📄 অসুস্থতা থেকে আরোগ্য
ইসলাম রোগ থেকে সাবধান করে। সাবধান করে যেন কোনো রোগ আক্রমণ করতে না পারে। রোগের কারণে কাউকে যেন ক্ষতিতে পড়তে না হয়। কারণ, রোগের কারণে ইবাদত পালনে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়।
তেমনি প্লেগ রোগের ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, এটি একটি সংক্রমক রোগ। তাই রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আদেশ হলো, যে সম্প্রদায় এতে আক্রান্ত হয়েছে, তারা তাদের দেশ থেকে বের হবে না। কারণ, হতে পারে তারা এ দেশ থেকে বের হয়ে অন্য স্থানে গেলে অন্যরাও এ রোগে আক্রান্ত হবে। তাই এরকম রোগাক্রান্ত ব্যক্তির জন্য অন্য কোনো লোকালয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ।
উসামা বিন জাইদ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'প্লেগ শাস্তির লক্ষণ। আল্লাহ তাআলা বান্দাকে এর মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। যখন তোমরা এ রোগের কোথাও ছড়িয়ে যাওয়ার কথা শুনবে, তোমরা সেখানে গমন করবেন না। আর যদি তোমাদের বসবাসের স্থানে এটি ঘটে, তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না।'
খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে বাড়াবাড়ির কারণে বদহজম হয়ে থাকে। এ রোগে পেটের তো অসুবিধে হয়-ই, সাথে সমস্ত শরীরের ওপর এর প্রভাব পড়ে। কোনো মানুষ যদি খাওয়ার ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করে খায়, তবে এ রোগ অনিবার্য। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে অলসতা ও স্থূলতা বেড়ে যায়। দুর্বলতা, হীনম্মন্যতা জেঁকে বসে। ইসলাম কখনো এটি আশা করে না যে, কোনো মুসলিম অলসতা, দুর্বলতা ও হীনম্মন্যতায় ভুগবে; বরং ইসলাম চায়, প্রত্যেক মুসলিম যেন সুঠামদেহী, উদ্যমী ও সাহসী হয়।
পেট পূর্ণ করে খাওয়া সম্পর্কে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। মিকদাম বিন মাদিকারাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'বনি আদমের পেট পুরে খাওয়া অনিষ্ট হতে নিরাপদ নয়।'
অন্য একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'অচিরেই আমার উম্মতের মাঝে কিছু লোক বিভিন্ন পদের খাবার খাবে, বিভিন্ন রকমের পানীয় পান করবে, বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরবে, তারা আড্ডায় মেতে উঠবে। এরাই হবে আমার উম্মতের মাঝে সর্বনিকৃষ্ট শ্রেণি।'
মিকদাম বিন মাদিকারাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি :
'মানুষ পেট হতে অধিক নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে এমন কয়েক লোকমা খাবারই তার জন্য যথেষ্ট। তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন হলে পাকস্থলির এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।'
এ হাদিসে মুমিনদের দুনিয়ার খাবার-দাবারের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। খাবারের ক্ষেত্রে জরুরত পরিমাণ বা পরিমিত খাবারই যথেষ্ট। বেশি খাওয়া মুমিনদের গুণ নয়। তবে এ থেকে এমনটি ভাবা উচিত নয় যে, স্বাভাবিক অবস্থায় ক্ষুধার্ত থাকাই উত্তম। অবশ্য ক্ষুধার্ত থাকার ফজিলত প্রয়োজনভেদে ভিন্ন স্থানে প্রযোজ্য। তাই উত্তম হবে একবেলা ক্ষুধা সহ্য করা, আরেক বেলা খাবার খাওয়া। এতে দেহে শক্তি বৃদ্ধি ঘটে, শরীরে উদ্যমতা আসে। তাই সর্বদা ক্ষুধার্ত থাকা বর্জনীয়। কেননা, তা শরীরের ওপর জুলুম।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দুআ ছিল :
'হে আল্লাহ, আমি ক্ষুধা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। কেননা, তা বিছানায় জড়িয়ে দেবার কারণ। আপনার কাছে আশ্রয় চাই খিয়ানত করা হতে। কারণ, খিয়ানতের বন্ধুত্ব কতই না মন্দ!'
হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'আল্লাহ তাআলা আমার কাছে প্রস্তাব পেশ করলেন যে, তিনি আমার জন্য মক্কার মরুভূমিকে স্বর্ণ বানিয়ে দেবেন। আমি বললাম, না, হে রব, বরং আমি একদিন তৃপ্তিসহ খাব, একদিন ক্ষুধার্ত থাকব। যেদিন আমি ক্ষুধার্ত থাকব, সেদিন আপনার নিকট বিনীত হব, আপনাকে স্মরণ করব। আর যেদিন আমি তৃপ্তি সহকারে খাব, সেদিন আপনার প্রশংসা করব এবং আপনার শোকর আদায় করব।'
বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে মুসলিম নিজ মস্তিষ্ককে ইলমে নাফি বা উপকারী জ্ঞান দিয়ে সজীব রাখবে। যেন সে আলিম বা আরিফ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি ইলমে নাফি অর্জন করার প্রতি সচেষ্ট থাকবে, সে আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদাবান হবে। কারণ, যাদের জ্ঞান রয়েছে আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা অনেক। এরাই মূলত জীবিত মস্তিষ্কের অধিকারী, জীবিত অন্তরের মানুষ। এরাই উত্তমতা ও কল্যাণ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে।
ইসলামের মতো অন্য কোনো ধর্ম বা মতাদর্শ মানুষকে ইলম অর্জনের প্রতি এত উৎসাহিত করেনি। ইসলাম জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করে, জ্ঞানের পাথেয় অর্জন করতে বলে। ইসলাম জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য রেখেছে বহু নিয়ামত। পবিত্র কুরআনে ইলম ও আলিমের মর্যাদা এভাবে বর্ণিত হচ্ছে :
“তোমাদের মধ্যে যারা ইমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন। আল্লাহ খবর রাখেন, যা কিছু তোমরা করো।”
টিকাঃ
৫৭৪. সহিহু মুসলিম: ৪/১৭৩৭, হা. নং ২২১৮ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৫৭৫. মুসনাদু আহমাদ: ২৮/৪২২, হা. নং ১৭১৮৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) হাদিসটি সহিহ।
৫৭৬. আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি: ৩/২৪, হা. নং ২৩৫১ (দারুল হারামাইন, কায়রো) - হাদিসটি সহিহ।
৫৭৭. মুসনাদু আহমাদ: ২৮/৪২২, হা. নং ১৭১৮৬ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত) - হাদিসটি সহিহ।
৫৭৮. সুনানুন নাসায়ি : ৮/২৬৩, হা. নং ৫৪৬৮ (মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) - হাদিসটি সহিহ।
৫৭৯. সুনানুত তিরমিজি: ৪/১৫৩, হা. নং ২৩৪৭ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৫৮০. সুরা আল-মুজাদালা: ১১