📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 দুই. স্ত্রীকে বিছানায় ত্যাগ করা

📄 দুই. স্ত্রীকে বিছানায় ত্যাগ করা


এ পন্থাটি একটি সক্রিয় পন্থা। এ প্রক্রিয়ায় কিছু সময়ের জন্য স্বামী স্ত্রী-সহবাস ত্যাগ করে। স্ত্রীকে সাময়িক ত্যাগ করার কারণে তার মাঝে একাকিত্ব জেগে ওঠে। তার মধ্যে এ চিন্তা সৃষ্টি হয় যে, এতদিন তারা দুজনে একসাথে আনুগত্যের পথে ছিল। কিন্তু এখন তো গুনাহের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। এ চিন্তা ও একাকিত্বের ভয়ে স্ত্রী কটু আচরণে লাগাম লাগাতে সচেষ্ট হয়।

এ পন্থাটি একটি সক্রিয় পন্থা। এ প্রক্রিয়ায় কিছু সময়ের জন্য স্বামী স্ত্রী-সহবাস ত্যাগ করে। স্ত্রীকে সাময়িক ত্যাগ করার কারণে তার মাঝে একাকিত্ব জেগে ওঠে। তার মধ্যে এ চিন্তা সৃষ্টি হয় যে, এতদিন তারা দুজনে একসাথে আনুগত্যের পথে ছিল। কিন্তু এখন তো গুনাহের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। এ চিন্তা ও একাকিত্বের ভয়ে স্ত্রী কটু আচরণে লাগাম লাগাতে সচেষ্ট হয়।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 তিন. হালকা প্রহার করা

📄 তিন. হালকা প্রহার করা


এ প্রক্রিয়াটি এক শ্রেণির মহিলাদের জন্য উপযোগী। এ সকল মহিলা স্বামীর উত্তম উপদেশ, উত্তম কথার পরেও স্বামীর ডাকে সাড়া দেয় না; বরং অহংকারে পূর্ণ থাকে তাদের মন। এদের জন্য এ প্রক্রিয়াটি কাজে দেয়। এ মহিলারা কিছুটা কঠোর প্রকৃতির হয়ে থাকে, তাই তাদের জন্য এটি মোক্ষম ওষুধ হিসাবে কাজ করে। এদের ক্ষেত্রে আশা করা যায়, তাদের এ বক্রতা হালকা প্রহার দ্বারা ঠিক হয়ে যাবে।

যদিও আদব শেখানোর জন্য কখনো কখনো মৃদু প্রহার করার অনুমতি আছে, কিন্তু ইসলাম সত্তাগতভাবে এটা পছন্দ করে না। কেননা, এমন পন্থা অবলম্বন সাধারণত নীচু চরিত্রের লোকদের দ্বারাই হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“মহানুভবরাই একমাত্র স্ত্রীদের সম্মান করে, আর নিকৃষ্ট লোকেরাই একমাত্র তাদের অপদস্থ করে।”

এ হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, স্ত্রী যদি স্বামীর অবাধ্য হয়, তবে স্বামীকে সে ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করতে হবে। এ ধৈর্যধারণের মাধ্যমে সে নিজে আল্লাহর নিকট সাওয়াব তালাশ করে থাকে। এ ধরনের স্বামীরা হন উত্তম চরিত্রের। অন্যদিকে অনেক স্বামীই স্ত্রীর সামান্য কটু আচরণেও ধৈর্যধারণ করতে না পেরে তাড়াহুড়ো করে প্রহার করে বসে, স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করে; ফলে স্ত্রী তাকে ঘৃণা করতে শুরু করে। এ সকল স্বামী হীন চরিত্রের হয়ে থাকে। হীন চরিত্রের লোকেদের এটা বুঝতে কষ্ট হয় যে, স্ত্রীর আচরণ যখন অতিরিক্ত মন্দের দিকে চলে যায়, তখনই কেবল ক্ষেত্রবিশেষ হালকা প্রহারের প্রক্রিয়াটির ওপর আমল করতে হয়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময়টিতে কাউকে প্রহারের উদ্দেশ্যে আঘাত করেননি। আয়িশা রা. বলেন:
“রাসুলুল্লাহ ﷺ কখনো খাদিম বা মহিলাকে প্রহার করেননি। কখনো স্বীয় হাত দ্বারা কোনো প্রাণীকে আঘাত করেননি।”

ইয়াজ বিন আবু জিয়াব থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“তোমরা আল্লাহর দাসীদের (তোমাদের স্ত্রীদের) প্রহার করো না। অতঃপর উমর আসলেন এবং বললেন, মহিলারা তাদের স্বামীর অবাধ্য হচ্ছে। এরপর তিনি মৃদু প্রহারের অনুমতি দিলেন। অতঃপর অনেক মহিলা এসে নবি-এর কাছে তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করল। তখন নবিজি বললেন, মুহাম্মাদের পরিবারের কাছে অনেক মহিলা তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছে। সুতরাং যারা স্ত্রীদের প্রহার করে, তারা তোমাদের মধ্যে ভালো নয়।”

এ তিনটি প্রতিবন্ধকতার ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে কারিমে এসেছে :
“আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যায় ত্যাগ করো এবং প্রহার করো। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ শ্রেষ্ঠ ও মহান।”

টিকাঃ
৬২১. মুসনাদু আহমাদ: ৪৩/৯২, হা. নং ২৫৯২৩ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬২২. সুনানু আবি দাউদ: ২/২৪৫-২৪৬, হা. নং ২১৪৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬২৩. সুরা আন-নিসা: ৩৪

এ প্রক্রিয়াটি এক শ্রেণির মহিলাদের জন্য উপযোগী। এ সকল মহিলা স্বামীর উত্তম উপদেশ, উত্তম কথার পরেও স্বামীর ডাকে সাড়া দেয় না; বরং অহংকারে পূর্ণ থাকে তাদের মন। এদের জন্য এ প্রক্রিয়াটি কাজে দেয়। এ মহিলারা কিছুটা কঠোর প্রকৃতির হয়ে থাকে, তাই তাদের জন্য এটি মোক্ষম ওষুধ হিসাবে কাজ করে। এদের ক্ষেত্রে আশা করা যায়, তাদের এ বক্রতা হালকা প্রহার দ্বারা ঠিক হয়ে যাবে।

যদিও আদব শেখানোর জন্য কখনো কখনো মৃদু প্রহার করার অনুমতি আছে, কিন্তু ইসলাম সত্তাগতভাবে এটা পছন্দ করে না। কেননা, এমন পন্থা অবলম্বন সাধারণত নীচু চরিত্রের লোকদের দ্বারাই হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
مَا أَكْرَمَهُنَّ إِلَّا كَرِيمٌ وَمَا أَهَانَهُنَّ إِلَّا لَئِيمٌ
'মহানুভবরাই একমাত্র স্ত্রীদের সম্মান করে, আর নিকৃষ্ট লোকেরাই একমাত্র তাদের অপদস্থ করে।'

এ হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, স্ত্রী যদি স্বামীর অবাধ্য হয়, তবে স্বামীকে সে ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করতে হবে। এ ধৈর্যধারণের মাধ্যমে সে নিজে আল্লাহর নিকট সাওয়াব তালাশ করে থাকে। এ ধরনের স্বামীরা হন উত্তম চরিত্রের। অন্যদিকে অনেক স্বামীই স্ত্রীর সামান্য কটু আচরণেও ধৈর্যধারণ করতে না পেরে তাড়াহুড়ো করে প্রহার করে বসে, স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করে; ফলে স্ত্রী তাকে ঘৃণা করতে শুরু করে। এ সকল স্বামী হীন চরিত্রের হয়ে থাকে। হীন চরিত্রের লোকেদের এটা বুঝতে কষ্ট হয় যে, স্ত্রীর আচরণ যখন অতিরিক্ত মন্দের দিকে চলে যায়, তখনই কেবল ক্ষেত্রবিশেষ হালকা প্রহারের প্রক্রিয়াটির ওপর আমল করতে হয়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময়টিতে কাউকে প্রহারের উদ্দেশ্যে আঘাত করেননি। আয়িশা রা. বলেন :
مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ خَادِمًا، وَلَا امْرَأَةً قَطُّ وَلَا ضَرَبَ بِيَدِهِ شَيْئًا قَطُّ
'রাসুলুল্লাহ ﷺ কখনো খাদিম বা মহিলাকে প্রহার করেননি। কখনো স্বীয় হাত দ্বারা কোনো প্রাণীকে আঘাত করেননি।'

ইয়াজ বিন আবু জিয়াব থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
لَا تَضْرِبُوا إِمَاءَ اللَّهِ. فَجَاءَ عُمَرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: ذَئِرْنَ النِّسَاءُ عَلَى أَزْوَاجِهِنَّ، فَرَخَّصَ فِي ضَرْبِهِنَّ، فَأَطَافَ بِآلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ نِسَاءٌ كَثِيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَقَدْ طَافَ بِآلِ مُحَمَّدٍ نِسَاءٌ كَثِيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ لَيْسَ أُولَئِكَ بِخِيَارِكُمْ
'তোমরা আল্লাহর দাসীদের (তোমাদের স্ত্রীদের) প্রহার করো না। অতঃপর উমর আসলেন এবং বললেন, মহিলারা তাদের স্বামীর অবাধ্য হচ্ছে। এরপর তিনি মৃদু প্রহারের অনুমতি দিলেন। অতঃপর অনেক মহিলা এসে নবি-এর কাছে তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করল। তখন নবিজি বললেন, মুহাম্মাদের পরিবারের কাছে অনেক মহিলা তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছে। সুতরাং যারা স্ত্রীদের প্রহার করে, তারা তোমাদের মধ্যে ভালো নয়।'

এ তিনটি প্রতিবন্ধকতার ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে কারিমে এসেছে :
وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا
'আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যায় ত্যাগ করো এবং প্রহার করো। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ শ্রেষ্ঠ ও মহান।'

টিকাঃ
৬২১. মুসনাদু আহমাদ: ৪৩/৯২, হা. নং ২৫৯২৩ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬২২. সুনানু আবি দাউদ: ২/২৪৫-২৪৬, হা. নং ২১৪৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬২৩. সুরা আন-নিসা: ৩৪

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 চার. বিচার করা

📄 চার. বিচার করা


তালাক ঠেকানোর চতুর্থ প্রক্রিয়াটি হলো বিচার-মীমাংসার চেষ্টা করা। এ প্রক্রিয়াটির উৎপত্তি হচ্ছে আল্লাহর এ বাণী থেকে :
“যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মতো পরিস্থিতিরই আশঙ্কা করো, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন ও স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ে মীমাংসা চাইলে আল্লাহ তাদের মিলিয়ে দেবেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সবকিছু অবহিত।”

আয়াতের মর্মার্থ হলো, যদি কখনো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয় ও তাদের মাঝে বিরোধিতা দেখা দেয়, তখন বিচারক স্বামীর পরিবার থেকে একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে বিচারক হিসাবে নিযুক্ত করবে। তারা দম্পতির জন্য কল্যাণকর বিষয় বের করে তাদের মধ্যকার ঝগড়া-বিবাদ মিটিয়ে দেবে। তারা যদি পৃথক হওয়াকে উত্তম মনে করে, তবে তাই করবে। আর যদি উভয়ের মাঝে মিলিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়, তবে তাই করতে হবে। তবে আয়াতের মাঝে স্বামী-স্ত্রীকে মিলিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এ বলে যে, “তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ তাদের মিলিয়ে দেবেন।”

টিকাঃ
৬২৪. সুরা আন-নিসা : ৩৫
৬২৫. তাফসিরু ইবনি কাসির : ২/২৫৯ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)

তালাক ঠেকানোর চতুর্থ প্রক্রিয়াটি হলো বিচার-মীমাংসার চেষ্টা করা। এ প্রক্রিয়াটির উৎপত্তি হচ্ছে আল্লাহর এ বাণী থেকে :
وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا إِن يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا
'যদি তাদের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হওয়ার মতো পরিস্থিতিরই আশঙ্কা করো, তবে স্বামীর পরিবার থেকে একজন ও স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ে মীমাংসা চাইলে আল্লাহ তাদের মিলিয়ে দেবেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সবকিছু অবহিত।'

আয়াতের মর্মার্থ হলো, যদি কখনো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয় ও তাদের মাঝে বিরোধিতা দেখা দেয়, তখন বিচারক স্বামীর পরিবার থেকে একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে বিচারক হিসাবে নিযুক্ত করবে। তারা দম্পতির জন্য কল্যাণকর বিষয় বের করে তাদের মধ্যকার ঝগড়া-বিবাদ মিটিয়ে দেবে। তারা যদি পৃথক হওয়াকে উত্তম মনে করে, তবে তাই করবে। আর যদি উভয়ের মাঝে মিলিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়, তবে তাই করতে হবে। তবে আয়াতের মাঝে স্বামী-স্ত্রীকে মিলিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এ বলে যে, إِن يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا 'তারা উভয়ের মীমাংসা চাইলে আল্লাহ তাদের মিলিয়ে দেবেন।'

টিকাঃ
৬২৪. সুরা আন-নিসা : ৩৫
৬২৫. তাফসিরু ইবনি কাসির : ২/২৫৯ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)

ফন্ট সাইজ
15px
17px