📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আমিরের স্বল্প ত্রুটিতে করণীয়

📄 আমিরের স্বল্প ত্রুটিতে করণীয়


আমিরের মধ্যে যদি ব্যক্তিগত কিছু দুর্বলতা দেখা দেয়, তিনি যদি নিজ স্বার্থে ন্যায়পরায়ণতা থেকে কিছুটা দূরে সরে যান, নিজ স্বার্থ রক্ষার জন্য কারও প্রতি সামান্য জুলুমও করে ফেলেন, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে শরিয়তের অনুসরণ করেন, ইসলামের প্রতিটি বিধান মেনে চলেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না। কারণ, সামান্য ও তুচ্ছ কিছু ভুলের কারণে শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে জমিনে ফিতনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

ওয়েল হাজরামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সালামা বিন ইয়াজিদ রাসুলুল্লাহ-কে প্রশ্ন করলেন, 'হে আল্লাহর নবি, আপনার কী অভিমত? যদি আমাদের ওপর এমন শাসক আসে, যারা আমাদের থেকে তো নিজেদের হক পরিপূর্ণ বুঝে নেয়, কিন্তু আমাদের হক ঠিকমতো দেয় না। তখন আপনি আমাদের কী আদেশ করেন?' রাসুলুল্লাহ তাকে এড়িয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি আবারও জিজ্ঞাসা করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ বললেন, 'তোমরা তাদের কথা শোনো এবং তাদের আনুগত্য করো। কারণ, তারা যা বহন করে, তার দায়িত্ব তাদের আর তোমরা যা কিছু বহন করবে, তার দায়িত্ব তোমাদের।'

টিকাঃ
৪০৮. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৭৪, হা. নং ১৮৪৬

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আমিরের মাঝে অপছন্দনীয় কোনো কিছু দেখলে করণীয়

📄 আমিরের মাঝে অপছন্দনীয় কোনো কিছু দেখলে করণীয়


ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন :

مَنْ كَرِهَ مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا فَلْيَصْبِرْ، فَإِنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنَ السُّلْطَانِ شِبْرًا مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
'যে ব্যক্তি তার আমিরের কোনো কিছুতে অসন্তুষ্ট হয়, সে যেন ধৈর্যধারণ করে। কারণ, যে ব্যক্তি শাসকের আনুগত্য থেকে এক বিঘত পরিমাণও বের হয়ে গেল, সে জাহিলি মৃত্যুর মতো মৃত্যুবরণ করল।'

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবিজি বলেন : 'কেউ যদি তার আমিরের মধ্যে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তাহলে সে যেন ধৈর্যধারণ করে। কারণ, যে ব্যক্তি সংঘবদ্ধ জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করল, তবে সে জাহিলি মৃত্যুর মতো মৃত্যুবরণ করল।'

টিকাঃ
৪০৯. সহিহুল বুখারি: ৯/৪৭, হা. নং ৭০৫৩
৪১০. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৭৭, হা. নং ১৮৪৯

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আমিরের ভুল হলে করণীয়

📄 আমিরের ভুল হলে করণীয়


আমিরের ভুল হলে মুসলমানদের কর্তব্য হলো, উত্তম নসিহতের মাধ্যমে এবং সুন্দর ও হিকমতপূর্ণ ভাষায় তাকে সতর্ক করা। তাকে তার ভুলত্রুটি থেকে ফিরিয়ে সৎ পথে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখা। আমিরের আনুগত্য নিঃশর্ত নয়; বরং তা শরিয়তের বিধানের সাথে শর্তযুক্ত। অর্থাৎ শাসক যখন আল্লাহর অবাধ্যতার আদেশ করবে, তখন তার আনুগত্য করা যাবে না।

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন : 'প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আমিরের আদেশ শোনা ও মান্য করা ওয়াজিব; চাই সেটা পছন্দের হোক বা অপছন্দের। তবে গুনাহের আদেশ করলে ভিন্ন কথা। সুতরাং যখন কোনো গুনাহের কাজের আদেশ করা হবে, তখন আর তার কথা শোনা যাবে না, তার আদেশ মানা যাবে না।'

উবাদা বিন সামিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : 'আমরা রাসুলুল্লাহ-কে বাইআত দিলাম এ কথার ওপর যে, আমরা সুখে-দুঃখে, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, আমাদের ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতে হলেও আমরা তাঁর কথা মানব ও আনুগত্য করব। আমরা শাসক বা আমিরের সাথে বিবাদে লিপ্ত হব না। তিনি বলেন, তবে হ্যাঁ, যদি তোমরা তার মধ্যে স্পষ্ট কুফরি দেখতে পাও, যে ব্যাপারে তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল আছে, তাহলে ভিন্ন কথা।'

টিকাঃ
৪১১. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৬৯, হা. নং ১৮৩৯
৪১২. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৭০, হা. নং ১৭০৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px