📄 গ. মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
الْرَّدَّةُ অথবা الْإِرْتِدَادُ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের হয়ে অন্য কোনো ধর্ম, দর্শন বা মতাদর্শে প্রবেশ করা।
একজন মুসলিম তার ধর্ম ইসলাম থেকে বের হয়ে ইহুদি, খ্রিষ্টান, হিন্দু বা অন্য কোনো ধর্মে প্রবেশ করা যেমন রিদ্দাহ, অনুরূপ মিল্লাতে ইসলাম থেকে বের হয়ে কমিউনিস্ট, অজ্ঞেয়বাদীসহ বিভিন্ন নাস্তিক্যবাদে প্রবেশ করাও রিদ্দাহর শামিল। রিদ্দাহর কারণে আল্লাহর ক্রোধ আবশ্যক হয়ে যায়। কারণ, সে আল্লাহর আদেশ থেকে বের হয়ে পথভ্রষ্ট অস্বীকারকারীদের পথ অবলম্বন করেছে এবং সত্য ধর্ম থেকে বাইরে চলে গেছে। এই অবাধ্য ও পাপিষ্ঠ লোকটি শাশ্বত সত্যকে হালকা ও তুচ্ছ মনে করেছে। ইসলাম ধর্ম তো এতটাই স্বচ্ছ ও পরিষ্কার যে, জ্ঞানসম্পন্ন কোনো লোক এ ব্যাপারে সন্দেহ করতে পারে না। কেবল পথভ্রষ্ট, নির্বোধ ও বোকারাই ইসলামের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারে এবং ইসলামকে হালকা মনে করতে পারে।
সুতরাং যারা ইসলাম ছেড়ে অন্য ধর্মে প্রবেশ করবে, তাদের সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে। তাদের জন্য থাকবে জাহান্নাম ও লাঞ্ছনাকর জীবন। আল্লাহ তাআলা বলেন :
“তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোজখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে।”
যে সকল লোক সম্মান ও ইজ্জতের পথ ছেড়ে হতভাগ্য ও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, ইসলাম তাকে হত্যা করা ওয়াজিব করেছে। তবে সাধারণ ক্ষেত্রে হাকিম বা বিচারক তার জন্য এক বা একাধিক দক্ষ আলিম নিযুক্ত করবেন, যারা তার সাথে কথা বলবে এবং ইসলামের ব্যাপারে তার সমস্ত সন্দেহ-সংশয় দূর করার চেষ্টা করবেন। অতঃপর সে যদি আবার ইসলামে ফিরে আসে, তাহলে তো ভালো। তাকে তার আপন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাকে হত্যা করা হবে না। আর যদি এরপরও সে তার রিদ্দাহর ওপর অটল থাকে, তাহলে বিচারক তাকে হত্যার আদেশ দেবেন এবং কোনো ধরনের সংশয় ছাড়াই তাকে হত্যা করতে হবে।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন :
'যে ইসলাম ধর্ম পরিবর্তন করবে, তোমরা তাকে হত্যা করো।'
রিদ্দাহ কখনো ব্যাপক আকার ধারণ করে। ইসলামের অকাট্য একটি বিধানের ব্যাপারেও যদি কোনো গোত্র বা জাতি আপত্তি জানায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও পূর্ণ সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে। তাদেরকে সমূলে উৎখাত করে তবেই ক্ষান্ত হবে। যেমন আবু বকর একদল লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, যারা ইসলামের সব বিধান মানলেও শুধু জাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল। অনুরূপ যারা মিথ্যা নবুওয়াত দাবি করবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এখানে সামান্যও নমনীয় হওয়া যাবে না। যেমনিভাবে আবু বকর নমনীয় হননি; বরং এর বিরুদ্ধে পুরো ইসলামি সেনাবাহিনী ব্যবহার করেছেন। মোটকথা, রিদ্দাহ জাতীয় কোনো ফিতনাকেই জিইয়ে রাখা যাবে না। কঠিনভাবে তাদের দমন করতে হবে এবং রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা ও শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
টিকাঃ
৪৯২. সুরা আল-বাকারা : ২১৭
৪৯৩. সহিহুল বুখারি: ৪/৬১, হা. নং ৩০১৭ (দারু তাওকিন নাজাত, বৈরুত)