📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ইসলামে মাতা-পিতার মর্যাদা ও সম্মান

📄 ইসলামে মাতা-পিতার মর্যাদা ও সম্মান


মাতা-পিতার প্রতি সুন্দর আচরণ করা একজন মুসলিমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইসলামি শরিয়তে পিতা-মাতার প্রতি সম্মান ও তাদের প্রতি সদাচরণ করার যে নির্দেশ ও গুরুত্ব রয়েছে, কথিত উন্নত বিশ্বের কোনো মতাদর্শে তা নেই। ইসলামি সমাজে মাতা-পিতা যে সম্মান ও সদাচরণ লাভ করেন, অন্য সমাজে তা চিন্তাও করা যায় না।

মাতা-পিতার প্রতি এমন সম্মান ও সদাচরণ করার নির্দেশের প্রথম কারণ হলো, মাতা-পিতা এ পৃথিবীতে সন্তান আগমনের মাধ্যম। জন্মের পর থেকে শুরু করে তারা সন্তানের লালনপালন, দেখাশুনা, পরিচর্যা, ভরণপোষণে যে ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করেন, তা তুলনাহীন। পিতা-মাতার অসীম ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমেই একজন সন্তান ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। এ সকল কারণেই নিজ সন্তানকে হত্যা করলেও পিতা-মাতার ওপর কিসাস ধার্য হয় না।

উমর ইবনে খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি :
'সন্তানকে হত্যার অপরাধে পিতাকে হত্যা করা হবে না।'

এ ক্ষেত্রে পিতার মর্যাদার দিকে তাকিয়ে কিসাসস্বরূপ তার হত্যার বিধান না থাকলেও বিচারক তাকে অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারবে। এ মাসআলায় পিতা ও মাতার একই বিধান। এই যে কিসাস থেকে তারা বেঁচে গেল, এটি তাদের পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের মর্যাদার কারণেই। নিঃসন্দেহে এ বিধান মাতা-পিতার সম্মানকে অতি উচ্চে প্রতিস্থাপন করে। ইসলাম মাতা-পিতাকে এত উচ্চ মর্যাদা দান করেছে, যার কিয়দাংশও অন্য কোনো ধর্ম দিতে পারেনি।

টিকাঃ
৬১৩. সুনানুত তিরমিজি: ৩/৭০, হা. নং ১৪০০ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।

মাতা-পিতার প্রতি সুন্দর আচরণ করা একজন মুসলিমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইসলামি শরিয়তে পিতা-মাতার প্রতি সম্মান ও তাদের প্রতি সদাচরণ করার যে নির্দেশ ও গুরুত্ব রয়েছে, কথিত উন্নত বিশ্বের কোনো মতাদর্শে তা নেই। ইসলামি সমাজে মাতা-পিতা যে সম্মান ও সদাচরণ লাভ করেন, অন্য সমাজে তা চিন্তাও করা যায় না।

মাতা-পিতার প্রতি এমন সম্মান ও সদাচরণ করার নির্দেশের প্রথম কারণ হলো, মাতা-পিতা এ পৃথিবীতে সন্তান আগমনের মাধ্যম। জন্মের পর থেকে শুরু করে তারা সন্তানের লালনপালন, দেখাশুনা, পরিচর্যা, ভরণপোষণে যে ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করেন, তা তুলনাহীন। পিতা-মাতার অসীম ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমেই একজন সন্তান ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। এ সকল কারণেই নিজ সন্তানকে হত্যা করলেও পিতা-মাতার ওপর কিসাস ধার্য হয় না।

উমর ইবনে খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি :
لَا يُقَادُ الْوَالِدُ بِالْوَلَدِ
'সন্তানকে হত্যার অপরাধে পিতাকে হত্যা করা হবে না।'

এ ক্ষেত্রে পিতার মর্যাদার দিকে তাকিয়ে কিসাসস্বরূপ তার হত্যার বিধান না থাকলেও বিচারক তাকে অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারবে। এ মাসআলায় পিতা ও মাতার একই বিধান। এই যে কিসাস থেকে তারা বেঁচে গেল, এটি তাদের পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের মর্যাদার কারণেই। নিঃসন্দেহে এ বিধান মাতা-পিতার সম্মানকে অতি উচ্চে প্রতিস্থাপন করে। ইসলাম মাতা-পিতাকে এত উচ্চ মর্যাদা দান করেছে, যার কিয়দাংশও অন্য কোনো ধর্ম দিতে পারেনি।

টিকাঃ
৬১৩. সুনানুত তিরমিজি: ৩/৭০, হা. নং ১৪০০ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সদাচরণ করা

📄 সদাচরণ করা


কুরআনে কারিমে মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণের কথা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। অথচ এ সংক্ষিপ্ত বর্ণনাই তাদের সম্মান করার প্রতিটি উপলক্ষ্যকে শামিল করে নিয়েছে। সে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা হচ্ছে, الْاِحْسَانُ وَ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ اِلَيْهِمَا তথা মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণ করা এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা। একইভাবে তাদের প্রতি সদাচরণের মাত্রা নির্ধারণে বলা হচ্ছে যে, তাদের উদ্দেশ্যে 'উহ' শব্দটিও বলা যাবে না। যদি তাদের 'উহ' শব্দের মতো হালকা শব্দও না বলা যায়, তবে বলা বাহুল্য যে, অন্য কোনো অসদাচরণের তো কল্পনাই করা যায় না।

আল্লাহ তাআলা বলেন :
“তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের 'উহ' শব্দটিও বলো না এবং তাদের ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে শিষ্টাচার বজায় রেখে কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার ডানা প্রসারিত করে দাও এবং বলো, হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালনপালন করেছেন।”

টিকাঃ
৬১৪. সুরা বনি ইসরাইল: ২৩-২৪

কুরআনে কারিমে মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণের কথা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। অথচ এ সংক্ষিপ্ত বর্ণনাই তাদের সম্মান করার প্রতিটি উপলক্ষ্যকে শামিল করে নিয়েছে। সে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা হচ্ছে, الْاِحْسَانُ وَ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ اِلَيْهِمَا তথা মাতা-পিতার প্রতি সদাচরণ করা এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা। একইভাবে তাদের প্রতি সদাচরণের মাত্রা নির্ধারণে বলা হচ্ছে যে, তাদের উদ্দেশ্যে 'উহ' শব্দটিও বলা যাবে না। যদি তাদের 'উহ' শব্দের মতো হালকা শব্দও না বলা যায়, তবে বলা বাহুল্য যে, অন্য কোনো অসদাচরণের তো কল্পনাই করা যায় না।

আল্লাহ তাআলা বলেন :
﴿ وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا - وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ ۖ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا ﴾
'তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের 'উহ' শব্দটিও বলো না এবং তাদের ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে শিষ্টাচার বজায় রেখে কথা বলো। তাদের সামনে ভালোবাসার ডানা প্রসারিত করে দাও এবং বলো, হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালনপালন করেছেন।'

টিকাঃ
৬১৪. সুরা বনি ইসরাইল: ২৩-২৪

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া

📄 মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া


মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়ার অর্থ হলো, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে তাদের প্রতি সদাচরণে তো ইচ্ছুক নয়-ই, উল্টো মাতা-পিতার আদেশের পরও তাদের অবাধ্য হওয়া। এটি নিকৃষ্ট কবিরা গুনাহগুলোর একটি। মাতা-পিতার অবাধ্যতার ভয়াবহতা সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে।

আনাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'কবিরা গুনাহগুলো হলো—আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া, আত্মহত্যা করা ও মিথ্যা বলা।'

টিকাঃ
৬১৫. সুনানুন নাসায়ি: ৭/৮৮, হা. নং ৪০১০ (মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) - হাদিসটি সহিহ।

মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়ার অর্থ হলো, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে তাদের প্রতি সদাচরণে তো ইচ্ছুক নয়-ই, উল্টো মাতা-পিতার আদেশের পরও তাদের অবাধ্য হওয়া। এটি নিকৃষ্ট কবিরা গুনাহগুলোর একটি। মাতা-পিতার অবাধ্যতার ভয়াবহতা সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে।

আনাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
الْكَبَائِرُ : الشَّرْكُ بِاللَّهِ ، وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ، وَقَتْلُ النَّفْسِ، وَقَوْلُ الزُّورِ
'কবিরা গুনাহগুলো হলো—আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া, আত্মহত্যা করা ও মিথ্যা বলা।'

টিকাঃ
৬১৫. সুনানুন নাসায়ি: ৭/৮৮, হা. নং ৪০১০ (মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) - হাদিসটি সহিহ।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সদাচরণের সর্বোচ্চ হকদার হলেন মা

📄 সদাচরণের সর্বোচ্চ হকদার হলেন মা


পিতা সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে মা সন্তান জন্মদান ও লালন করেন। সন্তান জন্মদান, সন্তানের যত্ন নেওয়ার কাজ মা অনেকটা একাই করেন। এদিক থেকে বলতে গেলে মা-ই সন্তানের জন্য বেশি কষ্টভোগ করেন। বাহজ বিন হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি স্বীয় দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন :
'আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, কার প্রতি আমি অধিক সদাচরণ করব? তিনি বললেন, তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার বাবা। তারপর পর্যায়ক্রমে তোমার নিকটাত্মীয়রা।'

টিকাঃ
৬১৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং ৫১৩৯ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।

পিতা সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে মা সন্তান জন্মদান ও লালন করেন। সন্তান জন্মদান, সন্তানের যত্ন নেওয়ার কাজ মা অনেকটা একাই করেন। এদিক থেকে বলতে গেলে মা-ই সন্তানের জন্য বেশি কষ্টভোগ করেন।

বাহজ বিন হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি স্বীয় দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন :
قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَبَرُّ ؟ قَالَ : أُمَّكَ، ثُمَّ أُمَّكَ، ثُمَّ أُمَّكَ، ثُمَّ أَبَاكَ، ثُمَّ الْأَقْرَبَ فَالْأَقْرَبَ
'আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, কার প্রতি আমি অধিক সদাচরণ করব? তিনি বললেন, তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার মা, অতঃপর তোমার বাবা। তারপর পর্যায়ক্রমে তোমার নিকটাত্মীয়রা।'

টিকাঃ
৬১৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৬, হা. নং ৫১৩৯ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px