📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 স্ত্রীর পক্ষ থেকে আসা কটু আচরণে করণীয়

📄 স্ত্রীর পক্ষ থেকে আসা কটু আচরণে করণীয়


ইসলাম স্বামীকে তার স্ত্রীর খোঁচা, কটু আচরণ, স্ত্রীর পক্ষ থেকে আসা বিরক্তি উৎপাদনের কারণগুলোতে ধৈর্যধারণ করার প্রতি উৎসাহিত করে। কারণ, নারীদের নারীত্বটা এমনই। যদি স্বামী তার স্ত্রীকে একেবারেই সোজা করে ফেলতে চায়, তবুও তা কখনো হবার নয়। এমনটি আশা করাও বোকামি। আর এমন আশার পরবর্তী পদক্ষেপে যদি স্ত্রীর ওপর জোর খাটিয়ে তাকে সঠিক করার বিষয়টি এসে যায়, তবে তা হবে সীমালঙ্ঘন।

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণপ্রত্যাশী হও। কারণ, তাদের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড় তো অধিক বক্র। যদি তোমরা নারীদের স্বভাব একেবারেই ঠিক করে ফেলতে চাও, তবে তা ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তাদেরকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দাও, তবে তা সর্বদা বাঁকাই থাকবে। তাই তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণপ্রত্যাশী হও।'

মুমিন স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হতে নিষেধ করা হয়েছে। তার মাঝে কোনো অপছন্দনীয় আচরণ পেলেও অন্য সকল ভালো গুণের কারণে সে অপছন্দনীয় হতে পারে না। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'মুমিন স্বামী যেন মুমিনা স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত না হয়। যদি স্ত্রীর মাঝে কোনো অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে অন্য ভালো গুণের কারণে তার প্রতি আবার সন্তুষ্টি আসবে।'

স্ত্রীর প্রতি সদাচরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে ইসলাম। আয়িশা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে নিজ পরিবারের নিকট সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম।'

সর্বোপরি মুমিন নর-নারী উভয়ে একে অপরের পরিপূরক। যেকোনো একজন না থাকলে জীবন অপূর্ণ থেকে যায়। তাদের উভয়কে মিলেমিশে আল্লাহর নির্ধারিত নীতিতে চলতে হবে। তবেই জীবন হবে সৌন্দর্যে ও সৌকর্যে পরিপূর্ণ। এভাবে মুমিন নর-নারী উভয়ে সিরাতুল মুসতাকিমে অটল থেকে আল্লাহর ক্ষমা ও উত্তম পুরস্কার লাভ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন :
“নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ইমানদার পুরুষ, ইমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ, রোজা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী নারী, আল্লাহর অধিক জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারী—তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।”

টিকাঃ
৫৯৬. সহিহুল বুখারি: ৭/২৬, হা. নং ৫১৮৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৫৯৭. সহিহু মুসলিম: ২/১০৯১, হা. নং ১৪৬৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৫৯৮. সুনানুত তিরমিজি: ৬/১৯২, হা. নং ৩৮৯৫ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান সহিহ।
৫৯৯. সুরা আল-আহজাব : ৩৫

ইসলাম স্বামীকে তার স্ত্রীর খোঁচা, কটু আচরণ, স্ত্রীর পক্ষ থেকে আসা বিরক্তি উৎপাদনের কারণগুলোতে ধৈর্যধারণ করার প্রতি উৎসাহিত করে। কারণ, নারীদের নারীত্বটা এমনই। যদি স্বামী তার স্ত্রীকে একেবারেই সোজা করে ফেলতে চায়, তবুও তা কখনো হবার নয়। এমনটি আশা করাও বোকামি। আর এমন আশার পরবর্তী পদক্ষেপে যদি স্ত্রীর ওপর জোর খাটিয়ে তাকে সঠিক করার বিষয়টি এসে যায়, তবে তা হবে সীমালঙ্ঘন।

আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণপ্রত্যাশী হও। কারণ, তাদের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড় তো অধিক বক্র। যদি তোমরা নারীদের স্বভাব একেবারেই ঠিক করে ফেলতে চাও, তবে তা ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তাদেরকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দাও, তবে তা সর্বদা বাঁকাই থাকবে। তাই তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণপ্রত্যাশী হও।' ৫৯৬

মুমিন স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হতে নিষেধ করা হয়েছে। তার মাঝে কোনো অপছন্দনীয় আচরণ পেলেও অন্য সকল ভালো গুণের কারণে সে অপছন্দনীয় হতে পারে না। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'লৈা ইয়াফরাকু মুমিনুন মুমিনাতান ইন কারিহা মিনহা খুলুকান রাদিয়া মিনহা আখারা' (মুমিন স্বামী যেন মুমিনা স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত না হয়। যদি স্ত্রীর মাঝে কোনো অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে অন্য ভালো গুণের কারণে তার প্রতি আবার সন্তুষ্টি আসবে।) ৫৯৭

স্ত্রীর প্রতি সদাচরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে ইসলাম। আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'খাইরুকুম খাইরুকুম লিআহলিহি, ওয়া আনা খাইরুকুম লিআহলি' (তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে নিজ পরিবারের নিকট সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম।) ৫৯৮

সর্বোপরি মুমিন নর-নারী উভয়ে একে অপরের পরিপূরক। যেকোনো একজন না থাকলে জীবন অপূর্ণ থেকে যায়। তাদের উভয়কে মিলেমিশে আল্লাহর নির্ধারিত নীতিতে চলতে হবে। তবেই জীবন হবে সৌন্দর্যে ও সৌকর্যে পরিপূর্ণ। এভাবে মুমিন নর-নারী উভয়ে সিরাতুল মুসতাকিমে অটল থেকে আল্লাহর ক্ষমা ও উত্তম পুরস্কার লাভ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন :
{ إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا }

'নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ইমানদার পুরুষ, ইমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ, রোজা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী নারী, আল্লাহর অধিক জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারী—তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।' ৫৯৯

টিকাঃ
৫৯৬. সহিহুল বুখারি: ৭/২৬, হা. নং ৫১৮৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৫৯৭. সহিহু মুসলিম: ২/১০৯১, হা. নং ১৪৬৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৫৯৮. সুনানুত তিরমিজি: ৬/১৯২, হা. নং ৩৮৯৫ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান সহিহ।
৫৯৯. সুরা আল-আহজাব : ৩৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px