📄 সদাচরণের সর্বোচ্চ হকদার হলেন মা
পিতা সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে মা সন্তান জন্মদান ও লালন করেন। সন্তান জন্মদান, সন্তানের যত্ন নেওয়ার কাজ মা অনেকটা একাই করেন। এদিক থেকে বলতে গেলে মা-ই সন্তানের জন্য বেশি কষ্টভোগ করেন। বাহজ বিন হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি স্বীয় দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন :
'আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, কার প্রতি আমি অধিক সদাচরণ করব? তিনি বললেন, তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার বাবা। তারপর পর্যায়ক্রমে তোমার নিকটাত্মীয়রা।'
টিকাঃ
৬১৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং ৫১৩৯ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
পিতা সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে মা সন্তান জন্মদান ও লালন করেন। সন্তান জন্মদান, সন্তানের যত্ন নেওয়ার কাজ মা অনেকটা একাই করেন। এদিক থেকে বলতে গেলে মা-ই সন্তানের জন্য বেশি কষ্টভোগ করেন।
বাহজ বিন হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি স্বীয় দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন :
قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَبَرُّ ؟ قَالَ : أُمَّكَ، ثُمَّ أُمَّكَ، ثُمَّ أُمَّكَ، ثُمَّ أَبَاكَ، ثُمَّ الْأَقْرَبَ فَالْأَقْرَبَ
'আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, কার প্রতি আমি অধিক সদাচরণ করব? তিনি বললেন, তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার বাবা। তারপর পর্যায়ক্রমে তোমার নিকটাত্মীয়রা।'
টিকাঃ
৬১৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং ৫১৩৯ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
📄 মাতা-পিতার প্রতি অভিশাপ দেওয়া
মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণের একটি রূপ হলো মাতা-পিতার অনুপস্থিতিতে মানুষের সাথে আদবের সাথে আচরণ করা, অন্য মানুষের প্রতি কটু আচরণ না করা। যেন সন্তানের অসদাচরণের ফলে মাতা-পিতার সম্মানে আঁচড় না লাগে। আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহগুলোর অন্যতম হচ্ছে নিজের পিতা- মাতাকে অভিশাপ দেওয়া। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, কোনো ব্যক্তি নিজের পিতাকে কীভাবে অভিশাপ দিতে পারে? তিনি বললেন, অন্য কোনো ব্যক্তির পিতাকে অভিশাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সে অন্য ব্যক্তির পিতাকে অভিশাপ দেবে, সেও উল্টো তার পিতাকে অভিশাপ দেবে। সে অন্য ব্যক্তির মাকে অভিশাপ দেবে, সে ব্যক্তিও তার মাকে অভিশাপ দেবে।'
অন্যের মাতা-পিতাকে গালি দেওয়া নিজের মাতা-পিতাকে গালি দেওয়ার মতোই। তাই এমন কর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, এতে অন্যের অসম্মান করতে গিয়ে নিজেই নিজের পিতা-মাতার অসম্মান করল।
টিকাঃ
৬১৭. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং: ৫১৪১ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণের একটি রূপ হলো মাতা-পিতার অনুপস্থিতিতে মানুষের সাথে আদবের সাথে আচরণ করা, অন্য মানুষের প্রতি কটু আচরণ না করা। যেন সন্তানের অসদাচরণের ফলে মাতা-পিতার সম্মানে আঁচড় না লাগে।
আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ : أَنْ يَلْعَنَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ، قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ يَلْعَنُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ؟ قَالَ : يَلْعَنُ أَبَا الرَّجُلِ، فَيَلْعَنُ أَبَاهُ، وَيَلْعَنُ أُمَّهُ، فَيَلْعَنُ أُمَّهُ
'সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহগুলোর অন্যতম হচ্ছে নিজের পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেওয়া। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, কোনো ব্যক্তি নিজের পিতাকে কীভাবে অভিশাপ দিতে পারে? তিনি বললেন, অন্য কোনো ব্যক্তির পিতাকে অভিশাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সে অন্য ব্যক্তির পিতাকে অভিশাপ দেবে, সেও উল্টো তার পিতাকে অভিশাপ দেবে। সে অন্য ব্যক্তির মাকে অভিশাপ দেবে, সে ব্যক্তিও তার মাকে অভিশাপ দেবে।'
অন্যের মাতা-পিতাকে গালি দেওয়া নিজের মাতা-পিতাকে গালি দেওয়ার মতোই। তাই এমন কর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, এতে অন্যের অসম্মান করতে গিয়ে নিজেই নিজের পিতা-মাতার অসম্মান করল।
টিকাঃ
৬১৭. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং ৫১৪১ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
📄 মৃত্যুর পর মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণ করা
মাতা-পিতা হলেন পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানীয়। আম্বিয়ায়ে কিরামের পর তারাই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত। মাতা-পিতার মৃত্যুর পরও তাদের প্রতি সদাচরণ করতে হবে। তাদের মৃত্যুর পরে তাদের প্রতি সদাচরণের কিছু পদ্ধতি হলো : ১. তাদের প্রশংসা করা। ২. তাদের জন্য দুআ করা। ৩. তাদের বন্ধু-বান্ধবকে সম্মান করা। ৪. তাদের জন্য দান-সদকা করা।
মালিক বিন রবিআ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে বনু সালামা গোত্রের এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, মাতা- পিতার মৃত্যুর পর তাদের প্রতি সদাচরণের কোনো পন্থা আছে কি? উত্তরে রাসুলুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ। তুমি তাদের জন্য দুআ করবে, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাদের মৃত্যুর পরে তাদের কৃত প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করবে, যে আত্মীয়তা তাদের মাধ্যমে সুরক্ষিত হতো— সেসব আত্মীয়তা রক্ষা করবে, তাদের বন্ধুদের সম্মান করবে।'
ইসলাম মাতা-পিতার সর্বোচ্চ সম্মান ও সদাচরণ নিশ্চিত করেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এমন কোনো মতাদর্শ আসবে না, যার মাঝে মাতা-পিতাকে সম্মান ও সদাচরণের এমন নিশ্চয়তা থাকতে পারে। কারণ, ইসলাম স্বয়ং সৃষ্টির্কতা কর্তৃক নির্ধারিত, আর অন্য সকল মতাদর্শই মানব ও শয়তানের মস্তিষ্ক প্রসূত।
টিকাঃ
৬১৮. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং: ৫১৪২ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
মাতা-পিতা হলেন পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানীয়। আম্বিয়ায়ে কিরামের পর তারাই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত। মাতা-পিতার মৃত্যুর পরও তাদের প্রতি সদাচরণ করতে হবে। তাদের মৃত্যুর পরে তাদের প্রতি সদাচরণের কিছু পদ্ধতি হলো : ১. তাদের প্রশংসা করা। ২. তাদের জন্য দুআ করা। ৩. তাদের বন্ধু-বান্ধবকে সম্মান করা। ৪. তাদের জন্য দান-সদকা করা।
মালিক বিন রবিআ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلَمَةَ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلْ بَقِيَ مِنْ بِرِّ أَبَوَيَّ شَيْءٌ أَبَرُّهُمَا بِهِ بَعْدَ مَوْتِهِمَا؟ قَالَ : نَعَمْ، الصَّلَاةُ عَلَيْهِمَا، وَالْاسْتِغْفَارُ لَهُمَا، وَإِنْفَاذُ عَهْدِهِمَا مِنْ بَعْدِهِمَا، وَصِلَةُ الرَّحِمِ الَّتِي لَا تُوصَلُ إِلَّا بِهِمَا، وَإِكْرَامُ صَدِيقِهِمَا
'আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে বনু সালামা গোত্রের এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, মাতা-পিতার মৃত্যুর পর তাদের প্রতি সদাচরণের কোনো পন্থা আছে কি? উত্তরে রাসুলুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ। তুমি তাদের জন্য দুআ করবে, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাদের মৃত্যুর পরে তাদের কৃত প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করবে, যে আত্মীয়তা তাদের মাধ্যমে সুরক্ষিত হতো—সেসব আত্মীয়তা রক্ষা করবে, তাদের বন্ধুদের সম্মান করবে।'
ইসলাম মাতা-পিতার সর্বোচ্চ সম্মান ও সদাচরণ নিশ্চিত করেছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এমন কোনো মতাদর্শ আসবে না, যার মাঝে মাতা-পিতাকে সম্মান ও সদাচরণের এমন নিশ্চয়তা থাকতে পারে। কারণ, ইসলাম স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত, আর অন্য সকল মতাদর্শই মানব ও শয়তানের মস্তিষ্কপ্রসূত।
টিকাঃ
৬১৮. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং: ৫১৪২ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।