📄 ক. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
যে সকল মাধ্যম ও উপকরণ গ্রহণ করে রাষ্ট্র ইসলামি আকিদা ও বিশ্বাসের সত্যতাকে মানুষের মন-মগজ ও চিন্তা-চেতনার মাঝে প্রসারিত করতে পারবে সেগুলোর একটি হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশের স্কুল, মাদরাসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থাকে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। রাষ্ট্র এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। সঠিক ও দৃঢ় ইসলামি আকিদা বিশ্বাসের অধিকারী খাঁটি মুমিন-মুত্তাকি ও পরহেজগার শিক্ষিত লোকদের হাতে এ বিভাগের দায়িত্ব থাকবে। তারা তাদের ছাত্র ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে গড়ে তুলবেন সঠিক ইসলামি আকিদা-বিশ্বাস ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী খাঁটি মুমিন, মুত্তাকি, পরহেজগার, শিক্ষিত, বিনয়ী, নিঃস্বার্থ ও পরোপকারী হিসাবে।
কোনোভাবেই এমন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ফাসিক, পথভ্রষ্ট, চরিত্রহীন নীচু লোকদের হাতে থাকা চলে না। এরা মানুষের অন্তরে নোংরা ও পচা চিন্তা- চেতনার বিষাক্ত বিষ ঢুকিয়ে দেবে। যার ফলে জাতি দুশ্চরিত্র ও স্বার্থপর একটি প্রজন্ম পাবে। সুতরাং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই ফাসিক, পথভ্রষ্ট ও চরিত্রহীন নীচু লোকদের থেকে মুক্ত রাখতে হবে। তা না হলে এ সকল পথভ্রষ্ট লোক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নোংরামি ও অশ্লীলতায় পূর্ণ করে দেবে।
📄 খ. ইলেকট্রিক মিডিয়া
ইসলামি আদর্শ প্রচারের আরেকটি মাধ্যম হলো, ইলেকট্রিক মিডিয়া তথা রেডিও, টেলিভিশন, স্যাটেলাইট ইত্যাদি। এ সকল মাধ্যম থেকে মুসলিম উম্মাহর সকল সংবাদ প্রচারিত হবে। এতে ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি ও চিন্তা-চেতনার ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে। এ সকল প্রচারমাধ্যম ব্যক্তি, সমাজ ও জাতি গঠনে অনেক কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
বর্তমানে প্রচারমাধ্যমগুলোতে কেবল বিকৃত সংবাদ, খারাপ গান-বাজনা, অশ্লীল নাটক-সিনেমা, বিকৃত অঙ্গভঙ্গি করে যুবক-যুবতিদের নাচ-গানই প্রচার হয়। এ সকল অশ্লীল প্রচারণা সমাজ ও জাতিকে ধ্বংসমুখে পতিত করে। নির্লজ্জ বেহায়া মেয়েগুলো যখন পর্দার সামনে খোলামেলা পোশাকে অশ্লীল অঙ্গিভঙ্গির সাথে তাদের দেহ প্রকাশ করে, তখন যুবক-বৃদ্ধ সকল পুরুষের মনের মধ্যে নোংরা চিন্তা-চেতনা ও অবৈধ বাসনা বাসা বাঁধতে থাকে, যা ধীরে ধীরে ভয়ংকর টর্নেডো হয়ে বিস্ফোরিত হয়। এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে জাতিকে রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের বর্তমান সমাজের অবস্থা তো আমাদের চোখের সামনেই বিদ্যমান।
📄 গ. প্রিন্ট মিডিয়া
দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্র-পত্রিকাতে মুসলিম উম্মাহর সকল সংবাদ ও পর্যালোচনা প্রকাশিত হবে। বিভিন্ন সমস্যা ও ইসলামি দৃষ্টিতে তার সমাধানের কথা বলা হবে। জাতির সামনে ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি ও চিন্তা-চেতনা তুলে ধরা হবে প্রকৃষ্ট ভাষায়। অশ্লীলতা ও ধ্বংসের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করে সুন্দর ও নিরাপদ জীবনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
সুস্থ ধারার পত্র-পত্রিকা ও বই-পুস্তক ব্যক্তি, সমাজ ও জাতি গঠনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু আফসোস ও দুঃখজনক হলো, বর্তমানে যে সকল পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে, তা মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদে ভরা থাকে। এতে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও লেখা প্রকাশিত হয়। এ সকল পত্র-পত্রিকা সর্বদা মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ প্রচার করে।
📄 ঘ. বইপুস্তক প্রকাশ
রাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের ইসলামি ও ধর্মীয় বই, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই, কবিতা ও সাহিত্যের বই প্রকাশ করবে। যাতে ইসলামের সৌন্দর্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। মুসলিম মনিষীদের আলোকিত জীবনের আলোকময় বর্ণনা থাকবে।
নিঃসন্দেহে একটি ভালো বই যেমন একজন মানুষকে ভ্রষ্টতার অন্ধকার থেকে বের করে হিদায়াতের আলোর দিকে নিয়ে যেতে পারে। আবার একটি খারাপ বই একজন মানুষকে ধ্বংসের চূড়ান্ত গহ্বরে নিক্ষেপ করতে পারে। সুতরাং রাষ্ট্র সর্বদা খেয়াল রাখবে যে, কোনোভাবেই যেন খারাপ, নোংরা ও চরিত্র-বিধ্বংসী কোনো বই প্রকাশ না হয়। চরিত্র-বিধ্বংসী কোনো বই যেন কারও হাতে না পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।