📄 গ. তাজির
হদ ও কিসাসের মতো শাস্তির আরেকটি প্রকার হচ্ছে তাজির। যে সমস্ত অপরাধের জন্য শরিয়াহ কর্তৃক নির্দিষ্ট কোনো শাস্তি নেই, সেসব অপরাধের জন্য তাজিরের ব্যবস্থা রয়েছে। তাজিরের সীমা ও পরিমাণের ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো নস নেই। রাষ্ট্রের অভিজ্ঞ আলিম ও ফকিহরা বসে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করবেন। এটি বিচারকের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। বিচারক অপরাধের বিবেচনায় শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। কেউ ব্যক্তিগতভাবে তাজিরের দায়িত্ব নিতে পারবে না। তবে যাদের ওপর শিষ্টাচারের দায়িত্ব, তারা তাজিরের দায়িত্ব পালন করতে পারবে। যেমন : অভিভাবক, পিতা, স্বামী প্রমুখ তাদের অধীনদের শিষ্টাচার ঠিক রাখার জন্য সীমিত পরিসরে তাজিরের দায়িত্ব পাবে।
আভিধানিক অর্থে তাজির: تعزیر (তাজির) শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে মর্যাদা প্রদান, সম্মান প্রদর্শন। এর আরেকটি অর্থ হচ্ছে, শিষ্টাচার শিক্ষাদান, শাস্তিপ্রদান।
পারিভাষিক অর্থে তাজির: যে সকল অপরাধের নির্দিষ্ট শরয়ি হদ নেই, সে সকল অপরাধের জন্য শাস্তি প্রদান করে শিক্ষা প্রদান করা।
বিস্তারিত বলতে গেলে, যে সকল অপরাধের ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহমতে কোনো শাস্তি নির্ধারিত নেই, সে সকল অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি প্রদানকে তাজির বলে। এ ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সেই শাস্তিগুলো নির্ধারণ করবেন ইসলামি হাকিম বা বিচারক। বিচারক অপরাধীকে তার অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করবেন।
তবে বিচারককে অবশ্যই ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী ও গভীর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে। যে বিচারক ন্যায়পরায়ণতার সাথে মানুষের বিচার করেন, বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করেন না, আবেগতাড়িত হয়ে কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেন না, ব্যক্তি বিদ্বেষবশত কারও ওপর অন্যায় ফয়সালা করেন না; বরং তিনি ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাজ থেকে ফিতনা- ফাসাদ, অন্যায়-অপরাধ দূর করতে সচেষ্ট; সর্বদা তিনি তটস্থ থাকেন যে, তার ভুল ও অন্যায় বিচারের মাধ্যমে সমাজে না জানি ফিতনা-ফাসাদ ছড়িয়ে পড়ে—এমন বিচারকই বিভিন্ন অপরাধের তাজিরভিত্তিক শাস্তি নির্ধারণের অনুমতিপ্রাপ্ত।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
“আর তোমরা এমন ফাসাদ থেকে বেঁচে থাকো, যা বিশেষত শুধু তাদের ওপর পতিত হবে না, যারা তোমাদের মধ্যে জালিম। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহর আজাব অত্যন্ত কঠোর।”
টিকাঃ
৫৩২. আল-আহকামুস সুলতানিয়্যা : পৃ. নং ৩৪৪ (দারুল হাদিস, কায়রো)
৫৩৩. সুরা আল-আনফাল : ২৫