📄 তিন. অর্ডার বা নির্মাণচুক্তি
(الاستصناع) আল-ইসতিসনা হলো দুব্যক্তির সম্পাদিত এমন চুক্তি, যাদের একজন নির্মাণকারী এবং অপরজন নির্মিত বস্তু দ্বারা উপকার গ্রহণকারী। অর্থাৎ দুজনের মাঝে নির্ধারিত শর্তের ভিত্তিতে প্রস্তুতকারক উপকার গ্রহণকারীকে এই চুক্তিতে কোনো জিনিস তৈরি করে দেবে যে, প্রস্তুতকৃত বস্তু হস্তান্তর করার পর সে প্রস্তুতকারীকে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করবে। উদাহরণত আলমারি, তোষক, খাট, টেবিল, চেয়ার, পরিধেয় বস্ত্র অথবা ব্যবহারের জন্য যেকোনো কিছু তৈরি করে দেওয়া।
নির্মাণ চুক্তির পদ্ধতি হলো, কোনো নির্মাণকারীকে পণ্যের ধরন, আকার, গুণাগুণ, পরিমাণ ইত্যাদির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলা যে, আমাকে এই পরিমাণ মূল্যের বিনিময়ে এ পণ্যটি তৈরি করে দাও। নির্মাণকারী এই প্রস্তাবে সম্মত হলে তবেই তা (الاستصناع) আল-ইসতিসনা বা নির্মাণচুক্তি বলে বিবেচিত হবে। ৭২৮
যদিও কিয়াসের ভিত্তিতে (الاستصناع) আল-ইসতিসনা বা নির্মাণচুক্তি জায়িজ নেই। যেহেতু এখানে একটি অস্তিত্বহীন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। আর রাসুলুল্লাহ ﷺ অস্তিত্বহীন পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন। হাদিসে এসেছে :
'লা তাবে' মা লাইসা ইনদাক' (তোমার কাছে যা নেই, তা বিক্রি করো না।) ৭২৯
তবে ইস্তাহসান (সূক্ষ্ম কিয়াস) এর বিবেচনায় এটা জায়িজ। ৭৩০ ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমাদ এটাকে জায়িজই বলেছেন। আর এটাই গ্রহণযোগ্য মতামত। কেননা, একটু গভীরভাবে দেখলে স্পষ্ট হয় যে, এটা মূলত অস্তিত্বহীন কোনো পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় নয়; বরং পণ্যের কাঠমো তৈরি করে দেওয়ার একটি চুক্তি মাত্র। এতে পণ্যটির মূল উপাদান সব বিদ্যমানই থাকে, কিন্তু তার বিশেষ কাঙ্ক্ষিত ধরনটি না থাকায় নির্মাণকারীকে তার চাহিদামতো ধরনে বানিয়ে দিতে বলে। সুতরাং এটাকে অস্তিত্বহীন পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় বলাটা সঠিক নয়।
এ নির্মাণচুক্তি আবশ্যকীয় কোনো চুক্তি কি না—এ ব্যাপারে ফুকাহায়ে কিরামের মাঝে মতানৈক্য আছে। পূর্ববর্তী অনেক ফকিহ এটাকে ঐচ্ছিক চুক্তি বলে অভিহিত করেছেন। তাই চুক্তি হয়ে গেলেও দুজনের যেকোনো একজন চাইলেই কাজ শেষ হওয়ার পূর্বে তা ভঙ্গ করে দিতে পারবে। এমনিভাবে নির্দিষ্ট শর্তানুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার পরও ক্রেতার সামনে পণ্য উপস্থিত করার পর খিয়ারুর রুইয়াত বা দেখার অধিকারের ভিত্তিতে চুক্তিটি ভঙ্গ করার অধিকার থাকে। চাইলে সে তা গ্রহণ করবে, অন্যথায় তা ভঙ্গ করে দেবে। কিন্তু ইমাম আবু ইউসুফ বলেন, 'এটা আবশ্যকীয় একটি চুক্তি। কেননা, এতে চুক্তি ভঙ্গের অনুমতি দিলে নির্মাতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এতে এ লেনদেনে নির্মাতারা আগ্রহ হারাবে। তাই দেখতে হবে, নির্মাতা ক্রেতার শর্তানুযায়ী পণ্যটি তৈরি করেছে কিনা। যদি তার শর্তানুসারে তৈরি করে থাকে, তাহলে পণ্য নিতে বাধ্য করা হবে। এখানে তাকে কোনো অবকাশ দেওয়া যাবে না।' ৭৩১
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ বিজ্ঞ মুফতিগণ ইমাম আবু ইউসুফ-এর মতানুসারে ফতোয়া দিয়ে থাকেন। কেননা, এখন কোনো কোনো নির্মাণচুক্তিতে মিলিয়ন, বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়। যেমন ধরুন, আপনি কোনো একটি জাহাজ কোম্পানির সাথে বিশাল বাণিজ্যিক এক জাহাজ তৈরি করে দেওয়ার জন্য চুক্তি করলেন। এরপর তারা এর পেছনে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে আপনার চাহিদানুপাতে একটি জাহাজ তৈরি করে দিল। এরপর যখন আপনাকে মূল্য পরিশোধ করে জাহাজটি নেওয়ার জন্য বলা হলো, তখন আপনি তাদের জানিয়ে দিলেন যে, আপনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। আপনি জাহাজটি এখন নিতে আর ইচ্ছুক নন। তাহলে চিন্তা করে দেখুন, এতে কোম্পানি কী ক্ষতির মুখে পড়বে! এ জন্যই বর্তমান সময়ে ফতোয়া এটাই যে, পণ্য যদি গ্রাহকের শর্তানুসারে বানানো হয়ে থাকে, তাহলে তাকে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করে পণ্যটি নিতেই হবে।
সারকথা হলো, চুক্তির সময় গ্রাহকের প্রদত্ত শর্তানুসারে পণ্যটি তৈরি করা হলে উভয়ের মাঝে চুক্তিটি বহাল থাকবে এবং সে নির্ধারিত মূল্যে পণ্যটি নিতে বাধ্য থাকবে। কিন্তু যদি নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী নির্মিত না হয়, তখন সে চাইলে তা গ্রহণ করবে, না হয় বাতিল করে দেবে।
টিকাঃ
৭২৮. বাদায়িউস সানায়ি: ৫/২ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৭২৯. সুনানু আবি দাউদ: ৩/২৮৩, হা. নং ৩৫০৩ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৭৩০. বাদায়িউস সানায়ি: ৫/২ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৭৩১. বাদায়িউস সানায়ি: ৫/৪ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
📄 চার. যৌথব্যবসা
(الشركة) আশ-শিরকাত এর আভিধানিক অর্থ দুই বা ততোধিক লোকের অংশীদারত্ব। ৭৩২
পরিভাষায় الشركة হলো, দুই বা ততোধিক ব্যক্তির যৌথ মালিকানাভুক্ত সম্পদকে লাভের আশায় বিনিয়োগ করা। ৭৩৩ কুরআন, সুন্নাহ, ইজমাতে এর পক্ষে সমর্থন পাওয়া যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
{ فَهمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ }
'তবে তারা এক-তৃতীয়াংশে অংশীদার হবে।' ৭৩৪
আল্লাহ তাআলা বলেন :
{ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الْخُلَطَاءِ لَيَبْغِي بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَقَلِيلٌ مَّا هُمْ }
'শরিকদের অনেকেই একে অপরের প্রতি অবিচার করে থাকে। তবে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ও সৎকর্ম সম্পাদনকারী তারা এমনটি করে না। অবশ্য এমন লোকের সংখ্যা অল্প।' ৭৩৫
আয়াতে الْخُلَطَاءِ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরিকরা।
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
'ইন্নাল্লাহা ইয়াক্বুলু আনা ছালিছুশ শারিকাইনি মা লাম ইয়ুখুন আহাদুহুমা সাবাহিবাহু, ফাইজা খানা খারাজতু মিন বাইনিহিমা' (আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি দুই অংশীদারের তৃতীয়জন হিসাবে থাকি, যতক্ষণ না একজন অপরজনের সাথে খিয়ানত করে। আর যখন খিয়ানত করে বসে, তখন আমি তাদের মাঝ থেকে বেরিয়ে যাই।) ৭৩৬
আবু হাইয়ান তাইমি থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
'ইয়াদুল্লাহি আলাশ শারিকাইনি মা লাম ইয়ুখুন আহাদুহুমা সাবিতাহু, ফাইজা খানা আহাদুহুমা সাহিবাহু রাফায়াহা আনহুমা' (যতক্ষণ না একজন তার অপর সঙ্গীর সাথে খিয়ানত করে, ততক্ষণ দুজন অংশীদারের ওপর আল্লাহর রহমতের হাত থাকে। আর যখন কেউ কারও সাথে খিয়ানত করে বসে, তখন আল্লাহ তাদের ওপর থেকে তাঁর রহমতের হাত উঠিয়ে নেন।) ৭৩৭
আবুল মিনহাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি বারা বিন আজিব ও জাইদ বিন আরকাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বললেন, রাসুলুল্লাহ-এর জমানায় আমরা দুজন মিলে ব্যবসা করতাম। তাই আমরা সম্পদের হস্তক্ষেপের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বললেন :
'ইন কানা ইয়াদান বিইয়াদিন ফালা বাসা ওয়াকানা নাসিয়াতান মুয়াজ্জালাতান ফালা ইয়াসলুহু' (নগদে হলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাকিতে হলে বৈধ হবে না।) ৭৩৮
ইজমাতেও এমন ব্যবসার সমর্থন রয়েছে। উলামায়ে কিরাম যৌথব্যবসা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে তারা এর কিছু পদ্ধতি বৈধ বা অবৈধ হওয়ার বিষয়ে মতানৈক্য করেছেন। তাদের মতে (الشركة) আশ-শিরকাত দুপ্রকার।
টিকাঃ
৭৩২. লিসানুল আরব: ১০/৪৪৮ (দারু সাদির, বৈরুত)
৭৩৩. আল-জাওহারাতুন নাইয়ারা: ১/২৮৫ (আল-মাতবাআতুল খাইরিয়্যা)
৭৩৪. সুরা আন-নিসা: ১২
৭৩৫. সুরা আস-সদ: ২৪
৭৩৬. সুনানু আবি দাউদ: ৩/২৫৬, হা. নং ৩৩৮৩ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৭৩৭. সুনানু দারাকুতনি: ৩/৪৪২-৪৪৩, হা. নং ২৯৩৪ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) হাদিসটি মুরসাল সহিহ।
৭৩৮. সহিহুল বুখারি: ৩/৫৫, হা. নং ২০৬০ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
📄 পাঁচ. মুদারাবা
(المضارية) আল-মুদারাবা শব্দটি الضَّরْبُ থেকে নির্গত। এর অর্থ হলো, ভ্রমণ করা, সফর করা। ৭৫৭ এ পারিভাষিক অর্থ সম্পর্কে হিদায়া গ্রন্থকার বলেন, 'দুপক্ষের কোনো এক পক্ষের সম্পদ এবং অপরপক্ষের শ্রমে যৌথ কারবার করাই মুদারাবা।' ৭৫৮
বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়, এখানে দুটি পক্ষ থাকে। একজন মূলধনের মালিক আর অন্যজন ব্যবসায়ী বা শ্রমদাতা। মূলধনের মালিক অর্থ ও সামগ্রী জোগান করে দেবে এবং শ্রমদাতা ব্যবসায়ী নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে তার সম্পদ নিয়ে ব্যবসা করবে। আর লাভের মধ্যে তাদের উভয়ের জন্য পার্সেন্টাকারে যেমন এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ বা অর্ধেক এরকম নির্দিষ্ট হারে একটি অংশ থাকবে। এটিকেই মুদারাবা বলে। মুদারাবার বৈধতা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত।
কুরআন থেকে দলিল
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
{ وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ اللَّهِ }
'কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশ-বিদেশে যাবে।' ৭৫৯
হাদিস থেকে দলিল
রাসুলুল্লাহ যখন নবুয়ত পেলেন, তখন মানুষ মুদারাবা চুক্তিতে ব্যবসা করত। তিনি কাউকে নিষেধ করেননি। এ দ্বারা রাসুলুল্লাহ-এর মৌন সম্মতি বোঝা যায়। আর এটি হাদিসের একটি প্রকারও বটে। কোনো বিষয়ে রাসুলুল্লাহ জেনেও নীরব থাকলে তা থেকে বৈধতা প্রমাণিত হয়।
ইজমা থেকে দলিল
কতক সাহাবি থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা এতিমের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মুদারাবা চুক্তিতে তা অন্যকে দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন, উমর, উসমান, আলি, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, আব্দুল্লাহ বিন উমর, উম্মুল মুমিনিন আয়িশা সিদ্দিকা প্রমুখ। সাহাবাযুগের এমন কোনো সাহাবি পাওয়া যায়নি, যিনি এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বা এটিকে অবৈধ বলেছেন। আর এটি একটি স্বীকৃত ইজমা, যাকে পরিভাষায় ইজমায়ে সুকুতি বলা হয়।
মুদারাবার রুকন হলো, ইজাব ও কবুল। তা হতে হবে স্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে। আর চুক্তির বক্তব্যটা হবে এমন যে, মূলধনের মালিক মুদারিবকে বলবে, 'আমি তোমাকে এই সম্পদ দিলাম। তুমি তা দিয়ে ব্যবসা করবে। আর লাভ আমাদের দুজনের জন্য সমান সমান কিংবা এক-তৃতীয়াংশ অথবা এক-চতুর্থাংশ ইত্যাদি ভাগে বণ্টন হবে।' অতঃপর মুদারিব ব্যক্তি বলবে, 'আমি তা গ্রহণ করলাম।' ৭৬০
শরিয়াসম্মত হালাল উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম এটি। এর ভিত্তি হলো শ্রম ব্যয় করা এবং বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে বেচাকেনা করার চেষ্টা করা। উপার্জনের প্রতি উৎসাহী করার জন্য ইসলামের সাথে এ বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও তাতে মুদারিবের জন্য অনেক কষ্ট ও সফরের ঝুঁকি রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
{ فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِن رِّزْقِهِ }
'তোমরা পৃথিবীর দিদিগন্তে বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিজিক হতে আহার করো।' ৭৬১
{ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ }
'তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো।' ৭৬২
টিকাঃ
৭৫৭. লিসানুল আরব: ১/৫৪৪ (দারু সাদির, বৈরুত)
৭৫৮. হিদায়া: ৩/২০০ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৭৫৯. সূরা আল-মুজ্জাম্মিল: ২০
৭৬০. বাদায়িউস সানায়ি: ৬/৭৯ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৭৬১. সুরা আল-মুলক : ১৫
৭৬২. সুরা আল-জুমআ : ১০
📄 ছয়. চাকরি
বর্তমান সময়ে জীবিকা অর্জনের জন্য চাকরি একটি বিশেষ মাধ্যম। এর বিশেষ একটি সামাজিক অবস্থানও রয়েছে। একজন চাকরিজীবী প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতার বিনিময়ে ধারাবাহিকভাবে যে শ্রম ব্যয় করে, তাই চাকরি। যেমন কেউ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন; চাই তা মাদরাসা শিক্ষা হোক বা জেনারেল শিক্ষা হোক।
চাকরি এমন একটি দায়িত্ব, যেখানে একজন চাকরিজীবীর ওপর তার মানসিক ও দৈহিক যথেষ্ট শ্রম দিতে হয়। তার শ্রম যেন সার্থক হয়, দায়িত্ব পালন যেন যথাযথ হয় এবং কোনো ধরনের ত্রুটি বা কমতি যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। মাস শেষে বা চুক্তিতে নির্ধারিত সময়ে বেতন পাওয়া পর্যন্ত একজন চাকরিজীবীকে তার ওপর অর্পিত কাজের আমানত নিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়। তাকে অবশ্যই উত্তমভাবে ও পরিপূর্ণরূপে দায়িত্ব পালন করতে হয়। অন্যথায় অবস্থাটা এমন দাঁড়াবে যে, সে প্রতারণা, আমানতের খিয়ানত ও মানুষের অধিকারে শিথিলতা করে মাস শেষে অবৈধভাবে বেতন গ্রহণ করছে।
মূলকথা হচ্ছে, চাকরি হালাল উপার্জনের একটি বৈধ পদ্ধতি, যা চাকরিজীবীর জন্য আরাম আয়েশে সুন্দর জীবনযাপন করার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়ে থাকে। তবে শর্ত হলো, চাকরিজীবীকে অবশ্যই তার যথাসাধ্য শ্রম ব্যয় করতে হবে এবং কোনো ধরনের প্রতারণা বা শৈথিল্য প্রদর্শন করতে পারবে না। যদি কোনোভাবে এমনটি ঘটে যায়, তাহলে তার বেতন গ্রহণ হারাম হবে।