📄 স্ত্রী
স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিণী। বাড়ির সুবিধা-অসুবিধা দেখা, সন্তানদের তত্ত্বাবধান করা স্ত্রীর দায়িত্ব। এ হিসাবে সন্তানদের লালনপালন করা স্ত্রীর অতি গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্ব। কারণ, এ সন্তানদের নিয়েই সমাজের প্রতিষ্ঠা। এ সন্তানদের নিয়েই উম্মাহর ভবিষ্যৎ। সন্তান পালনের মতো এ গুরুদায়িত্বটি স্ত্রীরই।
স্ত্রী পরিবারে সম্মান ও মর্যাদার মাঝে থাকবে। প্রথমত, এ সম্মান সে স্বামীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হবে। দ্বিতীয়ত, সন্তানদের থেকে পূর্ণ অর্থেই সম্মান ও মর্যাদা পাবে। এটাই আল্লাহর নির্ধারিত নীতি। এমন নীতি অন্য কোনো আদর্শের মাঝে দেখা যায় না বা অন্য কোনো মানবরচিত ব্যবস্থায় চোখে পড়ে না। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রতি এ সম্মান প্রদর্শন হবে পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি অটুট রাখার জন্য।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
“নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। অতঃপর যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে হয়তো তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন।”
টিকাঃ
৫৯৫. সুরা আন-নিসা: ১৯
স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিণী। বাড়ির সুবিধা-অসুবিধা দেখা, সন্তানদের তত্ত্বাবধান করা স্ত্রীর দায়িত্ব। এ হিসাবে সন্তানদের লালনপালন করা স্ত্রীর অতি গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্ব। কারণ, এ সন্তানদের নিয়েই সমাজের প্রতিষ্ঠা। এ সন্তানদের নিয়েই উম্মাহর ভবিষ্যৎ। সন্তান পালনের মতো এ গুরুদায়িত্বটি স্ত্রীরই।
স্ত্রী পরিবারে সম্মান ও মর্যাদার মাঝে থাকবে। প্রথমত, এ সম্মান সে স্বামীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হবে। দ্বিতীয়ত, সন্তানদের থেকে পূর্ণ অর্থেই সম্মান ও মর্যাদা পাবে। এটাই আল্লাহর নির্ধারিত নীতি। এমন নীতি অন্য কোনো আদর্শের মাঝে দেখা যায় না বা অন্য কোনো মানবরচিত ব্যবস্থায় চোখে পড়ে না। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রতি এ সম্মান প্রদর্শন হবে পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি অটুট রাখার জন্য।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
{ وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعেলُ اللهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا }
'নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। অতঃপর যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে হয়তো তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন।' ৫৯৫
টিকাঃ
৫৯৫. সুরা আন-নিসা: ১৯
📄 সন্তানসন্ততি
সন্তানের উত্তম লালনপালনের দায়িত্বটি মাতা-পিতার ওপর অর্পিত একটি বড় আমানত। এটি এমন এক আমানত, সর্বদাই যার ব্যাপারে খেয়াল- খবর রাখতে হয়। এটি একটি গুরুভার দায়িত্ব। প্রতিটি পদে পদে তাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, তাদের দ্বারা কোনো ভুল হয়ে যায় কিনা, সন্তানের প্রতিপালনে কোথাও কোনো কমতি হচ্ছে কিনা।
এ সন্তানই একদিন বড় হবে। তারাই হবে উম্মাহর কর্ণধার। তাই তারা যেন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, উম্মাহর নেতৃত্বের হক পুঙ্খানুপুঙ্খ আদায় করতে পারে, সে জন্য তাদের উত্তমভাবে প্রতিপালন করতে হবে। তাদের শারীরিক ও আত্মিকভাবে সামর্থ্যবান বানাতে হবে। তাদের মধ্য থেকেই একদিন আসবে উম্মাহর সাধারণ নেতৃত্ব, সামরিক নেতৃত্ব, উম্মাহর দিশারি—আলিম, দায়ি, সংস্কারক ও অনন্য ব্যক্তিত্বগণ।
ইসলাম সকল মুসলমানদের ওপর, বিশেষ করে মাতা-পিতার ওপর ফরজ করেছে যে, তারা যেন সন্তানকে আল্লাহর নির্ধারিত নীতির ওপর গড়ে তোলে। এটি ইসলামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বও বটে। ইসলামি রাষ্ট্রের কাছে এর যথাযথ উপাদান ও উপকরণও আছে। তাই রাষ্ট্রের কর্তব্য হলো—শিশুদের উত্তমরূপে প্রতিপালন করা, তাদের আকিদার উন্নয়ন করা এবং তাদের মাঝে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনদের প্রতি ভালোবাসা প্রোথিত করা।
অনুরূপভাবে মুরব্বিদের দায়িত্ব হলো, সন্তানদের শিশুকাল হতেই শিরকমুক্ত ইমান ও তাওহিদের শিক্ষা দেওয়া, পাপাচারিতা ও ফিতনা-ফাসাদ থেকে দূরে রাখা এবং তাদের ইসলামি আদর্শের ওপর গড়ে তোলা; যাতে তাদের ভেতর উত্তমভাবে জীবনযাপনের উপলব্ধি প্রবেশ করে। যেন তাদের মাঝে সুস্থতা ও পবিত্রতার সমীরণ প্রবাহমান থাকে এবং তারা অন্যকে প্রাধান্যদান, ধৈর্যধারণ করার মতো মহৎ গুণে গুণান্বিত হয়ে ওঠে।
পিতা-মাতা ও সংশ্লিষ্টদের সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। কারণ, সন্তানদের মন্দ প্রতিপালনের কারণে পিতা-মাতা আখিরাতে শাস্তির উপযুক্ত হবে। তাই সন্তান প্রতিপালনে অবহেলা করা বা তাদের মন্দ প্রতিপালন করা কোনোক্রমেই উচিত নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।”
সন্তানকে ইসলামি আদব ও শিষ্টচারের ওপর গড়ে তুলতে হবে। সাইদ বিন আস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'উত্তম আদব শিক্ষা দেওয়া পিতার পক্ষ থেকে সন্তানের জন্য সর্বোত্তম উপহার।'
জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'সন্তানকে একটি উত্তম আদব শেখানো এক সা' পরিমাণ সদকা করা থেকেও উত্তম।'
টিকাঃ
৬০০. সুরা আত-তাহরিম : ৬
৬০১. সুনানুত তিরমিজি: ৩/৪০২, হা. নং ১৯৫২ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ。
৬০২. মুসনাদু আহমাদ: ৩৪/৪৯১-৪৯২, হা. নং ২০৯৭০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ。
সন্তানের উত্তম লালনপালনের দায়িত্বটি মাতা-পিতার ওপর অর্পিত একটি বড় আমানত। এটি এমন এক আমানত, সর্বদাই যার ব্যাপারে খেয়াল-খবর রাখতে হয়। এটি একটি গুরুভার দায়িত্ব। প্রতিটি পদে পদে তাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, তাদের দ্বারা কোনো ভুল হয়ে যায় কিনা, সন্তানের প্রতিপালনে কোথাও কোনো কমতি হচ্ছে কিনা।
এ সন্তানই একদিন বড় হবে। তারাই হবে উম্মাহর কর্ণধার। তাই তারা যেন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, উম্মাহর নেতৃত্বের হক পুঙ্খানুপুঙ্খ আদায় করতে পারে, সে জন্য তাদের উত্তমভাবে প্রতিপালন করতে হবে। তাদের শারীরিক ও আত্মিকভাবে সামর্থ্যবান বানাতে হবে। তাদের মধ্য থেকেই একদিন আসবে উম্মাহর সাধারণ নেতৃত্ব, সামরিক নেতৃত্ব, উম্মাহর দিশারি—আলিম, দায়ি, সংস্কারক ও অনন্য ব্যক্তিত্বগণ।
ইসলাম সকল মুসলমানদের ওপর, বিশেষ করে মাতা-পিতার ওপর ফরজ করেছে যে, তারা যেন সন্তানকে আল্লাহর নির্ধারিত নীতির ওপর গড়ে তোলে। এটি ইসলামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বও বটে। ইসলামি রাষ্ট্রের কাছে এর যথাযথ উপাদান ও উপকরণও আছে। তাই রাষ্ট্রের কর্তব্য হলো—শিশুদের উত্তমরূপে প্রতিপালন করা, তাদের আকিদার উন্নয়ন করা এবং তাদের মাঝে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনদের প্রতি ভালোবাসা প্রোথিত করা।
অনুরূপভাবে মুরব্বিদের দায়িত্ব হলো, সন্তানদের শিশুকাল হতেই শিরকমুক্ত ইমান ও তাওহিদের শিক্ষা দেওয়া, পাপাচারিতা ও ফিতনা-ফাসাদ থেকে দূরে রাখা এবং তাদের ইসলামি আদর্শের ওপর গড়ে তোলা; যাতে তাদের ভেতর উত্তমভাবে জীবনযাপনের উপলব্ধি প্রবেশ করে। যেন তাদের মাঝে সুস্থতা ও পবিত্রতার সমীরণ প্রবাহমান থাকে এবং তারা অন্যকে প্রাধান্যদান, ধৈর্যধারণ করার মতো মহৎ গুণে গুণান্বিত হয়ে ওঠে। পিতা-মাতা ও সংশ্লিষ্টদের সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। কারণ, সন্তানদের মন্দ প্রতিপালনের কারণে পিতা-মাতা আখিরাতে শাস্তির উপযুক্ত হবে। তাই সন্তান প্রতিপালনে অবহেলা করা বা তাদের মন্দ প্রতিপালন করা কোনোক্রমেই উচিত নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
{ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ }
'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।' ৬০০
সন্তানকে ইসলামি আদব ও শিষ্টচারের ওপর গড়ে তুলতে হবে। সাইদ বিন আস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'মা নাহালা ওয়ালিদুন ওয়ালাদান মিন নাহলিন আফদ্বালা মিন আদাবিন হাসানিন' (উত্তম আদব শিক্ষা দেওয়া পিতার পক্ষ থেকে সন্তানের জন্য সর্বোত্তম উপহার।) ৬০১
জাবীর বিন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'লায়ঁ ইউআদ্দিবার রাজুলু ওয়ালাদাহু খাইরুম মিন আইঁ ইয়াতাসাদদাক্বা বিসাআঁ' (সন্তানকে একটি উত্তম আদব শেখানো এক সা' পরিমাণ সদকা করা থেকেও উত্তম।) ৬০২
টিকাঃ
৬০০. সুরা আত-তাহরিম : ৬
৬০১. সুনানুত তিরমিজি: ৩/৪০২, হা. নং ১৯৫২ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৬০২. মুসনাদু আহমাদ: ৩৪/৪৯১-৪৯২, হা. নং ২০৯৭০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।