📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 বাইআতের গুরুত্ব

📄 বাইআতের গুরুত্ব


ইসলামি শরিয়তে বাইআতের গুরুত্ব অপরিসীম। মুসলিমদের একতাবদ্ধ থাকা এবং তাদের শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাইআত অনেক বড় ভূমিকা রাখে। বাইআতের দুটি দিক রয়েছে। এক. জনগণ। দুই. শাসক। জনগণ বাইআত প্রদান করে এই অঙ্গীকার করে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত শাসক তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করবে এবং তাদের মধ্যে আল্লাহর শরিয়ত বাস্তবায়ন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়া বা বিদ্রোহ করার কোনো অধিকার নেই।

অন্যদিকে জনগণের পক্ষ থেকে শাসকের প্রতি এই আস্থা ও তাকে এই দায়িত্ব অর্পনের কারণে শাসক সাধারণ মানুষের প্রতি আরও সদয় হবেন, মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তার ইখলাসে পূর্ণতা আসবে। তিনি আরও দৃঢ়ভাবে আল্লাহর বিধান মেনে চলবেন। মানুষের মধ্যে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করবেন। এ ক্ষেত্রে তিনি চুল পরিমাণও ছাড় দেবেন না। আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে কোনো কিছুই তাকে টলাতে পারবে না।

এসব কিছুই জনগণের সাথে শাসকদের মহব্বত-ভালোবাসা বৃদ্ধির মাধ্যম, যা তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও মজবুত করে তোলে। তাদের মাঝে দূরত্ব কমে যায়। পরস্পর মহব্বত ও ভালোবাসা, ইকরাম ও সম্মানবোধ সৃষ্টি হয়। ফলে মুসলিম উম্মাহ হয়ে ওঠে সুদৃঢ় শক্তিশালী, সীসাঢালা মজবুত এক প্রাচীর। কোনো কিছুই তাদের রুখতে পারে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“হে নবি, ইমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে বলে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, জারজ সন্তানকে স্বামীর ঔরস থেকে গর্ভজাত সন্তান বলে মিথ্যা দাবি করবে না এবং ভালো কাজে আপনার অবাধ্যতা করবে না, তখন তাদের বাইআত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।”

টিকাঃ
৪২৬. সুরা আত-তাওবা: ৭১

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 কাকে বাইআত দেওয়া হবে

📄 কাকে বাইআত দেওয়া হবে


আমরা পূর্বেই বলে এসেছি যে বাইআত দিতে হবে মুসলিম ইমামকে। ইমাম নির্ধারণ বা নির্বাচন করবেন 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ'। অতঃপর সকল মুসলমান এ ইমামকে বাইআত দেবে। অনুরূপভাবে আমরা বাইআতের স্বরূপ বর্ণনায় বলেছি, সকল মুসলমানের ওপর কতর্ব্য হলো, যতক্ষণ না ইমাম তাদের আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমগণ ইমামের কথা মানার ব্যাপারে অটল থাকবে। কারণ, সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতা হয়, সৃষ্টির এমন কোনো আদেশের আনুগত্য বৈধ নয়। ইমামের দায়িত্ব বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, জনগণের পক্ষ থেকে ন্যায়পরায়ণ মুসলিম শাসককে এই শর্তের ওপর বাইআত দেবে যে, তিনি সকলকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালনা করবেন, তাদের মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন, আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে চুল পরিমাণও ছাড় দেবেন না। সংক্ষেপে বাইআতের মূলনীতি এমনই।

কিন্তু এখন 'বর্তমান সময়ে কাকে বাইআত দেওয়া হবে?' এমন একটি প্রশ্ন আসতে পারে। কারণ, বর্তমান সময়ে ইসলাম বাস্তবতার ময়দান থেকে অনেক দূরে। কোনো ক্ষেত্রেই ইসলামের বাস্তবায়ন নেই। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছুটা থাকলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তা একেবারেই নেই। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে কুফরি আইন-কানুনের মাধ্যমে। চাই সেটা সমাজতন্ত্র হোক বা গণতন্ত্র হোক অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো শাসনব্যবস্থা হোক। এসব ব্যবস্থা তো সব স্পষ্টই কুফরি। তাহলে বর্তমানে কাকে আমরা বাইআত দেবো?

বর্তমানে প্রতিটি মুসলিমের কাঁধে অর্পিত একটি দায়িত্ব হলো, নতুন করে ইসলামি জীবনধারা ফিরিয়ে আনা। জমিনে আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের কাজে আত্মনিয়োগ করা। এ দায়িত্ব তো সাধারণ কোনো দায়িত্ব নয়-ই; বরং সকল মুসলিমের ওপর এটি একটি ফরজ দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে শিথিলতা করা, কিংবা দায়িত্ব থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখার কোনো সুযোগই নেই। তাই সকল সাধারণ মুসলিমের অবশ্যকর্তব্য হলো, বর্তমানে যে বা যারা ইতিদালি ও বিশুদ্ধ মানহাজে কুফর ও কুফরি শক্তিকে প্রতিহত করে জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েম করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে, শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করছে, তাদের বাইআত দেওয়া। এ মহান কাজে তাদের শক্তিশালী করা এবং তাদের সহযোগিতা করা। যাতে করে আবার নতুন করে বিশ্বে ইসলাম ও ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে, জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েম হয়, ফিরে আসে সোনালি অতীত এবং কায়িম হয় ইনসাফ ও ন্যায়বিচার।

ইসলামে বর্ণিত বিধানে সে ইমাম ও অনুসারীর কথা বলা হয়েছে যারা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে দাখিল হওয়ার জন্য মানুষকে আহ্বান করে, যারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যায়, বিরোধিতাকারীরা যাদের একটি চুলও বাঁকা করতে পারে না। শত্রুরা যতই ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশল করুক না কেন, তারা আল্লাহর আদেশের ওপর অটল থাকে। এ অবস্থায় হয়তো শরিয়ত প্রতিষ্ঠা হবে নয়তো তারা আল্লাহর রাহে শাহাদত বরণ করবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আপনি বলুন, তোমরা আমাদের দুটি কল্যাণের একটির প্রতিক্ষা করছ। আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্য যে, আল্লাহ তোমাদের আজাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাতে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।”

টিকাঃ
৪২৭. সুরা আত-তাওবা : ৫২

ফন্ট সাইজ
15px
17px