📄 একাধিক বিবাহের যৌক্তিকতা
এ মাসআলা নিয়ে ইসলামবিদ্বেষীরা খুব সমালোচনা করে। ইসলাম এ সংখ্যাটিকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বেঁধে দিয়েছে। মূলত একাধিক বিবাহের বিষয়টি এই দ্বীনের প্রশস্ত ও ব্যাপক ভাবনার সাথে সংশ্লিষ্ট।
স্বাভাবিক অবস্থায় একটিই বিয়ে করাই যথেষ্ট। আর যদি সামাজিক, আত্মিক কিংবা শারীরিক কোনো প্রয়োজনে কিংবা কোনো মেয়েকে সাহায্য করার নিয়তে একাধিক বিবাহ করার প্রয়োজন হয়, তখন দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বিবাহ করা উচিত। ইসলাম বিভিন্ন কারণে একাধিক বিবাহ বৈধ করেছে। এমন একটি কারণ হলো, কারও স্ত্রী বন্ধ্যা—তার কোনো সন্তান হবে না। কিন্তু মানুষ স্বভাবতই চায়, তার বংশবৃদ্ধি হোক। এমতাবস্থায় যৌক্তিকভাবেই একাধিক বিবাহের প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয় আরেকটি উদাহরণ হলো, যদি কোনো ব্যক্তির স্ত্রী দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এমতাবস্থায় বিয়ে না করে থাকা উক্ত ব্যক্তির জন্য অনেক কষ্টকর হবে। সে জন্য তাকে আরেকটি বিয়ে করে জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
কিছু অবুঝ লোকদের মুখে এ ধরনের কথা শোনা যায় যে, ইসলাম পুরুষের জন্য চার স্ত্রী রাখার অনুমতি দিল; তাহলে মহিলাকে চার স্বামী রাখার অনুমতি দিল না কেন!? প্রথমত, একই স্ত্রীর নিকটে একাধিক স্বামী রাখার অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানের বংশ ও জন্মে স্পষ্ট জারজ হওয়ার সমস্যাটি দেখা দেবে। দ্বিতীয়ত, একজন নারী একাধিক স্বামীর ধকল সইতে পারে না। কেননা নারীকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। একজন নারীর জন্য একজন স্বামীর পক্ষ থেকে আসা শারীরিক, আত্মিক ও স্নায়বিক ধকল সইতেই কষ্টকর হয়ে যায়।
এ মাসআলা নিয়ে ইসলামবিদ্বেষীরা খুব সমালোচনা করে। ইসলাম এ সংখ্যাটিকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বেঁধে দিয়েছে। মূলত একাধিক বিবাহের বিষয়টি এই দ্বীনের প্রশস্ত ও ব্যাপক ভাবনার সাথে সংশ্লিষ্ট।
স্বাভাবিক অবস্থায় একটিই বিয়ে করাই যথেষ্ট। আর যদি সামাজিক, আত্মিক কিংবা শারীরিক কোনো প্রয়োজনে কিংবা কোনো মেয়েকে সাহায্য করার নিয়তে একাধিক বিবাহ করার প্রয়োজন হয়, তখন দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বিবাহ করা উচিত। ইসলাম বিভিন্ন কারণে একাধিক বিবাহ বৈধ করেছে। এমন একটি কারণ হলো, কারও স্ত্রী বন্ধ্যা—তার কোনো সন্তান হবে না। কিন্তু মানুষ স্বভাবতই চায়, তার বংশবৃদ্ধি হোক। এমতাবস্থায় যৌক্তিকভাবেই একাধিক বিবাহের প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয় আরেকটি উদাহরণ হলো, যদি কোনো ব্যক্তির স্ত্রী দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এমতাবস্থায় বিয়ে না করে থাকা উক্ত ব্যক্তির জন্য অনেক কষ্টকর হবে। সে জন্য তাকে আরেকটি বিয়ে করে জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
কিছু অবুঝ লোকদের মুখে এ ধরনের কথা শোনা যায় যে, ইসলাম পুরুষের জন্য চার স্ত্রী রাখার অনুমতি দিল; তাহলে মহিলাকে চার স্বামী রাখার অনুমতি দিল না কেন!? প্রথমত, একই স্ত্রীর নিকটে একাধিক স্বামী রাখার অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানের বংশ ও জন্মে স্পষ্ট জারজ হওয়ার সমস্যাটি দেখা দেবে। দ্বিতীয়ত, একজন নারী একাধিক স্বামীর ধকল সইতে পারে না। কেননা নারীকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। একজন নারীর জন্য একজন স্বামীর পক্ষ থেকে আসা শারীরিক, আত্মিক ও স্নায়বিক ধকল সইতেই কষ্টকর হয়ে যায়।
📄 পরিচালনার দায়িত্ব পুরুষদের, নারীদের নয়
পুরুষদের পরিচালনার এ দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে :
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ
'পুরুষেরা নারীদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক।'
এ আয়াতটির মর্মার্থ হলো, পুরুষগণ নারীদের তত্ত্বাবধান ও ভরণপোষণ করার ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত। ইসলাম পরিচালনা-তত্ত্বাবধানের মতো এ গুরুদায়িত্ব পুরুষকে কেন দিয়েছে? কারণ পুরুষ ও নারীর মাঝে শারীরিক, আত্মিক ও স্নায়বিক দিক থেকে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পুরুষগণ নারীদের চেয়েও অধিক শারীরিক শক্তি, আত্মিক বল ও স্নায়বিক শক্তির অধিকারী। পরিচালনার মতো কঠিন দায়িত্ব, বিভিন্ন সময়ে উদ্ভূত বিবিধ বিপদাপদের মোকাবেলায় দৃঢ় থাকার ক্ষেত্রে পুরুষ অধিক উপযুক্ত। এ দায়িত্ব পুরুষের হলেও ইসলাম স্বামী-স্ত্রী উভয়কে তা আদায়ে পরস্পরের সাথে পরামর্শ করার নির্দেশ দেয়।
টিকাঃ
৩৮৮. তাজুল আরুস: ৩৩/৩০৮ (দারুল হিদায়া, বারিদা)
৩৮৯. সুরা আন-নিসা: ৩৪
৩৯০. সুরা আল-বাকারা: ২৩৩
পুরুষদের পরিচালনার এ দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে :
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ
'পুরুষেরা নারীদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক।'
এ আয়াতটির মর্মার্থ হলো, পুরুষগণ নারীদের তত্ত্বাবধান ও ভরণপোষণ করার ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত। ইসলাম পরিচালনা-তত্ত্বাবধানের মতো এ গুরুদায়িত্ব পুরুষকে কেন দিয়েছে? কারণ পুরুষ ও নারীর মাঝে শারীরিক, আত্মিক ও স্নায়বিক দিক থেকে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। পুরুষগণ নারীদের চেয়েও অধিক শারীরিক শক্তি, আত্মিক বল ও স্নায়বিক শক্তির অধিকারী। পরিচালনার মতো কঠিন দায়িত্ব, বিভিন্ন সময়ে উদ্ভূত বিবিধ বিপদাপদের মোকাবেলায় দৃঢ় থাকার ক্ষেত্রে পুরুষ অধিক উপযুক্ত। এ দায়িত্ব পুরুষের হলেও ইসলাম স্বামী-স্ত্রী উভয়কে তা আদায়ে পরস্পরের সাথে পরামর্শ করার নির্দেশ দেয়।
টিকাঃ
৩৮৮. তাজুল আরুস: ৩৩/৩০৮ (দারুল হিদায়া, বারিদা)
৩৮৯. সুরা আন-নিসা: ৩৪
৩৯০. সুরা আল-বাকারা: ২৩৩
📄 মিরাসি সম্পত্তিতে নারীদের অধিকার
ইসলামের বিধান হলো, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদে তার ছেলে সন্তানরা মেয়ে সন্তানদের দ্বিগুণ পাবে। নারীদের তুলনায় পুরুষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেশি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ যেন পুরুষদের সে দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে সহায়ক হয়—এমন একটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দরকার সুষম বণ্টনের।
কে না জানে, কঠোর পরিশ্রম ও কষ্টের কাজগুলোর দায়িত্ব পুরুষদের? অন্যদিকে ঘরের কাজ, শিশুর পরিচর্যা, বাড়ির দেখাশোনা এগুলো নারীদের দায়িত্ব। পুরুষদের কাজে কঠোরতা ও কষ্ট বেশি। আর নারীদের কাজে স্নেহ ও মায়া-মমতা বেশি। এ ছাড়াও সব সময়ই নারী পুরুষের অর্ধেক সম্পদ পায়, বিষয়টি মোটেও তা নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রেই একজন নারী পুরুষের চেয়ে বহুগুণ বেশিও পেয়ে থাকে। উদাহরণত, একজন ব্যক্তি এক স্ত্রী, এক কন্যা ও পিতা রেখে মারা গেল। এ ক্ষেত্রে কন্যা সম্পদের অর্ধেক পেয়ে লোকটির পিতার থেকেও অংশে অনেক বেশিই পেয়েছে।
ইসলামের বিধান হলো, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদে তার ছেলে সন্তানরা মেয়ে সন্তানদের দ্বিগুণ পাবে। নারীদের তুলনায় পুরুষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেশি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ যেন পুরুষদের সে দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে সহায়ক হয়—এমন একটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দরকার সুষম বণ্টনের।
কে না জানে, কঠোর পরিশ্রম ও কষ্টের কাজগুলোর দায়িত্ব পুরুষদের? অন্যদিকে ঘরের কাজ, শিশুর পরিচর্যা, বাড়ির দেখাশোনা এগুলো নারীদের দায়িত্ব। পুরুষদের কাজে কঠোরতা ও কষ্ট বেশি। আর নারীদের কাজে স্নেহ ও মায়া-মমতা বেশি। এ ছাড়াও সব সময়ই নারী পুরুষের অর্ধেক সম্পদ পায়, বিষয়টি মোটেও তা নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রেই একজন নারী পুরুষের চেয়ে বহুগুণ বেশিও পেয়ে থাকে। উদাহরণত, একজন ব্যক্তি এক স্ত্রী, এক কন্যা ও পিতা রেখে মারা গেল। এ ক্ষেত্রে কন্যা সম্পদের অর্ধেক পেয়ে লোকটির পিতার থেকেও অংশে অনেক বেশিই পেয়েছে।
📄 নারীদের সাক্ষ্যের মূল্যায়ন
সাক্ষ্য প্রদানের মাসআলার ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, সাক্ষী হিসাবে দুজন পুরুষ থাকবে। আর যদি দুজন পুরুষ সাক্ষী হিসাবে উপস্থিত না থাকে, তবে একজন পুরুষ ও দুজন নারীর সাক্ষ্যও যথেষ্ট হবে।
এ বিষয়ে কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে :
۞ وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْ فَإِن لَّমْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكَّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى
'আর তোমাদের মধ্যে দুজন পুরুষকে সাক্ষী রাখবে। কিন্তু যদি দুজন পুরুষ না থাকে, তাহলে তোমাদের পছন্দমতো সাক্ষীগণের মধ্যে একজন পুরুষ ও দুজন নারী যথেষ্ট। এটা এ জন্যই যে, নারীদ্বয়ের একজন ভুলে গেলে অপরজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।'
সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে নারীদ্বয়ের একজন ভুলে গেলে অপরজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে—এর কারণ বর্ণনার ক্ষেত্রে এ আয়াতটি পরিপূর্ণ। এটি সকল কারণকে একত্র করে ফেলেছে। কেননা, تَضِلُّ শব্দটির পরিব্যাপ্তি ব্যাপক। এটি ভুল, ভয়, লজ্জা ও হতবুদ্ধি হওয়ার সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে।
টিকাঃ
৩৯১. সুরা আল-বাকারা: ২৮২
৩৯২. সহিহুল বুখারি: ৭/১৫৯, হা. নং ৫৮৮৫
৩৯৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৬০ হা. নং ৪০৯৮
৩৯৪. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৬০ হা. নং ৪০৯৯
সাক্ষ্য প্রদানের মাসআলার ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, সাক্ষী হিসাবে দুজন পুরুষ থাকবে। আর যদি দুজন পুরুষ সাক্ষী হিসাবে উপস্থিত না থাকে, তবে একজন পুরুষ ও দুজন নারীর সাক্ষ্যও যথেষ্ট হবে।
এ বিষয়ে কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে :
۞ وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْ فَإِن لَّমْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكَّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى
'আর তোমাদের মধ্যে দুজন পুরুষকে সাক্ষী রাখবে। কিন্তু যদি দুজন পুরুষ না থাকে, তাহলে তোমাদের পছন্দমতো সাক্ষীগণের মধ্যে একজন পুরুষ ও দুজন নারী যথেষ্ট। এটা এ জন্যই যে, নারীদ্বয়ের একজন ভুলে গেলে অপরজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।'
সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে নারীদ্বয়ের একজন ভুলে গেলে অপরজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে—এর কারণ বর্ণনার ক্ষেত্রে এ আয়াতটি পরিপূর্ণ। এটি সকল কারণকে একত্র করে ফেলেছে। কেননা, تَضِلُّ শব্দটির পরিব্যাপ্তি ব্যাপক। এটি ভুল, ভয়, লজ্জা ও হতবুদ্ধি হওয়ার সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে।
টিকাঃ
৩৯১. সুরা আল-বাকারা: ২৮২
৩৯২. সহিহুল বুখারি: ৭/১৫৯, হা. নং ৫৮৮৫
৩৯৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৬০ হা. নং ৪০৯৮
৩৯৪. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৬০ হা. নং ৪০৯৯