📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সামাজিক সহযোগিতা

📄 সামাজিক সহযোগিতা


সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি ব্যাপক। আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার- সম্পর্কীয় লোকদের ডিঙিয়ে প্রতিবেশী থেকে শুরু হয় এ সামাজিক সহযোগিতার আওতা। ইসলামে প্রতিবেশীর এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ইসলামে তাদের এমন সম্মান ও মর্যাদার স্থান দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো ধর্ম ও আদর্শ দিতে পারেনি। ইসলাম প্রতিবেশীকে এত বেশি গুরুত্ব ও সম্মান দান করেছে যে, মনে হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।

আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
'মা জিবরীল ইউসিনি বিল জারি হাত্তা জানাতু আন্নাহু সাইউরাইসুহু' (জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।)

আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
'খাইরুল আসহাবি ইন্দাল্লাহি খাইরুহুম লিসাহিবিহি ওয়া খাইরুল জিরানি ইন্দাল্লাহি খাইরুহুম লিজারিহি' (আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী হলো সে, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। আর আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।)

আবু শুরাইহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'ওয়াল্লাহি লা ইউমিনু, ওয়াল্লাহি লা ইউমিনু, ওয়াল্লাহি লা ইউমিনু' (আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়।) প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, সে কে? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।

প্রতিবেশীর ব্যাপারটি শুধু মুসলিমদের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অন্যান্য অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথেও প্রতিবেশীর অধিকারগুলো জড়িত। প্রতিবেশীর অধিকার সংবলিত শরিয়তের দলিলগুলোতে অমুসলিম প্রতিবেশীর উল্লেখ পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করা হলো। তিনি তখন বললেন, 'তোমরা কি ইহুদি প্রতিবেশীকে এ থেকে হাদিয়া দিয়েছ? কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

টিকাঃ
৬৪০. সহিহুল বুখারি: ৮/১০, হা. নং: ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪১. মুসনাদু আহমাদ: ১১/১২৬, হা. নং ৬৫৬৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৪২. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৩. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি ব্যাপক। আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার- সম্পর্কীয় লোকদের ডিঙিয়ে প্রতিবেশী থেকে শুরু হয় এ সামাজিক সহযোগিতার আওতা। ইসলামে প্রতিবেশীর এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ইসলামে তাদের এমন সম্মান ও মর্যাদার স্থান দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো ধর্ম ও আদর্শ দিতে পারেনি। ইসলাম প্রতিবেশীকে এত বেশি গুরুত্ব ও সম্মান দান করেছে যে, মনে হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।

আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ، وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ
'আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী হলো সে, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। আর আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।'

আবু শুরাইহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيلَ : وَمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ : الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَايِقَهُ
'আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, সে কে? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।'

প্রতিবেশীর ব্যাপারটি শুধু মুসলিমদের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অন্যান্য অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথেও প্রতিবেশীর অধিকারগুলো জড়িত। প্রতিবেশীর অধিকার সংবলিত শরিয়তের দলিলগুলোতে অমুসলিম প্রতিবেশীর উল্লেখ পাওয়া যায়।

আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করা হলো। তিনি তখন বললেন, 'তোমরা কি ইহুদি প্রতিবেশীকে এ থেকে হাদিয়া দিয়েছ? কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

টিকাঃ
৬৪০. সহিহুল বুখারি: ৮/১০, হা. নং: ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪১. মুসনাদু আহমাদ: ১১/১২৬, হা. নং ৬৫৬৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৪২. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৩. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি ব্যাপক। আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার- সম্পর্কীয় লোকদের ডিঙিয়ে প্রতিবেশী থেকে শুরু হয় এ সামাজিক সহযোগিতার আওতা। ইসলামে প্রতিবেশীর এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ইসলামে তাদের এমন সম্মান ও মর্যাদার স্থান দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো ধর্ম ও আদর্শ দিতে পারেনি। ইসলাম প্রতিবেশীকে এত বেশি গুরুত্ব ও সম্মান দান করেছে যে, মনে হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।

আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ، وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ
'আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী হলো সে, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। আর আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।'

আবু শুরাইহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيلَ : وَمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ : الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَايِقَهُ
'আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, সে কে? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।'

প্রতিবেশীর ব্যাপারটি শুধু মুসলিমদের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অন্যান্য অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথেও প্রতিবেশীর অধিকারগুলো জড়িত। প্রতিবেশীর অধিকার সংবলিত শরিয়তের দলিলগুলোতে অমুসলিম প্রতিবেশীর উল্লেখ পাওয়া যায়।

আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করা হলো। তিনি তখন বললেন, 'তোমরা কি ইহুদি প্রতিবেশীকে এ থেকে হাদিয়া দিয়েছ? কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

টিকাঃ
৬৪০. সহিহুল বুখারি: ৮/১০, হা. নং: ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪১. মুসনাদু আহমাদ: ১১/১২৬, হা. নং ৬৫৬৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৪২. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৩. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও অধিকার আছে

📄 জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও অধিকার আছে


জাকাত দ্বীনের একটি মৌলভিত্তি। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে শুধু যে জাকাত আদায় করলেই সম্পদে অন্যের অধিকার শেষ হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, মানুষকে যখন দারিদ্র্য গ্রাস করে বা কেউ যখন দারিদ্র্যে ক্লিষ্ট হয় বা ক্ষুধায় অনাহারে থাকে, তখন সে মানুষকে দান করা কর্তব্য হয়ে যায়। তাই শুধু জাকাত আদায় করে সম্পদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পূর্ণ আদায় হয়ে গেছে, এমনটি ধারণা করা উচিত নয়। আশপাশের দরিদ্র, ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের কষ্ট-ক্লেশ দূর করাও সম্পদশালীর দায়িত্ব।

ফরজ জাকাত আদায় করা সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বল্প পরিমাণ মাত্র। একজন মুসলিমকে এর চেয়ে ঢের বেশি আল্লাহর রাস্তায় দান করতে হবে। ফাতিমা বিনতে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাকাত সম্পর্কে আমি রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমায় বলেন :
'নিশ্চয় জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও হক রয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে।”'

একজন মুসলিমের নিকট তার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে পারে। তখন তাকে অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে হবে। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মুসলিম নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর তার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গরিব-দুঃখীদের দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। এ সম্পদ সে গরিব-দুঃখীদের অনুগ্রহ করে দান করছে, বিষয়টি এমন নয়; বরং এটা তার সম্পদে অভাবীদের অধিকার।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের অধিকার।”

যখন অভাব, দুর্ভোগ, বিপদ ও দুর্যোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন মুসলিমদের মাঝে তাদের সম্পদ বণ্টন করে দিতে হবে। কারও সম্পদ থেকে যা কিছু অতিরিক্ত থেকে যাবে, তাতে দারিদ্র্য, অভাব, বিপদ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার থাকবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'যার কাছে পিঠে নেওয়ার মতো সম্পদের অতিরিক্ত আছে, সে যেন তা থেকে যার কাছে এ পরিমাণ নেই, তাকে দিয়ে দেয়। আর যার কাছে পাথেয়ের অতিরিক্ত আছে, সে যেন যার পাথেয় নেই, তাকে কিছু দিয়ে দেয়।' অতঃপর তিনি সম্পদের প্রকারের বর্ণনা দিতে লাগলেন। এমনকি আমরা দেখলাম যে, অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে আমাদের কোনো অধিকারই নেই।

যখন মুসলিমদের মাঝে অভাব-অনটন বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তাদের সম্পদশালীদের নিকট থেকে ধন-সম্পদ নিয়ে উত্তমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়, প্রাচুর্যবানদের অতিরিক্ত সম্পদ অভাবীদের মাঝে বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়। আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
'আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন কোনো যুদ্ধে থাকে আর তাদের পাথেয় শেষ হওয়ার পথে থাকে অথবা শহরে থাকাবস্থায় তাদের পরিবারের খাবার কমে যায়, তখন তারা সকলের খাবারকে একটি কাপড়ে একত্রিত করে, তারপর তাদের মাঝে একটি পাত্রে তা সমভাবে বণ্টন করা হয়। এরকম আমলকারী আমার অন্তর্ভুক্ত, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।'

ইসলাম মুসলিমদের সমাজে সর্বোচ্চ পূর্ণতায় ও সর্বোচ্চ ধরনে পরস্পরের দায়িত্ববহনকে পাকাপোক্ত করে। যেন তারা প্রত্যেক ঘরে বা মহল্লায় বা গ্রামে সংঘবদ্ধ থাকে। যেন তাদের মাঝে কাউকে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হতে না হয়। কেননা, যখন সকল মানুষ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকে; অথচ তাদের মধ্যকার একজন না খেয়ে থাকে, তবে তারা সিরাতুল মুসতাকিমের ওপর আমলকারী নয়; বরং তারা নিজেদের দায়িত্বে শিথিলতাকারী।

যৌথ দায়ভার গ্রহণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'আইয়ুমা আহলি আরসাতিন আসবাহা ফিহিম ইমরাউন জাইউন, ফাকাদ বারিআত মিনহুম জিম্মাতুল্লাহি তাআলা' (যে আঙিনার অধিবাসীরা এরকম যে, তাদের মধ্যকার একজন ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে; তাদের ওপর থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়।)

এ মূলনীতির আমল জোরদার করার মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে যারা ধনী আছে, তাদের সম্পদ প্রয়োজনের সময় মুসলিমদের মাঝে ভাগ- বাটোয়ারা করা হয়, ফলে সম্পদশালীদের মাঝ থেকে অহংকার ও স্বার্থপরতা বিদায় নেয়। এ মূলনীতির মাধ্যমে স্বার্থপরায়ণতা, কার্পণ্য, নীচুতা বিদূরিত হয়ে যায়। ফলে মুসলিমদের ওপর যখন অভাব-অনটনের সময় আসে, তখন তারা সমান সমান থাকে। কেউ সুখে থাকে, আর কেউ দুঃখে থাকে; এমনটা হয় না।

এ মূলনীতির মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায় যে, মুসলিমরা হবে একটি দেহের ন্যায়। এ ব্যাপারে উমর ইবনে খাত্তাব বলেন:
'লও ইস্তাকবালতু মিন আমরি মা ইস্তাদবারতু লাআখাজতু ফুদুলা আমওয়ালিল আগনিয়া-ই ফাকাসসামতুহা আলা ফুকারাইল মুহাজিরিন' (গতবার যেরকম হলো, যদি এমন পরিস্থিতি আবার আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ নিয়ে গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।)

এসব দলিল থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার বিধান দিয়েছে। এ বিধানের ফলে সামাজিক দায়-দায়িত্ব বহন আরও দৃঢ় হয়। এ বিধানের ফলে সমাজে এক অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ বয়ে যায়। মুসলমানগণ পরস্পরের দায়িত্ব বহন করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়। ইসলামের শিক্ষা হলো, স্বাবলম্বী মুসলিমরা দরিদ্র মুসলিমদের হাত ধরবে, দরিদ্রকে সাহায্য করা নিজেদের কর্তব্য মনে করবে। ফলে সকলের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপিত হবে, তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব মজবুত হবে, তাদের মাঝে প্রতিফলিত হবে রাসুলুল্লাহ-এর এ বাণী।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি দেহের চোখ ব্যথা করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

টিকাঃ
৬৪৫. সুরা আজ-জারিয়াত: ১৯
৬৪৬. সহিহ মুসলিম: ৩/১৩৫৪, হা. নং ১৭২৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৪৭. সহিহুল বুখারি : ৩/১৩৮, হা. নং ২৪৮৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৮. মুসনাদু আহমাদ: ৮/৪৮১, হা. নং ৪৮৮০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)- হাদিসটি হাসান।
৬৪৯. আল-মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)- হাদিসটি সহিহ।
৬৫০. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

জাকাত দ্বীনের একটি মৌলভিত্তি। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে শুধু যে জাকাত আদায় করলেই সম্পদে অন্যের অধিকার শেষ হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, মানুষকে যখন দারিদ্র্য গ্রাস করে বা কেউ যখন দারিদ্র্যে ক্লিষ্ট হয় বা ক্ষুধায় অনাহারে থাকে, তখন সে মানুষকে দান করা কর্তব্য হয়ে যায়। তাই শুধু জাকাত আদায় করে সম্পদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পূর্ণ আদায় হয়ে গেছে, এমনটি ধারণা করা উচিত নয়। আশপাশের দরিদ্র, ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের কষ্ট-ক্লেশ দূর করাও সম্পদশালীর দায়িত্ব।

ফরজ জাকাত আদায় করা সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বল্প পরিমাণ মাত্র। একজন মুসলিমকে এর চেয়ে ঢের বেশি আল্লাহর রাস্তায় দান করতে হবে। ফাতিমা বিনতে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাকাত সম্পর্কে আমি রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমায় বলেন :
إِنَّ فِي الْمَالِ لَحَقًّا سِوى الزَّكَاةِ، ثُمَّ تَلَا : {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ}
'নিশ্চয় জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও হক রয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে।”'

একজন মুসলিমের নিকট তার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে পারে। তখন তাকে অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে হবে। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মুসলিম নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর তার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গরিব-দুঃখীদের দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। এ সম্পদ সে গরিব-দুঃখীদের অনুগ্রহ করে দান করছে, বিষয়টি এমন নয়; বরং এটা তার সম্পদে অভাবীদের অধিকার।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴾
'আর তাদের ধন-সম্পদে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে।'

যখন অভাব, দুর্ভোগ, বিপদ ও দুর্যোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন মুসলিমদের মাঝে তাদের সম্পদ বণ্টন করে দিতে হবে। কারও সম্পদ থেকে যা কিছু অতিরিক্ত থেকে যাবে, তাতে দারিদ্র্য, অভাব, বিপদ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার থাকবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا ظَهْرَ لَهُ، وَمَنْ كَانَ لَهُ فَضْلُ مِنْ زَادٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا زَادَ لَهُ، قَالَ : فَذَكَرَ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ مَا ذَكَرَ حَتَّى رَأَيْنَا أَنَّهُ لَا حَقَّ لِأَحَدٍ مِنَّا فِي فَضْلٍ
'যার কাছে পিঠে নেওয়ার মতো সম্পদের অতিরিক্ত আছে, সে যেন তা থেকে যার কাছে এ পরিমাণ নেই, তাকে দিয়ে দেয়। আর যার কাছে পাথেয়ের অতিরিক্ত আছে, সে যেন যার পাথেয় নেই, তাকে কিছু দিয়ে দেয়।' অতঃপর তিনি সম্পদের প্রকারের বর্ণনা দিতে লাগলেন। এমনকি আমরা দেখলাম যে, অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে আমাদের কোনো অধিকারই নেই।

যখন মুসলিমদের মাঝে অভাব-অনটন বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তাদের সম্পদশালীদের নিকট থেকে ধন-সম্পদ নিয়ে উত্তমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়, প্রাচুর্যবানদের অতিরিক্ত সম্পদ অভাবীদের মাঝে বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়।

আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
إِنَّ الْأَشْعَرِيِّينَ إِذَا أَرْمَلُوا فِي الْغَزْوِ أَوْ قَلَّ طَعَامُ عِيَالِهِمْ بِالْمَدِينَةِ جَمَعُوا مَا كَانَ عِنْدَهُمْ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ، ثُمَّ اقْتَسَمُوهُ بَيْنَهُمْ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ بِالسَّوِيَّةِ، فَهُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ
'আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন কোনো যুদ্ধে থাকে আর তাদের পাথেয় শেষ হওয়ার পথে থাকে অথবা শহরে থাকাবস্থায় তাদের পরিবারের খাবার কমে যায়, তখন তারা সকলের খাবারকে একটি কাপড়ে একত্রিত করে, তারপর তাদের মাঝে একটি পাত্রে তা সমভাবে বণ্টন করা হয়। এরকম আমলকারী আমার অন্তর্ভুক্ত, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।'

ইসলাম মুসলিমদের সমাজে সর্বোচ্চ পূর্ণতায় ও সর্বোচ্চ ধরনে পরস্পরের দায়িত্ববহনকে পাকাপোক্ত করে। যেন তারা প্রত্যেক ঘরে বা মহল্লায় বা গ্রামে সংঘবদ্ধ থাকে। যেন তাদের মাঝে কাউকে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হতে না হয়। কেননা, যখন সকল মানুষ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকে; অথচ তাদের মধ্যকার একজন না খেয়ে থাকে, তবে তারা সিরাতুল মুসতাকিমের ওপর আমলকারী নয়; বরং তারা নিজেদের দায়িত্বে শিথিলতাকারী।

যৌথ দায়ভার গ্রহণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
أَيُّمَا أَهْلُ عَرْصَةٍ أَصْبَحَ فِيهِمْ امْرُؤٌ جَائِعٌ، فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُمْ ذِمَّةُ اللهِ تَعَالَى
'যে আঙিনার অধিবাসীরা এরকম যে, তাদের মধ্যকার একজন ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে; তাদের ওপর থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়।'

এ মূলনীতির আমল জোরদার করার মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে যারা ধনী আছে, তাদের সম্পদ প্রয়োজনের সময় মুসলিমদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়, ফলে সম্পদশালীদের মাঝ থেকে অহংকার ও স্বার্থপরতা বিদায় নেয়। এ মূলনীতির মাধ্যমে স্বার্থপরায়ণতা, কার্পণ্য, নীচুতা বিদূরিত হয়ে যায়। ফলে মুসলিমদের ওপর যখন অভাব-অনটনের সময় আসে, তখন তারা সমান সমান থাকে। কেউ সুখে থাকে, আর কেউ দুঃখে থাকে; এমনটা হয় না।

এ মূলনীতির মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায় যে, মুসলিমরা হবে একটি দেহের ন্যায়। এ ব্যাপারে উমর ইবনে খাত্তাব বলেন:
لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْت لَأَخَذْت فُضُولَ أَمْوَالِ الْأَغْنِيَاءِ فَقَسَّمْتُهَا عَلَى فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ
'গতবার যেরকম হলো, যদি এমন পরিস্থিতি আবার আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ নিয়ে গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।'

এসব দলিল থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার বিধান দিয়েছে। এ বিধানের ফলে সামাজিক দায়-দায়িত্ব বহন আরও দৃঢ় হয়। এ বিধানের ফলে সমাজে এক অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ বয়ে যায়। মুসলমানগণ পরস্পরের দায়িত্ব বহন করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়।

ইসলামের শিক্ষা হলো, স্বাবলম্বী মুসলিমরা দরিদ্র মুসলিমদের হাত ধরবে, দরিদ্রকে সাহায্য করা নিজেদের কর্তব্য মনে করবে। ফলে সকলের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপিত হবে, তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব মজবুত হবে, তাদের মাঝে প্রতিফলিত হবে রাসুলুল্লাহ-এর এ বাণী।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
الْمُسْلِمُونَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ، وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি দেহের চোখ ব্যথা করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

টিকাঃ
৬৪৪. সুনানুত তিরমিজি : ২/৪১, হা. নং ৬৫৯ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৬৪৫. সুরা আল-জারিয়াত : ১৯
৬৪৬. সহিহু মুসলিম: ৪/২০৭৪, হা. নং ২৬৯৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৪৭. সহিহুল বুখারি : ৩/১৩৮, হা. নং ২৪৮৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৮. মুসনাদু আহমাদ: ৮/৪৮১, হা. নং ৪৮৮০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)- হাদিসটি হাসান।
৬৪৯. আল-মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)- হাদিসটি সহিহ।
৬৫০. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

জাকাত দ্বীনের একটি মৌলভিত্তি। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে শুধু যে জাকাত আদায় করলেই সম্পদে অন্যের অধিকার শেষ হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, মানুষকে যখন দারিদ্র্য গ্রাস করে বা কেউ যখন দারিদ্র্যে ক্লিষ্ট হয় বা ক্ষুধায় অনাহারে থাকে, তখন সে মানুষকে দান করা কর্তব্য হয়ে যায়। তাই শুধু জাকাত আদায় করে সম্পদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পূর্ণ আদায় হয়ে গেছে, এমনটি ধারণা করা উচিত নয়। আশপাশের দরিদ্র, ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের কষ্ট-ক্লেশ দূর করাও সম্পদশালীর দায়িত্ব।

ফরজ জাকাত আদায় করা সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বল্প পরিমাণ মাত্র। একজন মুসলিমকে এর চেয়ে ঢের বেশি আল্লাহর রাস্তায় দান করতে হবে। ফাতিমা বিনতে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাকাত সম্পর্কে আমি রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমায় বলেন :
إِنَّ فِي الْمَالِ لَحَقًّا سِوى الزَّكَاةِ، ثُمَّ تَلَا : {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ}
'নিশ্চয় জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও হক রয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে।”'

একজন মুসলিমের নিকট তার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে পারে। তখন তাকে অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে হবে। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মুসলিম নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর তার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গরিব-দুঃখীদের দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। এ সম্পদ সে গরিব-দুঃখীদের অনুগ্রহ করে দান করছে, বিষয়টি এমন নয়; বরং এটা তার সম্পদে অভাবীদের অধিকার।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴾
'আর তাদের ধন-সম্পদে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে।'

যখন অভাব, দুর্ভোগ, বিপদ ও দুর্যোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন মুসলিমদের মাঝে তাদের সম্পদ বণ্টন করে দিতে হবে। কারও সম্পদ থেকে যা কিছু অতিরিক্ত থেকে যাবে, তাতে দারিদ্র্য, অভাব, বিপদ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার থাকবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا ظَهْرَ لَهُ، وَمَنْ كَانَ لَهُ فَضْلُ مِنْ زَادٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا زَادَ لَهُ، قَالَ : فَذَكَرَ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ مَا ذَكَرَ حَتَّى رَأَيْنَا أَنَّهُ لَا حَقَّ لِأَحَدٍ مِنَّا فِي فَضْلٍ
'যার কাছে পিঠে নেওয়ার মতো সম্পদের অতিরিক্ত আছে, সে যেন তা থেকে যার কাছে এ পরিমাণ নেই, তাকে দিয়ে দেয়। আর যার কাছে পাথেয়ের অতিরিক্ত আছে, সে যেন যার পাথেয় নেই, তাকে কিছু দিয়ে দেয়।' অতঃপর তিনি সম্পদের প্রকারের বর্ণনা দিতে লাগলেন। এমনকি আমরা দেখলাম যে, অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে আমাদের কোনো অধিকারই নেই।

যখন মুসলিমদের মাঝে অভাব-অনটন বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তাদের সম্পদশালীদের নিকট থেকে ধন-সম্পদ নিয়ে উত্তমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়, প্রাচুর্যবানদের অতিরিক্ত সম্পদ অভাবীদের মাঝে বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়।

আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
إِنَّ الْأَشْعَرِيِّينَ إِذَا أَرْمَلُوا فِي الْغَزْوِ أَوْ قَلَّ طَعَامُ عِيَالِهِمْ بِالْمَدِينَةِ جَمَعُوا مَا كَانَ عِنْدَهُمْ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ، ثُمَّ اقْتَسَمُوهُ بَيْنَهُمْ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ بِالسَّوِيَّةِ، فَهُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ
'আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন কোনো যুদ্ধে থাকে আর তাদের পাথেয় শেষ হওয়ার পথে থাকে অথবা শহরে থাকাবস্থায় তাদের পরিবারের খাবার কমে যায়, তখন তারা সকলের খাবারকে একটি কাপড়ে একত্রিত করে, তারপর তাদের মাঝে একটি পাত্রে তা সমভাবে বণ্টন করা হয়। এরকম আমলকারী আমার অন্তর্ভুক্ত, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।'

ইসলাম মুসলিমদের সমাজে সর্বোচ্চ পূর্ণতায় ও সর্বোচ্চ ধরনে পরস্পরের দায়িত্ববহনকে পাকাপোক্ত করে। যেন তারা প্রত্যেক ঘরে বা মহল্লায় বা গ্রামে সংঘবদ্ধ থাকে। যেন তাদের মাঝে কাউকে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হতে না হয়। কেননা, যখন সকল মানুষ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকে; অথচ তাদের মধ্যকার একজন না খেয়ে থাকে, তবে তারা সিরাতুল মুসতাকিমের ওপর আমলকারী নয়; বরং তারা নিজেদের দায়িত্বে শিথিলতাকারী।

যৌথ দায়ভার গ্রহণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
أَيُّمَا أَهْلُ عَرْصَةٍ أَصْبَحَ فِيهِمْ امْرُؤٌ جَائِعٌ، فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُمْ ذِمَّةُ اللهِ تَعَالَى
'যে আঙিনার অধিবাসীরা এরকম যে, তাদের মধ্যকার একজন ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে; তাদের ওপর থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়।'

এ মূলনীতির আমল জোরদার করার মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে যারা ধনী আছে, তাদের সম্পদ প্রয়োজনের সময় মুসলিমদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়, ফলে সম্পদশালীদের মাঝ থেকে অহংকার ও স্বার্থপরতা বিদায় নেয়। এ মূলনীতির মাধ্যমে স্বার্থপরায়ণতা, কার্পণ্য, নীচুতা বিদূরিত হয়ে যায়। ফলে মুসলিমদের ওপর যখন অভাব-অনটনের সময় আসে, তখন তারা সমান সমান থাকে। কেউ সুখে থাকে, আর কেউ দুঃখে থাকে; এমনটা হয় না।

এ মূলনীতির মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায় যে, মুসলিমরা হবে একটি দেহের ন্যায়। এ ব্যাপারে উমর ইবনে খাত্তাব বলেন:
لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْت لَأَخَذْت فُضُولَ أَمْوَالِ الْأَغْنِيَاءِ فَقَسَّمْتُهَا عَلَى فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ
'গতবার যেরকম হলো, যদি এমন পরিস্থিতি আবার আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ নিয়ে গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।'

এসব দলিল থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার বিধান দিয়েছে। এ বিধানের ফলে সামাজিক দায়-দায়িত্ব বহন আরও দৃঢ় হয়। এ বিধানের ফলে সমাজে এক অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ বয়ে যায়। মুসলমানগণ পরস্পরের দায়িত্ব বহন করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়।

ইসলামের শিক্ষা হলো, স্বাবলম্বী মুসলিমরা দরিদ্র মুসলিমদের হাত ধরবে, দরিদ্রকে সাহায্য করা নিজেদের কর্তব্য মনে করবে। ফলে সকলের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপিত হবে, তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব মজবুত হবে, তাদের মাঝে প্রতিফলিত হবে রাসুলুল্লাহ-এর এ বাণী।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
الْمُسْلِمُونَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ، وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি দেহের চোখ ব্যথা করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

টিকাঃ
৬৪৪. সুনানুত তিরমিজি : ২/৪১, হা. নং ৬৫৯ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৬৪৫. সুরা আল-জারিয়াত : ১৯
৬৪৬. সহিহু মুসলিম: ৪/২০৭৪, হা. নং ২৬৯৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৪৭. সহিহুল বুখারি : ৩/১৩৮, হা. নং ২৪৮৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৮. মুসনাদু আহমাদ: ৮/৪৮১, হা. নং ৪৮৮০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)- হাদিসটি হাসান।
৬৪৯. আল-মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)- হাদিসটি সহিহ।
৬৫০. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 নিত্যব্যবহার্য বস্তু

📄 নিত্যব্যবহার্য বস্তু


الماعون (আল-মাউন) শব্দটি পাত্র, গ্লাস, বালতি, দিয়াশলাইসহ অন্যান্য নিত্যব্যবহার্য উপকারদায়ক বস্তুকে বোঝায়। ইবনে আরাবি বলেন, الماعون (আল-মাউন) শব্দটি عون (আউন) থেকে নির্গত। এ শব্দের মর্মার্থ হলো, শক্তি, যন্ত্র ও আসবাব দ্বারা কোনো কাজে সাহায্য করা।

এ ধরনের বস্তুগুলো এককভাবে নিজেই ব্যবহার করা এবং অন্য কেউ চাইলে তা দিতে অস্বীকার করা উচিত নয়। বরং একজন মুসলিমকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে যে, তার কাছে উপকারী এমন কোনো বস্তু থাকলে সে তার অপর ভাইয়ের প্রয়োজনের সময় অবশ্যই তাকে তা দিয়ে সাহায্য করবে। কুরআনে কারিমে الماعون (আল-মাউন) সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এরকম বস্তু কেউ চাইলে তাকে ব্যবহার করতে দেওয়া ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হয়েছে। এমন বস্তু দিতে অস্বীকার করার বিপরীতে রয়েছে কঠিন শাস্তি। সুরা মাউনে আল্লাহ তাআলা কার্পণ্য করা ও মাউন দেওয়া থেকে নিষেধ করার ব্যাপারে ভয়ংকর শাস্তির কথা বলেছেন।

ইরশাদ হচ্ছে:
“অতএব, দুর্ভোগ সেসব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে বেখবর, যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে এবং নিত্য ব্যবহার্য বস্তু অন্যকে দেয় না।”

(الماعون) (আল-মাউন) শব্দটির তাফসিরে অনেক মতামত পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো থেকে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করছি, যদিও সব অর্থই প্রায় কাছাকাছি।

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'সকল ভালো কাজই সদকা। রাসুলুল্লাহ -এর যুগে মাউন বলতে আমরা বুঝতাম, বালতি ও পাত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইবনে আব্বাস বলেন, 'মাউন অর্থ কাউকে কোনো জিনিস ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইকরামা বলেন, 'মাউনের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো জাকাত, আর তার সর্বনিম্ন সীমা হলো আসবাবপত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

জাজ্জাজ, মুবাররিদ প্রমুখ আলিম বলেন, 'জাহিলি যুগে মাউন দ্বারা কুঠার, পাত্র, বালতি, দিয়াশলাইর মতো বস্তুগুলোকে বোঝানো হতো। এগুলো দ্বারা উপকার কম হোক বা বেশি, এগুলোকে মাউন বলা হতো।'

মোটকথা, মাউন শব্দটি বাড়ি-ঘরে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন অবস্থায়, বিভিন্ন কাজে ব্যবহার্য জিনিসগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতীতে মাউন শব্দটি স্বাভাবিকভাবে কুঠার, পাত্র, বালতি, পানির পাত্রের মতো বস্তুগুলোকে বোঝাত। এ বস্তুগুলো যেহেতু ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তু, তাই বর্তমানেও মাউন শব্দটি অনায়াসে ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করবে। যেমন আজকাল খাবার রাখার জন্য তেপায়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। আবার বসার জন্য সাধারণভাবে চেয়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই কোনো প্রতিবেশীর যদি এমন সব বস্তুর কোনোটির দরকার পড়ে, তবে সে প্রতিবেশীকে তা দেওয়া কর্তব্য। এমনিভাবে যদি কেউ বিপদে পড়ে, তাহলে বিপদ থেকে উদ্ধার করার মতো বস্তু তার কাছে থাকলে তাকে তা সরবরাহ করা কর্তব্য। যেমন কেউ হঠাৎ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ল। এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ির প্রয়োজন। তখন প্রতিবেশীর দায়িত্ব হলো তার গাড়িটি ব্যবহার করতে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে কারও গড়িমসি করা, কার্পণ্য করতে চাওয়া, দিতে না চাওয়া, সে যেন চাইতে না পারে, সে জন্য তার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা— এসবই হলো মাউন দিতে অস্বীকার করার এক একটি রূপ।

ইসলামের এ বিধানটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুসলিমদের মাঝে পরিপূর্ণ ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করা। তাদের মাঝে সাহায্য-সহযোগিতা ও ভালোবাসার একটি বন্ধন তৈরি করা। যে ব্যক্তি মাউনসংক্রান্ত কোনো বস্তু অপরকে ব্যবহার করতে দেয়, সে তার প্রতি অনুগ্রহ বা দয়া করে না; বরং তা দেওয়াই তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। যদি সে তা না দেয়, তবে গুনাহগার হবে। আল্লাহ এ কাজকে আবশ্যক করে দিয়েছেন এবং এ কাজ পরিত্যাগকারীকে শাস্তির ক্ষেত্রে নামাজে রিয়াকারীদের সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন।

টিকাঃ
৬৫৩. সুরা আল-মাউন: ৪-৭
৬৫৪. আস-সুনানুল কুবরা, নাসায়ি: ১০/৩৪৫, হা. নং ১১৬৩৭ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) -হাদিসটি হাসান।
৬৫৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ২/৫৮৫, হা. নং ৩৯৭৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৫৬. সহিহুল বুখারি: ৬/১৭৭, সুরা মাউনের তাফসির-সংশ্লিষ্ট আলোচনা, (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৫৭. তাফসিরুল কুরতুবি: ২০/২১৪ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যা, কায়রো)

الماعون (আল-মাউন) শব্দটি পাত্র, গ্লাস, বালতি, দিয়াশলাইসহ অন্যান্য নিত্যব্যবহার্য উপকারদায়ক বস্তুকে বোঝায়। ইবনে আরাবি বলেন, الماعون (আল-মাউন) শব্দটি عون (আউন) থেকে নির্গত। এ শব্দের মর্মার্থ হলো, শক্তি, যন্ত্র ও আসবাব দ্বারা কোনো কাজে সাহায্য করা।

এ ধরনের বস্তুগুলো এককভাবে নিজেই ব্যবহার করা এবং অন্য কেউ চাইলে তা দিতে অস্বীকার করা উচিত নয়। বরং একজন মুসলিমকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে যে, তার কাছে উপকারী এমন কোনো বস্তু থাকলে সে তার অপর ভাইয়ের প্রয়োজনের সময় অবশ্যই তাকে তা দিয়ে সাহায্য করবে। কুরআনে কারিমে الماعون (আল-মাউন) সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এরকম বস্তু কেউ চাইলে তাকে ব্যবহার করতে দেওয়া ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হয়েছে। এমন বস্তু দিতে অস্বীকার করার বিপরীতে রয়েছে কঠিন শাস্তি। সুরা মাউনে আল্লাহ তাআলা কার্পণ্য করা ও মাউন দেওয়া থেকে নিষেধ করার ব্যাপারে ভয়ংকর শাস্তির কথা বলেছেন।

ইরশাদ হচ্ছে:
{ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ - الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ - الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ - وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ }
'অতএব, দুর্ভোগ সেসব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে বেখবর, যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে এবং নিত্য ব্যবহার্য বস্তু অন্যকে দেয় না।'

(الماعون) (আল-মাউন) শব্দটির তাফসিরে অনেক মতামত পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো থেকে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করছি, যদিও সব অর্থই প্রায় কাছাকাছি।

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'সকল ভালো কাজই সদকা। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে মাউন বলতে আমরা বুঝতাম, বালতি ও পাত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইবনে আব্বাস বলেন, 'মাউন অর্থ কাউকে কোনো জিনিস ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইকরামা বলেন, 'মাউনের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো জাকাত, আর তার সর্বনিম্ন সীমা হলো আসবাবপত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

জাজ্জাজ, মুবাররিদ প্রমুখ আলিম বলেন, 'জাহিলি যুগে মাউন দ্বারা কুঠার, পাত্র, বালতি, দিয়াশলাইর মতো বস্তুগুলোকে বোঝানো হতো। এগুলো দ্বারা উপকার কম হোক বা বেশি, এগুলোকে মাউন বলা হতো।'

মোটকথা, মাউন শব্দটি বাড়ি-ঘরে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন অবস্থায়, বিভিন্ন কাজে ব্যবহার্য জিনিসগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতীতে মাউন শব্দটি স্বাভাবিকভাবে কুঠার, পাত্র, বালতি, পানির পাত্রের মতো বস্তুগুলোকে বোঝাত। এ বস্তুগুলো যেহেতু ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তু, তাই বর্তমানেও মাউন শব্দটি অনায়াসে ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করবে। যেমন আজকাল খাবার রাখার জন্য তেপায়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। আবার বসার জন্য সাধারণভাবে চেয়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই কোনো প্রতিবেশীর যদি এমন সব বস্তুর কোনোটির দরকার পড়ে, তবে সে প্রতিবেশীকে তা দেওয়া কর্তব্য। এমনিভাবে যদি কেউ বিপদে পড়ে, তাহলে বিপদ থেকে উদ্ধার করার মতো বস্তু তার কাছে থাকলে তাকে তা সরবরাহ করা কর্তব্য। যেমন কেউ হঠাৎ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ল। এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ির প্রয়োজন। তখন প্রতিবেশীর দায়িত্ব হলো তার গাড়িটি ব্যবহার করতে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে কারও গড়িমসি করা, কার্পণ্য করতে চাওয়া, দিতে না চাওয়া, সে যেন চাইতে না পারে, সে জন্য তার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা— এসবই হলো মাউন দিতে অস্বীকার করার এক একটি রূপ।

ইসলামের এ বিধানটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুসলিমদের মাঝে পরিপূর্ণ ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করা। তাদের মাঝে সাহায্য-সহযোগিতা ও ভালোবাসার একটি বন্ধন তৈরি করা। যে ব্যক্তি মাউনসংক্রান্ত কোনো বস্তু অপরকে ব্যবহার করতে দেয়, সে তার প্রতি অনুগ্রহ বা দয়া করে না; বরং তা দেওয়াই তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। যদি সে তা না দেয়, তবে গুনাহগার হবে। আল্লাহ এ কাজকে আবশ্যক করে দিয়েছেন এবং এ কাজ পরিত্যাগকারীকে শাস্তির ক্ষেত্রে নামাজে রিয়াকারীদের সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন।

টিকাঃ
৬৫১. মুখতারুস সিহাহ : পৃ. নং ২৯৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত)
৬৫২. আহকামুল কুরআন, ইবনুল আরাবি: ৪/৪৫৫ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৬৫৩. সুরা আল-মাউন: ৪-৭
৬৫৪. আস-সুনানুল কুবরা, নাসায়ি: ১০/৩৪৫, হা. নং ১১৬৩৭ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) -হাদিসটি হাসান।
৬৫৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ২/৫৮৫, হা. নং ৩৯৭৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৫৬. সহিহুল বুখারি: ৬/১৭৭, সুরা মাউনের তাফসির-সংশ্লিষ্ট আলোচনা, (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৫৭. তাফসিরুল কুরতুবি: ২০/২১৪ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যা, কায়রো)

الماعون (আল-মাউন) শব্দটি পাত্র, গ্লাস, বালতি, দিয়াশলাইসহ অন্যান্য নিত্যব্যবহার্য উপকারদায়ক বস্তুকে বোঝায়। ইবনে আরাবি বলেন, الماعون (আল-মাউন) শব্দটি عون (আউন) থেকে নির্গত। এ শব্দের মর্মার্থ হলো, শক্তি, যন্ত্র ও আসবাব দ্বারা কোনো কাজে সাহায্য করা।

এ ধরনের বস্তুগুলো এককভাবে নিজেই ব্যবহার করা এবং অন্য কেউ চাইলে তা দিতে অস্বীকার করা উচিত নয়। বরং একজন মুসলিমকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে যে, তার কাছে উপকারী এমন কোনো বস্তু থাকলে সে তার অপর ভাইয়ের প্রয়োজনের সময় অবশ্যই তাকে তা দিয়ে সাহায্য করবে। কুরআনে কারিমে الماعون (আল-মাউন) সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এরকম বস্তু কেউ চাইলে তাকে ব্যবহার করতে দেওয়া ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হয়েছে। এমন বস্তু দিতে অস্বীকার করার বিপরীতে রয়েছে কঠিন শাস্তি। সুরা মাউনে আল্লাহ তাআলা কার্পণ্য করা ও মাউন দেওয়া থেকে নিষেধ করার ব্যাপারে ভয়ংকর শাস্তির কথা বলেছেন।

ইরশাদ হচ্ছে:
{ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ - الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ - الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ - وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ }
'অতএব, দুর্ভোগ সেসব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে বেখবর, যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে এবং নিত্য ব্যবহার্য বস্তু অন্যকে দেয় না।'

(الماعون) (আল-মাউন) শব্দটির তাফসিরে অনেক মতামত পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো থেকে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করছি, যদিও সব অর্থই প্রায় কাছাকাছি।

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'সকল ভালো কাজই সদকা। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে মাউন বলতে আমরা বুঝতাম, বালতি ও পাত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইবনে আব্বাস বলেন, 'মাউন অর্থ কাউকে কোনো জিনিস ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইকরামা বলেন, 'মাউনের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো জাকাত, আর তার সর্বনিম্ন সীমা হলো আসবাবপত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

জাজ্জাজ, মুবাররিদ প্রমুখ আলিম বলেন, 'জাহিলি যুগে মাউন দ্বারা কুঠার, পাত্র, বালতি, দিয়াশলাইর মতো বস্তুগুলোকে বোঝানো হতো। এগুলো দ্বারা উপকার কম হোক বা বেশি, এগুলোকে মাউন বলা হতো।'

মোটকথা, মাউন শব্দটি বাড়ি-ঘরে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন অবস্থায়, বিভিন্ন কাজে ব্যবহার্য জিনিসগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতীতে মাউন শব্দটি স্বাভাবিকভাবে কুঠার, পাত্র, বালতি, পানির পাত্রের মতো বস্তুগুলোকে বোঝাত। এ বস্তুগুলো যেহেতু ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তু, তাই বর্তমানেও মাউন শব্দটি অনায়াসে ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করবে। যেমন আজকাল খাবার রাখার জন্য তেপায়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। আবার বসার জন্য সাধারণভাবে চেয়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই কোনো প্রতিবেশীর যদি এমন সব বস্তুর কোনোটির দরকার পড়ে, তবে সে প্রতিবেশীকে তা দেওয়া কর্তব্য। এমনিভাবে যদি কেউ বিপদে পড়ে, তাহলে বিপদ থেকে উদ্ধার করার মতো বস্তু তার কাছে থাকলে তাকে তা সরবরাহ করা কর্তব্য। যেমন কেউ হঠাৎ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ল। এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ির প্রয়োজন। তখন প্রতিবেশীর দায়িত্ব হলো তার গাড়িটি ব্যবহার করতে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে কারও গড়িমসি করা, কার্পণ্য করতে চাওয়া, দিতে না চাওয়া, সে যেন চাইতে না পারে, সে জন্য তার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা— এসবই হলো মাউন দিতে অস্বীকার করার এক একটি রূপ।

ইসলামের এ বিধানটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুসলিমদের মাঝে পরিপূর্ণ ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করা। তাদের মাঝে সাহায্য-সহযোগিতা ও ভালোবাসার একটি বন্ধন তৈরি করা। যে ব্যক্তি মাউনসংক্রান্ত কোনো বস্তু অপরকে ব্যবহার করতে দেয়, সে তার প্রতি অনুগ্রহ বা দয়া করে না; বরং তা দেওয়াই তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। যদি সে তা না দেয়, তবে গুনাহগার হবে। আল্লাহ এ কাজকে আবশ্যক করে দিয়েছেন এবং এ কাজ পরিত্যাগকারীকে শাস্তির ক্ষেত্রে নামাজে রিয়াকারীদের সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন।

টিকাঃ
৬৫১. মুখতারুস সিহাহ : পৃ. নং ২৯৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত)
৬৫২. আহকামুল কুরআন, ইবনুল আরাবি: ৪/৪৫৫ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৬৫৩. সুরা আল-মাউন: ৪-৭
৬৫৪. আস-সুনানুল কুবরা, নাসায়ি: ১০/৩৪৫, হা. নং ১১৬৩৭ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) -হাদিসটি হাসান।
৬৫৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ২/৫৮৫, হা. নং ৩৯৭৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৫৬. সহিহুল বুখারি: ৬/১৭৭, সুরা মাউনের তাফসির-সংশ্লিষ্ট আলোচনা, (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৫৭. তাফসিরুল কুরতুবি: ২০/২১৪ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যা, কায়রো)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের গূঢ়তত্ত্ব

📄 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের গূঢ়তত্ত্ব


এটি ইসলামের একটি মহান বিধান। এ কাজটি করার জন্য আদেশ করার কারণ হলো, যেন উত্তম ও সত্যের প্রসার হয় এবং মন্দ ও মিথ্যার দমন হয়। সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের প্রতি এ উম্মাহ আদিষ্ট। উম্মাহর ওপর এটি এক মহান আমানত। এ দায়িত্ব আদায়ের ভার প্রত্যেক মুসলিমের, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী, শাসক হোক বা শাসিত, ধনী হোক বা গরিব। প্রত্যেক মুসলিমই তার আশপাশের লোকদের সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করার জন্য আদিষ্ট। যেন এ ধরা থেকে অন্যায়-অবিচার, অসৎ ও মন্দ কর্ম দূরীভূত হয় এবং তদস্থলে ন্যায় ও ইনসাফ, সৎ ও উত্তম কর্মের প্রসার হয়।

উম্মাহ যদি এ গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব দায়িত্ব আদায়ে ঢিলেমি করে, তারা যদি নিস্তেজ হয়ে থাকে, এ দায়িত্ব আদায়ে উদাসীনতা দেখায়; তবে সর্বত্র বিপদ প্রকট হয়ে উঠবে, মন্দ সব জায়গায় গেড়ে বসবে, ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ফলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, মানুষ ব্যাপকভাবে গোমরাহ হতে থাকবে। কুরআন-সুন্নাহর বিভিন্ন স্থান থেকে এ বাস্তবতাটা বুঝে আসে।

ইরশাদ হচ্ছে:
“আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে, যারা আহ্বান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভালো কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হলো সফলকাম।”

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, তারা পরস্পরের সহযোগী। তারা পরস্পরকে সৎ কাজের আদেশ করে উত্তমতার মাঝে জীবনযাপন করে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করে নিজেদের মন্দ থেকে রক্ষা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা সৎ কাজের আদেশ করে দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশের অনুসরণ করে। এদেরই ওপর আল্লাহ দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়।”

বনি ইসরাইল আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের পথ থেকে সরে যাওয়ার কারণে তাদের নিন্দা করে আল্লাহ বলেন :
“বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা কাফির, তাদের দাউদ ও মরিয়ম- তনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটা এ কারণে যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা পরস্পরকে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করত না, যা তারা নিজেরা করত। তারা যা করত, তা অবশ্যই মন্দ ছিল।”

যদি এ কাজে শক্তি প্রয়োগ করা যায়, তবে শক্তি প্রয়োগ করে মন্দ থেকে নিষেধ করতে হবে। যদি এমনটা করা সম্ভব না হয়, তবে উত্তম নসিহত, হৃদয়গ্রাহী কথা দ্বারা নিষেধ করার চেষ্টা করবে, সৎ কাজে আদেশ করার চেষ্টা করবে। যদি কথা বলা সম্ভব না হয় বা কথা বলতে অক্ষম হয়, তবে কমপক্ষে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করতে হবে এবং গোপনে এ ওয়াজিব আদায়ের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
'মান রাআ মিনকুম মুনকারান ফাল ইউগাইয়িরহু বিয়াদিহি, ফাতিন লাম ইয়াস্তাতিত ফাবিলিসানিহি, ফাতিন লাম ইয়াস্তাতিত ফাবিকালবিহি, ওয়াজালিকা আদআফুল ইমান' (তোমাদের কেউ মন্দ কর্ম দেখলে সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিহত করে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে কথা দিয়ে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে অন্তর দিয়ে; আর এটা হচ্ছে ইমানের সর্বনিম্ন স্তর।)

রাসুলুল্লাহ এ কাজে শিথিলতা করা থেকে সাবধান করেছেন। কেননা, এ কাজে শিথিলতা করার অর্থ হলো আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির উপযুক্ত হওয়া। হুজাইফা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
'ওয়াল্লাজি নাফসি বিয়াদিহি লাতামুরুন্না বিল মা'রুফি ওয়ালাতানহাউন্না আনিল মুনকারি আও লাইউশিকান্নাল্লাহু আইঁ ইয়াব আসা আলাইকুম ইক্বাবাম মিনহু সুম্মা তাদউনাহু ফালা ইউস্তাজাবু লাকুম' (যার হাতে আমার প্রাণ, সে পবিত্র সত্তার শপথ! তোমরা অবশ্য অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করো, অসৎ কাজে নিষেধ করো। যদি তা না করো তবে অচিরেই আল্লাহ তোমাদের ওপর শাস্তি প্রেরণ করবেন, তারপর তোমরা দুআ করবে, কিন্তু তোমাদের দুআ গৃহীত হবে না।)

দ্বিধাহীন চিত্তে জালিম শাসকের সম্মুখে সত্য কথা বলা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ বলেন :
'আফদ্বালুল জিহাদি কালিমাতু আদলিন ইনদা সুলতানিন জায়িরিন' (জালিম বাদশাহর সামনে ন্যায় কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ।)

রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো :
'আইয়্যুল জিহাদি আফদ্বালু?' (কোন জিহাদ সর্বোত্তম?) তিনি উত্তরে বললেন, জালিম বাদশাহর সামনে সত্য উচ্চারণ করা।

টিকাঃ
৬৫৮. সুরা আলি ইমরান: ১০৪
৬৫৯. সুরা আত-তাওবা: ৭১
৬৬০. সুরা আল-মায়িদা: ৭৮-৭৯
৬৬১. সহিহু মুসলিম: ১/৬৯, হা. নং: ৪৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৬২. সুনানুত তিরমিজি: ৪/৩৮, হা. নং ২১৬৯ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৬৬৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪/১২৪, হা. নং ৪৩৪৪ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৬৪. সুনানুন নাসায়ি: ৭/১৬১, হা. নং ৪২০৯ (মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) - হাদিসটি সহিহ।

এটি ইসলামের একটি মহান বিধান। এ কাজটি করার জন্য আদেশ করার কারণ হলো, যেন উত্তম ও সত্যের প্রসার হয় এবং মন্দ ও মিথ্যার দমন হয়। সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের প্রতি এ উম্মাহ আদিষ্ট। উম্মাহর ওপর এটি এক মহান আমানত। এ দায়িত্ব আদায়ের ভার প্রত্যেক মুসলিমের, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী, শাসক হোক বা শাসিত, ধনী হোক বা গরিব। প্রত্যেক মুসলিমই তার আশপাশের লোকদের সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করার জন্য আদিষ্ট। যেন এ ধরা থেকে অন্যায়-অবিচার, অসৎ ও মন্দ কর্ম দূরীভূত হয় এবং তদস্থলে ন্যায় ও ইনসাফ, সৎ ও উত্তম কর্মের প্রসার হয়।

উম্মাহ যদি এ গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব দায়িত্ব আদায়ে ঢিলেমি করে, তারা যদি নিস্তেজ হয়ে থাকে, এ দায়িত্ব আদায়ে উদাসীনতা দেখায়; তবে সর্বত্র বিপদ প্রকট হয়ে উঠবে, মন্দ সব জায়গায় গেড়ে বসবে, ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ফলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, মানুষ ব্যাপকভাবে গোমরাহ হতে থাকবে। কুরআন-সুন্নাহর বিভিন্ন স্থান থেকে এ বাস্তবতাটা বুঝে আসে।

ইরশাদ হচ্ছে:
{ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةً يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ }
'আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা আহ্বান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভালো কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হলো সফলকাম।'

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, তারা পরস্পরের সহযোগী। তারা পরস্পরকে সৎ কাজের আদেশ করে উত্তমতার মাঝে জীবনযাপন করে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করে নিজেদের মন্দ থেকে রক্ষা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
{ وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ }
'আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু। তারা সৎ কাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎ কাজে নিষেধ করে, নামাজ কায়িম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে। এদের ওপর আল্লাহ অচিরেই দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।'

বনি ইসরাইল আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের পথ থেকে সরে যাওয়ার কারণে তাদের নিন্দা করে আল্লাহ বলেন :
{ لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ۚ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ - كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ }
'বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা কাফির, তাদের দাউদ ও মরিয়ম-তনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটা এ কারণে যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা পরস্পরকে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করত না, যা তারা নিজেরা করত। তারা যা করত, তা অবশ্যই মন্দ ছিল।'

যদি এ কাজে শক্তি প্রয়োগ করা যায়, তবে শক্তি প্রয়োগ করে মন্দ থেকে নিষেধ করতে হবে। যদি এমনটা করা সম্ভব না হয়, তবে উত্তম নসিহত, হৃদয়গ্রাহী কথা দ্বারা নিষেধ করার চেষ্টা করবে, সৎ কাজে আদেশ করার চেষ্টা করবে। যদি কথা বলা সম্ভব না হয় বা কথা বলতে অক্ষম হয়, তবে কমপক্ষে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করতে হবে এবং গোপনে এ ওয়াজিব আদায়ের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
মَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ
'তোমাদের কেউ মন্দ কর্ম দেখলে সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিহত করে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে কথা দিয়ে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে অন্তর দিয়ে; আর এটা হচ্ছে ইমানের সর্বনিম্ন স্তর।'

রাসুলুল্লাহ এ কাজে শিথিলতা করা থেকে সাবধান করেছেন। কেননা, এ কাজে শিথিলতা করার অর্থ হলো আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির উপযুক্ত হওয়া। হুজাইফা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ، ثُمَّ تَدْعُونَهُ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ
'যার হাতে আমার প্রাণ, সে পবিত্র সত্তার শপথ! তোমরা অবশ্য অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করো, অসৎ কাজে নিষেধ করো। যদি তা না করো তবে অচিরেই আল্লাহ তোমাদের ওপর শাস্তি প্রেরণ করবেন, তারপর তোমরা দুআ করবে, কিন্তু তোমাদের দুআ গৃহীত হবে না।'

দ্বিধাহীন চিত্তে জালিম শাসকের সম্মুখে সত্য কথা বলা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ বলেন :
أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ
'জালিম বাদশাহর সামনে ন্যায় কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ।'

রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো :
أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ ؟، قَالَ : كَلِمَةُ حَقٌّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ
'কোন জিহাদ সর্বোত্তম। তিনি উত্তরে বললেন, জালিম বাদশাহর সামনে সত্য উচ্চারণ করা।'

টিকাঃ
৬৫৮. সুরা আলি ইমরান: ১০৪
৬৫৯. সুরা আত-তাওবা: ৭১
৬৬০. সুরা আল-মায়িদা: ৭৮-৭৯
৬৬১. সহিহু মুসলিম: ১/৬৯, হা. নং: ৪৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৬২. সুনানুত তিরমিজি: ৪/৩৮, হা. নং ২১৬৯ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৬৬৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪/১২৪, হা. নং ৪৩৪৪ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৬৪. সুনানুন নাসায়ি: ৭/১৬১, হা. নং ৪২০৯ (মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) - হাদিসটি সহিহ।

এটি ইসলামের একটি মহান বিধান। এ কাজটি করার জন্য আদেশ করার কারণ হলো, যেন উত্তম ও সত্যের প্রসার হয় এবং মন্দ ও মিথ্যার দমন হয়। সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের প্রতি এ উম্মাহ আদিষ্ট। উম্মাহর ওপর এটি এক মহান আমানত। এ দায়িত্ব আদায়ের ভার প্রত্যেক মুসলিমের, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী, শাসক হোক বা শাসিত, ধনী হোক বা গরিব। প্রত্যেক মুসলিমই তার আশপাশের লোকদের সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করার জন্য আদিষ্ট। যেন এ ধরা থেকে অন্যায়-অবিচার, অসৎ ও মন্দ কর্ম দূরীভূত হয় এবং তদস্থলে ন্যায় ও ইনসাফ, সৎ ও উত্তম কর্মের প্রসার হয়।

উম্মাহ যদি এ গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব দায়িত্ব আদায়ে ঢিলেমি করে, তারা যদি নিস্তেজ হয়ে থাকে, এ দায়িত্ব আদায়ে উদাসীনতা দেখায়; তবে সর্বত্র বিপদ প্রকট হয়ে উঠবে, মন্দ সব জায়গায় গেড়ে বসবে, ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ফলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, মানুষ ব্যাপকভাবে গোমরাহ হতে থাকবে। কুরআন-সুন্নাহর বিভিন্ন স্থান থেকে এ বাস্তবতাটা বুঝে আসে।

ইরশাদ হচ্ছে:
{ وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةً يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ }
'আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা আহ্বান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভালো কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হলো সফলকাম।'

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, তারা পরস্পরের সহযোগী। তারা পরস্পরকে সৎ কাজের আদেশ করে উত্তমতার মাঝে জীবনযাপন করে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করে নিজেদের মন্দ থেকে রক্ষা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
{ وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ }
'আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু। তারা সৎ কাজের নির্দেশ দেয় ও অসৎ কাজে নিষেধ করে, নামাজ কায়িম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে। এদের ওপর আল্লাহ অচিরেই দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।'

বনি ইসরাইল আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের পথ থেকে সরে যাওয়ার কারণে তাদের নিন্দা করে আল্লাহ বলেন :
{ لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ۚ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ - كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ }
'বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা কাফির, তাদের দাউদ ও মরিয়ম-তনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটা এ কারণে যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা পরস্পরকে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করত না, যা তারা নিজেরা করত। তারা যা করত, তা অবশ্যই মন্দ ছিল।'

যদি এ কাজে শক্তি প্রয়োগ করা যায়, তবে শক্তি প্রয়োগ করে মন্দ থেকে নিষেধ করতে হবে। যদি এমনটা করা সম্ভব না হয়, তবে উত্তম নসিহত, হৃদয়গ্রাহী কথা দ্বারা নিষেধ করার চেষ্টা করবে, সৎ কাজে আদেশ করার চেষ্টা করবে। যদি কথা বলা সম্ভব না হয় বা কথা বলতে অক্ষম হয়, তবে কমপক্ষে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করতে হবে এবং গোপনে এ ওয়াজিব আদায়ের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
মَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ
'তোমাদের কেউ মন্দ কর্ম দেখলে সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিহত করে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে কথা দিয়ে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে অন্তর দিয়ে; আর এটা হচ্ছে ইমানের সর্বনিম্ন স্তর।'

রাসুলুল্লাহ এ কাজে শিথিলতা করা থেকে সাবধান করেছেন। কেননা, এ কাজে শিথিলতা করার অর্থ হলো আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির উপযুক্ত হওয়া। হুজাইফা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ، ثُمَّ تَدْعُونَهُ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ
'যার হাতে আমার প্রাণ, সে পবিত্র সত্তার শপথ! তোমরা অবশ্য অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করো, অসৎ কাজে নিষেধ করো। যদি তা না করো তবে অচিরেই আল্লাহ তোমাদের ওপর শাস্তি প্রেরণ করবেন, তারপর তোমরা দুআ করবে, কিন্তু তোমাদের দুআ গৃহীত হবে না।'

দ্বিধাহীন চিত্তে জালিম শাসকের সম্মুখে সত্য কথা বলা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ বলেন :
أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ
'জালিম বাদশাহর সামনে ন্যায় কথা বলা সর্বোত্তম জিহাদ।'

রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো :
أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ ؟، قَالَ : كَلِمَةُ حَقٌّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ
'কোন জিহাদ সর্বোত্তম। তিনি উত্তরে বললেন, জালিম বাদশাহর সামনে সত্য উচ্চারণ করা।'

টিকাঃ
৬৫৮. সুরা আলি ইমরান: ১০৪
৬৫৯. সুরা আত-তাওবা: ৭১
৬৬০. সুরা আল-মায়িদা: ৭৮-৭৯
৬৬১. সহিহু মুসলিম: ১/৬৯, হা. নং: ৪৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৬২. সুনানুত তিরমিজি: ৪/৩৮, হা. নং ২১৬৯ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৬৬৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪/১২৪, হা. নং ৪৩৪৪ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৬৪. সুনানুন নাসায়ি: ৭/১৬১, হা. নং ৪২০৯ (মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) - হাদিসটি সহিহ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px