📄 সাধ্যের ভেতর আনুগত্য
কারও আদেশ পালনের ক্ষেত্রে শক্তি ও সামর্থ্যের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকবে। শক্তি ও সামর্থ্যের বাইরে আনুগত্যের আদেশ নেই। কারণ, সামর্থ্যের বাইরে কোনো কিছু অর্জিত হয় না। ইসলামও কাউকে শক্তি ও সামর্থ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন :
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
'আল্লাহ কারও ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।'
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : 'আমরা যখন রাসুলুল্লাহ-এর নিকট শ্রবণ ও আনুগত্যের বাইআত দিতাম, তখন তিনি বলতেন, তোমাদের সামর্থ্যানুসারে মান্য করো।'
টিকাঃ
৪০২. সহিহুল বুখারি: ৯/৬২, হা. নং ৭১৪২
৪০৩. সুরা আল-বাকারা: ২৮৬
৪০৪. সহিহুল বুখারি: ৯/৭৭, হা. নং ৭২০২
📄 আমিরের বিরুদ্ধে অন্যায় বিদ্রোহ
অন্যায়ভাবে আমিরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না। এ ব্যাপারে হাদিসে অনেক বড় সতর্কবাণী এসেছে। আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
مَنْ خَرَجَ مِنَ الطَّاعَةِ، وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ، ثُمَّ مَاتَ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
'যে ব্যক্তি আনুগত্য ছেড়ে দিল এবং দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করল, সে জাহিলি মৃত্যুর মতো মৃত্যুবরণ করল।'
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :
مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ، وَمَنْ يُطِعِ الأَمِيرَ فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ يَعْصِ الأَمِيرَ فَقَدْ عَصَانِي
'যে আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহর অবাধ্য হলো। যে আমিরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল। আর যে আমিরের অবাধ্য হলো, সে আমার অবাধ্য হলো।'
টিকাঃ
৪০৫. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৭৭, হা. নং ১৮৪৮
৪০৬. সহিহুল বুখারি: ৪/৫০, হা. নং ২৯৫৭
📄 আমিরের আনুগত্য হবে বিনয়ের সাথে
আমিরের আনুগত্য করতে হবে বিনয় ও আগ্রহ নিয়ে, মহব্বত ও ইকরামের সাথে। কোনোভাবেই আমিরকে অসম্মান করা যাবে না। তাকে কোনো প্রকার কষ্ট দেওয়া চলবে না। পাপিষ্ঠ ও ফাসিক লোকেরাই কেবল ন্যায়পরায়ণ শাসকের অবাধ্য হতে পারে। আবু বাকরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :
وَمَنْ أَهَانَ سُلْطَانَ اللهِ فِي الدُّنْيَا، أَهَانَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'যে ব্যক্তি দুনিয়ায় আল্লাহর খলিফাকে অপদস্থ করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামত দিবসে লাঞ্ছিত করবেন।'
টিকাঃ
৪০৭. মুসনাদু আহমাদ: ৩৪/৭৯, হা. নং ২০৪৩৩ - হাদিসটি হাসান।
📄 আমিরের স্বল্প ত্রুটিতে করণীয়
আমিরের মধ্যে যদি ব্যক্তিগত কিছু দুর্বলতা দেখা দেয়, তিনি যদি নিজ স্বার্থে ন্যায়পরায়ণতা থেকে কিছুটা দূরে সরে যান, নিজ স্বার্থ রক্ষার জন্য কারও প্রতি সামান্য জুলুমও করে ফেলেন, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণভাবে শরিয়তের অনুসরণ করেন, ইসলামের প্রতিটি বিধান মেনে চলেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না। কারণ, সামান্য ও তুচ্ছ কিছু ভুলের কারণে শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে জমিনে ফিতনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা আছে।
ওয়েল হাজরামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সালামা বিন ইয়াজিদ রাসুলুল্লাহ-কে প্রশ্ন করলেন, 'হে আল্লাহর নবি, আপনার কী অভিমত? যদি আমাদের ওপর এমন শাসক আসে, যারা আমাদের থেকে তো নিজেদের হক পরিপূর্ণ বুঝে নেয়, কিন্তু আমাদের হক ঠিকমতো দেয় না। তখন আপনি আমাদের কী আদেশ করেন?' রাসুলুল্লাহ তাকে এড়িয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি আবারও জিজ্ঞাসা করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ বললেন, 'তোমরা তাদের কথা শোনো এবং তাদের আনুগত্য করো। কারণ, তারা যা বহন করে, তার দায়িত্ব তাদের আর তোমরা যা কিছু বহন করবে, তার দায়িত্ব তোমাদের।'
টিকাঃ
৪০৮. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৭৪, হা. নং ১৮৪৬