📄 সদাচরণ করা
কুরআনে কারিমে মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণের কথা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। অথচ এ সংক্ষিপ্ত বর্ণনাই তাদের সম্মান করার প্রতিটি উপলক্ষ্যকে শামিল করে নিয়েছে। সে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা হচ্ছে, الْاِحْسَانُ وَ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ اِلَيْهِمَا তথা মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণ করা এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা। একইভাবে তাদের প্রতি সদাচরণের মাত্রা নির্ধারণে বলা হচ্ছে যে, তাদের উদ্দেশ্যে 'উহ' শব্দটিও বলা যাবে না। যদি তাদের 'উহ' শব্দের মতো হালকা শব্দও না বলা যায়, তবে বলা বাহুল্য যে, অন্য কোনো অসদাচরণের তো কল্পনাই করা যায় না।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
“তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের 'উহ' শব্দটিও বলো না এবং তাদের ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে শিষ্টাচার বজায় রেখে কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার ডানা প্রসারিত করে দাও এবং বলো, হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালনপালন করেছেন।”
টিকাঃ
৬১৪. সুরা বনি ইসরাইল: ২৩-২৪
কুরআনে কারিমে মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণের কথা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। অথচ এ সংক্ষিপ্ত বর্ণনাই তাদের সম্মান করার প্রতিটি উপলক্ষ্যকে শামিল করে নিয়েছে। সে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা হচ্ছে, الْاِحْسَانُ وَ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ اِلَيْهِمَا তথা মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণ করা এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা। একইভাবে তাদের প্রতি সদাচরণের মাত্রা নির্ধারণে বলা হচ্ছে যে, তাদের উদ্দেশ্যে 'উহ' শব্দটিও বলা যাবে না। যদি তাদের 'উহ' শব্দের মতো হালকা শব্দও না বলা যায়, তবে বলা বাহুল্য যে, অন্য কোনো অসদাচরণের তো কল্পনাই করা যায় না।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
﴿ وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا - وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ ۖ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا ﴾
'তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের 'উহ' শব্দটিও বলো না এবং তাদের ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে শিষ্টাচার বজায় রেখে কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার ডানা প্রসারিত করে দাও এবং বলো, হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালনপালন করেছেন।'
টিকাঃ
৬১৪. সুরা বনি ইসরাইল: ২৩-২৪
📄 মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া
মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়ার অর্থ হলো, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে তাদের প্রতি সদাচরণে তো ইচ্ছুক নয়-ই, উল্টো মাতা-পিতার আদেশের পরও তাদের অবাধ্য হওয়া। এটি নিকৃষ্ট কবিরা গুনাহগুলোর একটি। মাতা-পিতার অবাধ্যতার ভয়াবহতা সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে।
আনাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'কবিরা গুনাহগুলো হলো—আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া, আত্মহত্যা করা ও মিথ্যা বলা।'
টিকাঃ
৬১৫. সুনানুন নাসায়ি: ৭/৮৮, হা. নং ৪০১০ (মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) - হাদিসটি সহিহ।
মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়ার অর্থ হলো, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে তাদের প্রতি সদাচরণে তো ইচ্ছুক নয়-ই, উল্টো মাতা-পিতার আদেশের পরও তাদের অবাধ্য হওয়া। এটি নিকৃষ্ট কবিরা গুনাহগুলোর একটি। মাতা-পিতার অবাধ্যতার ভয়াবহতা সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে।
আনাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
الْكَبَائِرُ : الشَّرْكُ بِاللَّهِ ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ، وَقَوْلُ الزُّورِ
'কবিরা গুনাহগুলো হলো—আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া, আত্মহত্যা করা ও মিথ্যা বলা।'
টিকাঃ
৬১৫. সুনানুন নাসায়ি: ৭/৮৮, হা. নং ৪০১০ (মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) - হাদিসটি সহিহ।
📄 সদাচরণের সর্বোচ্চ হকদার হলেন মা
পিতা সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে মা সন্তান জন্মদান ও লালন করেন। সন্তান জন্মদান, সন্তানের যত্ন নেওয়ার কাজ মা অনেকটা একাই করেন। এদিক থেকে বলতে গেলে মা-ই সন্তানের জন্য বেশি কষ্টভোগ করেন। বাহজ বিন হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি স্বীয় দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন :
'আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, কার প্রতি আমি অধিক সদাচরণ করব? তিনি বললেন, তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার বাবা। তারপর পর্যায়ক্রমে তোমার নিকটাত্মীয়রা।'
টিকাঃ
৬১৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং ৫১৩৯ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
পিতা সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে মা সন্তান জন্মদান ও লালন করেন। সন্তান জন্মদান, সন্তানের যত্ন নেওয়ার কাজ মা অনেকটা একাই করেন। এদিক থেকে বলতে গেলে মা-ই সন্তানের জন্য বেশি কষ্টভোগ করেন।
বাহজ বিন হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি স্বীয় দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন :
قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَبَرُّ ؟ قَالَ : أُمَّكَ، ثُمَّ أُمَّكَ، ثُمَّ أُمَّكَ، ثُمَّ أَبَاكَ، ثُمَّ الْأَقْرَبَ فَالْأَقْرَبَ
'আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, কার প্রতি আমি অধিক সদাচরণ করব? তিনি বললেন, তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার বাবা। তারপর পর্যায়ক্রমে তোমার নিকটাত্মীয়রা।'
টিকাঃ
৬১৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং ৫১৩৯ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
📄 মাতা-পিতার প্রতি অভিশাপ দেওয়া
মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণের একটি রূপ হলো মাতা-পিতার অনুপস্থিতিতে মানুষের সাথে আদবের সাথে আচরণ করা, অন্য মানুষের প্রতি কটু আচরণ না করা। যেন সন্তানের অসদাচরণের ফলে মাতা-পিতার সম্মানে আঁচড় না লাগে। আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহগুলোর অন্যতম হচ্ছে নিজের পিতা- মাতাকে অভিশাপ দেওয়া। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, কোনো ব্যক্তি নিজের পিতাকে কীভাবে অভিশাপ দিতে পারে? তিনি বললেন, অন্য কোনো ব্যক্তির পিতাকে অভিশাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সে অন্য ব্যক্তির পিতাকে অভিশাপ দেবে, সেও উল্টো তার পিতাকে অভিশাপ দেবে। সে অন্য ব্যক্তির মাকে অভিশাপ দেবে, সে ব্যক্তিও তার মাকে অভিশাপ দেবে।'
অন্যের মাতা-পিতাকে গালি দেওয়া নিজের মাতা-পিতাকে গালি দেওয়ার মতোই। তাই এমন কর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, এতে অন্যের অসম্মান করতে গিয়ে নিজেই নিজের পিতা-মাতার অসম্মান করল।
টিকাঃ
৬১৭. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং: ৫১৪১ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণের একটি রূপ হলো মাতা-পিতার অনুপস্থিতিতে মানুষের সাথে আদবের সাথে আচরণ করা, অন্য মানুষের প্রতি কটু আচরণ না করা। যেন সন্তানের অসদাচরণের ফলে মাতা-পিতার সম্মানে আঁচড় না লাগে।
আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ : أَنْ يَلْعَنَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ، قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ يَلْعَنُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ؟ قَالَ : يَلْعَنُ أَبَا الرَّجُلِ، فَيَلْعَنُ أَبَاهُ، وَيَلْعَنُ أُمَّهُ، فَيَلْعَنُ أُمَّهُ
'সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহগুলোর অন্যতম হচ্ছে নিজের পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেওয়া। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, কোনো ব্যক্তি নিজের পিতাকে কীভাবে অভিশাপ দিতে পারে? তিনি বললেন, অন্য কোনো ব্যক্তির পিতাকে অভিশাপ দেওয়ার মাধ্যমে। সে অন্য ব্যক্তির পিতাকে অভিশাপ দেবে, সেও উল্টো তার পিতাকে অভিশাপ দেবে। সে অন্য ব্যক্তির মাকে অভিশাপ দেবে, সে ব্যক্তিও তার মাকে অভিশাপ দেবে।'
অন্যের মাতা-পিতাকে গালি দেওয়া নিজের মাতা-পিতাকে গালি দেওয়ার মতোই। তাই এমন কর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, এতে অন্যের অসম্মান করতে গিয়ে নিজেই নিজের পিতা-মাতার অসম্মান করল।
টিকাঃ
৬১৭. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং ৫১৪১ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।