📄 মেয়ে সন্তানকে ছেলে সন্তানদের মতো সমান তত্ত্বাবধান করা
সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে মেয়ে সন্তানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া বর্জনীয় ও চরম নিন্দনীয়। কেননা, রাসুলুল্লাহ ﷺ সন্তানদের মাঝে ন্যায়পরায়ণতা, সমতা রক্ষা করতে আদেশ করেছেন। তাদের মাঝে পার্থক্য করতে বা একজনকে অপরজনের ওপর প্রাধান্য দিতে নিষেধ করেছেন।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'যার কোনো মেয়ে সন্তান থাকবে, যাকে সে জীবন্ত প্রোথিত করেনি, অপমানিত করেনি, তার ওপর ছেলে সন্তানকে প্রাধান্য দেয়নি—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।'
টিকাঃ
৬০৫. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৭, হা. নং ৫১৪৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ。
সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে মেয়ে সন্তানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া বর্জনীয় ও চরম নিন্দনীয়। কেননা, রাসুলুল্লাহ সন্তানদের মাঝে ন্যায়পরায়ণতা, সমতা রক্ষা করতে আদেশ করেছেন। তাদের মাঝে পার্থক্য করতে বা একজনকে অপরজনের ওপর প্রাধান্য দিতে নিষেধ করেছেন।
ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'মান কানাত লাহু উনসা ফালাম ইয়াইদহা ওয়ালাম ইউহিনহা ওয়ালাম ইউছির ওয়ালাদাহু আলাইহা (ইয়ানিজ জুকুর) আদখালাহুল্লাহুল জান্নাহ' (যার কোনো মেয়ে সন্তান থাকবে, যাকে সে জীবন্ত প্রোথিত করেনি, অপমানিত করেনি, তার ওপর ছেলে সন্তানকে প্রাধান্য দেয়নি—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।) ৬০৫
টিকাঃ
৬০৫. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৭, হা. নং ৫১৪৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
📄 মেয়ে সন্তানের তত্ত্বাবধান
ইসলাম নারীদের যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে, অন্য কোনো মতাদর্শ, অন্য কোনো ধর্ম তা দিতে অক্ষম। এমনকি তারা অনেকে তো নারীদের মানুষই মনে করে না! কিন্তু ইসলাম নারীদের সম্মান ও মর্যাদার আসনে সমাসীন করে তাদের দিয়েছে এক উন্নত স্থান। সে হিসাবে ইসলাম মেয়ে সন্তানকে সুন্দর ও উত্তমভাবে প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলে। এটি এমন একটি বাস্তবতা, যা কুরআন, হাদিস ও স্বীয় মেয়েদের প্রতি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অনুপম আচরণ ও তত্ত্বাবধান থেকে প্রমাণিত হয়।
ইসলাম নারীদের যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে, অন্য কোনো মতাদর্শ, অন্য কোনো ধর্ম তা দিতে অক্ষম। এমনকি তারা অনেকে তো নারীদের মানুষই মনে করে না! কিন্তু ইসলাম নারীদের সম্মান ও মর্যাদার আসনে সমাসীন করে তাদের দিয়েছে এক উন্নত স্থান। সে হিসাবে ইসলাম মেয়ে সন্তানকে সুন্দর ও উত্তমভাবে প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলে। এটি এমন একটি বাস্তবতা, যা কুরআন, হাদিস ও স্বীয় মেয়েদের প্রতি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অনুপম আচরণ ও তত্ত্বাবধান থেকে প্রমাণিত হয়।
📄 কন্যা সন্তানকে স্বাগত জানানোর জন্য পিতাকে প্রস্তুত করা
অনেকেই কন্যা সন্তানের জন্মের কথা শুনলে মুখ কালো করে ফেলে। তাদের কাছে কন্যা সন্তান অকল্যাণকর মনে হয়। আল্লাহর পানাহ! ইসলাম এমন মনোভাবকে একবারে হীনচরিত্র লোকের মনোভাব বলে আখ্যায়িত করে। ইসলাম পিতাদের প্রস্তুত করে কন্যা সন্তানকে উত্তমভাবে স্বাগত জানানোর জন্য। যেন প্রশস্ত ও প্রশান্ত বুকে একজন পিতা তার কন্যাকে পৃথিবীতে স্বাগত জানায়। কন্যাকে তেমনই আদর দেয়, তেমনই যত্ন করে—যেভাবে তারা ছেলে সন্তানকে করে থাকে। কন্যা সন্তানের আগমনে তাদের মনে যেন এতটুকু গ্লানিবোধ না আসে। কারণ, কন্যা সন্তান মানেই এক অনুপম নিয়ামত, আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় উপহার ও দান। কন্যা সন্তানের আগমনে মলিনমুখো লোকদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন :
“যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে, নাকি তাকে মাটির নীচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।”
টিকাঃ
৬০৬. সুরা আন-নিসা : ৫৮-৫৯
অনেকেই কন্যা সন্তানের জন্মের কথা শুনলে মুখ কালো করে ফেলে। তাদের কাছে কন্যা সন্তান অকল্যাণকর মনে হয়। আল্লাহর পানাহ! ইসলাম এমন মনোভাবকে একবারে হীনচরিত্র লোকের মনোভাব বলে আখ্যায়িত করে। ইসলাম পিতাদের প্রস্তুত করে কন্যা সন্তানকে উত্তমভাবে স্বাগত জানানোর জন্য। যেন প্রশস্ত ও প্রশান্ত বুকে একজন পিতা তার কন্যাকে পৃথিবীতে স্বাগত জানায়। কন্যাকে তেমনই আদর দেয়, তেমনই যত্ন করে—যেভাবে তারা ছেলে সন্তানকে করে থাকে। কন্যা সন্তানের আগমনে তাদের মনে যেন এতটুকু গ্লানিবোধ না আসে। কারণ, কন্যা সন্তান মানেই এক অনুপম নিয়ামত, আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় উপহার ও দান। কন্যা সন্তানের আগমনে মলিনমুখো লোকদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন :
{ وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِالْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ - يَتَوَارَىٰ مِنَ الْقَوْمِ مِن سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ ۚ أَيُمْسِكُهُ عَلَىٰ هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ ۗ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ }
'যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে, নাকি তাকে মাটির নীচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।' ৬০৬
টিকাঃ
৬০৬. সুরা আন-নাহল : ৫৮-৫৯
📄 কন্যা সন্তানের উত্তম প্রতিপালন
ইসলাম পিতা-মাতার ওপর আবশ্যক করেছে যে, কন্যা সন্তানকে উত্তমরূপে প্রতিপালন করতে হবে। তাদের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। তাদেরকে উত্তম চরিত্র, আদব ও উপকারী ইলম শিক্ষা দিতে হবে। যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজের কতর্ব্যগুলো সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারে।
সুন্নাতে নববির অনেক হাদিসেই স্পষ্টভাবে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। সেখানে এ বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, কন্যা সন্তানের উত্তম প্রতিপালন, আদব শেখানো, ইলম শেখানো, তাদের উত্তম তত্ত্বাবধান করা আবশ্যক। কন্যা সন্তানকে আদর করতে হবে, তাদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এর মাধ্যমে পিতা- মাতা জান্নাতের নিয়ামত দ্বারা পুরস্কৃত হবে।
আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'যার তিনটি কন্যা সন্তান আছে, অথবা তিনটি বোন আছে, কিংবা দুটি কন্যা আছে বা দুটি বোন আছে; অতঃপর সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করল, আল্লাহকে ভয় করে তাদের উত্তম প্রতিপালন করল, তাহলে তার জন্য জান্নাত অবধারিত।'
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'যে ব্যক্তি তিন কন্যা বা তিন বোনের প্রতিপালন করল কিংবা দুবোন ও দুকন্যার প্রতিপালন করল, তাদের উত্তম শিষ্টাচার শেখাল, তাদের প্রতি সদাচরণ করল, তাদের বিয়ে দিল—তার জন্য জান্নাত অবধারিত।'
ইসলাম কন্যা সন্তানের ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া, তাদের ওপর ছেলে সন্তানকে প্রাধান্য না দেওয়ার শিক্ষা দেয়। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'যার কোনো মেয়ে সন্তান থাকবে, যাকে সে জীবন্ত প্রোথিত করেনি, অপমানিত করেনি, তার ওপর ছেলে সন্তানকে প্রাধান্য দেয়নি—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।'
ইসলামের শিক্ষা হলো, কন্যাকে আদর-যত্ন করো, তাদের প্রতি অনুরাগী হও। সর্বোপরি তাদের সেভাবে ভালোবাসো, যেভাবে তাদের ভালোবাসা উচিত। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অনুপম এক হাদিস :
'তোমরা কন্যা সন্তানদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকো। কারণ, তারা হৃদয় প্রশান্তকারী, তারা মূল্যবান ও দামি।'
ইসলাম নারীদের এ সুযোগ করে দিয়েছে যে, যখন তারা সাবালিকা হবে, তখন তারা স্বীয় সম্পদে পুরুষদের মতোই হস্তক্ষেপ করতে পারবে। তারা স্বাধীনভাবে বিভিন্ন বিনিময়-চুক্তি সম্পাদন করতে পারবে। উদাহরণত ক্রয়-বিক্রয়, বস্তু ভাড়া দেওয়া, বর্গা দেওয়া, সুপারিশ করা ইত্যাদি। তেমনই তারা নিজেদের ইচ্ছায় বিভিন্ন অনুদানও দিতে পারবে। যেমন : দান করা, অসিয়ত করা, ওয়াকফ করা, ঋণগ্রস্তকে ঋণমুক্ত করা ইত্যাদি।
ইসলাম আগমনের পূর্বে সম্পদের মধ্যে নারীর কোনো অধিকার ছিল না। অনায়াসে মানুষ নারীকে হত্যা করত। তাদের জীবনের কোনো মূল্যই ছিল না। কিন্তু এখন আর তা হবার নয়। ইসলাম নারীর প্রতি অসদাচরণকারীকে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। যে কেউ নারীর ওপর সীমালঙ্ঘন করবে, চাই সে নির্যাতনকারী পুরুষ হোক বা মহিলা, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। তাকে কিসাস দিতেই হবে।
এ ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে :
“আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই।”
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন :
“হে ইমানদারগণ, তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কিসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেওয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালোভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটি তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজকরণ ও বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আজাব।”
এ বিধানটি ব্যাপক। নারী-পুরুষ, স্বাধীন-দাস, ছোট-বড় যে কেউই সীমালঙ্ঘন করবে, সবাই এ নীতির আওতায় শান্তি পাবে। কারও জন্য এখানে শিথিলতা রাখা হয়নি। অথচ ইসলামপূর্ব যুগে নারীদের এমন অধিকার ও মর্যাদার কথা চিন্তাও করা যেত না।
টিকাঃ
৬০৭. সুনানুত তিরমিজি : ৩/৩৮৪, হা. নং ১৯১৬ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৬০৮. মুসনাদু আহমাদ: ১৮/৪১৩, হা. নং ১১৯২৪ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ。
৬০৯. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৭, হা. নং ৫১৪৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ。
৬১০. মুসনাদু আহমাদ: ২৮/৬০২, হা. নং ১৭৩৭২ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান。
৬১১. সুরা আশ-শুরা: ৪০
৬১২. সুরা আল-বাকারা: ১৭৮
ইসলাম পিতা-মাতার ওপর আবশ্যক করেছে যে, কন্যা সন্তানকে উত্তমরূপে প্রতিপালন করতে হবে। তাদের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। তাদেরকে উত্তম চরিত্র, আদব ও উপকারী ইলম শিক্ষা দিতে হবে। যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজের কতর্ব্যগুলো সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে পারে। সুন্নাতে নববির অনেক হাদিসেই স্পষ্টভাবে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। সেখানে এ বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, কন্যা সন্তানের উত্তম প্রতিপালন, আদব শেখানো, ইলম শেখানো, তাদের উত্তম তত্ত্বাবধান করা আবশ্যক। কন্যা সন্তানকে আদর করতে হবে, তাদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এর মাধ্যমে পিতা-মাতা জান্নাতের নিয়ামত দ্বারা পুরস্কৃত হবে।
আবু সাইদ খুদরি (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'মান কানা লাহু ছালাছু বানাতিন, আও ছালাছু আখাওয়াতিন, আবুইবনাতানি, আও উখতানি, ফাআহসানা সুহবাতাহুন্না, ওয়াত্তাক্বাল্লাহা ফিহিন্না ফালাহুল জান্নাহ' (যার তিনটি কন্যা সন্তান আছে, অথবা তিনটি বোন আছে, কিংবা দুটি কন্যা আছে বা দুটি বোন আছে; অতঃপর সে তাদের সাথে উত্তম আচরণ করল, আল্লাহকে ভয় করে তাদের উত্তম প্রতিপালন করল, তাহলে তার জন্য জান্নাত অবধারিত।) ৬০৭
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'মান আলা ছালাছা বানাতিন আও ছালাছা আখাওয়াতিন আও উখতাইন ওয়াবিনতাইন ফাআদ্দাবাহুন্না ওয়াহসানা ইলাইহিন্না ওয়াজাওয়াজাহুন্না, ফালাহুল জান্নাহ' (যে ব্যক্তি তিন কন্যা বা তিন বোনের প্রতিপালন করল কিংবা দুবোন ও দুকন্যার প্রতিপালন করল, তাদের উত্তম শিষ্টাচার শেখাল, তাদের প্রতি সদাচরণ করল, তাদের বিয়ে দিল—তার জন্য জান্নাত অবধারিত।) ৬০৮
ইসলাম কন্যা সন্তানের ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া, তাদের ওপর ছেলে সন্তানকে প্রাধান্য না দেওয়ার শিক্ষা দেয়। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'মান কানাত লাহু উনসা ফালাম ইয়াইদহা ওয়ালাম ইউহিনহা ওয়ালাম ইউছির ওয়ালাদাহু আলাইহা (ইয়ানিজ জুকুর) আদখালাহুল্লাহুল জান্নাহ' (যার কোনো মেয়ে সন্তান থাকবে, যাকে সে জীবন্ত প্রোথিত করেনি, অপমানিত করেনি, তার ওপর ছেলে সন্তানকে প্রাধান্য দেয়নি—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।) ৬০৯
ইসলামের শিক্ষা হলো, কন্যাকে আদর-যত্ন করো, তাদের প্রতি অনুরাগী হও। সর্বোপরি তাদের সেভাবে ভালোবাসো, যেভাবে তাদের ভালোবাসা উচিত। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অনুপম এক হাদিস :
'লা তুহরিহুল বানাত, ফাহিনাল মুনিসাতুল গালিয়াত' (তোমরা কন্যা সন্তানদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকো। কারণ, তারা হৃদয় প্রশান্তকারী, তারা মূল্যবান ও দামি।) ৬১০
ইসলাম নারীদের এ সুযোগ করে দিয়েছে যে, যখন তারা সাবালিকা হবে, তখন তারা স্বীয় সম্পদে পুরুষদের মতোই হস্তক্ষেপ করতে পারবে। তারা স্বাধীনভাবে বিভিন্ন বিনিময়-চুক্তি সম্পাদন করতে পারবে। উদাহরণত ক্রয়-বিক্রয়, বস্তু ভাড়া দেওয়া, বর্গা দেওয়া, সুপারিশ করা ইত্যাদি। তেমনই তারা নিজেদের ইচ্ছায় বিভিন্ন অনুদানও দিতে পারবে। যেমন : দান করা, অসিয়ত করা, ওয়াকফ করা, ঋণগ্রস্তকে ঋণমুক্ত করা ইত্যাদি।
ইসলাম আগমনের পূর্বে সম্পদের মধ্যে নারীর কোনো অধিকার ছিল না। অনায়াসে মানুষ নারীকে হত্যা করত। তাদের জীবনের কোনো মূল্যই ছিল না। কিন্তু এখন আর তা হবার নয়। ইসলাম নারীর প্রতি অসদাচরণকারীকে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। যে কেউ নারীর ওপর সীমালঙ্ঘন করবে, চাই সে নির্যাতনকারী পুরুষ হোক বা মহিলা, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। তাকে কিসাস দিতেই হবে।
এ ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে :
{ وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا }
'আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই।' ৬১১
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন :
{ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحَرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنثَى بِالْأُنثَى ۖ فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ ۗ ذَٰلِكَ تَخْفِيفٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ ۗ فَمَنِ اعْتَدَىٰ بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ }
'হে ইমানদারগণ, তোমাদের প্রতি নিহতদের ব্যাপারে কিসাস গ্রহণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তি স্বাধীন ব্যক্তির বদলায়, দাস দাসের বদলায় এবং নারী নারীর বদলায়। অতঃপর তার ভাইয়ের তরফ থেকে যদি কাউকে কিছুটা মাফ করে দেওয়া হয়, তবে প্রচলিত নিয়মের অনুসরণ করবে এবং ভালোভাবে তাকে তা প্রদান করতে হবে। এটি তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে সহজকরণ ও বিশেষ অনুগ্রহ। এরপরও যে ব্যক্তি বাড়াবাড়ি করে, তার জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আজাব।' ৬১২
টিকাঃ
৬০৭. সুনানুত তিরমিজি : ৩/৩৮৪, হা. নং ১৯১৬ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৬০৮. মুসনাদু আহমাদ: ১৮/৪১৩, হা. নং ১১৯২৪ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৬০৯. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৭, হা. নং ৫১৪৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৬১০. মুসনাদু আহমাদ: ২৮/৬০২, হা. নং ১৭৩৭২ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৬১১. সুরা আশ-শুরা: ৪০
৬১২. সুরা আল-বাকারা: ১৭৮