📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আত্মহত্যা ভয়াবহ এক সীমালঙ্ঘন

📄 আত্মহত্যা ভয়াবহ এক সীমালঙ্ঘন


নিঃসন্দেহে নিজের আত্মার ওপর সীমালঙ্ঘন করা গুরুতর একটি অপরাধ। কেউ যদি নিজেকে ধ্বংস করে অথবা হত্যা করে সীমালঙ্ঘন করে, তবে সে নিজের ওপর জুলুম করে নিজেই নিজের ক্ষতি করল। আত্মহত্যা করে নিজেকে ধ্বংস করার এ সীমালঙ্ঘন ইসলামের দৃষ্টিতে অনেক বড় পাপকর্ম।

আল্লাহ তাআলা বলেন :
“আর তোমরা আত্মহত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল। আর যে কেউ সীমালঙ্ঘন কিংবা জুলুমের বশবর্তী হয়ে এরূপ করবে, তাকে শীঘ্রই আমি আগুনে নিক্ষেপ করব। এটি আল্লাহর পক্ষে সহজসাধ্য।”

টিকাঃ
৫৬৪. সুরা আন-নিসা: ২৯-৩০

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আত্মহত্যাকারী আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকারকারী

📄 আত্মহত্যাকারী আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকারকারী


আল্লাহর বিশেষ দান হলো মানুষের আত্মা। আত্মহত্যাকারী স্বীয় আত্মার ওপর জুলুমকারী। আত্মহত্যাকারীর ব্যাপারে হাদিসের মাঝে কঠোর শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'যে ব্যক্তি লৌহাস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে অবস্থান করে সব সময়ের জন্য তা দিয়ে তার পেটে ঘা মারতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে সেই বিষ তার হাতে থাকবে, আর জাহান্নামের আগুনে অবস্থান করে সব সময়ের জন্য সে তা গলধঃকরণ করতে থাকবে। আর যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে, সে ব্যক্তি সর্বদা জাহান্নামের নিচের দিকে পড়তে থাকবে।'

জুনদুব বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
'তোমাদের পূর্বকার সম্প্রদায়ের এক লোকের দেহে একটি টিউমার দেখা দেয়। এতে সে ধৈর্যচ্যুত হয়ে পড়ে। একসময় সে একটি ছুরি নিয়ে নিজ হাতের টিউমারটি কেটে ফেলে। ফলে তার রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে। এ বিষয়ে আল্লাহ বললেন, আমার বান্দা নিজের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে। তার জন্য আমি জান্নাত হারাম করে দিয়েছি।'

এ সকল নস থেকে প্রমাণিত হয় যে, আত্মহত্যা করা একটা জঘন্য পাপকাজ। এতে তো নিজেকে ধ্বংস করার ব্যাপারটা রয়েছেই, অন্যদিকে রয়েছে ঘোর ক্ষতি ও জাহান্নামের আজাব। এটি অত্যন্ত গর্হিত একটি কাজ। তবে আত্মহত্যাকারী মুসলিম হলে এ পাপের কারণে কাফির হয় না বা কাফিরের মতো চিরস্থায়ী আজাব ভোগ করে না, বরং সে অন্যান্য কবিরা গুনাহকারীর মতো। আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন এবং চাইলে জাহান্নামের আজাব ভোগ করিয়ে তারপর মুক্তি দিতে পারেন।

ইমাম নববি বলেন, এ হাদিসের মাঝে আহলুস সুন্নাহর জন্য একটি মূলনীতির দলিল আছে। তা হলো, যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করবে অথবা এ জাতীয় কোনো কবিরা গুনাহ করবে এবং তাওবা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করবে, সে কাফির হবে না এবং অকাট্যভাবে তার দোজখে অবস্থানও সুনিশ্চিত নয়; বরং সে আল্লাহর ইচ্ছায় থাকবে—চাইলে তাকে মুক্তি দেবেন আর না চাইলে জাহান্নামে রাখবেন।

আত্মহত্যা কবিরা গুনাহ ও অত্যন্ত গর্হিত একটি কাজ। মানুষের উচিত নিজেকে এ ধরনের কাজ ও অন্যান্য মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করা। নিজেকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রেখে নিয়ামত ও কল্যাণের ওপর থেকে জীবনের শেষ মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করা।

এ ব্যাপারে ইরশাদ হচ্ছে :
“প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলাপ্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোজখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে সফল হলো। আর পার্থিব জীবন ধোঁকার আসবাব ছাড়া আর কিছু নয়।”

টিকাঃ
৫৬৫. সহিহু মুসলিম: ১/১০৩, হা. নং: ১০৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৫৬৬. সহিহুল বুখারি: ৪/১৭০, হা. নং ৩৪৬৩ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)
৫৬৭. তুফাইল বিন আমর হতে বর্ণিত তাঁর সমগোত্রীয় এক লোকের আত্মহত্যা করার হাদিসটি দ্রষ্টব্য। ঘটনা হলো তুফাইল রা.-এর গোত্রের এক লোক তাঁর সাথে মদিনায় হিজরত করেছিলেন। এখানে এসে হাতের আঙুলে ফোড়া জাতীয় কিছু হলে তিনি সহ্য করতে না পেরে তা কেটে ফেললেন। এতে অধিক রক্তক্ষরণ হওয়ায় শেষে মৃত্যুমুখে পতিত হন। পরে তাঁকে স্বপ্নে দেখা গেল, সীমালঙ্ঘন করায় তাঁর হাত ভালো না হলেও হিজরতের কারণে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সা. সব জানার পর তাঁর হাত ভালো করে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করলেন। দেখুন: সহিহু মুসলিম: ১/১০৮, হা. নং ১১৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৫৬৮. শারহু মুসলিম: ২/১৩১-১৩২ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৫৬৯. সুরা আলি ইমরান: ১৮৫

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 মুমিনের শক্তিশালী হওয়া

📄 মুমিনের শক্তিশালী হওয়া


শারীরিক দিক থেকে প্রত্যেক মুসলিমকে ইসলাম আহ্বান করে নিজের শরীরের উন্নতির প্রতি মনোনিবেশ করতে, শরীরচর্চা ও অনুশীলন করতে। যেন শরীর সুস্থ ও সবল থাকে। কেননা, শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিন থেকে উত্তম; যদিও উভয়ের মাঝেই কল্যাণ রয়েছে।

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট দুর্বল মুমিন হতে উত্তম ও অধিক পছন্দনীয়। তবে উভয়ের মাঝেই কল্যাণ রয়েছে। তুমি উপকারী বস্তুর প্রতি আগ্রহী হও। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। অক্ষম হয়ো না।'

শক্তি অর্জন ও শারীরিক শক্তির অন্যতম উপাদান হলো নিক্ষেপণ। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
'জেনে রেখো, শক্তি হচ্ছে নিক্ষেপ করা; জেনে রেখো, শক্তি হচ্ছে নিক্ষেপ করা; জেনে রেখো, শক্তি হচ্ছে নিক্ষেপ করা।'

ইসলামে উদ্যমতা অর্জন ও শারীরিক কসরত করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। শক্তি অর্জনের বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। যেমন : নিক্ষেপ করা, সাঁতার কাটা, দৌড়ানো। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন :
'আল্লাহর জিকির ব্যতীত সকল কাজই অনর্থক ও তামাশা। তবে চারিটি জিনিস ব্যতীত। এক. দু-লক্ষের মাঝে দৌড়ানো। দুই. ঘোড়সওয়ারি শেখা। তিন. স্ত্রীর সাথে খেলাধুলা ও হাসি কৌতুক করা। চার. সাঁতার কাটা।'

আবু রাফি বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বললাম :
'হে আল্লাহর রাসুল, সন্তানের ওপর আমাদের যেমন হক আছে, সন্তানেরও কি আমাদের ওপর হক আছে? রাসুলুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ। পিতার ওপর সন্তানের অধিকার হলো, পিতা সন্তানকে লেখা শিখাবে, সাঁতার শিখাবে, নিক্ষেপণ শিখাবে এবং তাকে উত্তম ওয়ারিস বানাবে।'

টিকাঃ
৫৭০. সহিহ মুসলিম: ৪/২০৫২, হা. নং ২৬৬৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৫৭১. সহিহ মুসলিম: ৩/১৫২২, হা. নং ১৯১৭ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৫৭২. আল-মুজামুল আওসাত, তাবরানি : ৬/১১৬, হা. নং ৬১৪৭ (দারুল হারামাইন, কায়রো) -হাদিসটি সহিহ।
৫৭৩. আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ১০/২৩, হা. নং ১৯৭৪২ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) -হাদিসটি জইফ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px