📄 আমিরের মাঝে অপছন্দনীয় কোনো কিছু দেখলে করণীয়
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :
مَنْ كَرِهَ مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا فَلْيَصْبِرْ، فَإِنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنَ السُّلْطَانِ شِبْرًا مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
'যে ব্যক্তি তার আমিরের কোনো কিছুতে অসন্তুষ্ট হয়, সে যেন ধৈর্যধারণ করে। কারণ, যে ব্যক্তি শাসকের আনুগত্য থেকে এক বিঘত পরিমাণও বের হয়ে গেল, সে জাহিলি মৃত্যুর মতো মৃত্যুবরণ করল।'
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবিজি বলেন : 'কেউ যদি তার আমিরের মধ্যে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তাহলে সে যেন ধৈর্যধারণ করে। কারণ, যে ব্যক্তি সংঘবদ্ধ জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করল, তবে সে জাহিলি মৃত্যুর মতো মৃত্যুবরণ করল।'
টিকাঃ
৪০৯. সহিহুল বুখারি: ৯/৪৭, হা. নং ৭০৫৩
৪১০. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৭৭, হা. নং ১৮৪৯
📄 আমিরের ভুল হলে করণীয়
আমিরের ভুল হলে মুসলমানদের কর্তব্য হলো, উত্তম নসিহতের মাধ্যমে এবং সুন্দর ও হিকমতপূর্ণ ভাষায় তাকে সতর্ক করা। তাকে তার ভুলত্রুটি থেকে ফিরিয়ে সৎ পথে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখা। আমিরের আনুগত্য নিঃশর্ত নয়; বরং তা শরিয়তের বিধানের সাথে শর্তযুক্ত। অর্থাৎ শাসক যখন আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ করবে, তখন তার আনুগত্য করা যাবে না।
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন : 'প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আমিরের আদেশ শোনা ও মান্য করা ওয়াজিব; চাই সেটা পছন্দের হোক বা অপছন্দের। তবে গুনাহের আদেশ করলে ভিন্ন কথা। সুতরাং যখন কোনো গুনাহের কাজের আদেশ করা হবে, তখন আর তার কথা শোনা যাবে না, তার আদেশ মানা যাবে না।'
উবাদা বিন সামিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : 'আমরা রাসুলুল্লাহ-কে বাইআত দিলাম এ কথার ওপর যে, আমরা সুখে-দুঃখে, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, আমাদের ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতে হলেও আমরা তাঁর কথা মানব ও আনুগত্য করব। আমরা শাসক বা আমিরের সাথে বিবাদে লিপ্ত হব না। তিনি বলেন, তবে হ্যাঁ, যদি তোমরা তার মধ্যে স্পষ্ট কুফরি দেখতে পাও, যে ব্যাপারে তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল আছে, তাহলে ভিন্ন কথা।'
টিকাঃ
৪১১. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৬৯, হা. নং ১৮৩৯
৪১২. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৭০, হা. নং ১৭০৯