📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন

📄 রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন


খলিফা নির্বাচন করবে উম্মতের 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ'। তাঁরা মানুষের মধ্য থেকে খিলাফতের জন্য উপযুক্ত একজনকে খুঁজে বের করবেন। বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ করবেন, কে খিলাফতের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। তারা দেখবেন কার মাঝে বিচক্ষণতা, দুনিয়াবি ও শরয়ি বিষয়ের পরিপূর্ণ ইলম আছে; কার মাঝে হিকমত ও প্রজ্ঞা ফুটে ওঠে এবং মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা কেমন ইত্যাদি।

'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ' কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি ব্যতীত খিলাফতের উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট পূর্ণ আদব ও সম্মানের সাথে খিলাফতের বিষয়টি পেশ করবেন। তাঁকে মুসলিম উম্মাহর খলিফা হওয়ার প্রস্তাব দেবেন। এ বিষয়ে তাকে বোঝাবেন। তিনি যদি রাজি হন, তাহলে প্রথমে তাঁরা তাঁর কাছে বাইআত দেবেন। অতঃপর তিনি কোনো মসজিদে অথবা রাষ্ট্রের গুরত্বপূর্ণ কোনো স্থানে জনগণের সামনে উপস্থিত হয়ে সকলের বাইআত গ্রহণ করবেন। তিনি যদি খিলাফতের দায়িত্ব নিতে রাজি না হন, তাহলে ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’ খিলাফতের যোগ্য অন্য আরেকজনকে খুঁজে বের করবেন, যার মধ্যে খলিফা হওয়ার সকল শর্তগুলো পাওয়া যায়। অতঃপর সবাই তাঁর কাছে বাইআত দেবেন।

কিন্তু যদি খিলাফতের জন্য সমান উপযুক্ত দুজন লোক থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে যিনি বয়সে প্রবীণ, তাকে খলিফা হিসাবে মনোনীত করবে। আর যদি এমন হয় যে, একজনের ইলম বেশি আর একজনের বীরত্ব বেশি, তাহলে পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে দুজনের একজন অগ্রাধিকার পাবে। উদাহরণত তখন যদি মুসলিম উম্মাহ কাফিরদের সাথে যুদ্ধের অবস্থায় থাকে, তাহলে অধিক বীরত্বের অধিকারীকে খলিফা হিসাবে মনোনীত করা হবে এবং সকলে তাঁর কাছে বাইআত দেবে। আর যদি তখন মুসলিম উম্মাহ মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের মুখোমুখি থাকে—যেমন তাদের মধ্যে বিদআত বা মানতিক-ফালসাফার ছড়াছড়ি থাকে, তাহলে আলিম অগ্রাধিকার পাবে। তাকে খলিফা হিসাবে মনোনীত করা হবে এবং তাঁর কাছে সবাই বাইআত দেবে।

রাষ্ট্রপ্রধান নিয়োগের আরেকটি পদ্ধতি হলো, খলিফা বেঁচে থাকাকালীন খিলাফতের উপযুক্ত কাউকে খলিফা হিসাবে নির্ধারণ করে যাবেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। মুসলিম জনগণ যদি তাকে মেনে নেয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে বাইআত দেয়, তাহলেই সে খলিফা হবে। পূর্বের খলিফার এ নিয়োগকে শুধু একটি মতামত বা নসিহত হিসাবে বিবেচনা করা হবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসাবে নয়। ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’ এই সিদ্ধান্তকে বাতিল করে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে খিলাফতের উপযুক্ত অন্য আরেকজনকে মনোনীত করতে পারবেন।

আবু বকর মৃত্যুর পূর্বে এ পদ্ধতিতেই উমর-কে খলিফা হিসাবে মনোনীত করেছিলেন। অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম সবাই তাঁকে মেনে নিয়েছিলেন। এভাবে উমর মৃত্যুর পূর্বে শীর্ষস্থানীয় ছয়জন সাহাবিকে নির্ধারণ করেছিলেন এবং ছেলে আব্দুল্লাহকে বাদ দিয়ে এদের মধ্য থেকে কাউকে খলিফা হিসাবে বেছে নিতে বলেছিলেন। খলিফা কর্তৃক পরবর্তী কোনো খলিফা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জটিল একটি কাজ। এর মাধ্যমে পরবর্তীকালে ফিতনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ, এ বিষয়ে আবু বকর ও উমর সঠিক ছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে যে অন্যরা সঠিক থাকবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আর উত্তরাধিকারসূত্রে খলিফা নির্ধারণের পদ্ধতি অর্থাৎ বাদশার ইনতিকালের পর তাঁর ছেলে বা পরিবারের অন্য কেউ তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পদ্ধতিটি ইসলামসম্মত নয়। এটা মানবস্বভাব বিরুদ্ধও বটে। ইসলামের স্বাধীন শুরার পরামর্শের ভিত্তিতে উপযুক্ত লোককে নিয়োগের পরিবর্তে যোগ্য হোক বা অযোগ্য পরিবারের কেউ শাসনকর্তা নিযুক্ত হবে—এটা জ্ঞানী মাত্রই মেনে নিতে পারে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px