📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আত্মীয়তার সম্পর্ক

📄 আত্মীয়তার সম্পর্ক


আত্মীয়স্বজনের জন্য ব্যয় করাটাই কেবল তাদের প্রতি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়; বরং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাও আবশ্যক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। একজন মুসলিমকে এ সম্পর্ক অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। এ পথে আসা প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। যদি সে এমনটা না করে থাকে, তবে সে আল্লাহর আদেশকৃত সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার অপরাধে অপরাধী।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার নিন্দায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
“ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদের বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।”

ইবনে জুবাইর বিন মুতইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
'লَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ' (আত্মীয়তার সম্পর্ক কর্তনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।)

উমর বিন আবাসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'নবিজি মক্কা থাকাকালীন আমি তাঁর কাছে গেলাম। বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, নবি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, নবি কাকে বলে? তিনি উত্তর দিলেন, আমাকে আল্লাহ দূত হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আমি জানতে চাইলাম, আপনাকে কী বিষয়বস্তু দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, মূর্তি ভাঙা, আল্লাহর তাওহিদ প্রতিষ্ঠা এবং তার সাথে কোনো কিছুকে শিরক করার প্রথা বন্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।'

টিকাঃ
৬৩৮. সহিহুল বুখারি: ৮/৫, হা. নং ৫৯৮৪ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৩৯. সহিহু মুসলিম : ১/৫৬৯, হা. নং ৮৩২ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

মুসলিমদের পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা, পরস্পরের দায়িত্ব বহন করা কখনো আবশ্যক হয়ে যায়। নিজের পরিবারের খরচ, আত্মীয়-স্বজনদের খরচ, দারিদ্র্য পীড়িতদের সাহায্য করা সবই একজন সক্ষম মুসলিমের কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব। একজন মুসলিমকে তার অভাবগ্রস্ত আত্মীয়কে সাহায্য করতে হবে। এটি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব। আত্মীয়দের সাহায্যার্থে ব্যয় করা দায়িত্ব। ব্যয় করার এ প্রক্রিয়াটি ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। অধস্তন যেমন, সন্তানগণ ও সন্তানের সন্তানগণ; চাই সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। আবার ঊর্ধ্বর্তন হলো, মাতা-পিতা ও তাদের মাতা-পিতাগণ। তারপর ব্যয়ের অধিক হকদার হিসাবে আসে প্রান্তসম্পর্কীয় ব্যক্তিগণ। তারা হলেন, চাচা, মামা, ফুফু, খালা প্রমুখ। আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা এবং অভাবীদের সাহায্য করার ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে:

﴿ لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّن سَعَتِهِ وَمَن قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللهُ لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرِ يُسْرًا ﴾
'বিত্তশালী ব্যক্তি তার বিত্ত অনুযায়ী ব্যয় করবে। যে ব্যক্তি সীমিত পরিমাণে রিজিকপ্রাপ্ত, সে আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যা দিয়েছেন, তদপেক্ষা বেশি ব্যয় করার আদেশ কাউকে করেন না। আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দেবেন।'

আত্মীয়স্বজনের জন্য ব্যয় করাটাই কেবল তাদের প্রতি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়; বরং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাও আবশ্যক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। একজন মুসলিমকে এ সম্পর্ক অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। এ পথে আসা প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। যদি সে এমনটা না করে থাকে, তবে সে আল্লাহর আদেশকৃত সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার অপরাধে অপরাধী।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার নিন্দায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
﴿ فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُফْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ - أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ ﴾
'ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদের বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।'

ইবনে জুবাইর বিন মুতইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ
'আত্মীয়তার সম্পর্ক কর্তনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।'

উমর বিন আবাসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ بِمَكَّةَ، فَقُلْتُ لَهُ : مَا أَنْتَ، قَالَ : أَنَا نَبِيُّ، فَقُلْتُ : وَمَا نَبِيُّ؟ قَالَ : أَرْسَلَنِي اللهُ ، فَقُلْتُ : بِأَيِّ شَيْءٍ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ : أَرْسَلَنِي بِصِلَةِ الْأَرْحَامِ، وَكَسْرِ الْأَوْثَانِ، وَأَنْ يُوَحَدَ اللَّهُ لَا يُشْرَكُ بِهِ شَيْءٌ
'নবিজি মক্কা থাকাকালীন আমি তাঁর কাছে গেলাম। বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, নবি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, নবি কাকে বলে? তিনি উত্তর দিলেন, আমাকে আল্লাহ দূত হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আমি জানতে চাইলাম, আপনাকে কী বিষয়বস্তু দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, মূর্তি ভাঙা, আল্লাহর তাওহিদ প্রতিষ্ঠা এবং তার সাথে কোনো কিছুকে শিরক করার প্রথা বন্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।'

টিকাঃ
৬৩৬. সুরা আত-তালাক: ৭
৬৩৭. সুরা মুহাম্মাদ: ২২-২৩
৬৩৮. সহিহুল বুখারি: ৮/৫, হা. নং ৫৯৮৪ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৩৯. সহিহু মুসলিম : ১/৫৬৯, হা. নং ৮৩২ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

মুসলিমদের পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা, পরস্পরের দায়িত্ব বহন করা কখনো আবশ্যক হয়ে যায়। নিজের পরিবারের খরচ, আত্মীয়-স্বজনদের খরচ, দারিদ্র্য পীড়িতদের সাহায্য করা সবই একজন সক্ষম মুসলিমের কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব। একজন মুসলিমকে তার অভাবগ্রস্ত আত্মীয়কে সাহায্য করতে হবে। এটি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব। আত্মীয়দের সাহায্যার্থে ব্যয় করা দায়িত্ব। ব্যয় করার এ প্রক্রিয়াটি ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। অধস্তন যেমন, সন্তানগণ ও সন্তানের সন্তানগণ; চাই সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। আবার ঊর্ধ্বর্তন হলো, মাতা-পিতা ও তাদের মাতা-পিতাগণ। তারপর ব্যয়ের অধিক হকদার হিসাবে আসে প্রান্তসম্পর্কীয় ব্যক্তিগণ। তারা হলেন, চাচা, মামা, ফুফু, খালা প্রমুখ। আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা এবং অভাবীদের সাহায্য করার ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে:

﴿ لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّن سَعَتِهِ وَمَن قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللهُ لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرِ يُسْرًا ﴾
'বিত্তশালী ব্যক্তি তার বিত্ত অনুযায়ী ব্যয় করবে। যে ব্যক্তি সীমিত পরিমাণে রিজিকপ্রাপ্ত, সে আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যা দিয়েছেন, তদপেক্ষা বেশি ব্যয় করার আদেশ কাউকে করেন না। আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দেবেন।'

আত্মীয়স্বজনের জন্য ব্যয় করাটাই কেবল তাদের প্রতি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়; বরং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাও আবশ্যক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। একজন মুসলিমকে এ সম্পর্ক অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। এ পথে আসা প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। যদি সে এমনটা না করে থাকে, তবে সে আল্লাহর আদেশকৃত সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার অপরাধে অপরাধী।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার নিন্দায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
﴿ فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُফْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ - أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ ﴾
'ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদের বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।'

ইবনে জুবাইর বিন মুতইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ
'আত্মীয়তার সম্পর্ক কর্তনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।'

উমর বিন আবাসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ بِمَكَّةَ، فَقُلْتُ لَهُ : مَا أَنْتَ، قَالَ : أَنَا نَبِيُّ، فَقُلْتُ : وَمَا نَبِيُّ؟ قَالَ : أَرْسَلَنِي اللهُ ، فَقُلْتُ : بِأَيِّ شَيْءٍ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ : أَرْسَلَنِي بِصِلَةِ الْأَرْحَامِ، وَكَسْرِ الْأَوْثَانِ، وَأَنْ يُوَحَدَ اللَّهُ لَا يُشْرَكُ بِهِ شَيْءٌ
'নবিজি মক্কা থাকাকালীন আমি তাঁর কাছে গেলাম। বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, নবি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, নবি কাকে বলে? তিনি উত্তর দিলেন, আমাকে আল্লাহ দূত হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আমি জানতে চাইলাম, আপনাকে কী বিষয়বস্তু দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, মূর্তি ভাঙা, আল্লাহর তাওহিদ প্রতিষ্ঠা এবং তার সাথে কোনো কিছুকে শিরক করার প্রথা বন্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।'

টিকাঃ
৬৩৬. সুরা আত-তালাক: ৭
৬৩৭. সুরা মুহাম্মাদ: ২২-২৩
৬৩৮. সহিহুল বুখারি: ৮/৫, হা. নং ৫৯৮৪ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৩৯. সহিহু মুসলিম : ১/৫৬৯, হা. নং ৮৩২ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সামাজিক সহযোগিতা

📄 সামাজিক সহযোগিতা


সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি ব্যাপক। আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার- সম্পর্কীয় লোকদের ডিঙিয়ে প্রতিবেশী থেকে শুরু হয় এ সামাজিক সহযোগিতার আওতা। ইসলামে প্রতিবেশীর এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ইসলামে তাদের এমন সম্মান ও মর্যাদার স্থান দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো ধর্ম ও আদর্শ দিতে পারেনি। ইসলাম প্রতিবেশীকে এত বেশি গুরুত্ব ও সম্মান দান করেছে যে, মনে হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।

আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
'মা জিবরীল ইউসিনি বিল জারি হাত্তা জানাতু আন্নাহু সাইউরাইসুহু' (জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।)

আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
'খাইরুল আসহাবি ইন্দাল্লাহি খাইরুহুম লিসাহিবিহি ওয়া খাইরুল জিরানি ইন্দাল্লাহি খাইরুহুম লিজারিহি' (আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী হলো সে, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। আর আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।)

আবু শুরাইহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'ওয়াল্লাহি লা ইউমিনু, ওয়াল্লাহি লা ইউমিনু, ওয়াল্লাহি লা ইউমিনু' (আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়।) প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, সে কে? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।

প্রতিবেশীর ব্যাপারটি শুধু মুসলিমদের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অন্যান্য অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথেও প্রতিবেশীর অধিকারগুলো জড়িত। প্রতিবেশীর অধিকার সংবলিত শরিয়তের দলিলগুলোতে অমুসলিম প্রতিবেশীর উল্লেখ পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করা হলো। তিনি তখন বললেন, 'তোমরা কি ইহুদি প্রতিবেশীকে এ থেকে হাদিয়া দিয়েছ? কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

টিকাঃ
৬৪০. সহিহুল বুখারি: ৮/১০, হা. নং: ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪১. মুসনাদু আহমাদ: ১১/১২৬, হা. নং ৬৫৬৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৪২. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৩. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি ব্যাপক। আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার- সম্পর্কীয় লোকদের ডিঙিয়ে প্রতিবেশী থেকে শুরু হয় এ সামাজিক সহযোগিতার আওতা। ইসলামে প্রতিবেশীর এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ইসলামে তাদের এমন সম্মান ও মর্যাদার স্থান দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো ধর্ম ও আদর্শ দিতে পারেনি। ইসলাম প্রতিবেশীকে এত বেশি গুরুত্ব ও সম্মান দান করেছে যে, মনে হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।

আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ، وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ
'আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী হলো সে, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। আর আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।'

আবু শুরাইহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيلَ : وَمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ : الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَايِقَهُ
'আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, সে কে? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।'

প্রতিবেশীর ব্যাপারটি শুধু মুসলিমদের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অন্যান্য অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথেও প্রতিবেশীর অধিকারগুলো জড়িত। প্রতিবেশীর অধিকার সংবলিত শরিয়তের দলিলগুলোতে অমুসলিম প্রতিবেশীর উল্লেখ পাওয়া যায়।

আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করা হলো। তিনি তখন বললেন, 'তোমরা কি ইহুদি প্রতিবেশীকে এ থেকে হাদিয়া দিয়েছ? কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

টিকাঃ
৬৪০. সহিহুল বুখারি: ৮/১০, হা. নং: ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪১. মুসনাদু আহমাদ: ১১/১২৬, হা. নং ৬৫৬৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৪২. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৩. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি ব্যাপক। আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার- সম্পর্কীয় লোকদের ডিঙিয়ে প্রতিবেশী থেকে শুরু হয় এ সামাজিক সহযোগিতার আওতা। ইসলামে প্রতিবেশীর এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ইসলামে তাদের এমন সম্মান ও মর্যাদার স্থান দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো ধর্ম ও আদর্শ দিতে পারেনি। ইসলাম প্রতিবেশীকে এত বেশি গুরুত্ব ও সম্মান দান করেছে যে, মনে হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।

আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ، وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ
'আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী হলো সে, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। আর আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।'

আবু শুরাইহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيلَ : وَمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ : الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَايِقَهُ
'আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, সে কে? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।'

প্রতিবেশীর ব্যাপারটি শুধু মুসলিমদের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অন্যান্য অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথেও প্রতিবেশীর অধিকারগুলো জড়িত। প্রতিবেশীর অধিকার সংবলিত শরিয়তের দলিলগুলোতে অমুসলিম প্রতিবেশীর উল্লেখ পাওয়া যায়।

আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করা হলো। তিনি তখন বললেন, 'তোমরা কি ইহুদি প্রতিবেশীকে এ থেকে হাদিয়া দিয়েছ? কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

টিকাঃ
৬৪০. সহিহুল বুখারি: ৮/১০, হা. নং: ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪১. মুসনাদু আহমাদ: ১১/১২৬, হা. নং ৬৫৬৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৪২. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৩. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও অধিকার আছে

📄 জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও অধিকার আছে


জাকাত দ্বীনের একটি মৌলভিত্তি। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে শুধু যে জাকাত আদায় করলেই সম্পদে অন্যের অধিকার শেষ হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, মানুষকে যখন দারিদ্র্য গ্রাস করে বা কেউ যখন দারিদ্র্যে ক্লিষ্ট হয় বা ক্ষুধায় অনাহারে থাকে, তখন সে মানুষকে দান করা কর্তব্য হয়ে যায়। তাই শুধু জাকাত আদায় করে সম্পদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পূর্ণ আদায় হয়ে গেছে, এমনটি ধারণা করা উচিত নয়। আশপাশের দরিদ্র, ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের কষ্ট-ক্লেশ দূর করাও সম্পদশালীর দায়িত্ব।

ফরজ জাকাত আদায় করা সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বল্প পরিমাণ মাত্র। একজন মুসলিমকে এর চেয়ে ঢের বেশি আল্লাহর রাস্তায় দান করতে হবে। ফাতিমা বিনতে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাকাত সম্পর্কে আমি রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমায় বলেন :
'নিশ্চয় জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও হক রয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে।”'

একজন মুসলিমের নিকট তার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে পারে। তখন তাকে অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে হবে। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মুসলিম নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর তার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গরিব-দুঃখীদের দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। এ সম্পদ সে গরিব-দুঃখীদের অনুগ্রহ করে দান করছে, বিষয়টি এমন নয়; বরং এটা তার সম্পদে অভাবীদের অধিকার।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের অধিকার।”

যখন অভাব, দুর্ভোগ, বিপদ ও দুর্যোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন মুসলিমদের মাঝে তাদের সম্পদ বণ্টন করে দিতে হবে। কারও সম্পদ থেকে যা কিছু অতিরিক্ত থেকে যাবে, তাতে দারিদ্র্য, অভাব, বিপদ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার থাকবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'যার কাছে পিঠে নেওয়ার মতো সম্পদের অতিরিক্ত আছে, সে যেন তা থেকে যার কাছে এ পরিমাণ নেই, তাকে দিয়ে দেয়। আর যার কাছে পাথেয়ের অতিরিক্ত আছে, সে যেন যার পাথেয় নেই, তাকে কিছু দিয়ে দেয়।' অতঃপর তিনি সম্পদের প্রকারের বর্ণনা দিতে লাগলেন। এমনকি আমরা দেখলাম যে, অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে আমাদের কোনো অধিকারই নেই।

যখন মুসলিমদের মাঝে অভাব-অনটন বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তাদের সম্পদশালীদের নিকট থেকে ধন-সম্পদ নিয়ে উত্তমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়, প্রাচুর্যবানদের অতিরিক্ত সম্পদ অভাবীদের মাঝে বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়। আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
'আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন কোনো যুদ্ধে থাকে আর তাদের পাথেয় শেষ হওয়ার পথে থাকে অথবা শহরে থাকাবস্থায় তাদের পরিবারের খাবার কমে যায়, তখন তারা সকলের খাবারকে একটি কাপড়ে একত্রিত করে, তারপর তাদের মাঝে একটি পাত্রে তা সমভাবে বণ্টন করা হয়। এরকম আমলকারী আমার অন্তর্ভুক্ত, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।'

ইসলাম মুসলিমদের সমাজে সর্বোচ্চ পূর্ণতায় ও সর্বোচ্চ ধরনে পরস্পরের দায়িত্ববহনকে পাকাপোক্ত করে। যেন তারা প্রত্যেক ঘরে বা মহল্লায় বা গ্রামে সংঘবদ্ধ থাকে। যেন তাদের মাঝে কাউকে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হতে না হয়। কেননা, যখন সকল মানুষ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকে; অথচ তাদের মধ্যকার একজন না খেয়ে থাকে, তবে তারা সিরাতুল মুসতাকিমের ওপর আমলকারী নয়; বরং তারা নিজেদের দায়িত্বে শিথিলতাকারী।

যৌথ দায়ভার গ্রহণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'আইয়ুমা আহলি আরসাতিন আসবাহা ফিহিম ইমরাউন জাইউন, ফাকাদ বারিআত মিনহুম জিম্মাতুল্লাহি তাআলা' (যে আঙিনার অধিবাসীরা এরকম যে, তাদের মধ্যকার একজন ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে; তাদের ওপর থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়।)

এ মূলনীতির আমল জোরদার করার মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে যারা ধনী আছে, তাদের সম্পদ প্রয়োজনের সময় মুসলিমদের মাঝে ভাগ- বাটোয়ারা করা হয়, ফলে সম্পদশালীদের মাঝ থেকে অহংকার ও স্বার্থপরতা বিদায় নেয়। এ মূলনীতির মাধ্যমে স্বার্থপরায়ণতা, কার্পণ্য, নীচুতা বিদূরিত হয়ে যায়। ফলে মুসলিমদের ওপর যখন অভাব-অনটনের সময় আসে, তখন তারা সমান সমান থাকে। কেউ সুখে থাকে, আর কেউ দুঃখে থাকে; এমনটা হয় না।

এ মূলনীতির মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায় যে, মুসলিমরা হবে একটি দেহের ন্যায়। এ ব্যাপারে উমর ইবনে খাত্তাব বলেন:
'লও ইস্তাকবালতু মিন আমরি মা ইস্তাদবারতু লাআখাজতু ফুদুলা আমওয়ালিল আগনিয়া-ই ফাকাসসামতুহা আলা ফুকারাইল মুহাজিরিন' (গতবার যেরকম হলো, যদি এমন পরিস্থিতি আবার আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ নিয়ে গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।)

এসব দলিল থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার বিধান দিয়েছে। এ বিধানের ফলে সামাজিক দায়-দায়িত্ব বহন আরও দৃঢ় হয়। এ বিধানের ফলে সমাজে এক অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ বয়ে যায়। মুসলমানগণ পরস্পরের দায়িত্ব বহন করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়। ইসলামের শিক্ষা হলো, স্বাবলম্বী মুসলিমরা দরিদ্র মুসলিমদের হাত ধরবে, দরিদ্রকে সাহায্য করা নিজেদের কর্তব্য মনে করবে। ফলে সকলের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপিত হবে, তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব মজবুত হবে, তাদের মাঝে প্রতিফলিত হবে রাসুলুল্লাহ-এর এ বাণী।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি দেহের চোখ ব্যথা করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

টিকাঃ
৬৪৫. সুরা আজ-জারিয়াত: ১৯
৬৪৬. সহিহ মুসলিম: ৩/১৩৫৪, হা. নং ১৭২৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৪৭. সহিহুল বুখারি : ৩/১৩৮, হা. নং ২৪৮৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৮. মুসনাদু আহমাদ: ৮/৪৮১, হা. নং ৪৮৮০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)- হাদিসটি হাসান।
৬৪৯. আল-মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)- হাদিসটি সহিহ।
৬৫০. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

জাকাত দ্বীনের একটি মৌলভিত্তি। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে শুধু যে জাকাত আদায় করলেই সম্পদে অন্যের অধিকার শেষ হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, মানুষকে যখন দারিদ্র্য গ্রাস করে বা কেউ যখন দারিদ্র্যে ক্লিষ্ট হয় বা ক্ষুধায় অনাহারে থাকে, তখন সে মানুষকে দান করা কর্তব্য হয়ে যায়। তাই শুধু জাকাত আদায় করে সম্পদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পূর্ণ আদায় হয়ে গেছে, এমনটি ধারণা করা উচিত নয়। আশপাশের দরিদ্র, ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের কষ্ট-ক্লেশ দূর করাও সম্পদশালীর দায়িত্ব।

ফরজ জাকাত আদায় করা সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বল্প পরিমাণ মাত্র। একজন মুসলিমকে এর চেয়ে ঢের বেশি আল্লাহর রাস্তায় দান করতে হবে। ফাতিমা বিনতে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাকাত সম্পর্কে আমি রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমায় বলেন :
إِنَّ فِي الْمَالِ لَحَقًّا سِوى الزَّكَاةِ، ثُمَّ تَلَا : {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ}
'নিশ্চয় জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও হক রয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে।”'

একজন মুসলিমের নিকট তার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে পারে। তখন তাকে অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে হবে। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মুসলিম নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর তার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গরিব-দুঃখীদের দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। এ সম্পদ সে গরিব-দুঃখীদের অনুগ্রহ করে দান করছে, বিষয়টি এমন নয়; বরং এটা তার সম্পদে অভাবীদের অধিকার।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴾
'আর তাদের ধন-সম্পদে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে।'

যখন অভাব, দুর্ভোগ, বিপদ ও দুর্যোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন মুসলিমদের মাঝে তাদের সম্পদ বণ্টন করে দিতে হবে। কারও সম্পদ থেকে যা কিছু অতিরিক্ত থেকে যাবে, তাতে দারিদ্র্য, অভাব, বিপদ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার থাকবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا ظَهْرَ لَهُ، وَمَنْ كَانَ لَهُ فَضْلُ مِنْ زَادٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا زَادَ لَهُ، قَالَ : فَذَكَرَ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ مَا ذَكَرَ حَتَّى رَأَيْنَا أَنَّهُ لَا حَقَّ لِأَحَدٍ مِنَّا فِي فَضْلٍ
'যার কাছে পিঠে নেওয়ার মতো সম্পদের অতিরিক্ত আছে, সে যেন তা থেকে যার কাছে এ পরিমাণ নেই, তাকে দিয়ে দেয়। আর যার কাছে পাথেয়ের অতিরিক্ত আছে, সে যেন যার পাথেয় নেই, তাকে কিছু দিয়ে দেয়।' অতঃপর তিনি সম্পদের প্রকারের বর্ণনা দিতে লাগলেন। এমনকি আমরা দেখলাম যে, অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে আমাদের কোনো অধিকারই নেই।

যখন মুসলিমদের মাঝে অভাব-অনটন বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তাদের সম্পদশালীদের নিকট থেকে ধন-সম্পদ নিয়ে উত্তমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়, প্রাচুর্যবানদের অতিরিক্ত সম্পদ অভাবীদের মাঝে বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়।

আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
إِنَّ الْأَشْعَرِيِّينَ إِذَا أَرْمَلُوا فِي الْغَزْوِ أَوْ قَلَّ طَعَامُ عِيَالِهِمْ بِالْمَدِينَةِ جَمَعُوا مَا كَانَ عِنْدَهُمْ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ، ثُمَّ اقْتَسَمُوهُ بَيْنَهُمْ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ بِالسَّوِيَّةِ، فَهُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ
'আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন কোনো যুদ্ধে থাকে আর তাদের পাথেয় শেষ হওয়ার পথে থাকে অথবা শহরে থাকাবস্থায় তাদের পরিবারের খাবার কমে যায়, তখন তারা সকলের খাবারকে একটি কাপড়ে একত্রিত করে, তারপর তাদের মাঝে একটি পাত্রে তা সমভাবে বণ্টন করা হয়। এরকম আমলকারী আমার অন্তর্ভুক্ত, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।'

ইসলাম মুসলিমদের সমাজে সর্বোচ্চ পূর্ণতায় ও সর্বোচ্চ ধরনে পরস্পরের দায়িত্ববহনকে পাকাপোক্ত করে। যেন তারা প্রত্যেক ঘরে বা মহল্লায় বা গ্রামে সংঘবদ্ধ থাকে। যেন তাদের মাঝে কাউকে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হতে না হয়। কেননা, যখন সকল মানুষ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকে; অথচ তাদের মধ্যকার একজন না খেয়ে থাকে, তবে তারা সিরাতুল মুসতাকিমের ওপর আমলকারী নয়; বরং তারা নিজেদের দায়িত্বে শিথিলতাকারী।

যৌথ দায়ভার গ্রহণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
أَيُّمَا أَهْلُ عَرْصَةٍ أَصْبَحَ فِيهِمْ امْرُؤٌ جَائِعٌ، فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُمْ ذِمَّةُ اللهِ تَعَالَى
'যে আঙিনার অধিবাসীরা এরকম যে, তাদের মধ্যকার একজন ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে; তাদের ওপর থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়।'

এ মূলনীতির আমল জোরদার করার মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে যারা ধনী আছে, তাদের সম্পদ প্রয়োজনের সময় মুসলিমদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়, ফলে সম্পদশালীদের মাঝ থেকে অহংকার ও স্বার্থপরতা বিদায় নেয়। এ মূলনীতির মাধ্যমে স্বার্থপরায়ণতা, কার্পণ্য, নীচুতা বিদূরিত হয়ে যায়। ফলে মুসলিমদের ওপর যখন অভাব-অনটনের সময় আসে, তখন তারা সমান সমান থাকে। কেউ সুখে থাকে, আর কেউ দুঃখে থাকে; এমনটা হয় না।

এ মূলনীতির মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায় যে, মুসলিমরা হবে একটি দেহের ন্যায়। এ ব্যাপারে উমর ইবনে খাত্তাব বলেন:
لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْت لَأَخَذْت فُضُولَ أَمْوَالِ الْأَغْنِيَاءِ فَقَسَّمْتُهَا عَلَى فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ
'গতবার যেরকম হলো, যদি এমন পরিস্থিতি আবার আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ নিয়ে গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।'

এসব দলিল থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার বিধান দিয়েছে। এ বিধানের ফলে সামাজিক দায়-দায়িত্ব বহন আরও দৃঢ় হয়। এ বিধানের ফলে সমাজে এক অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ বয়ে যায়। মুসলমানগণ পরস্পরের দায়িত্ব বহন করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়।

ইসলামের শিক্ষা হলো, স্বাবলম্বী মুসলিমরা দরিদ্র মুসলিমদের হাত ধরবে, দরিদ্রকে সাহায্য করা নিজেদের কর্তব্য মনে করবে। ফলে সকলের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপিত হবে, তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব মজবুত হবে, তাদের মাঝে প্রতিফলিত হবে রাসুলুল্লাহ-এর এ বাণী।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
الْمُسْلِمُونَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ، وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি দেহের চোখ ব্যথা করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

টিকাঃ
৬৪৪. সুনানুত তিরমিজি : ২/৪১, হা. নং ৬৫৯ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৬৪৫. সুরা আল-জারিয়াত : ১৯
৬৪৬. সহিহু মুসলিম: ৪/২০৭৪, হা. নং ২৬৯৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৪৭. সহিহুল বুখারি : ৩/১৩৮, হা. নং ২৪৮৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৮. মুসনাদু আহমাদ: ৮/৪৮১, হা. নং ৪৮৮০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)- হাদিসটি হাসান।
৬৪৯. আল-মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)- হাদিসটি সহিহ।
৬৫০. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

জাকাত দ্বীনের একটি মৌলভিত্তি। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে শুধু যে জাকাত আদায় করলেই সম্পদে অন্যের অধিকার শেষ হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, মানুষকে যখন দারিদ্র্য গ্রাস করে বা কেউ যখন দারিদ্র্যে ক্লিষ্ট হয় বা ক্ষুধায় অনাহারে থাকে, তখন সে মানুষকে দান করা কর্তব্য হয়ে যায়। তাই শুধু জাকাত আদায় করে সম্পদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পূর্ণ আদায় হয়ে গেছে, এমনটি ধারণা করা উচিত নয়। আশপাশের দরিদ্র, ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের কষ্ট-ক্লেশ দূর করাও সম্পদশালীর দায়িত্ব।

ফরজ জাকাত আদায় করা সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বল্প পরিমাণ মাত্র। একজন মুসলিমকে এর চেয়ে ঢের বেশি আল্লাহর রাস্তায় দান করতে হবে। ফাতিমা বিনতে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাকাত সম্পর্কে আমি রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমায় বলেন :
إِنَّ فِي الْمَالِ لَحَقًّا سِوى الزَّكَاةِ، ثُمَّ تَلَا : {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ}
'নিশ্চয় জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও হক রয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে।”'

একজন মুসলিমের নিকট তার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে পারে। তখন তাকে অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে হবে। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মুসলিম নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর তার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গরিব-দুঃখীদের দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। এ সম্পদ সে গরিব-দুঃখীদের অনুগ্রহ করে দান করছে, বিষয়টি এমন নয়; বরং এটা তার সম্পদে অভাবীদের অধিকার।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴾
'আর তাদের ধন-সম্পদে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে।'

যখন অভাব, দুর্ভোগ, বিপদ ও দুর্যোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন মুসলিমদের মাঝে তাদের সম্পদ বণ্টন করে দিতে হবে। কারও সম্পদ থেকে যা কিছু অতিরিক্ত থেকে যাবে, তাতে দারিদ্র্য, অভাব, বিপদ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার থাকবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا ظَهْرَ لَهُ، وَمَنْ كَانَ لَهُ فَضْلُ مِنْ زَادٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا زَادَ لَهُ، قَالَ : فَذَكَرَ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ مَا ذَكَرَ حَتَّى رَأَيْنَا أَنَّهُ لَا حَقَّ لِأَحَدٍ مِنَّا فِي فَضْلٍ
'যার কাছে পিঠে নেওয়ার মতো সম্পদের অতিরিক্ত আছে, সে যেন তা থেকে যার কাছে এ পরিমাণ নেই, তাকে দিয়ে দেয়। আর যার কাছে পাথেয়ের অতিরিক্ত আছে, সে যেন যার পাথেয় নেই, তাকে কিছু দিয়ে দেয়।' অতঃপর তিনি সম্পদের প্রকারের বর্ণনা দিতে লাগলেন। এমনকি আমরা দেখলাম যে, অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে আমাদের কোনো অধিকারই নেই।

যখন মুসলিমদের মাঝে অভাব-অনটন বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তাদের সম্পদশালীদের নিকট থেকে ধন-সম্পদ নিয়ে উত্তমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়, প্রাচুর্যবানদের অতিরিক্ত সম্পদ অভাবীদের মাঝে বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়।

আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
إِنَّ الْأَشْعَرِيِّينَ إِذَا أَرْمَلُوا فِي الْغَزْوِ أَوْ قَلَّ طَعَامُ عِيَالِهِمْ بِالْمَدِينَةِ جَمَعُوا مَا كَانَ عِنْدَهُمْ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ، ثُمَّ اقْتَسَمُوهُ بَيْنَهُمْ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ بِالسَّوِيَّةِ، فَهُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ
'আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন কোনো যুদ্ধে থাকে আর তাদের পাথেয় শেষ হওয়ার পথে থাকে অথবা শহরে থাকাবস্থায় তাদের পরিবারের খাবার কমে যায়, তখন তারা সকলের খাবারকে একটি কাপড়ে একত্রিত করে, তারপর তাদের মাঝে একটি পাত্রে তা সমভাবে বণ্টন করা হয়। এরকম আমলকারী আমার অন্তর্ভুক্ত, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।'

ইসলাম মুসলিমদের সমাজে সর্বোচ্চ পূর্ণতায় ও সর্বোচ্চ ধরনে পরস্পরের দায়িত্ববহনকে পাকাপোক্ত করে। যেন তারা প্রত্যেক ঘরে বা মহল্লায় বা গ্রামে সংঘবদ্ধ থাকে। যেন তাদের মাঝে কাউকে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হতে না হয়। কেননা, যখন সকল মানুষ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকে; অথচ তাদের মধ্যকার একজন না খেয়ে থাকে, তবে তারা সিরাতুল মুসতাকিমের ওপর আমলকারী নয়; বরং তারা নিজেদের দায়িত্বে শিথিলতাকারী।

যৌথ দায়ভার গ্রহণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
أَيُّمَا أَهْلُ عَرْصَةٍ أَصْبَحَ فِيهِمْ امْرُؤٌ جَائِعٌ، فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُمْ ذِمَّةُ اللهِ تَعَالَى
'যে আঙিনার অধিবাসীরা এরকম যে, তাদের মধ্যকার একজন ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে; তাদের ওপর থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়।'

এ মূলনীতির আমল জোরদার করার মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে যারা ধনী আছে, তাদের সম্পদ প্রয়োজনের সময় মুসলিমদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়, ফলে সম্পদশালীদের মাঝ থেকে অহংকার ও স্বার্থপরতা বিদায় নেয়। এ মূলনীতির মাধ্যমে স্বার্থপরায়ণতা, কার্পণ্য, নীচুতা বিদূরিত হয়ে যায়। ফলে মুসলিমদের ওপর যখন অভাব-অনটনের সময় আসে, তখন তারা সমান সমান থাকে। কেউ সুখে থাকে, আর কেউ দুঃখে থাকে; এমনটা হয় না।

এ মূলনীতির মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায় যে, মুসলিমরা হবে একটি দেহের ন্যায়। এ ব্যাপারে উমর ইবনে খাত্তাব বলেন:
لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْت لَأَخَذْت فُضُولَ أَمْوَالِ الْأَغْنِيَاءِ فَقَسَّمْتُهَا عَلَى فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ
'গতবার যেরকম হলো, যদি এমন পরিস্থিতি আবার আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ নিয়ে গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।'

এসব দলিল থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার বিধান দিয়েছে। এ বিধানের ফলে সামাজিক দায়-দায়িত্ব বহন আরও দৃঢ় হয়। এ বিধানের ফলে সমাজে এক অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ বয়ে যায়। মুসলমানগণ পরস্পরের দায়িত্ব বহন করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়।

ইসলামের শিক্ষা হলো, স্বাবলম্বী মুসলিমরা দরিদ্র মুসলিমদের হাত ধরবে, দরিদ্রকে সাহায্য করা নিজেদের কর্তব্য মনে করবে। ফলে সকলের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপিত হবে, তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব মজবুত হবে, তাদের মাঝে প্রতিফলিত হবে রাসুলুল্লাহ-এর এ বাণী।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
الْمُسْلِمُونَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ، وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি দেহের চোখ ব্যথা করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

টিকাঃ
৬৪৪. সুনানুত তিরমিজি : ২/৪১, হা. নং ৬৫৯ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৬৪৫. সুরা আল-জারিয়াত : ১৯
৬৪৬. সহিহু মুসলিম: ৪/২০৭৪, হা. নং ২৬৯৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৪৭. সহিহুল বুখারি : ৩/১৩৮, হা. নং ২৪৮৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৮. মুসনাদু আহমাদ: ৮/৪৮১, হা. নং ৪৮৮০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)- হাদিসটি হাসান।
৬৪৯. আল-মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)- হাদিসটি সহিহ।
৬৫০. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 নিত্যব্যবহার্য বস্তু

📄 নিত্যব্যবহার্য বস্তু


الماعون (আল-মাউন) শব্দটি পাত্র, গ্লাস, বালতি, দিয়াশলাইসহ অন্যান্য নিত্যব্যবহার্য উপকারদায়ক বস্তুকে বোঝায়। ইবনে আরাবি বলেন, الماعون (আল-মাউন) শব্দটি عون (আউন) থেকে নির্গত। এ শব্দের মর্মার্থ হলো, শক্তি, যন্ত্র ও আসবাব দ্বারা কোনো কাজে সাহায্য করা।

এ ধরনের বস্তুগুলো এককভাবে নিজেই ব্যবহার করা এবং অন্য কেউ চাইলে তা দিতে অস্বীকার করা উচিত নয়। বরং একজন মুসলিমকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে যে, তার কাছে উপকারী এমন কোনো বস্তু থাকলে সে তার অপর ভাইয়ের প্রয়োজনের সময় অবশ্যই তাকে তা দিয়ে সাহায্য করবে। কুরআনে কারিমে الماعون (আল-মাউন) সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এরকম বস্তু কেউ চাইলে তাকে ব্যবহার করতে দেওয়া ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হয়েছে। এমন বস্তু দিতে অস্বীকার করার বিপরীতে রয়েছে কঠিন শাস্তি। সুরা মাউনে আল্লাহ তাআলা কার্পণ্য করা ও মাউন দেওয়া থেকে নিষেধ করার ব্যাপারে ভয়ংকর শাস্তির কথা বলেছেন।

ইরশাদ হচ্ছে:
“অতএব, দুর্ভোগ সেসব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে বেখবর, যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে এবং নিত্য ব্যবহার্য বস্তু অন্যকে দেয় না।”

(الماعون) (আল-মাউন) শব্দটির তাফসিরে অনেক মতামত পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো থেকে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করছি, যদিও সব অর্থই প্রায় কাছাকাছি।

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'সকল ভালো কাজই সদকা। রাসুলুল্লাহ -এর যুগে মাউন বলতে আমরা বুঝতাম, বালতি ও পাত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইবনে আব্বাস বলেন, 'মাউন অর্থ কাউকে কোনো জিনিস ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইকরামা বলেন, 'মাউনের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো জাকাত, আর তার সর্বনিম্ন সীমা হলো আসবাবপত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

জাজ্জাজ, মুবাররিদ প্রমুখ আলিম বলেন, 'জাহিলি যুগে মাউন দ্বারা কুঠার, পাত্র, বালতি, দিয়াশলাইর মতো বস্তুগুলোকে বোঝানো হতো। এগুলো দ্বারা উপকার কম হোক বা বেশি, এগুলোকে মাউন বলা হতো।'

মোটকথা, মাউন শব্দটি বাড়ি-ঘরে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন অবস্থায়, বিভিন্ন কাজে ব্যবহার্য জিনিসগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতীতে মাউন শব্দটি স্বাভাবিকভাবে কুঠার, পাত্র, বালতি, পানির পাত্রের মতো বস্তুগুলোকে বোঝাত। এ বস্তুগুলো যেহেতু ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তু, তাই বর্তমানেও মাউন শব্দটি অনায়াসে ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করবে। যেমন আজকাল খাবার রাখার জন্য তেপায়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। আবার বসার জন্য সাধারণভাবে চেয়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই কোনো প্রতিবেশীর যদি এমন সব বস্তুর কোনোটির দরকার পড়ে, তবে সে প্রতিবেশীকে তা দেওয়া কর্তব্য। এমনিভাবে যদি কেউ বিপদে পড়ে, তাহলে বিপদ থেকে উদ্ধার করার মতো বস্তু তার কাছে থাকলে তাকে তা সরবরাহ করা কর্তব্য। যেমন কেউ হঠাৎ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ল। এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ির প্রয়োজন। তখন প্রতিবেশীর দায়িত্ব হলো তার গাড়িটি ব্যবহার করতে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে কারও গড়িমসি করা, কার্পণ্য করতে চাওয়া, দিতে না চাওয়া, সে যেন চাইতে না পারে, সে জন্য তার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা— এসবই হলো মাউন দিতে অস্বীকার করার এক একটি রূপ।

ইসলামের এ বিধানটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুসলিমদের মাঝে পরিপূর্ণ ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করা। তাদের মাঝে সাহায্য-সহযোগিতা ও ভালোবাসার একটি বন্ধন তৈরি করা। যে ব্যক্তি মাউনসংক্রান্ত কোনো বস্তু অপরকে ব্যবহার করতে দেয়, সে তার প্রতি অনুগ্রহ বা দয়া করে না; বরং তা দেওয়াই তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। যদি সে তা না দেয়, তবে গুনাহগার হবে। আল্লাহ এ কাজকে আবশ্যক করে দিয়েছেন এবং এ কাজ পরিত্যাগকারীকে শাস্তির ক্ষেত্রে নামাজে রিয়াকারীদের সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন।

টিকাঃ
৬৫৩. সুরা আল-মাউন: ৪-৭
৬৫৪. আস-সুনানুল কুবরা, নাসায়ি: ১০/৩৪৫, হা. নং ১১৬৩৭ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) -হাদিসটি হাসান।
৬৫৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ২/৫৮৫, হা. নং ৩৯৭৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৫৬. সহিহুল বুখারি: ৬/১৭৭, সুরা মাউনের তাফসির-সংশ্লিষ্ট আলোচনা, (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৫৭. তাফসিরুল কুরতুবি: ২০/২১৪ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যা, কায়রো)

الماعون (আল-মাউন) শব্দটি পাত্র, গ্লাস, বালতি, দিয়াশলাইসহ অন্যান্য নিত্যব্যবহার্য উপকারদায়ক বস্তুকে বোঝায়। ইবনে আরাবি বলেন, الماعون (আল-মাউন) শব্দটি عون (আউন) থেকে নির্গত। এ শব্দের মর্মার্থ হলো, শক্তি, যন্ত্র ও আসবাব দ্বারা কোনো কাজে সাহায্য করা।

এ ধরনের বস্তুগুলো এককভাবে নিজেই ব্যবহার করা এবং অন্য কেউ চাইলে তা দিতে অস্বীকার করা উচিত নয়। বরং একজন মুসলিমকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে যে, তার কাছে উপকারী এমন কোনো বস্তু থাকলে সে তার অপর ভাইয়ের প্রয়োজনের সময় অবশ্যই তাকে তা দিয়ে সাহায্য করবে। কুরআনে কারিমে الماعون (আল-মাউন) সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এরকম বস্তু কেউ চাইলে তাকে ব্যবহার করতে দেওয়া ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হয়েছে। এমন বস্তু দিতে অস্বীকার করার বিপরীতে রয়েছে কঠিন শাস্তি। সুরা মাউনে আল্লাহ তাআলা কার্পণ্য করা ও মাউন দেওয়া থেকে নিষেধ করার ব্যাপারে ভয়ংকর শাস্তির কথা বলেছেন।

ইরশাদ হচ্ছে:
{ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ - الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ - الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ - وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ }
'অতএব, দুর্ভোগ সেসব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে বেখবর, যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে এবং নিত্য ব্যবহার্য বস্তু অন্যকে দেয় না।'

(الماعون) (আল-মাউন) শব্দটির তাফসিরে অনেক মতামত পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো থেকে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করছি, যদিও সব অর্থই প্রায় কাছাকাছি।

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'সকল ভালো কাজই সদকা। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে মাউন বলতে আমরা বুঝতাম, বালতি ও পাত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইবনে আব্বাস বলেন, 'মাউন অর্থ কাউকে কোনো জিনিস ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইকরামা বলেন, 'মাউনের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো জাকাত, আর তার সর্বনিম্ন সীমা হলো আসবাবপত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

জাজ্জাজ, মুবাররিদ প্রমুখ আলিম বলেন, 'জাহিলি যুগে মাউন দ্বারা কুঠার, পাত্র, বালতি, দিয়াশলাইর মতো বস্তুগুলোকে বোঝানো হতো। এগুলো দ্বারা উপকার কম হোক বা বেশি, এগুলোকে মাউন বলা হতো।'

মোটকথা, মাউন শব্দটি বাড়ি-ঘরে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন অবস্থায়, বিভিন্ন কাজে ব্যবহার্য জিনিসগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতীতে মাউন শব্দটি স্বাভাবিকভাবে কুঠার, পাত্র, বালতি, পানির পাত্রের মতো বস্তুগুলোকে বোঝাত। এ বস্তুগুলো যেহেতু ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তু, তাই বর্তমানেও মাউন শব্দটি অনায়াসে ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করবে। যেমন আজকাল খাবার রাখার জন্য তেপায়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। আবার বসার জন্য সাধারণভাবে চেয়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই কোনো প্রতিবেশীর যদি এমন সব বস্তুর কোনোটির দরকার পড়ে, তবে সে প্রতিবেশীকে তা দেওয়া কর্তব্য। এমনিভাবে যদি কেউ বিপদে পড়ে, তাহলে বিপদ থেকে উদ্ধার করার মতো বস্তু তার কাছে থাকলে তাকে তা সরবরাহ করা কর্তব্য। যেমন কেউ হঠাৎ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ল। এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ির প্রয়োজন। তখন প্রতিবেশীর দায়িত্ব হলো তার গাড়িটি ব্যবহার করতে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে কারও গড়িমসি করা, কার্পণ্য করতে চাওয়া, দিতে না চাওয়া, সে যেন চাইতে না পারে, সে জন্য তার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা— এসবই হলো মাউন দিতে অস্বীকার করার এক একটি রূপ।

ইসলামের এ বিধানটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুসলিমদের মাঝে পরিপূর্ণ ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করা। তাদের মাঝে সাহায্য-সহযোগিতা ও ভালোবাসার একটি বন্ধন তৈরি করা। যে ব্যক্তি মাউনসংক্রান্ত কোনো বস্তু অপরকে ব্যবহার করতে দেয়, সে তার প্রতি অনুগ্রহ বা দয়া করে না; বরং তা দেওয়াই তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। যদি সে তা না দেয়, তবে গুনাহগার হবে। আল্লাহ এ কাজকে আবশ্যক করে দিয়েছেন এবং এ কাজ পরিত্যাগকারীকে শাস্তির ক্ষেত্রে নামাজে রিয়াকারীদের সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন।

টিকাঃ
৬৫১. মুখতারুস সিহাহ : পৃ. নং ২৯৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত)
৬৫২. আহকামুল কুরআন, ইবনুল আরাবি: ৪/৪৫৫ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৬৫৩. সুরা আল-মাউন: ৪-৭
৬৫৪. আস-সুনানুল কুবরা, নাসায়ি: ১০/৩৪৫, হা. নং ১১৬৩৭ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) -হাদিসটি হাসান।
৬৫৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ২/৫৮৫, হা. নং ৩৯৭৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৫৬. সহিহুল বুখারি: ৬/১৭৭, সুরা মাউনের তাফসির-সংশ্লিষ্ট আলোচনা, (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৫৭. তাফসিরুল কুরতুবি: ২০/২১৪ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যা, কায়রো)

الماعون (আল-মাউন) শব্দটি পাত্র, গ্লাস, বালতি, দিয়াশলাইসহ অন্যান্য নিত্যব্যবহার্য উপকারদায়ক বস্তুকে বোঝায়। ইবনে আরাবি বলেন, الماعون (আল-মাউন) শব্দটি عون (আউন) থেকে নির্গত। এ শব্দের মর্মার্থ হলো, শক্তি, যন্ত্র ও আসবাব দ্বারা কোনো কাজে সাহায্য করা।

এ ধরনের বস্তুগুলো এককভাবে নিজেই ব্যবহার করা এবং অন্য কেউ চাইলে তা দিতে অস্বীকার করা উচিত নয়। বরং একজন মুসলিমকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে যে, তার কাছে উপকারী এমন কোনো বস্তু থাকলে সে তার অপর ভাইয়ের প্রয়োজনের সময় অবশ্যই তাকে তা দিয়ে সাহায্য করবে। কুরআনে কারিমে الماعون (আল-মাউন) সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এরকম বস্তু কেউ চাইলে তাকে ব্যবহার করতে দেওয়া ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হয়েছে। এমন বস্তু দিতে অস্বীকার করার বিপরীতে রয়েছে কঠিন শাস্তি। সুরা মাউনে আল্লাহ তাআলা কার্পণ্য করা ও মাউন দেওয়া থেকে নিষেধ করার ব্যাপারে ভয়ংকর শাস্তির কথা বলেছেন।

ইরশাদ হচ্ছে:
{ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ - الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ - الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ - وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ }
'অতএব, দুর্ভোগ সেসব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে বেখবর, যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে এবং নিত্য ব্যবহার্য বস্তু অন্যকে দেয় না।'

(الماعون) (আল-মাউন) শব্দটির তাফসিরে অনেক মতামত পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো থেকে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করছি, যদিও সব অর্থই প্রায় কাছাকাছি।

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'সকল ভালো কাজই সদকা। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে মাউন বলতে আমরা বুঝতাম, বালতি ও পাত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইবনে আব্বাস বলেন, 'মাউন অর্থ কাউকে কোনো জিনিস ব্যবহার করতে দেওয়া।'

ইকরামা বলেন, 'মাউনের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো জাকাত, আর তার সর্বনিম্ন সীমা হলো আসবাবপত্র ব্যবহার করতে দেওয়া।'

জাজ্জাজ, মুবাররিদ প্রমুখ আলিম বলেন, 'জাহিলি যুগে মাউন দ্বারা কুঠার, পাত্র, বালতি, দিয়াশলাইর মতো বস্তুগুলোকে বোঝানো হতো। এগুলো দ্বারা উপকার কম হোক বা বেশি, এগুলোকে মাউন বলা হতো।'

মোটকথা, মাউন শব্দটি বাড়ি-ঘরে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন অবস্থায়, বিভিন্ন কাজে ব্যবহার্য জিনিসগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। অতীতে মাউন শব্দটি স্বাভাবিকভাবে কুঠার, পাত্র, বালতি, পানির পাত্রের মতো বস্তুগুলোকে বোঝাত। এ বস্তুগুলো যেহেতু ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তু, তাই বর্তমানেও মাউন শব্দটি অনায়াসে ঘর-বাড়িতে ব্যবহার্য সাধারণ বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করবে। যেমন আজকাল খাবার রাখার জন্য তেপায়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। আবার বসার জন্য সাধারণভাবে চেয়ার ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই কোনো প্রতিবেশীর যদি এমন সব বস্তুর কোনোটির দরকার পড়ে, তবে সে প্রতিবেশীকে তা দেওয়া কর্তব্য। এমনিভাবে যদি কেউ বিপদে পড়ে, তাহলে বিপদ থেকে উদ্ধার করার মতো বস্তু তার কাছে থাকলে তাকে তা সরবরাহ করা কর্তব্য। যেমন কেউ হঠাৎ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ল। এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ির প্রয়োজন। তখন প্রতিবেশীর দায়িত্ব হলো তার গাড়িটি ব্যবহার করতে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে কারও গড়িমসি করা, কার্পণ্য করতে চাওয়া, দিতে না চাওয়া, সে যেন চাইতে না পারে, সে জন্য তার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা— এসবই হলো মাউন দিতে অস্বীকার করার এক একটি রূপ।

ইসলামের এ বিধানটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুসলিমদের মাঝে পরিপূর্ণ ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করা। তাদের মাঝে সাহায্য-সহযোগিতা ও ভালোবাসার একটি বন্ধন তৈরি করা। যে ব্যক্তি মাউনসংক্রান্ত কোনো বস্তু অপরকে ব্যবহার করতে দেয়, সে তার প্রতি অনুগ্রহ বা দয়া করে না; বরং তা দেওয়াই তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। যদি সে তা না দেয়, তবে গুনাহগার হবে। আল্লাহ এ কাজকে আবশ্যক করে দিয়েছেন এবং এ কাজ পরিত্যাগকারীকে শাস্তির ক্ষেত্রে নামাজে রিয়াকারীদের সমপর্যায়ভুক্ত করেছেন।

টিকাঃ
৬৫১. মুখতারুস সিহাহ : পৃ. নং ২৯৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত)
৬৫২. আহকামুল কুরআন, ইবনুল আরাবি: ৪/৪৫৫ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৬৫৩. সুরা আল-মাউন: ৪-৭
৬৫৪. আস-সুনানুল কুবরা, নাসায়ি: ১০/৩৪৫, হা. নং ১১৬৩৭ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) -হাদিসটি হাসান।
৬৫৫. মুসতাদরাকুল হাকিম: ২/৫৮৫, হা. নং ৩৯৭৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৫৬. সহিহুল বুখারি: ৬/১৭৭, সুরা মাউনের তাফসির-সংশ্লিষ্ট আলোচনা, (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৫৭. তাফসিরুল কুরতুবি: ২০/২১৪ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যা, কায়রো)

ফন্ট সাইজ
15px
17px