📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আমিরের আনুগত্য করা ফরজ

📄 আমিরের আনুগত্য করা ফরজ


মুসলিম শাসক হলো শরয়ি বিধিবিধান বাস্তবায়ন করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। ইসলামের হুকুম-আহকাম বাস্তবায়নে খলিফা কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না; বরং তিনি অনমনীয় হয়ে স্বীয় দায়িত্ব পালন করে যাবেন। খলিফা আল্লাহর বিধান বাদ দিয়ে নিজের মনের চাহিদামতো অথবা আল্লাহর আইনের বিপরীত অন্য কোনো আইন দিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন না; বরং আল্লাহর বিধান অনুযায়ীই শাসনকার্য পরিচালনা করবেন।

এ কারণেই মুসলিম জনগণের ওপর মুসলিম শাসকের আনুগত্য করা ওয়াজিব। তার অবাধ্য হওয়া বা বিদ্রোহ করা জায়িজ নেই। মুসলিম জনগণের ওপর মুসলিম শাসকের আনুগত্য করা ওয়াজিব, এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আদেশ করে বলেন :

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ
'হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা কর্তৃত্বশীল (শাসক ও বিচারক) আছে, তাদেরও।'

শরিয়ত অনুযায়ী বিচারের জন্য মূলনীতি গ্রহণের উৎস দুটি : ১. কুরআনে কারিম। ২. হাদিসে রাসুল। আল্লাহ তাআলা বলেন :

فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا
'অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়ো, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রত্যর্পণ করো, যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসে বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক থেকে উত্তম।'

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন: 'প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আমিরের আদেশ শোনা ও মান্য করা ওয়াজিব; চাই সেটা পছন্দের হোক বা অপছন্দের। তবে গুনাহের কাজের আদেশ করলে ভিন্ন কথা। সুতরাং যখন কোনো গুনাহের কাজের আদেশ করা হবে, তখন আর তার কথা শোনা ও মানা যাবে না।'

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন: 'তোমার সচ্ছলতায়-অসচ্ছলতায়, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় এবং তোমার ওপর কাউকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও আমিরের কথা শোনা ও তার আনুগত্য করা তোমার জন্য ওয়াজিব।'

টিকাঃ
৩৯৮. সুরা আন-নিসা : ৫৯
৩৯৯. সুরা আন-নিসা : ৫৯
৪০০. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৬৯, হা. নং ১৮৩৯
৪০১. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৬৭, হা. নং ১৮৩৬

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সাধ্যের ভেতর আনুগত্য

📄 সাধ্যের ভেতর আনুগত্য


কারও আদেশ পালনের ক্ষেত্রে শক্তি ও সামর্থ্যের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকবে। শক্তি ও সামর্থ্যের বাইরে আনুগত্যের আদেশ নেই। কারণ, সামর্থ্যের বাইরে কোনো কিছু অর্জিত হয় না। ইসলামও কাউকে শক্তি ও সামর্থ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন :

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
'আল্লাহ কারও ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।'

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : 'আমরা যখন রাসুলুল্লাহ-এর নিকট শ্রবণ ও আনুগত্যের বাইআত দিতাম, তখন তিনি বলতেন, তোমাদের সামর্থ্যানুসারে মান্য করো।'

টিকাঃ
৪০২. সহিহুল বুখারি: ৯/৬২, হা. নং ৭১৪২
৪০৩. সুরা আল-বাকারা: ২৮৬
৪০৪. সহিহুল বুখারি: ৯/৭৭, হা. নং ৭২০২

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আমিরের বিরুদ্ধে অন্যায় বিদ্রোহ

📄 আমিরের বিরুদ্ধে অন্যায় বিদ্রোহ


অন্যায়ভাবে আমিরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না। এ ব্যাপারে হাদিসে অনেক বড় সতর্কবাণী এসেছে। আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :

مَنْ خَرَجَ مِنَ الطَّاعَةِ، وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ، ثُمَّ مَاتَ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
'যে ব্যক্তি আনুগত্য ছেড়ে দিল এবং দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করল, সে জাহিলি মৃত্যুর মতো মৃত্যুবরণ করল।'

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন :

مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ، وَمَنْ يُطِعِ الأَمِيرَ فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ يَعْصِ الأَمِيرَ فَقَدْ عَصَانِي
'যে আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে আল্লাহর অবাধ্য হলো। যে আমিরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল। আর যে আমিরের অবাধ্য হলো, সে আমার অবাধ্য হলো।'

টিকাঃ
৪০৫. সহিহু মুসলিম: ৩/১৪৭৭, হা. নং ১৮৪৮
৪০৬. সহিহুল বুখারি: ৪/৫০, হা. নং ২৯৫৭

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 আমিরের আনুগত্য হবে বিনয়ের সাথে

📄 আমিরের আনুগত্য হবে বিনয়ের সাথে


আমিরের আনুগত্য করতে হবে বিনয় ও আগ্রহ নিয়ে, মহব্বত ও ইকরামের সাথে। কোনোভাবেই আমিরকে অসম্মান করা যাবে না। তাকে কোনো প্রকার কষ্ট দেওয়া চলবে না। পাপিষ্ঠ ও ফাসিক লোকেরাই কেবল ন্যায়পরায়ণ শাসকের অবাধ্য হতে পারে। আবু বাকরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি :

وَمَنْ أَهَانَ سُلْطَانَ اللهِ فِي الدُّنْيَا، أَهَانَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'যে ব্যক্তি দুনিয়ায় আল্লাহর খলিফাকে অপদস্থ করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামত দিবসে লাঞ্ছিত করবেন।'

টিকাঃ
৪০৭. মুসনাদু আহমাদ: ৩৪/৭৯, হা. নং ২০৪৩৩ - হাদিসটি হাসান।

ফন্ট সাইজ
15px
17px