📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সমস্ত মুসলমান এক উম্মাহ

📄 সমস্ত মুসলমান এক উম্মাহ


পৃথিবীর মুসলিমগণ মনের নিজস্ব বাসনা, আকাঙ্ক্ষা ও উপলব্ধির দিক থেকে ভিন্ন হলেও তারা একটি উম্মাহ, তারা এক পতাকার অধীনে সকলে ঐক্যবদ্ধ। এখানে এসে প্রাণগুলো, চিন্তা ও নৈতিকতাগুলো এক হয়ে যায়। এক উম্মাহের বন্ধনে তাদের ঐক্যবদ্ধ করে এবং তাদের একটি দেহে পরিণত করে তাওহিদের কালিমা।

মুসলিমগণ যখনই নামাজ পড়তে জামাআতবদ্ধ হয়, তখন তারা এক কিবলার দিকেই ফিরে দাঁড়ায়। তারা স্বল্প পরিসরে এক ইমামের আনুগত্য করে নামাজ আদায় করে। আবার বৃহৎ পরিসরে আল্লাহর শরিয়ত দ্বারা শাসনকারী এক খলিফার আনুগত্য করে। তদ্রূপ মুসলিমগণ সময়ের একই মানদণ্ডে রোজা পালন করে। তারা সময়ের একই মানদণ্ডে মুআজ্জিনের আজানে ইফতার করে। যখন নির্দিষ্ট সংখ্যক রোজা পালন শেষ হয়, তখন তারা ইদের খুশিতে আনন্দিত হয়। এমনিভাবে যদি পৃথিবীর কোনো অঞ্চলে কোনো মুসলিম নির্যাতিত হয়, তখন পৃথিবীর অপর মেরুর মুসলিমের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। যদি কোনো কাফির মুসলিমদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়, তখন মুসলিমগণ তাকে প্রতিহত করতে এগিয়ে আসে।

এভাবে দ্বীনের বিভিন্ন বিধান ও ঐতিহ্যে এসে মুসলিমদের ঐক্য ফুটে ওঠে। দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, এ উম্মাহ সত্যিকার অর্থে ঐক্যবদ্ধ। একনিষ্ঠতা ও ভালোবাসার এক অনুপম বন্ধনে জড়িয়ে আছে এ উম্মাহ। ইসলামি উম্মাহর স্বরূপ এমনই, ইসলামের শিক্ষার আলোকে এমন বর্ণনা যথার্থ। মুসলিমগণ তাদের সংখ্যা অনেক হলেও, তারা অনেক দূরে দূরে থাকলেও তারা সকলেই একটি দেহের ন্যায়। যদি দেহের একটি অঙ্গ ব্যথা অনুভব করে, তবে অন্য অঙ্গগুলোও এতে সাড়া দান করে।

নুমান বিন বাশির থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি তার চোখ ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

মুসলিমদের সারিতে অহংকার বা নেতিবাচকতার কোনো স্থান নেই। সংকীর্ণতম প্রবৃত্তির কোনো স্থান নেই মুসলিম সমাজে। মুসলিমরা হলো পরস্পর ভালোবাসার সম্পর্কে ঐক্যবদ্ধ। তারা একে অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ। নিজেদের এ ঐক্যবদ্ধতা রক্ষা করা নফল বা ঐচ্ছিক কর্ম হিসাবে নয়; বরং একতা রক্ষা করতে হয় এজন্য যে, তা হলো ফরজ ও দ্বীনের মৌলিক চাহিদা।

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। মুসলিম তার ভাইয়ের ওপর অত্যাচার করবে না, তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। আর যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূর্ণ করবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পুরণ করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিনের বিপদগুলোর একটি বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করবেন। যে মুসলিম অপর মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন সে মুসলিমের দোষ গোপন করবেন।'

অপর একটি হাদিসে সত্যিকার ভ্রাতৃত্বের বিভিন্ন ধারাকে শামিল করে; ভ্রাতৃত্বের মাঝে চিড় ধরিয়ে দেয় এমন অহংকার, নেতিবাচকতা ও নীচুতা পরিহার করে; পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি পোষণ করে; পরস্পরের বিভিন্ন প্রকার অনিষ্ট ও মন্দকে দূর করে—এমন একটি চমৎকার বর্ণনা এসেছে। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'তোমরা পরস্পর হিংসা করো না। একে অপরকে ধোঁকা দিও না। তোমরা পরস্পর শত্রুতা রেখো না। একে অপরের বিরোধিতা করো না। (ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে) একজনের দামের ওপর অন্যজন দাম বলো না। তোমরা আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই হয়ে যাও। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর জুলম করে না, তাকে অপমানিত করে না, তাকে হেয় করে না।' রাসুলুল্লাহ স্বীয় বুকের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, 'তাকওয়া থাকে এখানে। তোমাদের কারও অনিষ্টের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় করেছে। এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের রক্ত ঝরানো, মাল লুণ্ঠন ও সম্মান হরণ হারাম।'

মোটকথা, মুসলমানগণ তাদের বংশ, জাতি, দেশ ভিন্নতায় ভৌগলিকভাবে দূরত্বে থাকলেও আকিদা ও দ্বীনগতভাবে সবাই এক ও অভিন্ন। ইসলাম তাদের একত্রিত করেছে, তাদের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপন করেছে, যেন তারা একটি অপ্রতিরোধ্য ও সংঘবদ্ধ উম্মাহতে রূপ নিয়ে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করে। এ ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে :
“মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।”

মুসলিমদের পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা, পরস্পরের দায়িত্ব বহন করা কখনো আবশ্যক হয়ে যায়। নিজের পরিবারের খরচ, আত্মীয়-স্বজনদের খরচ, দারিদ্র্য পীড়িতদের সাহায্য করা সবই একজন সক্ষম মুসলিমের কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব। একজন মুসলিমকে তার অভাবগ্রস্ত আত্মীয়কে সাহায্য করতে হবে। এটি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব। আত্মীয়দের সাহায্যার্থে ব্যয় করা দায়িত্ব। ব্যয় করার এ প্রক্রিয়াটি ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। অধস্তন যেমন, সন্তানগণ ও সন্তানের সন্তানগণ; চাই সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। আবার ঊর্ধ্বর্তন হলো, মাতা-পিতা ও তাদের মাতা-পিতাগণ। তারপর ব্যয়ের অধিক হকদার হিসাবে আসে প্রান্তসম্পর্কীয় ব্যক্তিগণ। তারা হলেন, চাচা, মামা, ফুফু, খালা প্রমুখ। আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা এবং অভাবীদের সাহায্য করার ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে:
“বিত্তশালী ব্যক্তি তার বিত্ত অনুযায়ী ব্যয় করবে। যে ব্যক্তি সীমিত পরিমাণে রিজিকপ্রাপ্ত, সে আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যা দিয়েছেন, তদপেক্ষা বেশি ব্যয় করার আদেশ কাউকে করেন না। আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দেবেন।”

টিকাঃ
৫৮৩. সহিহুল বুখারি: ৩/১৩৯, হা. নং: ২৪৯৩ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৫৮৪. সহিহুল বুখারি: ৮/১২, হা. নং: ৬০২৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৫৮৫. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৫৮৬. সুরা আল-মায়িদা: ৫১
৫৮৭. সহিহুল বুখারি: ২/৫, হা. নং ৮৯৩ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৫৮৮. সুনানুন নাসায়ি: ৪১৯৯, হা. নং ৭/১৫৭ (মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) - হাদিসটি সহিহ।
৫৮৯. আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি: ৬/১৩৯-১৪০, হা. নং ৬০২৬ (দারুল হারামাইন, কায়রো) - হাদিসটি সহিহ।

পৃথিবীর মুসলিমগণ মনের নিজস্ব বাসনা, আকাঙ্ক্ষা ও উপলব্ধির দিক থেকে ভিন্ন হলেও তারা একটি উম্মাহ, তারা এক পতাকার অধীনে সকলে ঐক্যবদ্ধ। এখানে এসে প্রাণগুলো, চিন্তা ও নৈতিকতাগুলো এক হয়ে যায়। এক উম্মাহের বন্ধনে তাদের ঐক্যবদ্ধ করে এবং তাদের একটি দেহে পরিণত করে তাওহিদের কালিমা।

মুসলিমগণ যখনই নামাজ পড়তে জামাআতবদ্ধ হয়, তখন তারা এক কিবলার দিকেই ফিরে দাঁড়ায়। তারা স্বল্প পরিসরে এক ইমামের আনুগত্য করে নামাজ আদায় করে। আবার বৃহৎ পরিসরে আল্লাহর শরিয়ত দ্বারা শাসনকারী এক খলিফার আনুগত্য করে।

তদ্রূপ মুসলিমগণ সময়ের একই মানদণ্ডে রোজা পালন করে। তারা সময়ের একই মানদণ্ডে মুআজ্জিনের আজানে ইফতার করে। যখন নির্দিষ্ট সংখ্যক রোজা পালন শেষ হয়, তখন তারা ইদের খুশিতে আনন্দিত হয়।

এমনিভাবে যদি পৃথিবীর কোনো অঞ্চলে কোনো মুসলিম নির্যাতিত হয়, তখন পৃথিবীর অপর মেরুর মুসলিমের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। যদি কোনো কাফির মুসলিমদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়, তখন মুসলিমগণ তাকে প্রতিহত করতে এগিয়ে আসে।

এভাবে দ্বীনের বিভিন্ন বিধান ও ঐতিহ্যে এসে মুসলিমদের ঐক্য ফুটে ওঠে। দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, এ উম্মাহ সত্যিকার অর্থে ঐক্যবদ্ধ। একনিষ্ঠতা ও ভালোবাসার এক অনুপম বন্ধনে জড়িয়ে আছে এ উম্মাহ।

ইসলামি উম্মাহর স্বরূপ এমনই, ইসলামের শিক্ষার আলোকে এমন বর্ণনা যথার্থ। মুসলিমগণ তাদের সংখ্যা অনেক হলেও, তারা অনেক দূরে দূরে থাকলেও তারা সকলেই একটি দেহের ন্যায়। যদি দেহের একটি অঙ্গ ব্যথা অনুভব করে, তবে অন্য অঙ্গগুলোও এতে সাড়া দান করে।

নুমান বিন বাশির থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
الْمُسْلِمُونَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ، وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি তার চোখ ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

মুসলিমদের সারিতে অহংকার বা নেতিবাচকতার কোনো স্থান নেই। সংকীর্ণতম প্রবৃত্তির কোনো স্থান নেই মুসলিম সমাজে। মুসলিমরা হলো পরস্পর ভালোবাসার সম্পর্কে ঐক্যবদ্ধ। তারা একে অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ। নিজেদের এ ঐক্যবদ্ধতা রক্ষা করা নফল বা ঐচ্ছিক কর্ম হিসাবে নয়; বরং একতা রক্ষা করতে হয় এজন্য যে, তা হলো ফরজ ও দ্বীনের মৌলিক চাহিদা।

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يُسْلِمُهُ، وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللهُ يَوْমَ الْقِيَامَةِ
'এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। মুসলিম তার ভাইয়ের ওপর অত্যাচার করবে না, তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। আর যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূর্ণ করবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পুরণ করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিনের বিপদগুলোর একটি বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করবেন। যে মুসলিম অপর মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন সে মুসলিমের দোষ গোপন করবেন।'

অপর একটি হাদিসে সত্যিকার ভ্রাতৃত্বের বিভিন্ন ধারাকে শামিল করে; ভ্রাতৃত্বের মাঝে চিড় ধরিয়ে দেয় এমন অহংকার, নেতিবাচকতা ও নীচুতা পরিহার করে; পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি পোষণ করে; পরস্পরের বিভিন্ন প্রকার অনিষ্ট ও মন্দকে দূর করে—এমন একটি চমৎকার বর্ণনা এসেছে। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
لَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَنَاجَشُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَلَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يَخْذُلُهُ، وَلَا يَحْقِرُهُ التَّقْوَى هَاهُنَا - وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ মَرَّاتٍ - بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ، حَرَامٌ دَمُهُ، وَمَالُهُ، وَعِرْضُهُ
'তোমরা পরস্পর হিংসা করো না। একে অপরকে ধোঁকা দিও না। তোমরা পরস্পর শত্রুতা রেখো না। একে অপরের বিরোধিতা করো না। (ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে) একজনের দামের ওপর অন্যজন দাম বলো না। তোমরা আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই হয়ে যাও। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর জুলম করে না, তাকে অপমানিত করে না, তাকে হেয় করে না।' রাসুলুল্লাহ স্বীয় বুকের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, 'তাকওয়া থাকে এখানে। তোমাদের কারও অনিষ্টের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় করেছে। এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের রক্ত ঝরানো, মাল লুণ্ঠন ও সম্মান হরণ হারাম।'

মোটকথা, মুসলমানগণ তাদের বংশ, জাতি, দেশ ভিন্নতায় ভৌগলিকভাবে দূরত্বে থাকলেও আকিদা ও দ্বীনগতভাবে সবাই এক ও অভিন্ন। ইসলাম তাদের একত্রিত করেছে, তাদের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপন করেছে, যেন তারা একটি অপ্রতিরোধ্য ও সংঘবদ্ধ উম্মাহতে রূপ নিয়ে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করে।

এ ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে :
﴿ إِنَّ الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴾
'মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।'

টিকাঃ
৬৩২. সহিহু মুসলিম : ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৩৩. সহিহু মুসলিম : ৪/১৯৯৬, হা. নং ২৫৮০ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৩৪. সহিহু মুসলিম : ৪/১৯৮৬, হা. নং ২৫৬৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৩৫. সুরা আল-হুজুরাত : ১০

পৃথিবীর মুসলিমগণ মনের নিজস্ব বাসনা, আকাঙ্ক্ষা ও উপলব্ধির দিক থেকে ভিন্ন হলেও তারা একটি উম্মাহ, তারা এক পতাকার অধীনে সকলে ঐক্যবদ্ধ। এখানে এসে প্রাণগুলো, চিন্তা ও নৈতিকতাগুলো এক হয়ে যায়। এক উম্মাহের বন্ধনে তাদের ঐক্যবদ্ধ করে এবং তাদের একটি দেহে পরিণত করে তাওহিদের কালিমা।

মুসলিমগণ যখনই নামাজ পড়তে জামাআতবদ্ধ হয়, তখন তারা এক কিবলার দিকেই ফিরে দাঁড়ায়। তারা স্বল্প পরিসরে এক ইমামের আনুগত্য করে নামাজ আদায় করে। আবার বৃহৎ পরিসরে আল্লাহর শরিয়ত দ্বারা শাসনকারী এক খলিফার আনুগত্য করে।

তদ্রূপ মুসলিমগণ সময়ের একই মানদণ্ডে রোজা পালন করে। তারা সময়ের একই মানদণ্ডে মুআজ্জিনের আজানে ইফতার করে। যখন নির্দিষ্ট সংখ্যক রোজা পালন শেষ হয়, তখন তারা ইদের খুশিতে আনন্দিত হয়।

এমনিভাবে যদি পৃথিবীর কোনো অঞ্চলে কোনো মুসলিম নির্যাতিত হয়, তখন পৃথিবীর অপর মেরুর মুসলিমের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। যদি কোনো কাফির মুসলিমদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়, তখন মুসলিমগণ তাকে প্রতিহত করতে এগিয়ে আসে।

এভাবে দ্বীনের বিভিন্ন বিধান ও ঐতিহ্যে এসে মুসলিমদের ঐক্য ফুটে ওঠে। দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, এ উম্মাহ সত্যিকার অর্থে ঐক্যবদ্ধ। একনিষ্ঠতা ও ভালোবাসার এক অনুপম বন্ধনে জড়িয়ে আছে এ উম্মাহ।

ইসলামি উম্মাহর স্বরূপ এমনই, ইসলামের শিক্ষার আলোকে এমন বর্ণনা যথার্থ। মুসলিমগণ তাদের সংখ্যা অনেক হলেও, তারা অনেক দূরে দূরে থাকলেও তারা সকলেই একটি দেহের ন্যায়। যদি দেহের একটি অঙ্গ ব্যথা অনুভব করে, তবে অন্য অঙ্গগুলোও এতে সাড়া দান করে।

নুমান বিন বাশির থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
الْمُسْلِمُونَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ، وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি তার চোখ ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

মুসলিমদের সারিতে অহংকার বা নেতিবাচকতার কোনো স্থান নেই। সংকীর্ণতম প্রবৃত্তির কোনো স্থান নেই মুসলিম সমাজে। মুসলিমরা হলো পরস্পর ভালোবাসার সম্পর্কে ঐক্যবদ্ধ। তারা একে অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ। নিজেদের এ ঐক্যবদ্ধতা রক্ষা করা নফল বা ঐচ্ছিক কর্ম হিসাবে নয়; বরং একতা রক্ষা করতে হয় এজন্য যে, তা হলো ফরজ ও দ্বীনের মৌলিক চাহিদা।

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يُسْلِمُهُ، وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللهُ فِي حَاجَتِهِ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللهُ يَوْমَ الْقِيَامَةِ
'এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। মুসলিম তার ভাইয়ের ওপর অত্যাচার করবে না, তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। আর যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূর্ণ করবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পুরণ করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিনের বিপদগুলোর একটি বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করবেন। যে মুসলিম অপর মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন সে মুসলিমের দোষ গোপন করবেন।'

অপর একটি হাদিসে সত্যিকার ভ্রাতৃত্বের বিভিন্ন ধারাকে শামিল করে; ভ্রাতৃত্বের মাঝে চিড় ধরিয়ে দেয় এমন অহংকার, নেতিবাচকতা ও নীচুতা পরিহার করে; পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি পোষণ করে; পরস্পরের বিভিন্ন প্রকার অনিষ্ট ও মন্দকে দূর করে—এমন একটি চমৎকার বর্ণনা এসেছে। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
لَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَنَاجَشُوا، وَلَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَلَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ، وَلَا يَخْذُلُهُ، وَلَا يَحْقِرُهُ التَّقْوَى هَاهُنَا - وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ মَرَّاتٍ - بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ، حَرَامٌ دَمُهُ، وَمَالُهُ، وَعِرْضُهُ
'তোমরা পরস্পর হিংসা করো না। একে অপরকে ধোঁকা দিও না। তোমরা পরস্পর শত্রুতা রেখো না। একে অপরের বিরোধিতা করো না। (ক্রয়বিক্রয়ের ক্ষেত্রে) একজনের দামের ওপর অন্যজন দাম বলো না। তোমরা আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই হয়ে যাও। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর জুলম করে না, তাকে অপমানিত করে না, তাকে হেয় করে না।' রাসুলুল্লাহ স্বীয় বুকের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, 'তাকওয়া থাকে এখানে। তোমাদের কারও অনিষ্টের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় করেছে। এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের রক্ত ঝরানো, মাল লুণ্ঠন ও সম্মান হরণ হারাম।'

মোটকথা, মুসলমানগণ তাদের বংশ, জাতি, দেশ ভিন্নতায় ভৌগলিকভাবে দূরত্বে থাকলেও আকিদা ও দ্বীনগতভাবে সবাই এক ও অভিন্ন। ইসলাম তাদের একত্রিত করেছে, তাদের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপন করেছে, যেন তারা একটি অপ্রতিরোধ্য ও সংঘবদ্ধ উম্মাহতে রূপ নিয়ে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করে।

এ ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে :
﴿ إِنَّ الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴾
'মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।'

টিকাঃ
৬৩২. সহিহু মুসলিম : ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৩৩. সহিহু মুসলিম : ৪/১৯৯৬, হা. নং ২৫৮০ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৩৪. সহিহু মুসলিম : ৪/১৯৮৬, হা. নং ২৫৬৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৩৫. সুরা আল-হুজুরাত : ১০

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আত্মীয়তার সম্পর্ক

📄 আত্মীয়তার সম্পর্ক


আত্মীয়স্বজনের জন্য ব্যয় করাটাই কেবল তাদের প্রতি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়; বরং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাও আবশ্যক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। একজন মুসলিমকে এ সম্পর্ক অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। এ পথে আসা প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। যদি সে এমনটা না করে থাকে, তবে সে আল্লাহর আদেশকৃত সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার অপরাধে অপরাধী।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার নিন্দায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
“ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদের বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।”

ইবনে জুবাইর বিন মুতইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
'লَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ' (আত্মীয়তার সম্পর্ক কর্তনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।)

উমর বিন আবাসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'নবিজি মক্কা থাকাকালীন আমি তাঁর কাছে গেলাম। বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, নবি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, নবি কাকে বলে? তিনি উত্তর দিলেন, আমাকে আল্লাহ দূত হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আমি জানতে চাইলাম, আপনাকে কী বিষয়বস্তু দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, মূর্তি ভাঙা, আল্লাহর তাওহিদ প্রতিষ্ঠা এবং তার সাথে কোনো কিছুকে শিরক করার প্রথা বন্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।'

টিকাঃ
৬৩৮. সহিহুল বুখারি: ৮/৫, হা. নং ৫৯৮৪ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৩৯. সহিহু মুসলিম : ১/৫৬৯, হা. নং ৮৩২ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

মুসলিমদের পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা, পরস্পরের দায়িত্ব বহন করা কখনো আবশ্যক হয়ে যায়। নিজের পরিবারের খরচ, আত্মীয়-স্বজনদের খরচ, দারিদ্র্য পীড়িতদের সাহায্য করা সবই একজন সক্ষম মুসলিমের কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব। একজন মুসলিমকে তার অভাবগ্রস্ত আত্মীয়কে সাহায্য করতে হবে। এটি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব। আত্মীয়দের সাহায্যার্থে ব্যয় করা দায়িত্ব। ব্যয় করার এ প্রক্রিয়াটি ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। অধস্তন যেমন, সন্তানগণ ও সন্তানের সন্তানগণ; চাই সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। আবার ঊর্ধ্বর্তন হলো, মাতা-পিতা ও তাদের মাতা-পিতাগণ। তারপর ব্যয়ের অধিক হকদার হিসাবে আসে প্রান্তসম্পর্কীয় ব্যক্তিগণ। তারা হলেন, চাচা, মামা, ফুফু, খালা প্রমুখ। আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা এবং অভাবীদের সাহায্য করার ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে:

﴿ لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّن سَعَتِهِ وَمَن قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللهُ لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرِ يُسْرًا ﴾
'বিত্তশালী ব্যক্তি তার বিত্ত অনুযায়ী ব্যয় করবে। যে ব্যক্তি সীমিত পরিমাণে রিজিকপ্রাপ্ত, সে আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যা দিয়েছেন, তদপেক্ষা বেশি ব্যয় করার আদেশ কাউকে করেন না। আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দেবেন।'

আত্মীয়স্বজনের জন্য ব্যয় করাটাই কেবল তাদের প্রতি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়; বরং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাও আবশ্যক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। একজন মুসলিমকে এ সম্পর্ক অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। এ পথে আসা প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। যদি সে এমনটা না করে থাকে, তবে সে আল্লাহর আদেশকৃত সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার অপরাধে অপরাধী।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার নিন্দায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
﴿ فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُফْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ - أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ ﴾
'ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদের বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।'

ইবনে জুবাইর বিন মুতইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ
'আত্মীয়তার সম্পর্ক কর্তনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।'

উমর বিন আবাসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ بِمَكَّةَ، فَقُلْتُ لَهُ : مَا أَنْتَ، قَالَ : أَنَا نَبِيُّ، فَقُلْتُ : وَمَا نَبِيُّ؟ قَالَ : أَرْسَلَنِي اللهُ ، فَقُلْتُ : بِأَيِّ شَيْءٍ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ : أَرْسَلَنِي بِصِلَةِ الْأَرْحَامِ، وَكَسْرِ الْأَوْثَانِ، وَأَنْ يُوَحَدَ اللَّهُ لَا يُشْرَكُ بِهِ شَيْءٌ
'নবিজি মক্কা থাকাকালীন আমি তাঁর কাছে গেলাম। বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, নবি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, নবি কাকে বলে? তিনি উত্তর দিলেন, আমাকে আল্লাহ দূত হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আমি জানতে চাইলাম, আপনাকে কী বিষয়বস্তু দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, মূর্তি ভাঙা, আল্লাহর তাওহিদ প্রতিষ্ঠা এবং তার সাথে কোনো কিছুকে শিরক করার প্রথা বন্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।'

টিকাঃ
৬৩৬. সুরা আত-তালাক: ৭
৬৩৭. সুরা মুহাম্মাদ: ২২-২৩
৬৩৮. সহিহুল বুখারি: ৮/৫, হা. নং ৫৯৮৪ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৩৯. সহিহু মুসলিম : ১/৫৬৯, হা. নং ৮৩২ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

মুসলিমদের পরস্পরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা, পরস্পরের দায়িত্ব বহন করা কখনো আবশ্যক হয়ে যায়। নিজের পরিবারের খরচ, আত্মীয়-স্বজনদের খরচ, দারিদ্র্য পীড়িতদের সাহায্য করা সবই একজন সক্ষম মুসলিমের কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব। একজন মুসলিমকে তার অভাবগ্রস্ত আত্মীয়কে সাহায্য করতে হবে। এটি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব। আত্মীয়দের সাহায্যার্থে ব্যয় করা দায়িত্ব। ব্যয় করার এ প্রক্রিয়াটি ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। অধস্তন যেমন, সন্তানগণ ও সন্তানের সন্তানগণ; চাই সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। আবার ঊর্ধ্বর্তন হলো, মাতা-পিতা ও তাদের মাতা-পিতাগণ। তারপর ব্যয়ের অধিক হকদার হিসাবে আসে প্রান্তসম্পর্কীয় ব্যক্তিগণ। তারা হলেন, চাচা, মামা, ফুফু, খালা প্রমুখ। আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা এবং অভাবীদের সাহায্য করার ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে:

﴿ لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّن سَعَتِهِ وَمَن قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللهُ لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرِ يُسْرًا ﴾
'বিত্তশালী ব্যক্তি তার বিত্ত অনুযায়ী ব্যয় করবে। যে ব্যক্তি সীমিত পরিমাণে রিজিকপ্রাপ্ত, সে আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যা দিয়েছেন, তদপেক্ষা বেশি ব্যয় করার আদেশ কাউকে করেন না। আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দেবেন।'

আত্মীয়স্বজনের জন্য ব্যয় করাটাই কেবল তাদের প্রতি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়; বরং আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাও আবশ্যক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। একজন মুসলিমকে এ সম্পর্ক অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। এ পথে আসা প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। যদি সে এমনটা না করে থাকে, তবে সে আল্লাহর আদেশকৃত সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার অপরাধে অপরাধী।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার নিন্দায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
﴿ فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُফْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ - أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ ﴾
'ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদের বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।'

ইবনে জুবাইর বিন মুতইম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ
'আত্মীয়তার সম্পর্ক কর্তনকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।'

উমর বিন আবাসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ بِمَكَّةَ، فَقُلْتُ لَهُ : مَا أَنْتَ، قَالَ : أَنَا نَبِيُّ، فَقُلْتُ : وَمَا نَبِيُّ؟ قَالَ : أَرْسَلَنِي اللهُ ، فَقُلْتُ : بِأَيِّ شَيْءٍ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ : أَرْسَلَنِي بِصِلَةِ الْأَرْحَامِ، وَكَسْرِ الْأَوْثَانِ، وَأَنْ يُوَحَدَ اللَّهُ لَا يُشْرَكُ بِهِ شَيْءٌ
'নবিজি মক্কা থাকাকালীন আমি তাঁর কাছে গেলাম। বললাম, আপনি কে? তিনি বললেন, নবি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, নবি কাকে বলে? তিনি উত্তর দিলেন, আমাকে আল্লাহ দূত হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আমি জানতে চাইলাম, আপনাকে কী বিষয়বস্তু দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, আমাকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, মূর্তি ভাঙা, আল্লাহর তাওহিদ প্রতিষ্ঠা এবং তার সাথে কোনো কিছুকে শিরক করার প্রথা বন্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।'

টিকাঃ
৬৩৬. সুরা আত-তালাক: ৭
৬৩৭. সুরা মুহাম্মাদ: ২২-২৩
৬৩৮. সহিহুল বুখারি: ৮/৫, হা. নং ৫৯৮৪ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৩৯. সহিহু মুসলিম : ১/৫৬৯, হা. নং ৮৩২ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সামাজিক সহযোগিতা

📄 সামাজিক সহযোগিতা


সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি ব্যাপক। আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার- সম্পর্কীয় লোকদের ডিঙিয়ে প্রতিবেশী থেকে শুরু হয় এ সামাজিক সহযোগিতার আওতা। ইসলামে প্রতিবেশীর এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ইসলামে তাদের এমন সম্মান ও মর্যাদার স্থান দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো ধর্ম ও আদর্শ দিতে পারেনি। ইসলাম প্রতিবেশীকে এত বেশি গুরুত্ব ও সম্মান দান করেছে যে, মনে হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।

আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
'মা জিবরীল ইউসিনি বিল জারি হাত্তা জানাতু আন্নাহু সাইউরাইসুহু' (জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।)

আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
'খাইরুল আসহাবি ইন্দাল্লাহি খাইরুহুম লিসাহিবিহি ওয়া খাইরুল জিরানি ইন্দাল্লাহি খাইরুহুম লিজারিহি' (আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী হলো সে, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। আর আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।)

আবু শুরাইহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'ওয়াল্লাহি লা ইউমিনু, ওয়াল্লাহি লা ইউমিনু, ওয়াল্লাহি লা ইউমিনু' (আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়।) প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, সে কে? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।

প্রতিবেশীর ব্যাপারটি শুধু মুসলিমদের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অন্যান্য অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথেও প্রতিবেশীর অধিকারগুলো জড়িত। প্রতিবেশীর অধিকার সংবলিত শরিয়তের দলিলগুলোতে অমুসলিম প্রতিবেশীর উল্লেখ পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করা হলো। তিনি তখন বললেন, 'তোমরা কি ইহুদি প্রতিবেশীকে এ থেকে হাদিয়া দিয়েছ? কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

টিকাঃ
৬৪০. সহিহুল বুখারি: ৮/১০, হা. নং: ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪১. মুসনাদু আহমাদ: ১১/১২৬, হা. নং ৬৫৬৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৪২. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৩. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি ব্যাপক। আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার- সম্পর্কীয় লোকদের ডিঙিয়ে প্রতিবেশী থেকে শুরু হয় এ সামাজিক সহযোগিতার আওতা। ইসলামে প্রতিবেশীর এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ইসলামে তাদের এমন সম্মান ও মর্যাদার স্থান দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো ধর্ম ও আদর্শ দিতে পারেনি। ইসলাম প্রতিবেশীকে এত বেশি গুরুত্ব ও সম্মান দান করেছে যে, মনে হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।

আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ، وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ
'আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী হলো সে, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। আর আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।'

আবু শুরাইহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيلَ : وَمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ : الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَايِقَهُ
'আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, সে কে? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।'

প্রতিবেশীর ব্যাপারটি শুধু মুসলিমদের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অন্যান্য অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথেও প্রতিবেশীর অধিকারগুলো জড়িত। প্রতিবেশীর অধিকার সংবলিত শরিয়তের দলিলগুলোতে অমুসলিম প্রতিবেশীর উল্লেখ পাওয়া যায়।

আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করা হলো। তিনি তখন বললেন, 'তোমরা কি ইহুদি প্রতিবেশীকে এ থেকে হাদিয়া দিয়েছ? কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

টিকাঃ
৬৪০. সহিহুল বুখারি: ৮/১০, হা. নং: ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪১. মুসনাদু আহমাদ: ১১/১২৬, হা. নং ৬৫৬৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৪২. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৩. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

সামাজিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি ব্যাপক। আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার- সম্পর্কীয় লোকদের ডিঙিয়ে প্রতিবেশী থেকে শুরু হয় এ সামাজিক সহযোগিতার আওতা। ইসলামে প্রতিবেশীর এক বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। ইসলামে তাদের এমন সম্মান ও মর্যাদার স্থান দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো ধর্ম ও আদর্শ দিতে পারেনি। ইসলাম প্রতিবেশীকে এত বেশি গুরুত্ব ও সম্মান দান করেছে যে, মনে হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।

আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
خَيْرُ الْأَصْحَابِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ، وَخَيْرُ الْجِيرَانِ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرُهُمْ لِجَارِهِ
'আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী হলো সে, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। আর আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হলো যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।'

আবু শুরাইহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، قِيلَ : وَمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ : الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَايِقَهُ
'আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, সে কে? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।'

প্রতিবেশীর ব্যাপারটি শুধু মুসলিমদের সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং খ্রিষ্টান, ইহুদিসহ অন্যান্য অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথেও প্রতিবেশীর অধিকারগুলো জড়িত। প্রতিবেশীর অধিকার সংবলিত শরিয়তের দলিলগুলোতে অমুসলিম প্রতিবেশীর উল্লেখ পাওয়া যায়।

আব্দুল্লাহ বিন আমর-এর বাড়িতে একটি ছাগল জবাই করা হলো। তিনি তখন বললেন, 'তোমরা কি ইহুদি প্রতিবেশীকে এ থেকে হাদিয়া দিয়েছ? কেননা, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ
'জিবরাইল আমাকে অনবরত প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতে থাকলেন। একপর্যায়ে আমার ধারণা হচ্ছিল, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।'

টিকাঃ
৬৪০. সহিহুল বুখারি: ৮/১০, হা. নং: ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪১. মুসনাদু আহমাদ: ১১/১২৬, হা. নং ৬৫৬৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬৪২. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৩. সহিহুল বুখারি : ৮/১০, হা. নং ৬০১৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও অধিকার আছে

📄 জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও অধিকার আছে


জাকাত দ্বীনের একটি মৌলভিত্তি। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে শুধু যে জাকাত আদায় করলেই সম্পদে অন্যের অধিকার শেষ হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, মানুষকে যখন দারিদ্র্য গ্রাস করে বা কেউ যখন দারিদ্র্যে ক্লিষ্ট হয় বা ক্ষুধায় অনাহারে থাকে, তখন সে মানুষকে দান করা কর্তব্য হয়ে যায়। তাই শুধু জাকাত আদায় করে সম্পদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পূর্ণ আদায় হয়ে গেছে, এমনটি ধারণা করা উচিত নয়। আশপাশের দরিদ্র, ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের কষ্ট-ক্লেশ দূর করাও সম্পদশালীর দায়িত্ব।

ফরজ জাকাত আদায় করা সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বল্প পরিমাণ মাত্র। একজন মুসলিমকে এর চেয়ে ঢের বেশি আল্লাহর রাস্তায় দান করতে হবে। ফাতিমা বিনতে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাকাত সম্পর্কে আমি রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমায় বলেন :
'নিশ্চয় জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও হক রয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে।”'

একজন মুসলিমের নিকট তার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে পারে। তখন তাকে অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে হবে। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মুসলিম নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর তার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গরিব-দুঃখীদের দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। এ সম্পদ সে গরিব-দুঃখীদের অনুগ্রহ করে দান করছে, বিষয়টি এমন নয়; বরং এটা তার সম্পদে অভাবীদের অধিকার।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের অধিকার।”

যখন অভাব, দুর্ভোগ, বিপদ ও দুর্যোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন মুসলিমদের মাঝে তাদের সম্পদ বণ্টন করে দিতে হবে। কারও সম্পদ থেকে যা কিছু অতিরিক্ত থেকে যাবে, তাতে দারিদ্র্য, অভাব, বিপদ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার থাকবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
'যার কাছে পিঠে নেওয়ার মতো সম্পদের অতিরিক্ত আছে, সে যেন তা থেকে যার কাছে এ পরিমাণ নেই, তাকে দিয়ে দেয়। আর যার কাছে পাথেয়ের অতিরিক্ত আছে, সে যেন যার পাথেয় নেই, তাকে কিছু দিয়ে দেয়।' অতঃপর তিনি সম্পদের প্রকারের বর্ণনা দিতে লাগলেন। এমনকি আমরা দেখলাম যে, অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে আমাদের কোনো অধিকারই নেই।

যখন মুসলিমদের মাঝে অভাব-অনটন বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তাদের সম্পদশালীদের নিকট থেকে ধন-সম্পদ নিয়ে উত্তমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়, প্রাচুর্যবানদের অতিরিক্ত সম্পদ অভাবীদের মাঝে বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়। আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
'আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন কোনো যুদ্ধে থাকে আর তাদের পাথেয় শেষ হওয়ার পথে থাকে অথবা শহরে থাকাবস্থায় তাদের পরিবারের খাবার কমে যায়, তখন তারা সকলের খাবারকে একটি কাপড়ে একত্রিত করে, তারপর তাদের মাঝে একটি পাত্রে তা সমভাবে বণ্টন করা হয়। এরকম আমলকারী আমার অন্তর্ভুক্ত, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।'

ইসলাম মুসলিমদের সমাজে সর্বোচ্চ পূর্ণতায় ও সর্বোচ্চ ধরনে পরস্পরের দায়িত্ববহনকে পাকাপোক্ত করে। যেন তারা প্রত্যেক ঘরে বা মহল্লায় বা গ্রামে সংঘবদ্ধ থাকে। যেন তাদের মাঝে কাউকে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হতে না হয়। কেননা, যখন সকল মানুষ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকে; অথচ তাদের মধ্যকার একজন না খেয়ে থাকে, তবে তারা সিরাতুল মুসতাকিমের ওপর আমলকারী নয়; বরং তারা নিজেদের দায়িত্বে শিথিলতাকারী।

যৌথ দায়ভার গ্রহণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'আইয়ুমা আহলি আরসাতিন আসবাহা ফিহিম ইমরাউন জাইউন, ফাকাদ বারিআত মিনহুম জিম্মাতুল্লাহি তাআলা' (যে আঙিনার অধিবাসীরা এরকম যে, তাদের মধ্যকার একজন ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে; তাদের ওপর থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়।)

এ মূলনীতির আমল জোরদার করার মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে যারা ধনী আছে, তাদের সম্পদ প্রয়োজনের সময় মুসলিমদের মাঝে ভাগ- বাটোয়ারা করা হয়, ফলে সম্পদশালীদের মাঝ থেকে অহংকার ও স্বার্থপরতা বিদায় নেয়। এ মূলনীতির মাধ্যমে স্বার্থপরায়ণতা, কার্পণ্য, নীচুতা বিদূরিত হয়ে যায়। ফলে মুসলিমদের ওপর যখন অভাব-অনটনের সময় আসে, তখন তারা সমান সমান থাকে। কেউ সুখে থাকে, আর কেউ দুঃখে থাকে; এমনটা হয় না।

এ মূলনীতির মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায় যে, মুসলিমরা হবে একটি দেহের ন্যায়। এ ব্যাপারে উমর ইবনে খাত্তাব বলেন:
'লও ইস্তাকবালতু মিন আমরি মা ইস্তাদবারতু লাআখাজতু ফুদুলা আমওয়ালিল আগনিয়া-ই ফাকাসসামতুহা আলা ফুকারাইল মুহাজিরিন' (গতবার যেরকম হলো, যদি এমন পরিস্থিতি আবার আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ নিয়ে গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।)

এসব দলিল থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার বিধান দিয়েছে। এ বিধানের ফলে সামাজিক দায়-দায়িত্ব বহন আরও দৃঢ় হয়। এ বিধানের ফলে সমাজে এক অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ বয়ে যায়। মুসলমানগণ পরস্পরের দায়িত্ব বহন করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়। ইসলামের শিক্ষা হলো, স্বাবলম্বী মুসলিমরা দরিদ্র মুসলিমদের হাত ধরবে, দরিদ্রকে সাহায্য করা নিজেদের কর্তব্য মনে করবে। ফলে সকলের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপিত হবে, তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব মজবুত হবে, তাদের মাঝে প্রতিফলিত হবে রাসুলুল্লাহ-এর এ বাণী।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি দেহের চোখ ব্যথা করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

টিকাঃ
৬৪৫. সুরা আজ-জারিয়াত: ১৯
৬৪৬. সহিহ মুসলিম: ৩/১৩৫৪, হা. নং ১৭২৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৪৭. সহিহুল বুখারি : ৩/১৩৮, হা. নং ২৪৮৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৮. মুসনাদু আহমাদ: ৮/৪৮১, হা. নং ৪৮৮০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)- হাদিসটি হাসান।
৬৪৯. আল-মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)- হাদিসটি সহিহ।
৬৫০. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

জাকাত দ্বীনের একটি মৌলভিত্তি। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে শুধু যে জাকাত আদায় করলেই সম্পদে অন্যের অধিকার শেষ হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, মানুষকে যখন দারিদ্র্য গ্রাস করে বা কেউ যখন দারিদ্র্যে ক্লিষ্ট হয় বা ক্ষুধায় অনাহারে থাকে, তখন সে মানুষকে দান করা কর্তব্য হয়ে যায়। তাই শুধু জাকাত আদায় করে সম্পদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পূর্ণ আদায় হয়ে গেছে, এমনটি ধারণা করা উচিত নয়। আশপাশের দরিদ্র, ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের কষ্ট-ক্লেশ দূর করাও সম্পদশালীর দায়িত্ব।

ফরজ জাকাত আদায় করা সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বল্প পরিমাণ মাত্র। একজন মুসলিমকে এর চেয়ে ঢের বেশি আল্লাহর রাস্তায় দান করতে হবে। ফাতিমা বিনতে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাকাত সম্পর্কে আমি রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমায় বলেন :
إِنَّ فِي الْمَالِ لَحَقًّا سِوى الزَّكَاةِ، ثُمَّ تَلَا : {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ}
'নিশ্চয় জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও হক রয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে।”'

একজন মুসলিমের নিকট তার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে পারে। তখন তাকে অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে হবে। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মুসলিম নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর তার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গরিব-দুঃখীদের দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। এ সম্পদ সে গরিব-দুঃখীদের অনুগ্রহ করে দান করছে, বিষয়টি এমন নয়; বরং এটা তার সম্পদে অভাবীদের অধিকার।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴾
'আর তাদের ধন-সম্পদে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে।'

যখন অভাব, দুর্ভোগ, বিপদ ও দুর্যোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন মুসলিমদের মাঝে তাদের সম্পদ বণ্টন করে দিতে হবে। কারও সম্পদ থেকে যা কিছু অতিরিক্ত থেকে যাবে, তাতে দারিদ্র্য, অভাব, বিপদ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার থাকবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا ظَهْرَ لَهُ، وَمَنْ كَانَ لَهُ فَضْلُ مِنْ زَادٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا زَادَ لَهُ، قَالَ : فَذَكَرَ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ مَا ذَكَرَ حَتَّى رَأَيْنَا أَنَّهُ لَا حَقَّ لِأَحَدٍ مِنَّا فِي فَضْلٍ
'যার কাছে পিঠে নেওয়ার মতো সম্পদের অতিরিক্ত আছে, সে যেন তা থেকে যার কাছে এ পরিমাণ নেই, তাকে দিয়ে দেয়। আর যার কাছে পাথেয়ের অতিরিক্ত আছে, সে যেন যার পাথেয় নেই, তাকে কিছু দিয়ে দেয়।' অতঃপর তিনি সম্পদের প্রকারের বর্ণনা দিতে লাগলেন। এমনকি আমরা দেখলাম যে, অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে আমাদের কোনো অধিকারই নেই।

যখন মুসলিমদের মাঝে অভাব-অনটন বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তাদের সম্পদশালীদের নিকট থেকে ধন-সম্পদ নিয়ে উত্তমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়, প্রাচুর্যবানদের অতিরিক্ত সম্পদ অভাবীদের মাঝে বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়।

আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
إِنَّ الْأَشْعَرِيِّينَ إِذَا أَرْمَلُوا فِي الْغَزْوِ أَوْ قَلَّ طَعَامُ عِيَالِهِمْ بِالْمَدِينَةِ جَمَعُوا مَا كَانَ عِنْدَهُمْ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ، ثُمَّ اقْتَسَمُوهُ بَيْنَهُمْ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ بِالسَّوِيَّةِ، فَهُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ
'আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন কোনো যুদ্ধে থাকে আর তাদের পাথেয় শেষ হওয়ার পথে থাকে অথবা শহরে থাকাবস্থায় তাদের পরিবারের খাবার কমে যায়, তখন তারা সকলের খাবারকে একটি কাপড়ে একত্রিত করে, তারপর তাদের মাঝে একটি পাত্রে তা সমভাবে বণ্টন করা হয়। এরকম আমলকারী আমার অন্তর্ভুক্ত, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।'

ইসলাম মুসলিমদের সমাজে সর্বোচ্চ পূর্ণতায় ও সর্বোচ্চ ধরনে পরস্পরের দায়িত্ববহনকে পাকাপোক্ত করে। যেন তারা প্রত্যেক ঘরে বা মহল্লায় বা গ্রামে সংঘবদ্ধ থাকে। যেন তাদের মাঝে কাউকে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হতে না হয়। কেননা, যখন সকল মানুষ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকে; অথচ তাদের মধ্যকার একজন না খেয়ে থাকে, তবে তারা সিরাতুল মুসতাকিমের ওপর আমলকারী নয়; বরং তারা নিজেদের দায়িত্বে শিথিলতাকারী।

যৌথ দায়ভার গ্রহণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
أَيُّمَا أَهْلُ عَرْصَةٍ أَصْبَحَ فِيهِمْ امْرُؤٌ جَائِعٌ، فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُمْ ذِمَّةُ اللهِ تَعَالَى
'যে আঙিনার অধিবাসীরা এরকম যে, তাদের মধ্যকার একজন ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে; তাদের ওপর থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়।'

এ মূলনীতির আমল জোরদার করার মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে যারা ধনী আছে, তাদের সম্পদ প্রয়োজনের সময় মুসলিমদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়, ফলে সম্পদশালীদের মাঝ থেকে অহংকার ও স্বার্থপরতা বিদায় নেয়। এ মূলনীতির মাধ্যমে স্বার্থপরায়ণতা, কার্পণ্য, নীচুতা বিদূরিত হয়ে যায়। ফলে মুসলিমদের ওপর যখন অভাব-অনটনের সময় আসে, তখন তারা সমান সমান থাকে। কেউ সুখে থাকে, আর কেউ দুঃখে থাকে; এমনটা হয় না।

এ মূলনীতির মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায় যে, মুসলিমরা হবে একটি দেহের ন্যায়। এ ব্যাপারে উমর ইবনে খাত্তাব বলেন:
لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْت لَأَخَذْت فُضُولَ أَمْوَالِ الْأَغْنِيَاءِ فَقَسَّمْتُهَا عَلَى فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ
'গতবার যেরকম হলো, যদি এমন পরিস্থিতি আবার আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ নিয়ে গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।'

এসব দলিল থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার বিধান দিয়েছে। এ বিধানের ফলে সামাজিক দায়-দায়িত্ব বহন আরও দৃঢ় হয়। এ বিধানের ফলে সমাজে এক অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ বয়ে যায়। মুসলমানগণ পরস্পরের দায়িত্ব বহন করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়।

ইসলামের শিক্ষা হলো, স্বাবলম্বী মুসলিমরা দরিদ্র মুসলিমদের হাত ধরবে, দরিদ্রকে সাহায্য করা নিজেদের কর্তব্য মনে করবে। ফলে সকলের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপিত হবে, তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব মজবুত হবে, তাদের মাঝে প্রতিফলিত হবে রাসুলুল্লাহ-এর এ বাণী।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
الْمُسْلِمُونَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ، وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি দেহের চোখ ব্যথা করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

টিকাঃ
৬৪৪. সুনানুত তিরমিজি : ২/৪১, হা. নং ৬৫৯ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৬৪৫. সুরা আল-জারিয়াত : ১৯
৬৪৬. সহিহু মুসলিম: ৪/২০৭৪, হা. নং ২৬৯৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৪৭. সহিহুল বুখারি : ৩/১৩৮, হা. নং ২৪৮৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৮. মুসনাদু আহমাদ: ৮/৪৮১, হা. নং ৪৮৮০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)- হাদিসটি হাসান।
৬৪৯. আল-মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)- হাদিসটি সহিহ।
৬৫০. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

জাকাত দ্বীনের একটি মৌলভিত্তি। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে শুধু যে জাকাত আদায় করলেই সম্পদে অন্যের অধিকার শেষ হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। কেননা, মানুষকে যখন দারিদ্র্য গ্রাস করে বা কেউ যখন দারিদ্র্যে ক্লিষ্ট হয় বা ক্ষুধায় অনাহারে থাকে, তখন সে মানুষকে দান করা কর্তব্য হয়ে যায়। তাই শুধু জাকাত আদায় করে সম্পদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব সম্পূর্ণ আদায় হয়ে গেছে, এমনটি ধারণা করা উচিত নয়। আশপাশের দরিদ্র, ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের কষ্ট-ক্লেশ দূর করাও সম্পদশালীর দায়িত্ব।

ফরজ জাকাত আদায় করা সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি স্বল্প পরিমাণ মাত্র। একজন মুসলিমকে এর চেয়ে ঢের বেশি আল্লাহর রাস্তায় দান করতে হবে। ফাতিমা বিনতে কাইস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাকাত সম্পর্কে আমি রাসুলুল্লাহ-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমায় বলেন :
إِنَّ فِي الْمَالِ لَحَقًّا سِوى الزَّكَاةِ، ثُمَّ تَلَا : {لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ}
'নিশ্চয় জাকাত ছাড়াও সম্পদে আরও হক রয়েছে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে।”'

একজন মুসলিমের নিকট তার প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ থাকতে পারে। তখন তাকে অভাবীদের জন্য ব্যয় করতে হবে। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মুসলিম নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর তার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গরিব-দুঃখীদের দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। এ সম্পদ সে গরিব-দুঃখীদের অনুগ্রহ করে দান করছে, বিষয়টি এমন নয়; বরং এটা তার সম্পদে অভাবীদের অধিকার।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴾
'আর তাদের ধন-সম্পদে যাঞ্চাকারী ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে।'

যখন অভাব, দুর্ভোগ, বিপদ ও দুর্যোগ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তখন মুসলিমদের মাঝে তাদের সম্পদ বণ্টন করে দিতে হবে। কারও সম্পদ থেকে যা কিছু অতিরিক্ত থেকে যাবে, তাতে দারিদ্র্য, অভাব, বিপদ ও দুর্ভোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার থাকবে।

আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا ظَهْرَ لَهُ، وَمَنْ كَانَ لَهُ فَضْلُ مِنْ زَادٍ، فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لَا زَادَ لَهُ، قَالَ : فَذَكَرَ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ مَا ذَكَرَ حَتَّى رَأَيْنَا أَنَّهُ لَا حَقَّ لِأَحَدٍ مِنَّا فِي فَضْلٍ
'যার কাছে পিঠে নেওয়ার মতো সম্পদের অতিরিক্ত আছে, সে যেন তা থেকে যার কাছে এ পরিমাণ নেই, তাকে দিয়ে দেয়। আর যার কাছে পাথেয়ের অতিরিক্ত আছে, সে যেন যার পাথেয় নেই, তাকে কিছু দিয়ে দেয়।' অতঃপর তিনি সম্পদের প্রকারের বর্ণনা দিতে লাগলেন। এমনকি আমরা দেখলাম যে, অতিরিক্ত সম্পদের মাঝে আমাদের কোনো অধিকারই নেই।

যখন মুসলিমদের মাঝে অভাব-অনটন বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তাদের সম্পদশালীদের নিকট থেকে ধন-সম্পদ নিয়ে উত্তমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়, প্রাচুর্যবানদের অতিরিক্ত সম্পদ অভাবীদের মাঝে বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়।

আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন:
إِنَّ الْأَشْعَرِيِّينَ إِذَا أَرْمَلُوا فِي الْغَزْوِ أَوْ قَلَّ طَعَامُ عِيَالِهِمْ بِالْمَدِينَةِ جَمَعُوا مَا كَانَ عِنْدَهُمْ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ، ثُمَّ اقْتَسَمُوهُ بَيْنَهُمْ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ بِالسَّوِيَّةِ، فَهُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ
'আশআরি গোত্রের লোকেরা যখন কোনো যুদ্ধে থাকে আর তাদের পাথেয় শেষ হওয়ার পথে থাকে অথবা শহরে থাকাবস্থায় তাদের পরিবারের খাবার কমে যায়, তখন তারা সকলের খাবারকে একটি কাপড়ে একত্রিত করে, তারপর তাদের মাঝে একটি পাত্রে তা সমভাবে বণ্টন করা হয়। এরকম আমলকারী আমার অন্তর্ভুক্ত, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।'

ইসলাম মুসলিমদের সমাজে সর্বোচ্চ পূর্ণতায় ও সর্বোচ্চ ধরনে পরস্পরের দায়িত্ববহনকে পাকাপোক্ত করে। যেন তারা প্রত্যেক ঘরে বা মহল্লায় বা গ্রামে সংঘবদ্ধ থাকে। যেন তাদের মাঝে কাউকে ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হতে না হয়। কেননা, যখন সকল মানুষ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকে; অথচ তাদের মধ্যকার একজন না খেয়ে থাকে, তবে তারা সিরাতুল মুসতাকিমের ওপর আমলকারী নয়; বরং তারা নিজেদের দায়িত্বে শিথিলতাকারী।

যৌথ দায়ভার গ্রহণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
أَيُّمَا أَهْلُ عَرْصَةٍ أَصْبَحَ فِيهِمْ امْرُؤٌ جَائِعٌ، فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُمْ ذِمَّةُ اللهِ تَعَالَى
'যে আঙিনার অধিবাসীরা এরকম যে, তাদের মধ্যকার একজন ক্ষুধার্ত রয়ে গেছে; তাদের ওপর থেকে আল্লাহর জিম্মা উঠে যায়।'

এ মূলনীতির আমল জোরদার করার মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে যারা ধনী আছে, তাদের সম্পদ প্রয়োজনের সময় মুসলিমদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়, ফলে সম্পদশালীদের মাঝ থেকে অহংকার ও স্বার্থপরতা বিদায় নেয়। এ মূলনীতির মাধ্যমে স্বার্থপরায়ণতা, কার্পণ্য, নীচুতা বিদূরিত হয়ে যায়। ফলে মুসলিমদের ওপর যখন অভাব-অনটনের সময় আসে, তখন তারা সমান সমান থাকে। কেউ সুখে থাকে, আর কেউ দুঃখে থাকে; এমনটা হয় না।

এ মূলনীতির মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায় যে, মুসলিমরা হবে একটি দেহের ন্যায়। এ ব্যাপারে উমর ইবনে খাত্তাব বলেন:
لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْت لَأَخَذْت فُضُولَ أَمْوَالِ الْأَغْنِيَاءِ فَقَسَّمْتُهَا عَلَى فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ
'গতবার যেরকম হলো, যদি এমন পরিস্থিতি আবার আসে, তবে আমি ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদ নিয়ে গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেবো।'

এসব দলিল থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম মুসলিমদের জন্য এক চমৎকার বিধান দিয়েছে। এ বিধানের ফলে সামাজিক দায়-দায়িত্ব বহন আরও দৃঢ় হয়। এ বিধানের ফলে সমাজে এক অপূর্ব অনুভূতির শিহরণ বয়ে যায়। মুসলমানগণ পরস্পরের দায়িত্ব বহন করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়।

ইসলামের শিক্ষা হলো, স্বাবলম্বী মুসলিমরা দরিদ্র মুসলিমদের হাত ধরবে, দরিদ্রকে সাহায্য করা নিজেদের কর্তব্য মনে করবে। ফলে সকলের মাঝে হৃদ্যতা স্থাপিত হবে, তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব মজবুত হবে, তাদের মাঝে প্রতিফলিত হবে রাসুলুল্লাহ-এর এ বাণী।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
الْمُسْلِمُونَ كَرَجُلٍ وَاحِدٍ إِنِ اشْتَكَى عَيْنُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ، وَإِنِ اشْتَكَى رَأْسُهُ اشْتَكَى كُلُّهُ
'মুসলিমগণ এক দেহের ন্যায়। যদি দেহের চোখ ব্যথা করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা করে। যদি মাথা ব্যথা অনুভব করে, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'

টিকাঃ
৬৪৪. সুনানুত তিরমিজি : ২/৪১, হা. নং ৬৫৯ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৬৪৫. সুরা আল-জারিয়াত : ১৯
৬৪৬. সহিহু মুসলিম: ৪/২০৭৪, হা. নং ২৬৯৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬৪৭. সহিহুল বুখারি : ৩/১৩৮, হা. নং ২৪৮৬ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৬৪৮. মুসনাদু আহমাদ: ৮/৪৮১, হা. নং ৪৮৮০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)- হাদিসটি হাসান।
৬৪৯. আল-মুহাল্লা, ইবনু হাজাম: ৪/২৮৩ (দারুল ফিকর, বৈরুত)- হাদিসটি সহিহ।
৬৫০. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

ফন্ট সাইজ
15px
17px