার মধ্যে তাদের একজনের জন্য যা কিছু সাব্যস্ত হয়, তা অপরজনের জন্যও সাব্যস্ত হয়। আর তাদের প্রত্যেকেই অপর অংশীদারের ওপর যা সাব্যস্ত হয়েছে, তাতে তার পক্ষ থেকে কফিল বা জিম্মাদারের মতো হবে। অতএব, এই ব্যবসায় কাফালাত (দায়িত্ব)-এর অধিকার থাকতে হবে।
ঙ. মুফাওজা সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত হলো, মূলধনের পরিমাণ সমান হওয়া। অতএব যদি উভয়ের সম্পদ সমান না হয়ে কমবেশ হয়, তাহলে এটা আর মুফাওজা হবে না। কেননা, মুফাওজা-এর মানেই হচ্ছে সমতা বা সমান হওয়া।
চ. আল-মুফাওজা এর মধ্যে লাভের অংশ সমান হওয়া। যদি তারা কমবেশি করে লাভ গ্রহণের শর্ত করে, তাহলে সমান না হওয়ার কারণে তা আল-মুফাওজা হবে না।
ছ. আল-মুফাওজা-এর মধ্যে ব্যাপকতা থাকা। সব ধরনের ব্যবসাকে আল-মুফাওজা-এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার অবকাশ থাকতে হবে। কোনো অংশীদার অপর অংশীদার ছাড়া তাদের যৌথ ব্যবসার ধরন নির্ধারণ করতে পারবে না। কেননা, এমনটি করলে আল-মুফাওজা বাতিল হয়ে যায়। এর ওপর ভিত্তি করে বলা হয়, মুসলিম ও জিম্মির মাঝে আল-মুফাওজা জায়িজ হবে না। কারণ, জিম্মি ব্যক্তি এমন ব্যবসার সাথে আল-মুফাওজা করে ফেলবে, যা মুসলিম ব্যক্তির জন্য বৈধ নয়। যেমন, মদ, শুকর বেচাকেনা ইত্যাদির ব্যবসা করা। ফলে ব্যবসার মধ্যে তাদের মাঝে আর সমতা রক্ষা হয় না। এমন মত পেশ করেছেন ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদ। আর ওকালাত ও কাফালতের ক্ষেত্রে উভয়ে সমান হওয়ার বিবেচনায় ইমাম আবু ইউসুফ-এর মতে তা বৈধ।
জ. আল-মুফাওজা শব্দটি মুখে উচ্চারণ করা। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত আছে যে, আল-মুফাওজা শব্দ উচ্চারণ করা ব্যতীত আল-মুফাওজা ব্যবসা বৈধ হবে না। কারণ, আল-মুফাওজা এর কিছু শর্ত আছে। যেগুলো তা উচ্চারণ করা ছাড়া বুঝে আসে না। তাই বুঝে আসার জন্য তা উচ্চারণ করতে হবে। অথবা বোঝার মতো সমার্থক অন্য কোনো বক্তব্য দিতে হবে। কেননা, এখানে মূল হচ্ছে বুঝে আসা, নির্দিষ্ট শব্দ উচ্চারণ করা মুখ্য নয়। ৭৫৬
টিকাঃ
৭৫২. আল-কামুসুল মুহিত: পৃ. নং ৬৫১ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)
৭৫৩. বাদায়িউস সানায়ি: ৬/৫৮ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৭৫৪. ফাতহুল কাদির: ৬/১৫৬ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
৭৫৫. মুসনাদু আহমাদ: ৪২/৫১৬, হা. নং ২৫৭৮৭ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৭৫৬. বাদায়িউস সানায়ি: ৬/৬১ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) ফাতহুল কাদির: ৬/১৫৮- ১৬৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
📄 ৫. شركة المساهمة - অংশীদারত্বের চুক্তিতে ব্যবসা
যৌথব্যবসার প্রকারগুলোর মধ্যে এটিও একটি প্রকার। মুসলমানদের একটি গোষ্ঠী যেকোনো এক ধরনের ব্যবসায়িক প্রকল্পে নির্দিষ্ট অর্থ জোগান দেবে এ শর্তে যে, সেখানে প্রত্যেক অংশীদারের জন্য একটি অংশ নির্ধারিত থাকবে। আর প্রত্যেকের অংশ নির্ধারিত হবে তার বিনিয়োগকৃত সম্পদের পরিমাণ অনুযায়ী। এই প্রকারের শেয়ার ব্যবসা মুদারিবের ওপর নির্ভরশীল। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সক্ষম ব্যক্তিকে মালিকগণ অর্থের যোগান দেবে। এই পদ্ধতির ব্যবসা বৈধ; যদি চুক্তির রুকন তথা ইজাব ও কবুল, শিরকাতুল মুসাহামা সহিহ হওয়ার শর্তসমূহ এবং চুক্তি সম্পন্নকারী উভয়পক্ষ পাওয়া যায়। চুক্তি সম্পন্নকারী পক্ষদ্বয় হলো : এক. শেয়ার হোল্ডার তথা সম্পদের অংশীদার। দুই. যৌথব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান।
এ ক্ষেত্রে ব্যবসা নিয়ে কথা বলবে ব্যবসা-পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এর কারণ, শিরকাতুল মুসাহামা নামক এ যৌথব্যবসা একটি সংস্থার মতো, যে সংস্থা তার পরিচালনাধীন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করবে। যেমন : বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, পাবলিক লাইব্রেরি, প্রকাশনা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর ন্যায়। সুতরাং কারও সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদনের সময় উপস্থিত প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক অংশীদারই থাকতে হবে, এমন চিন্তা করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং এ ক্ষেত্রে সংগত নিয়ম হলো, সকল অংশীদারের পক্ষ থেকে নিয়োজিত উকিল হিসাবে প্রতিষ্ঠান-প্রধান অথবা তাদের চুক্তি সম্পাদনকারী বিভাগ চুক্তি সম্পাদন করবে। যৌথব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান পরিচালক হচ্ছে উকিল এবং সকল অংশীদার হচ্ছে মুআক্কিল বা উকিল নিয়োগকারী।
এ ক্ষেত্রে এই ব্যবসায় কারও অংশ বেশি হওয়ার কারণে স্বেচ্ছাচারী হয়ে প্রতিষ্ঠানের ওপর কেউ সীমালঙ্ঘন করতে পারবে না; যেমনটি পুঁজিবাদি পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। আর পুঁজিবাদের মধ্যে যার সম্পদ বা অংশ বেশি থাকে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার চাবিকাঠি হস্তগত করে নেয়। এমন আচরণ অন্যায়, স্বেচ্ছাচারিতা ও জুলুম। এ বিষয়ে সঠিকতর পদ্ধতি হলো, অভিজ্ঞ ও যৌথ ব্যবসা সম্পর্কে জ্ঞাত যেকোনো একজন ব্যক্তির নিকট পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা। আর কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে নিরপেক্ষ বাছাইয়ের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা সম্ভব, যে যৌথ কারবারের কলাকৌশল, আর্থিক ও সার্বিক বিষয়াদি সম্পর্কে অভিজ্ঞ হবে। এই পদ্ধতিই হচ্ছে মূলধনে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা থেকে বেঁচে থাকার উপায়।
অনেক সময় বলা হয়ে থাকে, দ্বিতীয় পক্ষকে না দেখে কীভাবে তার সাথে চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে? এর জবাব হলো, চুক্তি শুদ্ধ হওয়ার জন্য উভয়পক্ষ উপস্থিত থাকা এবং ইজাব-কবুল সরাসরি-সামনাসামনি মুখে উচ্চারণ করা শর্ত নয়। চুক্তির মজলিসে ইজাব-কবুল হলেই চুক্তি পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। এ সময় দুজন পরস্পরকে না দেখলেও চলবে। কেননা স্থান-কাল ভেদে চুক্তির ধরন নির্ধারিত হয়। যেমন, দূরত্বের কারণে প্রস্তাবদাতার পক্ষ থেকে গ্রাহকের নিকট পত্র প্রেরণের মাধ্যমেও চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে। এ ব্যাপারে ফুকাহায়ে কিরামের বক্তব্য হলো, পত্র মারফত চুক্তি করা সরাসরি কথা বলার মতোই। এমনিভাবে হাজার মাইল দূরে থেকেও মোবাইলে কথা বলার মাধ্যমে দুজনের মাঝে চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে। এমন পদ্ধতির বৈধতা মুসলমানদের সুবিধার জন্যই দেওয়া হয়েছে।
সারকথা হলো, যৌথব্যবসার সব ধরনের শর্ত পাওয়া গেলে এমন পদ্ধতিতে চুক্তি করা জায়িজ। তবে সতর্ক থাকতে হবে, সবার মধ্যে যার অংশ বা অর্থ অন্যদের চেয়ে বেশি, সে যেন প্রতিষ্ঠানের ওপর জেঁকে না বসে এবং ব্যবসার সাথে যেন কোনো সুদি কারবার যুক্ত না করে।