📄 প্রথমত, শক্তি অর্জন
শক্তি অর্জন করার একটি অংশ হচ্ছে, আধুনিক সরঞ্জামাদি সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করা। শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করা। আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান লাভ করা। মুসলিমদের জন্য আধুনিক সরঞ্জামাদি ও আধুনিক প্রযুক্তির কৌশল রপ্ত করা ফরজ। সে ক্ষেত্রে আধুনিক যুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য বর্তমানে আবিষ্কৃত সরঞ্জামাদি যেমন : ট্যাংক, জঙ্গি বিমান, রণতরী, মর্টারসহ অন্যান্য অস্ত্রের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করা অপরিহার্য। এমন সকল যন্ত্র, বাহন, অস্ত্র ইত্যাদি তৈরি করা, চালনা করা বর্তমানে মুসলিমদের ওপর ফরজ হয়ে গেছে। এ ফরজটি ফরজে কিফায়া। মুসলিমদের মধ্যকার যেকোনো একটি দল এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হলে অন্যদের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যদি মুসলিমরা সবাই এ ফরজ কাজ ছেড়ে দেয়, তবে সকলেই গুনাহগার হবে।
📄 দ্বিতীয়ত, উত্তম প্রশিক্ষণ ও দক্ষ সৈনিক সংগ্রহ
সৈনিকগণ শারীরিকভাবে শক্তিশালী হবে। যুদ্ধকৌশলে হবে অনন্য। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র চালনায় হবে পারদর্শী। তাদের চিন্তা হবে পরিশুদ্ধ, পরিকল্পনা হবে শানিত। ইসলামি বিশুদ্ধ আকিদা হবে তাদের হৃদয়ের চাবিকাঠি। তাদের জ্ঞান হবে উন্নত। তারা হবে উত্তম চরিত্রের অধিকারী। এমন সৈনিকরাই হবে ইসলামি বাহিনীর যোগ্য সৈনিক।
অন্যদিকে সৈনিক যদি হয় জাহিল, অমনোযোগী ও অগোছালো, অস্ত্র চালনায় দুর্বল, চিন্তায় অদূরদর্শী, চরিত্র হয় কলুষিত, তাদের মধ্যকার হৃদ্যতা হয় দুর্বল এবং সৈনিক যদি হয় হীনচেতা; তবে এমন সৈনিকই পরাজয়ের জন্য যথেষ্ট। এ ক্ষেত্রে একদল সেনাবাহিনীর পরাজয় ডেকে আনার জন্য এর চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না।
📄 তৃতীয়ত, একনিষ্ঠ উত্তম সেনাসয়ক নির্বাচন
একনিষ্ঠ, দায়িত্ব পালনে সক্ষম সেনানায়ক, যারা যুদ্ধক্ষেত্রে দক্ষ হবে, যারা যুদ্ধ পরিচালনায় চতুর হবে, যারা বীরত্ব, বিচক্ষণতা, ও শ্রেষ্ঠ পর্যবেক্ষণের গুণে গুণান্বিত হবে—এমন সেনানায়কই হবে মুসলিম সেনাবাহিনী পরিচালনার জন্য যথাযোগ্য।
অন্যদিকে যে সেনানায়ক ইসলামের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে মসনদের লোকদের চাটুকার হয়, মদের আসরে, জুয়ার আড্ডায় যার দিন-রাত কেটে যায় এবং অধিকাংশ সময় যে অশ্লীলতার মাঝে ডুবে থাকে—এমন সেনানায়ক যোগ্য তো নয়ই; বরং মুসলিম জাতির নির্মম পরিণতির জন্য কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
📄 চতুর্থত, মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
মুসলিমদের মিডিয়ার শক্তিকে নিজ আয়ত্তাধীন করতে হবে। যেমন : পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশন, ম্যাগাজিনসহ ইত্যাদি প্রচারমাধ্যমকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। যাতে মুসলিমদের সাহস বৃদ্ধি ও তাদের প্রতিজ্ঞাকে শক্তিশালী করা যায় এবং উম্মাহর মধ্যে গতি সঞ্চার করে যুদ্ধের জন্য তাদের প্রস্তুত করা যায়।
ফলে উম্মাহ হবে ইমানি বলে বলীয়ান। উম্মাহ হবে ইসলামি আকিদার শক্তিতে শক্তিমান। উম্মাহ সত্যিকার অর্থে হবে গৌরবদীপ্ত। উম্মাহ হবে একদেহ, একপ্রাণ। যাদের একটি অঙ্গ ব্যথা পেলে সারা দেহ সে ব্যথা অনুভব করবে সমানভাবে। হাদিসে এটি মুসলিমদের গুণ ও বৈশিষ্ট্য হিসাবে বর্ণিত হয়েছে।
নুমান বিন বাশির বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ বলেন:
'সকল মুসলিম একটি দেহের ন্যায়। যদি চোখে ব্যথা হয়, তবে পুরো শরীর ব্যথা অনুভব করে। যদি মাথা ব্যথা হয়, তবে পুরো শরীর সে ব্যথা অনুভব করে।'৪৭৯
টিকাঃ
৪৭৯. সহিহু মুসলিম: ৪/২০০০, হা. নং ২৫৮৬ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)