📄 সদুপদেশ প্রদান
(نصيحة) নসিহত) শব্দের অর্থ হলো ইখলাস, সততা ও কাজে সুপরামর্শ দেওয়া। এ পন্থাটি মানুষের মাঝে কল্যাণ প্রসারণের একটি মাধ্যম। এর ফলে মানুষের মাঝে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। তাদের মাঝে বৃদ্ধি পাবে কল্যাণ ও সৎ কাজ। সমাজ থেকে বিদায় নেবে অকল্যাণ ও মন্দ কাজ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মানুষের কল্যাণ কামনা করার জন্য আহ্বান করেছেন। তিনি বলেন:
'আদ-দিনুন নাসিহাহ...' (দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা। আমরা বললাম, কার জন্য? তিনি বললেন, আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসুল, মুসলিমদের নেতৃবর্গ ও মুসলিম সাধারণের জন্য।)
মুমিন তার অপর মুমিন ভাইয়ের কল্যাণ কামনা করে। তার দুর্বলতা অথবা দোষগুলোকে প্রতিহত করে। যেন সে মুমিন ভাই সংশোধিত ও পবিত্র হতে পারে। উপদেশ প্রদানকারী মুসলিম অপর মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ। কেননা, সে নিজের মাধ্যমে অপর ভাইয়ের মাঝে কোনো খারাপ কিছু দর্পিত হতে দেখলে সে ভাইকে সতর্ক করে। রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
'আল মুমিনু মিরআতুল মুমিন' (মুমিন মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ।)
এক মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য সমভাবে কল্যাণ কামনা করবে। নিজের জন্য যেমন কল্যাণ কামনা করবে, তেমনই অপর ভাইয়ের জন্যও কল্যাণ কামনা করবে। যদি এমন না হয়ে শুধু নিজের কল্যাণ কামনা করে, অথবা সমভাবে অন্য ভাইয়ের কল্যাণ কামনা না করে—সে ব্যক্তি আর সঠিক পথের ওপর থাকল না। আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন :
'লা ইউমিনু আহাদুকুম হাত্তা ইউহিব্বা লিআখিহি মা ইউহিব্বু লিনাফসিহি' (তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে অপর ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।)
টিকাঃ
৬৭২. সহিহ মুসলিম: ১/৭৪, হা. নং ৫৫ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৭৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪/২৮০, হা. নং ৪৯১৮ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৬৭৪. সহিহুল বুখারি: ১/১২, হা. নং ১৩ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
(نصيحة) নসিহত) শব্দের অর্থ হলো ইখলাস, সততা ও কাজে সুপরামর্শ দেওয়া। এ পন্থাটি মানুষের মাঝে কল্যাণ প্রসারণের একটি মাধ্যম। এর ফলে মানুষের মাঝে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। তাদের মাঝে বৃদ্ধি পাবে কল্যাণ ও সৎ কাজ। সমাজ থেকে বিদায় নেবে অকল্যাণ ও মন্দ কাজ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মানুষের কল্যাণ কামনা করার জন্য আহ্বান করেছেন। তিনি বলেন:
الدِّينُ النَّصِيحَةُ، قُلْنَا : لِمَنْ؟ قَالَ : لِلَّهِ، وَلِكِتَابِهِ، وَلِرَسُولِهِ، وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ، وَعَامَّتِهِمْ
'দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা। আমরা বললাম, কার জন্য? তিনি বললেন, আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসুল, মুমিনদের নেতৃবর্গ ও মুসলিম সাধারণের জন্য।'
মুমিন তার অপর মুমিন ভাইয়ের কল্যাণ কামনা করে। তার দুর্বলতা অথবা দোষগুলোকে প্রতিহত করে। যেন সে মুমিন ভাই সংশোধিত ও পবিত্র হতে পারে। উপদেশ প্রদানকারী মুসলিম অপর মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ। কেননা, সে নিজের মাধ্যমে অপর ভাইয়ের মাঝে কোনো খারাপ কিছু দর্পিত হতে দেখলে সে ভাইকে সতর্ক করে। রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
الْمُؤْمِنُ مِرْآةُ الْمُؤْمِنِ
'মুমিন মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ।'
এক মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য সমভাবে কল্যাণ কামনা করবে। নিজের জন্য যেমন কল্যাণ কামনা করবে, তেমনই অপর ভাইয়ের জন্যও কল্যাণ কামনা করবে। যদি এমন না হয়ে শুধু নিজের কল্যাণ কামনা করে, অথবা সমভাবে অন্য ভাইয়ের কল্যাণ কামনা না করে—সে ব্যক্তি আর সঠিক পথের ওপর থাকল না।
আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন :
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
'তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে অপর ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।'
টিকাঃ
৬৭২. সহিহ মুসলিম: ১/৭৪, হা. নং ৫৫ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৭৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪/২৮০, হা. নং ৪৯১৮ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৬৭৪. সহিহুল বুখারি: ১/১২, হা. নং ১৩ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
(نصيحة) নসিহত) শব্দের অর্থ হলো ইখলাস, সততা ও কাজে সুপরামর্শ দেওয়া। এ পন্থাটি মানুষের মাঝে কল্যাণ প্রসারণের একটি মাধ্যম। এর ফলে মানুষের মাঝে হৃদ্যতা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। তাদের মাঝে বৃদ্ধি পাবে কল্যাণ ও সৎ কাজ। সমাজ থেকে বিদায় নেবে অকল্যাণ ও মন্দ কাজ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মানুষের কল্যাণ কামনা করার জন্য আহ্বান করেছেন। তিনি বলেন:
الدِّينُ النَّصِيحَةُ، قُلْنَا : لِمَنْ؟ قَالَ : لِلَّهِ، وَلِكِتَابِهِ، وَلِرَسُولِهِ، وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ، وَعَامَّتِهِمْ
'দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা। আমরা বললাম, কার জন্য? তিনি বললেন, আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসুল, মুমিনদের নেতৃবর্গ ও মুসলিম সাধারণের জন্য।'
মুমিন তার অপর মুমিন ভাইয়ের কল্যাণ কামনা করে। তার দুর্বলতা অথবা দোষগুলোকে প্রতিহত করে। যেন সে মুমিন ভাই সংশোধিত ও পবিত্র হতে পারে। উপদেশ প্রদানকারী মুসলিম অপর মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ। কেননা, সে নিজের মাধ্যমে অপর ভাইয়ের মাঝে কোনো খারাপ কিছু দর্পিত হতে দেখলে সে ভাইকে সতর্ক করে। রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
الْمُؤْمِنُ مِرْآةُ الْمُؤْمِنِ
'মুমিন মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ।'
এক মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য সমভাবে কল্যাণ কামনা করবে। নিজের জন্য যেমন কল্যাণ কামনা করবে, তেমনই অপর ভাইয়ের জন্যও কল্যাণ কামনা করবে। যদি এমন না হয়ে শুধু নিজের কল্যাণ কামনা করে, অথবা সমভাবে অন্য ভাইয়ের কল্যাণ কামনা না করে—সে ব্যক্তি আর সঠিক পথের ওপর থাকল না।
আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন :
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
'তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে অপর ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।'
টিকাঃ
৬৭২. সহিহ মুসলিম: ১/৭৪, হা. নং ৫৫ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৭৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪/২৮০, হা. নং ৪৯১৮ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৬৭৪. সহিহুল বুখারি: ১/১২, হা. নং ১৩ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
📄 রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোর বিধান
(الإماطة) আল-ইমাতাহ) শব্দের অর্থ কোনো কিছুকে সরানো ও দূর করা। এখানে الإماطة (আল-ইমাতাহ) শব্দটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু উঠিয়ে ফেলা এবং তা দূর করা। যেমন কাঁটা, হাড়, পাথর, কাঁচ, সীসার মতো কষ্টকর বিভিন্ন বস্তু মানুষের হাঁটার পথ থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে ফেলা। পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো যদিও হালকা ও সহজ একটি কাজ। কিন্তু শরিয়তে এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা এ আমলকারীকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন। এ কাজের মাঝে রয়েছে মানবসেবা ও মানুষকে ক্ষতি থেকে বাঁচানোর পদক্ষেপ। আদর্শ মুসলিম হওয়ার জন্য এ আমলটি বিশেষ একটি নির্দেশক। এটি একজন মুসলিমের শান যে, সে মানুষের উপকার ও কল্যাণের দায়িত্ব আদায় করছে।
আমরা একটু চিন্তা করি, একজন মুসলিম রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তার সামনে একটি কষ্টদায়ক বস্তু পড়ল। এ বস্তু দ্বারা অন্য মানুষ কষ্ট পেতে পারে। সে এ বস্তু সরানোর জন্য এগিয়ে না আসার অর্থ হচ্ছে, হয় সে উদাসীন ও অসতর্ক অথবা সে অহংকারী। সুন্নাতে নববিতে কষ্টদায়ক বস্তু দূরে সরানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। এমন ব্যক্তির জন্য আল্লাহর বিশেষ পুরস্কারের কথাও উল্লেখ রয়েছে। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'আল-ইমানু বিদউন ওয়া সাবউন... আউ সাবউন ওয়া সিত্তুনা শু'বাতান...' (ইমানের সত্তর বা ষাটটিরও অধিক শাখা রয়েছে। তার মাঝে সবচেয়ে উত্তম হলো তাওহিদের কালিমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলা। এবং সর্বনিম্ন হলো, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর লজ্জা ইমানের একটি শাখা।)
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'বাইনামা রজুলুন ইয়ামশি বিতারিকিন...' (একদা এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখল। সে ডালটি দূরে নিক্ষেপ করল। আল্লাহ তাআলা তাকে পুরস্কৃত করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন।)
সহিহ মুসলিমের অপর এক রিওয়ায়াতে এসেছে :
'মারর রজলুন বিগুসনি সাজারাতিন...' (এক ব্যক্তি পথচলার সময় একটি ডালের পাশ দিয়ে গমন করল। সে তখন বলল, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই এটি সরিয়ে মুসলিমদের কষ্ট দেওয়া থেকে প্রতিহত করব। অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো।)
আবু জার থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'উরিতা আলাইয়্যা আমালু উম্মতি...' (আমার কাছে আমার উম্মতের ভলো-মন্দ আমল পেশ করা হলো। সেখানে আমি উত্তম আমলগুলো পেলাম। এ আমলগুলোর মধ্যে একটি হলো, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর নিকৃষ্ট আমলের মধ্যে একটি পেলাম, মসজিদে নাক ঝাড়া, যা পরিষ্কার করা হয় না।)
আবু বারাজা আসলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ -কে বললাম :
'ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইন্নি লা আদরি...' (হে আল্লাহর রাসুল, আমি জানি না, মনে হচ্ছে আপনি বিদায় নেবেন, আর আমি আপনার পরে থেকে যাব। তাই আমাকে কিছু উপকারী কথা বলুন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, তুমি এমনটি করো, এমনটি করো। আর আমি সে সকল কথা ভুলে গিয়েছি। (একটি কথা মনে আছে যে,) আর তুমি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরাও।)
আবু বারাজা থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ -কে বললাম :
'ইয়া নবীয়্যাল্লাহ আল্লিমনি শাইয়ান...' (হে আল্লাহর নবি, আমাকে উপকারী কিছু শিক্ষা দিন। তিনি বললেন, তুমি মুসলিমদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরাও।)
মানুষের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো সহজ ও হালকা একটি কাজ। তবুও ইসলামে রয়েছে এর অনেক মর্যাদা। ইসলাম এ কাজের প্রতি এতটা উৎসাহিত করে থাকলে বড় বড় মন্দ কাজকে অপসারণের ক্ষেত্রে ইসলামের কেমন গুরুত্ব থাকবে, তা সহজেই অনুমেয়। যেসব মন্দ কাজ সমাজে বিরাট প্রভাব ফেলে, সেসব কাজ প্রতিহত করা অনেক বড় সাওয়াবের কাজ—তা বলাই বাহুল্য। আবার যে সকল উত্তম কাজ মানুষকে কল্যাণ ও আল্লাহর আনুগত্যের দিকে নিয়ে যাবে, সে সকল কাজ তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে-তাও বলার দরকার পড়ে না।
টিকাঃ
৬৭৬. সহিহু মুসলিম: ১/৬৩, হা. নং ৩৫ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৭৭. সহিহুল বুখারি: ১/১৩২, হা. নং ৬৫২ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৭৮. সহিহু মুসলিম: ৪/২০২১, হা. নং ১৯১৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৭৯. সহিহু মুসলিম: ১/৩৯০, হা. নং ৫৫৩ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৮০. সহিহ মুসলিম: ৪/২০২২, হা. নং ২৬১৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৮১. সহিহ মুসলিম: ২৬১৮, হা. নং ৪/২০২১ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
(الإماطة) আল-ইমাতাহ) শব্দের অর্থ কোনো কিছুকে সরানো ও দূর করা। এখানে الإماطة (আল-ইমাতাহ) শব্দটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু উঠিয়ে ফেলা এবং তা দূর করা। যেমন কাঁটা, হাড়, পাথর, কাঁচ, সীসার মতো কষ্টকর বিভিন্ন বস্তু মানুষের হাঁটার পথ থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে ফেলা।
পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো যদিও হালকা ও সহজ একটি কাজ। কিন্তু শরিয়তে এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা এ আমলকারীকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন। এ কাজের মাঝে রয়েছে মানবসেবা ও মানুষকে ক্ষতি থেকে বাঁচানোর পদক্ষেপ। আদর্শ মুসলিম হওয়ার জন্য এ আমলটি বিশেষ একটি নির্দেশক। এটি একজন মুসলিমের শান যে, সে মানুষের উপকার ও কল্যাণের দায়িত্ব আদায় করছে।
আমরা একটু চিন্তা করি, একজন মুসলিম রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তার সামনে একটি কষ্টদায়ক বস্তু পড়ল। এ বস্তু দ্বারা অন্য মানুষ কষ্ট পেতে পারে। সে এ বস্তু সরানোর জন্য এগিয়ে না আসার অর্থ হচ্ছে, হয় সে উদাসীন ও অসতর্ক অথবা সে অহংকারী।
সুন্নাতে নববিতে কষ্টদায়ক বস্তু দূরে সরানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। এমন ব্যক্তির জন্য আল্লাহর বিশেষ পুরস্কারের কথাও উল্লেখ রয়েছে। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
الْإِيمَانُ بِضْعُ وَسَبْعُونَ - أَوْ بِضْعُ وَسِتُونَ - شُعْبَةً، فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةُ مِنَ الْإِيمَانِ
'ইমানের সত্তর বা ষাটটিরও অধিক শাখা রয়েছে। তার মাঝে সবচেয়ে উত্তম হলো তাওহিদের কালিমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলা। এবং সর্বনিম্ন হলো, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর লজ্জা ইমানের একটি শাখা।'
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ وَجَدَ غُصْنَ شَوْكٍ عَلَى الطَّرِيقِ، فَأَخَرَهُ فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ
'একদা এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখল। সে ডালটি দূরে নিক্ষেপ করল। আল্লাহ তাআলা তাকে পুরস্কৃত করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন।'
সহিহ মুসলিমের অপর এক রিওয়ায়াতে এসেছে :
مَرَّ رَجُلٌ بِغُصْنٍ شَجَرَةٍ عَلَى ظَهْرِ طَرِيقٍ، فَقَالَ : وَاللَّهِ لَأُنَحْيَنَّ هَذَا عَنِ الْمُسْلِمِينَ لَا يُؤْذِيهِمْ فَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ
'এক ব্যক্তি পথচলার সময় একটি ডালের পাশ দিয়ে গমন করল। সে তখন বলল, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই এটি সরিয়ে মুসলিমদের কষ্ট দেওয়া থেকে প্রতিহত করব। অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো।'
আবু জার থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
عُرِضَتْ عَلَيَّ أَعْمَالُ أُمَّتِي حَسَنُهَا وَسَيَّتُهَا، فَوَجَدْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا، الْأَذَى يُمَاطُ عَنِ الطَّرِيقِ، وَوَجَدْتُ فِي مَسَاوِي أَعْمَالِهَا، النُّخَاعَةَ تَكُونُ فِي الْمَسْجِدِ، لَا تُدْفَنُ
'আমার কাছে আমার উম্মতের ভলো-মন্দ আমল পেশ করা হলো। সেখানে আমি উত্তম আমলগুলো পেলাম। এ আমলগুলোর মধ্যে একটি হলো, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর নিকৃষ্ট আমলের মধ্যে একটি পেলাম, মসজিদে নাক ঝাড়া, যা পরিষ্কার করা হয় না।'
আবু বারাজা আসলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ -কে বললাম :
يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي لَا أَدْرِي، لَعَسَى أَنْ تَمْضِيَ وَأَبْقَى بَعْدَكَ، فَحَدِّثْنِي بِشَيْءٍ يَنْফَعُنِي اللهُ بِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ : افْعَلْ كَذَا افْعَلْ كَذَا أَنَا نَسِيتُ ذَلِكَ، وَأَمِرَّ الْأَدْيَ عَنِ الطَّرِيقِ
'হে আল্লাহর রাসুল, আমি জানি না, মনে হচ্ছে আপনি বিদায় নেবেন, আর আমি আপনার পরে থেকে যাব। তাই আমাকে কিছু উপকারী কথা বলুন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, তুমি এমনটি করো, এমনটি করো। আর আমি সে সকল কথা ভুলে গিয়েছি। (একটি কথা মনে আছে যে,) আর তুমি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরাও।'
আবু বারাজা থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ -কে বললাম :
يَا نَبِيَّ اللَّهِ، عَلَّمْنِي شَيْئًا أَنْتَفِعُ بِهِ، قَالَ : اعْزِلِ الْأَدْيَ عَنْ طَرِيقِ الْمُسْلِمِينَ
'হে আল্লাহর নবি, আমাকে উপকারী কিছু শিক্ষা দিন। তিনি বললেন, তুমি মুসলিমদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরাও।'
মানুষের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো সহজ ও হালকা একটি কাজ। তবুও ইসলামে রয়েছে এর অনেক মর্যাদা। ইসলাম এ কাজের প্রতি এতটা উৎসাহিত করে থাকলে বড় বড় মন্দ কাজকে অপসারণের ক্ষেত্রে ইসলামের কেমন গুরুত্ব থাকবে, তা সহজেই অনুমেয়। যেসব মন্দ কাজ সমাজে বিরাট প্রভাব ফেলে, সেসব কাজ প্রতিহত করা অনেক বড় সাওয়াবের কাজ—তা বলাই বাহুল্য। আবার যে সকল উত্তম কাজ মানুষকে কল্যাণ ও আল্লাহর আনুগত্যের দিকে নিয়ে যাবে, সে সকল কাজ তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে-তাও বলার দরকার পড়ে না।
টিকাঃ
৬৭৬. সহিহু মুসলিম: ১/৬৩, হা. নং ৩৫ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৭৭. সহিহুল বুখারি: ১/১৩২, হা. নং ৬৫২ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৭৮. সহিহু মুসলিম: ৪/২০২১, হা. নং ১৯১৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৭৯. সহিহু মুসলিম: ১/৩৯০, হা. নং ৫৫৩ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৮০. সহিহ মুসলিম: ৪/২০২২, হা. নং ২৬১৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৮১. সহিহ মুসলিম: ২৬১৮, হা. নং ৪/২০২১ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
(الإماطة) আল-ইমাতাহ) শব্দের অর্থ কোনো কিছুকে সরানো ও দূর করা। এখানে الإماطة (আল-ইমাতাহ) শব্দটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু উঠিয়ে ফেলা এবং তা দূর করা। যেমন কাঁটা, হাড়, পাথর, কাঁচ, সীসার মতো কষ্টকর বিভিন্ন বস্তু মানুষের হাঁটার পথ থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে ফেলা।
পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো যদিও হালকা ও সহজ একটি কাজ। কিন্তু শরিয়তে এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা এ আমলকারীকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন। এ কাজের মাঝে রয়েছে মানবসেবা ও মানুষকে ক্ষতি থেকে বাঁচানোর পদক্ষেপ। আদর্শ মুসলিম হওয়ার জন্য এ আমলটি বিশেষ একটি নির্দেশক। এটি একজন মুসলিমের শান যে, সে মানুষের উপকার ও কল্যাণের দায়িত্ব আদায় করছে।
আমরা একটু চিন্তা করি, একজন মুসলিম রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। তার সামনে একটি কষ্টদায়ক বস্তু পড়ল। এ বস্তু দ্বারা অন্য মানুষ কষ্ট পেতে পারে। সে এ বস্তু সরানোর জন্য এগিয়ে না আসার অর্থ হচ্ছে, হয় সে উদাসীন ও অসতর্ক অথবা সে অহংকারী।
সুন্নাতে নববিতে কষ্টদায়ক বস্তু দূরে সরানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। এমন ব্যক্তির জন্য আল্লাহর বিশেষ পুরস্কারের কথাও উল্লেখ রয়েছে। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
الْإِيمَانُ بِضْعُ وَسَبْعُونَ - أَوْ بِضْعُ وَسِتُونَ - شُعْبَةً، فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةُ مِنَ الْإِيمَانِ
'ইমানের সত্তর বা ষাটটিরও অধিক শাখা রয়েছে। তার মাঝে সবচেয়ে উত্তম হলো তাওহিদের কালিমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলা। এবং সর্বনিম্ন হলো, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর লজ্জা ইমানের একটি শাখা।'
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ وَجَدَ غُصْنَ شَوْكٍ عَلَى الطَّرِيقِ، فَأَخَرَهُ فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ
'একদা এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে রাস্তায় একটি কাঁটাযুক্ত ডাল দেখল। সে ডালটি দূরে নিক্ষেপ করল। আল্লাহ তাআলা তাকে পুরস্কৃত করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন।'
সহিহ মুসলিমের অপর এক রিওয়ায়াতে এসেছে :
مَرَّ رَجُلٌ بِغُصْنٍ شَجَرَةٍ عَلَى ظَهْرِ طَرِيقٍ، فَقَالَ : وَاللَّهِ لَأُنَحْيَنَّ هَذَا عَنِ الْمُسْلِمِينَ لَا يُؤْذِيهِمْ فَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ
'এক ব্যক্তি পথচলার সময় একটি ডালের পাশ দিয়ে গমন করল। সে তখন বলল, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই এটি সরিয়ে মুসলিমদের কষ্ট দেওয়া থেকে প্রতিহত করব। অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো।'
আবু জার থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
عُرِضَتْ عَلَيَّ أَعْمَالُ أُمَّتِي حَسَنُهَا وَسَيَّتُهَا، فَوَجَدْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا، الْأَذَى يُمَاطُ عَنِ الطَّرِيقِ، وَوَجَدْتُ فِي مَسَاوِي أَعْمَالِهَا، النُّخَاعَةَ تَكُونُ فِي الْمَسْجِدِ، لَا تُدْفَنُ
'আমার কাছে আমার উম্মতের ভলো-মন্দ আমল পেশ করা হলো। সেখানে আমি উত্তম আমলগুলো পেলাম। এ আমলগুলোর মধ্যে একটি হলো, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর নিকৃষ্ট আমলের মধ্যে একটি পেলাম, মসজিদে নাক ঝাড়া, যা পরিষ্কার করা হয় না।'
আবু বারাজা আসলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ -কে বললাম :
يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي لَا أَدْرِي، لَعَسَى أَنْ تَمْضِيَ وَأَبْقَى بَعْدَكَ، فَحَدِّثْنِي بِشَيْءٍ يَنْফَعُنِي اللهُ بِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ : افْعَلْ كَذَا افْعَلْ كَذَا أَنَا نَسِيتُ ذَلِكَ، وَأَمِرَّ الْأَدْيَ عَنِ الطَّرِيقِ
'হে আল্লাহর রাসুল, আমি জানি না, মনে হচ্ছে আপনি বিদায় নেবেন, আর আমি আপনার পরে থেকে যাব। তাই আমাকে কিছু উপকারী কথা বলুন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, তুমি এমনটি করো, এমনটি করো। আর আমি সে সকল কথা ভুলে গিয়েছি। (একটি কথা মনে আছে যে,) আর তুমি রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরাও।'
আবু বারাজা থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ -কে বললাম :
يَا نَبِيَّ اللَّهِ، عَلَّمْنِي شَيْئًا أَنْتَفِعُ بِهِ، قَالَ : اعْزِلِ الْأَدْيَ عَنْ طَرِيقِ الْمُسْلِمِينَ
'হে আল্লাহর নবি, আমাকে উপকারী কিছু শিক্ষা দিন। তিনি বললেন, তুমি মুসলিমদের রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরাও।'
মানুষের পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো সহজ ও হালকা একটি কাজ। তবুও ইসলামে রয়েছে এর অনেক মর্যাদা। ইসলাম এ কাজের প্রতি এতটা উৎসাহিত করে থাকলে বড় বড় মন্দ কাজকে অপসারণের ক্ষেত্রে ইসলামের কেমন গুরুত্ব থাকবে, তা সহজেই অনুমেয়। যেসব মন্দ কাজ সমাজে বিরাট প্রভাব ফেলে, সেসব কাজ প্রতিহত করা অনেক বড় সাওয়াবের কাজ—তা বলাই বাহুল্য। আবার যে সকল উত্তম কাজ মানুষকে কল্যাণ ও আল্লাহর আনুগত্যের দিকে নিয়ে যাবে, সে সকল কাজ তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে-তাও বলার দরকার পড়ে না।
টিকাঃ
৬৭৬. সহিহু মুসলিম: ১/৬৩, হা. নং ৩৫ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৭৭. সহিহুল বুখারি: ১/১৩২, হা. নং ৬৫২ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৭৮. সহিহু মুসলিম: ৪/২০২১, হা. নং ১৯১৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৭৯. সহিহু মুসলিম: ১/৩৯০, হা. নং ৫৫৩ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৮০. সহিহ মুসলিম: ৪/২০২২, হা. নং ২৬১৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৮১. সহিহ মুসলিম: ২৬১৮, হা. নং ৪/২০২১ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)