📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ক. ইমাম

📄 ক. ইমাম


এ শব্দের অর্থ নেতা বা প্রধান। জনগণ যার অনুসরণ করে চলবে। চাই তা নামাজের ক্ষেত্রে হোক বা অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে হোক; জনগণ সর্বদা ইমামের অনুসরণ করবে। ইমাম তাদের কল্যাণ ও সফলতার দিকে নিয়ে যাবে এবং তাদের মধ্যে শরিয়ত বাস্তবায়ন করবে।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে ইবরাহিম-কে ইমাম বলেছেন। কারণ, তিনি ইবরাহিম-কে মানবজাতির জন্য ইমাম ও নেতা বানিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“যখন ইবরাহিমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। তিনি বললেন, আমার বংশধর থেকেও! তিনি বললেন, আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত পৌঁছবে না।”

টিকাঃ
৪২৮. সুরা আল-বাকারা : ১২৪

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 খ. খলিফা

📄 খ. খলিফা


খলিফা (الخليفة) শব্দটি ইস্তিখলাফ (الاستخلاف) শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ প্রতিনিধি নিয়োগ করা। মুসলমানদের ইজমার ভিত্তিতে আবু বকর-কে খলিফা নামে ডাকা হতো। কারণ, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অনুপস্থিতিতে নামাজে তাঁর প্রতিনিধি হয়ে ইমামতি করেছেন এবং তাঁর ইনতিকালের পর মুসলমানগণ তাঁকে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর খলিফা বা প্রতিনিধি নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং পরবর্তী সময়ে যারা এ মহান ইমামতের দায়িত্ব পালন করবে এবং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তাদেরকে খলিফা বলা যাবে।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 গ. আমিরুল মুমিনিন

📄 গ. আমিরুল মুমিনিন


মুসলমানদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সর্বপ্রথম এই নামে দ্বিতীয় খলিফা উমর-কে ডাকা হয়। এর অর্থ মুমিনদের আমির বা নেতা। আর এই নামটি মুসলিম শাসকের জন্য খুবই যথার্থ ও উপযুক্ত একটি নাম।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ঘ. মালিক বা বাদশাহ

📄 ঘ. মালিক বা বাদশাহ


তাত্ত্বিক ও দ্বীনি উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই এই নামটি মুসলিম শাসকের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। মালিক শব্দটি মানুষের মাঝে শাসকের প্রচলিত নাম হওয়া ছাড়াও শব্দটি খলিফা ও ইমাম শব্দেরও প্রতিশব্দ। মুসা তার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তাআলার নিয়ামত স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সময় 'মালিক' শব্দের বহুবচন 'মুলুক' ব্যবহার করেছেন। কুরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন:

“যখন মুসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামত স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে নবি-রাসুল সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে বাদশাহ বানিয়েছেন।”

বিম্বাসী সেনাপতি তালুত, যিনি অবিশ্বাসী জালুতকে হত্যা করেছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাকে বনি ইসরাইলের মালিক বা বাদশাহ বানিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আর তাদেরকে তাদের নবি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তালুতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ সাব্যস্ত করেছেন।”

টিকাঃ
৪২৯. সুরা আল-মায়িদা: ২০
৪৩০. সুরা আল-বাকারা: ২৪৭

ফন্ট সাইজ
15px
17px