📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 পক্ষপাতিত্বহীন প্রতিপালন

📄 পক্ষপাতিত্বহীন প্রতিপালন


সন্তানদের মধ্য থেকে কোনো সন্তানের পক্ষপাতিত্ব করা, কাউকে প্রাধান্য দেওয়া, অন্যদের চেয়ে তাকে আলাদা করে দেখা জঘন্য কর্ম। সন্তানদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করার জন্য এটিই যথেষ্ট। এর কারণে সন্তানদের মাঝে বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়, যার ফলে পিতা-মাতার কারণে সন্তানদের মাঝে বিচ্ছিন্নতা ও একে অপরের প্রতি হিংসা সৃষ্টি হয়।

নুমান বিন বাশির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'আমার বাবা আমাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এলেন। বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি নুমানকে আমার এ সব সম্পদ উপহার দিলাম। রাসুলুল্লাহ বললেন, তুমি যেভাবে নুমানকে দিলে এমন করে কি সকল সন্তানকে দিয়েছ? বাবা বললেন, না। রাসুলুল্লাহ বললেন, তাহলে আমি ছাড়া অন্য কাউকে এ কাজের সাক্ষী বানাও। অতঃপর তিনি বলেন, তুমি কি সমানভাবে সকল সন্তানের কাছ থেকে সদাচরণ আশা করো? বাবা বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ বলেন, তবে এরকমটা করো না।'

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
'সন্তানদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো এবং তাদের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ হও।'

টিকাঃ
৬০৩. সহিহু মুসলিম: ৩/১২৪৩, হা. নং ১৬২৩ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬০৪. সহিহু মুসলিম: ৩/১২৪২, হা. নং ১৬২৩ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

সন্তানদের মধ্য থেকে কোনো সন্তানের পক্ষপাতিত্ব করা, কাউকে প্রাধান্য দেওয়া, অন্যদের চেয়ে তাকে আলাদা করে দেখা জঘন্য কর্ম। সন্তানদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করার জন্য এটিই যথেষ্ট। এর কারণে সন্তানদের মাঝে বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়, যার ফলে পিতা-মাতার কারণে সন্তানদের মাঝে বিচ্ছিন্নতা ও একে অপরের প্রতি হিংসা সৃষ্টি হয়।

নুমান বিন বাশির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'আমার বাবা আমাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এলেন। বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি নুমানকে আমার এ সব সম্পদ উপহার দিলাম। রাসুলুল্লাহ বললেন, তুমি যেভাবে নুমানকে দিলে এমন করে কি সকল সন্তানকে দিয়েছ? বাবা বললেন, না। রাসুলুল্লাহ বললেন, তাহলে আমি ছাড়া অন্য কাউকে এ কাজের সাক্ষী বানাও। অতঃপর তিনি বলেন, তুমি কি সমানভাবে সকল সন্তানের কাছ থেকে সদাচরণ আশা করো? বাবা বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ বলেন, তবে এরকমটা করো না।' ৬০৩

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
'ইত্তাক্বুল্লাহ, ওয়াআদিলু ফি আওলাদিকুম' (সন্তানদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো এবং তাদের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ হও।) ৬০৪

টিকাঃ
৬০৩. সহিহু মুসলিম: ৩/১২৪৩, হা. নং ১৬২৩ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৬০৪. সহিহু মুসলিম: ৩/১২৪২, হা. নং ১৬২৩ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 মেয়ে সন্তানকে ছেলে সন্তানদের মতো সমান তত্ত্বাবধান করা

📄 মেয়ে সন্তানকে ছেলে সন্তানদের মতো সমান তত্ত্বাবধান করা


সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে মেয়ে সন্তানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া বর্জনীয় ও চরম নিন্দনীয়। কেননা, রাসুলুল্লাহ ﷺ সন্তানদের মাঝে ন্যায়পরায়ণতা, সমতা রক্ষা করতে আদেশ করেছেন। তাদের মাঝে পার্থক্য করতে বা একজনকে অপরজনের ওপর প্রাধান্য দিতে নিষেধ করেছেন।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'যার কোনো মেয়ে সন্তান থাকবে, যাকে সে জীবন্ত প্রোথিত করেনি, অপমানিত করেনি, তার ওপর ছেলে সন্তানকে প্রাধান্য দেয়নি—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।'

টিকাঃ
৬০৫. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৭, হা. নং ৫১৪৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ。

সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে মেয়ে সন্তানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া বর্জনীয় ও চরম নিন্দনীয়। কেননা, রাসুলুল্লাহ সন্তানদের মাঝে ন্যায়পরায়ণতা, সমতা রক্ষা করতে আদেশ করেছেন। তাদের মাঝে পার্থক্য করতে বা একজনকে অপরজনের ওপর প্রাধান্য দিতে নিষেধ করেছেন।

ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'মান কানাত লাহু উনসা ফালাম ইয়াইদহা ওয়ালাম ইউহিনহা ওয়ালাম ইউছির ওয়ালাদাহু আলাইহা (ইয়ানিজ জুকুর) আদখালাহুল্লাহুল জান্নাহ' (যার কোনো মেয়ে সন্তান থাকবে, যাকে সে জীবন্ত প্রোথিত করেনি, অপমানিত করেনি, তার ওপর ছেলে সন্তানকে প্রাধান্য দেয়নি—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।) ৬০৫

টিকাঃ
৬০৫. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৩৩৭, হা. নং ৫১৪৬ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 মেয়ে সন্তানের তত্ত্বাবধান

📄 মেয়ে সন্তানের তত্ত্বাবধান


ইসলাম নারীদের যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে, অন্য কোনো মতাদর্শ, অন্য কোনো ধর্ম তা দিতে অক্ষম। এমনকি তারা অনেকে তো নারীদের মানুষই মনে করে না! কিন্তু ইসলাম নারীদের সম্মান ও মর্যাদার আসনে সমাসীন করে তাদের দিয়েছে এক উন্নত স্থান। সে হিসাবে ইসলাম মেয়ে সন্তানকে সুন্দর ও উত্তমভাবে প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলে। এটি এমন একটি বাস্তবতা, যা কুরআন, হাদিস ও স্বীয় মেয়েদের প্রতি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অনুপম আচরণ ও তত্ত্বাবধান থেকে প্রমাণিত হয়।

ইসলাম নারীদের যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে, অন্য কোনো মতাদর্শ, অন্য কোনো ধর্ম তা দিতে অক্ষম। এমনকি তারা অনেকে তো নারীদের মানুষই মনে করে না! কিন্তু ইসলাম নারীদের সম্মান ও মর্যাদার আসনে সমাসীন করে তাদের দিয়েছে এক উন্নত স্থান। সে হিসাবে ইসলাম মেয়ে সন্তানকে সুন্দর ও উত্তমভাবে প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলে। এটি এমন একটি বাস্তবতা, যা কুরআন, হাদিস ও স্বীয় মেয়েদের প্রতি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অনুপম আচরণ ও তত্ত্বাবধান থেকে প্রমাণিত হয়।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 কন্যা সন্তানকে স্বাগত জানানোর জন্য পিতাকে প্রস্তুত করা

📄 কন্যা সন্তানকে স্বাগত জানানোর জন্য পিতাকে প্রস্তুত করা


অনেকেই কন্যা সন্তানের জন্মের কথা শুনলে মুখ কালো করে ফেলে। তাদের কাছে কন্যা সন্তান অকল্যাণকর মনে হয়। আল্লাহর পানাহ! ইসলাম এমন মনোভাবকে একবারে হীনচরিত্র লোকের মনোভাব বলে আখ্যায়িত করে। ইসলাম পিতাদের প্রস্তুত করে কন্যা সন্তানকে উত্তমভাবে স্বাগত জানানোর জন্য। যেন প্রশস্ত ও প্রশান্ত বুকে একজন পিতা তার কন্যাকে পৃথিবীতে স্বাগত জানায়। কন্যাকে তেমনই আদর দেয়, তেমনই যত্ন করে—যেভাবে তারা ছেলে সন্তানকে করে থাকে। কন্যা সন্তানের আগমনে তাদের মনে যেন এতটুকু গ্লানিবোধ না আসে। কারণ, কন্যা সন্তান মানেই এক অনুপম নিয়ামত, আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় উপহার ও দান। কন্যা সন্তানের আগমনে মলিনমুখো লোকদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন :
“যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে, নাকি তাকে মাটির নীচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।”

টিকাঃ
৬০৬. সুরা আন-নিসা : ৫৮-৫৯

অনেকেই কন্যা সন্তানের জন্মের কথা শুনলে মুখ কালো করে ফেলে। তাদের কাছে কন্যা সন্তান অকল্যাণকর মনে হয়। আল্লাহর পানাহ! ইসলাম এমন মনোভাবকে একবারে হীনচরিত্র লোকের মনোভাব বলে আখ্যায়িত করে। ইসলাম পিতাদের প্রস্তুত করে কন্যা সন্তানকে উত্তমভাবে স্বাগত জানানোর জন্য। যেন প্রশস্ত ও প্রশান্ত বুকে একজন পিতা তার কন্যাকে পৃথিবীতে স্বাগত জানায়। কন্যাকে তেমনই আদর দেয়, তেমনই যত্ন করে—যেভাবে তারা ছেলে সন্তানকে করে থাকে। কন্যা সন্তানের আগমনে তাদের মনে যেন এতটুকু গ্লানিবোধ না আসে। কারণ, কন্যা সন্তান মানেই এক অনুপম নিয়ামত, আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় উপহার ও দান। কন্যা সন্তানের আগমনে মলিনমুখো লোকদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন :

{ وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُم بِالْأُنثَىٰ ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ - يَتَوَارَىٰ مِنَ الْقَوْمِ مِن سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ ۚ أَيُمْسِكُهُ عَلَىٰ هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ ۗ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ }

'যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে, নাকি তাকে মাটির নীচে পুঁতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।' ৬০৬

টিকাঃ
৬০৬. সুরা আন-নাহল : ৫৮-৫৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px