📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 বৈবাহিক বন্ধন

📄 বৈবাহিক বন্ধন


মোহর প্রদান ও বিবিধ বিষয়ের সামর্থ্য থাকলে বিবাহের হুকুম হলো : ১. বিবাহ না করলে জিনা-ব্যভিচারে জড়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিবাহ করা ফরজ। ২. জিনায় জড়িত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে বিবাহ করা সুন্নত। ৩. বিবাহ করা না-করা সমান হলে বিবাহ করা মুবাহ।

শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে ইসলাম বিয়ে করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'হে যুবকেরা, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহ করতে সক্ষম, সে যেন বিবাহ করে নেয়। আর যে ব্যক্তি অক্ষম, তার ওপর আবশ্যক হলো রোজা রাখা। কারণ, এটি তার রক্ষাকবচ হবে।'

আয়িশা থেকে আরও বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'বিবাহ আমার একটি সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত অনুসারে আমল করবে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিবাহ করো। কেননা, আমার উম্মতের সংখ্যাধিক্য নিয়ে আমি অন্যান্য উম্মতের ওপর গর্ব করব। তাই যে সামর্থ্যবান, সে যেন বিবাহ করে নেয়। আর যে সামর্থ্যবান নয়, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, রোজা তার জন্য (কামনা-বাসনা দমিত রাখার ক্ষেত্রে) রক্ষাকবচ।'

বিয়ে মানুষের কামনা মেটাবার শরিয়তসম্মত একটি মাধ্যম। মানুষের সৃষ্টিগত এ চাহিদা মেটাবার ক্ষেত্রে বিয়ে ছাড়া অন্য যে সকল অবৈধ পন্থা রয়েছে, তা সবই গর্হিত ও বর্জিত। ইসলাম এগুলোকে কঠিনভাবে হারাম করেছে। এগুলোতে প্রবৃত্ত হলে রয়েছে কঠিন শাস্তি। বিয়ে থেকে বিরত থাকা বা একে হেয় জ্ঞান করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'রাসুলুল্লাহ ﷺ উসমান বিন মাজউন রা.-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি আসলে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, উসমান, তুমি কি আমার সুন্নাতে অনীহা প্রকাশ করো? উসমান বললেন, আল্লাহর কসম! কখনো না। আমি তো আপনার সুন্নাত খুঁজে খুঁজে আমল করি। রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, আমি ঘুমাই, নামাজ পড়ি, কোনোদিন রোজা রাখি, কোনোদিন রাখি না, আর আমি বিবাহও করেছি। তাই হে উসমান, তুমি আল্লাহকে ভয় করো। কেননা, তোমার ওপর তোমার পরিবারের অধিকার রয়েছে, তোমার মেহমানের তোমার ওপর অধিকার রয়েছে, তোমার নিজের অধিকার রয়েছে তোমার ওপর। তাই সব সময় রোজা না রেখে থেমে থেমে রোজা রাখো, নামাজ পড়ো, আবার বিরতি দিয়ে কিছু সময় ঘুমিয়ে নাও।'

টিকাঃ
৫৯০. বাদায়িউস সানায়ি: ২/২২৮ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৫৯১. সহিহুল বুখারি: ৭/৩, হা. নং: ৫০৬৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৫৯২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ১/৫৯২, হা. নং ১৮৪৬ (দারু ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যি) হাদিসটি হাসান।
৫৯৩. সুনানু আবি দাউদ : ২/৪৮, হা. নং ১৩৬৯ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।

পরিবার হলো সমাজ গঠনের এক একটি ইউনিট। অনেকগুলো পরিবারের সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি সমাজ। আর পরিবার গঠিত হয় স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক বন্ধনের মাধ্যমে। মোহর প্রদান ও বিবিধ বিষয়ের সামর্থ্য থাকলে বিবাহের হুকুম হলো : ১. বিবাহ না করলে জিনা-ব্যভিচারে জড়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিবাহ করা ফরজ। ২. জিনায় জড়িত হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে বিবাহ করা সুন্নত। ৩. বিবাহ করা না-করা সমান হলে বিবাহ করা মুবাহ। ৫৯০

শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে ইসলাম বিয়ে করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'হে যুবকেরা, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহ করতে সক্ষম, সে যেন বিবাহ করে নেয়। আর যে ব্যক্তি অক্ষম, তার ওপর আবশ্যক হলো রোজা রাখা। কারণ, এটি তার রক্ষাকবচ হবে।' ৫৯১

আয়িশা থেকে আরও বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'বিবাহ আমার একটি সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত অনুসারে আমল করবে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিবাহ করো। কেননা, আমার উম্মতের সংখ্যাধিক্য নিয়ে আমি অন্যান্য উম্মতের ওপর গর্ব করব। তাই যে সামর্থ্যবান, সে যেন বিবাহ করে নেয়। আর যে সামর্থ্যবান নয়, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, রোজা তার জন্য (কামনা-বাসনা দমিত রাখার ক্ষেত্রে) রক্ষাকবচ।' ৫৯২

বিয়ে মানুষের কামনা মেটাবার শরিয়তসম্মত একটি মাধ্যম। মানুষের সৃষ্টিগত এ চাহিদা মেটাবার ক্ষেত্রে বিয়ে ছাড়া অন্য যে সকল অবৈধ পন্থা রয়েছে, তা সবই গর্হিত ও বর্জিত। ইসলাম এগুলোকে কঠিনভাবে হারাম করেছে। এগুলোতে প্রবৃত্ত হলে রয়েছে কঠিন শাস্তি। বিয়ে থেকে বিরত থাকা বা একে হেয় জ্ঞান করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
'রাসুলুল্লাহ ﷺ উসমান বিন মাজউন (রা) -কে ডেকে পাঠালেন। তিনি আসলে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, উসমান, তুমি কি আমার সুন্নাতে অনীহা প্রকাশ করো? উসমান বললেন, আল্লাহর কসম! কখনো না। আমি তো আপনার সুন্নাত খুঁজে খুঁজে আমল করি। রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, আমি ঘুমাই, নামাজ পড়ি, কোনোদিন রোজা রাখি, কোনোদিন রাখি না, আর আমি বিবাহও করেছি। তাই হে উসমান, তুমি আল্লাহকে ভয় করো। কেননা, তোমার ওপর তোমার পরিবারের অধিকার রয়েছে, তোমার মেহমানের তোমার ওপর অধিকার রয়েছে, তোমার নিজের অধিকার রয়েছে তোমার ওপর। তাই সব সময় রোজা না রেখে থেমে থেমে রোজা রাখো, নামাজ পড়ো, আবার বিরতি দিয়ে কিছু সময় ঘুমিয়ে নাও।' ৫৯৩

টিকাঃ
৫৯০. বাদায়িউস সানায়ি: ২/২২৮ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)
৫৯১. সহিহুল বুখারি: ৭/৩, হা. নং: ৫০৬৫ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৫৯২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ১/৫৯২, হা. নং ১৮৪৬ (দারু ইহইয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যি) হাদিসটি হাসান।
৫৯৩. সুনানু আবি দাউদ : ২/৪৮, হা. নং ১৩৬৯ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 স্বামী

📄 স্বামী


পরিবার গঠনে অপরিহার্য একটি উপাদান হলো স্বামী। স্বামী পরিবারের পরিচালক ও দায়িত্বশীল। পরিবার পরিচালনার দায়িত্ব তার ওপর। স্ত্রী, সন্তান-সন্ততির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ তার কর্তব্য। পরিবার হলো সমাজ গঠনের উপাদান। সমাজ একটি বড় আকারের স্থল হলে পরিবার তার ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি।

স্বামীর ওপর তার পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব অর্পিত। পরিবারের সদস্যদের খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, ওষুধ-পথ্যের ব্যবস্থা করে সে। স্বামী যদি পরিবারের ভরণপোষণে মনোযোগ না দেয় বা সঠিকরূপে পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ না করে, তবে সে তার কাঁধে অর্পিত আমানত ঠিকমতো আদায় করেনি। এর কারণে সে গুনাহগার হবে।

পরিবার পরিচালনার দায়িত্ব স্বামীকে দেওয়া হয়েছে, স্ত্রীকে নয়। কারণ, উভয় শ্রেণি সমান নয়। স্ত্রীরা আবেগপ্রবণ হয় বেশি, ফলে অনেক সময় পরিবার পরিচালনায় তারা সক্ষম হবে না। এ ছাড়াও নারী-পুরুষের মাঝে পরিচালনার জন্য পুরুষই হলো উপযুক্ত। তাই পুরুষই পরিবারের পরিচালক হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“পুরুষেরা নারীদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক; এ জন্য যে, আল্লাহ তাদের একের ওপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।”

টিকাঃ
৫৯৪. সুরা আন-নিসা: ৩৪

পরিবার গঠনে অপরিহার্য একটি উপাদান হলো স্বামী। স্বামী পরিবারের পরিচালক ও দায়িত্বশীল। পরিবার পরিচালনার দায়িত্ব তার ওপর। স্ত্রী, সন্তান-সন্ততির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ তার কর্তব্য। পরিবার হলো সমাজ গঠনের উপাদান। সমাজ একটি বড় আকারের স্থল হলে পরিবার তার ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি।

স্বামীর ওপর তার পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব অর্পিত। পরিবারের সদস্যদের খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, ওষুধ-পথ্যের ব্যবস্থা করে সে। স্বামী যদি পরিবারের ভরণপোষণে মনোযোগ না দেয় বা সঠিকরূপে পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ না করে, তবে সে তার কাঁধে অর্পিত আমানত ঠিকমতো আদায় করেনি। এর কারণে সে গুনাহগার হবে।

পরিবার পরিচালনার দায়িত্ব স্বামীকে দেওয়া হয়েছে, স্ত্রীকে নয়। কারণ, উভয় শ্রেণি সমান নয়। স্ত্রীরা আবেগপ্রবণ হয় বেশি, ফলে অনেক সময় পরিবার পরিচালনায় তারা সক্ষম হবে না। এ ছাড়াও নারী-পুরুষের মাঝে পরিচালনার জন্য পুরুষই হলো উপযুক্ত। তাই পুরুষই পরিবারের পরিচালক হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
{ الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ }

'পুরুষেরা নারীদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক; এ জন্য যে, আল্লাহ তাদের একের ওপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।' ৫৯৪

টিকাঃ
৫৯৪. সুরা আন-নিসা: ৩৪

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 স্ত্রী

📄 স্ত্রী


স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিণী। বাড়ির সুবিধা-অসুবিধা দেখা, সন্তানদের তত্ত্বাবধান করা স্ত্রীর দায়িত্ব। এ হিসাবে সন্তানদের লালনপালন করা স্ত্রীর অতি গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্ব। কারণ, এ সন্তানদের নিয়েই সমাজের প্রতিষ্ঠা। এ সন্তানদের নিয়েই উম্মাহর ভবিষ্যৎ। সন্তান পালনের মতো এ গুরুদায়িত্বটি স্ত্রীরই।

স্ত্রী পরিবারে সম্মান ও মর্যাদার মাঝে থাকবে। প্রথমত, এ সম্মান সে স্বামীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হবে। দ্বিতীয়ত, সন্তানদের থেকে পূর্ণ অর্থেই সম্মান ও মর্যাদা পাবে। এটাই আল্লাহর নির্ধারিত নীতি। এমন নীতি অন্য কোনো আদর্শের মাঝে দেখা যায় না বা অন্য কোনো মানবরচিত ব্যবস্থায় চোখে পড়ে না। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রতি এ সম্মান প্রদর্শন হবে পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি অটুট রাখার জন্য।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
“নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। অতঃপর যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে হয়তো তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন।”

টিকাঃ
৫৯৫. সুরা আন-নিসা: ১৯

স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিণী। বাড়ির সুবিধা-অসুবিধা দেখা, সন্তানদের তত্ত্বাবধান করা স্ত্রীর দায়িত্ব। এ হিসাবে সন্তানদের লালনপালন করা স্ত্রীর অতি গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্ব। কারণ, এ সন্তানদের নিয়েই সমাজের প্রতিষ্ঠা। এ সন্তানদের নিয়েই উম্মাহর ভবিষ্যৎ। সন্তান পালনের মতো এ গুরুদায়িত্বটি স্ত্রীরই।

স্ত্রী পরিবারে সম্মান ও মর্যাদার মাঝে থাকবে। প্রথমত, এ সম্মান সে স্বামীর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হবে। দ্বিতীয়ত, সন্তানদের থেকে পূর্ণ অর্থেই সম্মান ও মর্যাদা পাবে। এটাই আল্লাহর নির্ধারিত নীতি। এমন নীতি অন্য কোনো আদর্শের মাঝে দেখা যায় না বা অন্য কোনো মানবরচিত ব্যবস্থায় চোখে পড়ে না। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর প্রতি এ সম্মান প্রদর্শন হবে পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি অটুট রাখার জন্য।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
{ وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعেলُ اللهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا }

'নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। অতঃপর যদি তাদের অপছন্দ করো, তবে হয়তো তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন।' ৫৯৫

টিকাঃ
৫৯৫. সুরা আন-নিসা: ১৯

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সন্তানসন্ততি

📄 সন্তানসন্ততি


সন্তানের উত্তম লালনপালনের দায়িত্বটি মাতা-পিতার ওপর অর্পিত একটি বড় আমানত। এটি এমন এক আমানত, সর্বদাই যার ব্যাপারে খেয়াল- খবর রাখতে হয়। এটি একটি গুরুভার দায়িত্ব। প্রতিটি পদে পদে তাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, তাদের দ্বারা কোনো ভুল হয়ে যায় কিনা, সন্তানের প্রতিপালনে কোথাও কোনো কমতি হচ্ছে কিনা।

এ সন্তানই একদিন বড় হবে। তারাই হবে উম্মাহর কর্ণধার। তাই তারা যেন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, উম্মাহর নেতৃত্বের হক পুঙ্খানুপুঙ্খ আদায় করতে পারে, সে জন্য তাদের উত্তমভাবে প্রতিপালন করতে হবে। তাদের শারীরিক ও আত্মিকভাবে সামর্থ্যবান বানাতে হবে। তাদের মধ্য থেকেই একদিন আসবে উম্মাহর সাধারণ নেতৃত্ব, সামরিক নেতৃত্ব, উম্মাহর দিশারি—আলিম, দায়ি, সংস্কারক ও অনন্য ব্যক্তিত্বগণ।

ইসলাম সকল মুসলমানদের ওপর, বিশেষ করে মাতা-পিতার ওপর ফরজ করেছে যে, তারা যেন সন্তানকে আল্লাহর নির্ধারিত নীতির ওপর গড়ে তোলে। এটি ইসলামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বও বটে। ইসলামি রাষ্ট্রের কাছে এর যথাযথ উপাদান ও উপকরণও আছে। তাই রাষ্ট্রের কর্তব্য হলো—শিশুদের উত্তমরূপে প্রতিপালন করা, তাদের আকিদার উন্নয়ন করা এবং তাদের মাঝে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনদের প্রতি ভালোবাসা প্রোথিত করা।

অনুরূপভাবে মুরব্বিদের দায়িত্ব হলো, সন্তানদের শিশুকাল হতেই শিরকমুক্ত ইমান ও তাওহিদের শিক্ষা দেওয়া, পাপাচারিতা ও ফিতনা-ফাসাদ থেকে দূরে রাখা এবং তাদের ইসলামি আদর্শের ওপর গড়ে তোলা; যাতে তাদের ভেতর উত্তমভাবে জীবনযাপনের উপলব্ধি প্রবেশ করে। যেন তাদের মাঝে সুস্থতা ও পবিত্রতার সমীরণ প্রবাহমান থাকে এবং তারা অন্যকে প্রাধান্যদান, ধৈর্যধারণ করার মতো মহৎ গুণে গুণান্বিত হয়ে ওঠে।

পিতা-মাতা ও সংশ্লিষ্টদের সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। কারণ, সন্তানদের মন্দ প্রতিপালনের কারণে পিতা-মাতা আখিরাতে শাস্তির উপযুক্ত হবে। তাই সন্তান প্রতিপালনে অবহেলা করা বা তাদের মন্দ প্রতিপালন করা কোনোক্রমেই উচিত নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন :
“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।”

সন্তানকে ইসলামি আদব ও শিষ্টচারের ওপর গড়ে তুলতে হবে। সাইদ বিন আস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'উত্তম আদব শিক্ষা দেওয়া পিতার পক্ষ থেকে সন্তানের জন্য সর্বোত্তম উপহার।'

জাবির বিন সামুরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'সন্তানকে একটি উত্তম আদব শেখানো এক সা' পরিমাণ সদকা করা থেকেও উত্তম।'

টিকাঃ
৬০০. সুরা আত-তাহরিম : ৬
৬০১. সুনানুত তিরমিজি: ৩/৪০২, হা. নং ১৯৫২ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ。
৬০২. মুসনাদু আহমাদ: ৩৪/৪৯১-৪৯২, হা. নং ২০৯৭০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ。

সন্তানের উত্তম লালনপালনের দায়িত্বটি মাতা-পিতার ওপর অর্পিত একটি বড় আমানত। এটি এমন এক আমানত, সর্বদাই যার ব্যাপারে খেয়াল-খবর রাখতে হয়। এটি একটি গুরুভার দায়িত্ব। প্রতিটি পদে পদে তাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, তাদের দ্বারা কোনো ভুল হয়ে যায় কিনা, সন্তানের প্রতিপালনে কোথাও কোনো কমতি হচ্ছে কিনা।

এ সন্তানই একদিন বড় হবে। তারাই হবে উম্মাহর কর্ণধার। তাই তারা যেন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, উম্মাহর নেতৃত্বের হক পুঙ্খানুপুঙ্খ আদায় করতে পারে, সে জন্য তাদের উত্তমভাবে প্রতিপালন করতে হবে। তাদের শারীরিক ও আত্মিকভাবে সামর্থ্যবান বানাতে হবে। তাদের মধ্য থেকেই একদিন আসবে উম্মাহর সাধারণ নেতৃত্ব, সামরিক নেতৃত্ব, উম্মাহর দিশারি—আলিম, দায়ি, সংস্কারক ও অনন্য ব্যক্তিত্বগণ।

ইসলাম সকল মুসলমানদের ওপর, বিশেষ করে মাতা-পিতার ওপর ফরজ করেছে যে, তারা যেন সন্তানকে আল্লাহর নির্ধারিত নীতির ওপর গড়ে তোলে। এটি ইসলামি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বও বটে। ইসলামি রাষ্ট্রের কাছে এর যথাযথ উপাদান ও উপকরণও আছে। তাই রাষ্ট্রের কর্তব্য হলো—শিশুদের উত্তমরূপে প্রতিপালন করা, তাদের আকিদার উন্নয়ন করা এবং তাদের মাঝে আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনদের প্রতি ভালোবাসা প্রোথিত করা।

অনুরূপভাবে মুরব্বিদের দায়িত্ব হলো, সন্তানদের শিশুকাল হতেই শিরকমুক্ত ইমান ও তাওহিদের শিক্ষা দেওয়া, পাপাচারিতা ও ফিতনা-ফাসাদ থেকে দূরে রাখা এবং তাদের ইসলামি আদর্শের ওপর গড়ে তোলা; যাতে তাদের ভেতর উত্তমভাবে জীবনযাপনের উপলব্ধি প্রবেশ করে। যেন তাদের মাঝে সুস্থতা ও পবিত্রতার সমীরণ প্রবাহমান থাকে এবং তারা অন্যকে প্রাধান্যদান, ধৈর্যধারণ করার মতো মহৎ গুণে গুণান্বিত হয়ে ওঠে। পিতা-মাতা ও সংশ্লিষ্টদের সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। কারণ, সন্তানদের মন্দ প্রতিপালনের কারণে পিতা-মাতা আখিরাতে শাস্তির উপযুক্ত হবে। তাই সন্তান প্রতিপালনে অবহেলা করা বা তাদের মন্দ প্রতিপালন করা কোনোক্রমেই উচিত নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন :
{ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ }

'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।' ৬০০

সন্তানকে ইসলামি আদব ও শিষ্টচারের ওপর গড়ে তুলতে হবে। সাইদ বিন আস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'মা নাহালা ওয়ালিদুন ওয়ালাদান মিন নাহলিন আফদ্বালা মিন আদাবিন হাসানিন' (উত্তম আদব শিক্ষা দেওয়া পিতার পক্ষ থেকে সন্তানের জন্য সর্বোত্তম উপহার।) ৬০১

জাবীর বিন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'লায়ঁ ইউআদ্দিবার রাজুলু ওয়ালাদাহু খাইরুম মিন আইঁ ইয়াতাসাদদাক্বা বিসাআঁ' (সন্তানকে একটি উত্তম আদব শেখানো এক সা' পরিমাণ সদকা করা থেকেও উত্তম।) ৬০২

টিকাঃ
৬০০. সুরা আত-তাহরিম : ৬
৬০১. সুনানুত তিরমিজি: ৩/৪০২, হা. নং ১৯৫২ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।
৬০২. মুসনাদু আহমাদ: ৩৪/৪৯১-৪৯২, হা. নং ২০৯৭০ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি জইফ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px