📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 নবুওয়াতের যুগে ও খোলাফায়ে রাশিদার যুগে পরামর্শ

📄 নবুওয়াতের যুগে ও খোলাফায়ে রাশিদার যুগে পরামর্শ


পরামর্শ করাটা রাসুলুল্লাহ -এর সাধারণ অভ্যাস ছিল। তিনি পার্থিব বিষয়গুলো সাহাবায়ে কিরামের সামনে পেশ করতেন, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতেন এবং পরামর্শের ভিত্তিতে সঠিক ও নির্ভেজাল সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করতেন। রাসুলুল্লাহ তাঁর আশপাশে থাকা বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান ও প্রভাবশালী সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন। তিনি এটা করতেন সাধারণ ও বিশেষ উভয় বিষয়াদির ক্ষেত্রে। তাহলে একবার চিন্তা করে দেখুন, যুদ্ধ বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে অবস্থা কী ছিল?

উদাহরণস্বরূপ এখানে কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা সংগত মনে করছি:

• বদর যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ হাব্বাব বিন মুনজির -এর পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন। বদরে এসে রাসুলুল্লাহ প্রথমে অল্প পানিসম্পন্ন এক স্থানে অবস্থান নিলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে অবস্থানের জায়গা সম্পর্কে তোমরা পরামর্শ দাও। তখন হাব্বাব বিন মুনজির বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি এই জায়গা সম্পর্কে এবং এখানকার কূপগুলো সম্পর্কে অবগত আছি। আপনি যদি চান, তাহলে আমরা পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে একটি সমৃদ্ধ ও সুমিষ্ট কূপের নিকট যাব। সেটি হবে আমাদের অবস্থানস্থল। শত্রুপক্ষের আগেই সেখানে পৌঁছব এবং সেই কূপ ব্যতীত সকল কূপের পানি নষ্ট করে দেবো। তখন রাসুলুল্লাহ হাব্বাব -এর এই পরামর্শ গ্রহণ করলেন। কারণ, এটি ছিল যুদ্ধের জন্য খুবই উপযুক্ত ও সঠিক একটি পরামর্শ। এ ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, রাসুলুল্লাহ পরামর্শের মাধ্যমেই এই মতটি গ্রহণ করেছিলেন।

• উহুদের সময় রাসুলুল্লাহ সাহাবায়ে কিরাম -এর সাথে পরামর্শ করলেন যে, মদিনা থেকে বের হয়ে যুদ্ধ করবেন নাকি মদিনার ভেতরে থেকে যুদ্ধ করবেন। এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ -এর মত ছিল মদিনা থেকে বের না হয়ে ভেতরেই অবস্থান করা। আর যখন শত্রুপক্ষ মদিনায় প্রবেশ করবে, তখন গলির মুখে তাদের সাথে যুদ্ধ করবেন এবং নারী ও শিশুরা ঘরের ভেতরে ছাদের ওপর অবস্থান করবে। আর মূলত এটিই ছিল সঠিক মত। অন্যদিকে যে সকল সাহাবি বদর যুদ্ধে যেতে পারেনি, তারা পরামর্শ দিল মদিনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার এবং তারা এ ব্যাপারে রীতিমতো পীড়াপীড়ি করতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ তাদের আগ্রহ-উদ্দীপনা দেখে তাদের পরামর্শকে প্রাধান্য দিলেন এবং বাইরে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এখানে রাসুলুল্লাহ তাঁর আগ্রহের বিপরীত অধিকাংশ সাহাবি, বিশেষ করে যুবক সাহাবিদের আগ্রহ ও মতামত প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

• খন্দক যুদ্ধের সময় যখন সমস্ত মুশরিক এক হয়ে মুসলমানদের সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য মদিনায় আক্রমণ করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সাহাবায়ে কিরামের সাথে পরামর্শ করলেন। তখন সালমান ফারসি পরিখা খননের পরামর্শ দিলেন। যেন তা শত্রুদের মদিনায় প্রবেশের প্রতিবন্ধক হিসাবে দাঁড়ায়। তখন রাসুলুল্লাহ এই মত গ্রহণ করে পরিখা খননের আদেশ দিলেন এবং নিজেও খনন কাজে অংশগ্রহণ করলেন।

• অনুরূপভাবে রাসুলুল্লাহ বদরের যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারেও সাহাবায়ে কিরামের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। তখন আবু বকর বন্দীদের ব্যাপারে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেন। আর উমর তাদের হত্যা করার পরামর্শ দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ আবু বকর -এর মত গ্রহণ করলেন এবং মুক্তিপণের বিনিময়ে সবাইকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

টিকাঃ
৩৫২. সুরা আল-আনআম: ১০৬
৩৫৩. সুরা ইউনুস: ১০৯
৩৫৪. সুরা আল-আহজাব : ২

পরামর্শ করাটা রাসুলুল্লাহ -এর সাধারণ অভ্যাস ছিল। তিনি পার্থিব বিষয়গুলো সাহাবায়ে কিরামের সামনে পেশ করতেন, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতেন এবং পরামর্শের ভিত্তিতে সঠিক ও নির্ভেজাল সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করতেন। রাসুলুল্লাহ তাঁর আশপাশে থাকা বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান ও প্রভাবশালী সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন। তিনি এটা করতেন সাধারণ ও বিশেষ উভয় বিষয়াদির ক্ষেত্রে। তাহলে একবার চিন্তা করে দেখুন, যুদ্ধ বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে অবস্থা কী ছিল?

উদাহরণস্বরূপ এখানে কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা সংগত মনে করছি:

• বদর যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ হাব্বাব বিন মুনজির -এর পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন। বদরে এসে রাসুলুল্লাহ প্রথমে অল্প পানিসম্পন্ন এক স্থানে অবস্থান নিলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে অবস্থানের জায়গা সম্পর্কে তোমরা পরামর্শ দাও। তখন হাব্বাব বিন মুনজির বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি এই জায়গা সম্পর্কে এবং এখানকার কূপগুলো সম্পর্কে অবগত আছি। আপনি যদি চান, তাহলে আমরা পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে একটি সমৃদ্ধ ও সুমিষ্ট কূপের নিকট যাব। সেটি হবে আমাদের অবস্থানস্থল। শত্রুপক্ষের আগেই সেখানে পৌঁছব এবং সেই কূপ ব্যতীত সকল কূপের পানি নষ্ট করে দেবো। তখন রাসুলুল্লাহ হাব্বাব -এর এই পরামর্শ গ্রহণ করলেন। কারণ, এটি ছিল যুদ্ধের জন্য খুবই উপযুক্ত ও সঠিক একটি পরামর্শ। এ ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, রাসুলুল্লাহ পরামর্শের মাধ্যমেই এই মতটি গ্রহণ করেছিলেন।

• উহুদের সময় রাসুলুল্লাহ সাহাবায়ে কিরাম -এর সাথে পরামর্শ করলেন যে, মদিনা থেকে বের হয়ে যুদ্ধ করবেন নাকি মদিনার ভেতরে থেকে যুদ্ধ করবেন। এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ -এর মত ছিল মদিনা থেকে বের না হয়ে ভেতরেই অবস্থান করা। আর যখন শত্রুপক্ষ মদিনায় প্রবেশ করবে, তখন গলির মুখে তাদের সাথে যুদ্ধ করবেন এবং নারী ও শিশুরা ঘরের ভেতরে ছাদের ওপর অবস্থান করবে। আর মূলত এটিই ছিল সঠিক মত। অন্যদিকে যে সকল সাহাবি বদর যুদ্ধে যেতে পারেনি, তারা পরামর্শ দিল মদিনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার এবং তারা এ ব্যাপারে রীতিমতো পীড়াপীড়ি করতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ তাদের আগ্রহ-উদ্দীপনা দেখে তাদের পরামর্শকে প্রাধান্য দিলেন এবং বাইরে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এখানে রাসুলুল্লাহ তাঁর আগ্রহের বিপরীত অধিকাংশ সাহাবি, বিশেষ করে যুবক সাহাবিদের আগ্রহ ও মতামত প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

• খন্দক যুদ্ধের সময় যখন সমস্ত মুশরিক এক হয়ে মুসলমানদের সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য মদিনায় আক্রমণ করার জন্য অগ্রসর হচ্ছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সাহাবায়ে কিরামের সাথে পরামর্শ করলেন। তখন সালমান ফারসি পরিখা খননের পরামর্শ দিলেন। যেন তা শত্রুদের মদিনায় প্রবেশের প্রতিবন্ধক হিসাবে দাঁড়ায়। তখন রাসুলুল্লাহ এই মত গ্রহণ করে পরিখা খননের আদেশ দিলেন এবং নিজেও খনন কাজে অংশগ্রহণ করলেন।

• অনুরূপভাবে রাসুলুল্লাহ বদরের যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারেও সাহাবায়ে কিরামের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। তখন আবু বকর বন্দীদের ব্যাপারে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেন। আর উমর তাদের হত্যা করার পরামর্শ দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ আবু বকর -এর মত গ্রহণ করলেন এবং মুক্তিপণের বিনিময়ে সবাইকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

টিকাঃ
৩৫২. সুরা আল-আনআম: ১০৬
৩৫৩. সুরা ইউনুস: ১০৯
৩৫৪. সুরা আল-আহজাব : ২

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 পরামর্শ করার পদ্ধতি

📄 পরামর্শ করার পদ্ধতি


ইসলাম পরামর্শের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেয়নি যে, পরামর্শের ক্ষেত্রে তাদের সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে; বরং বিষয়টি তাদের ওপর স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়েছে, যাতে করে এটি তাদের জন্য সহজ হয়। আর ইসলামের একটি বড় মূলনীতি হলো, ইসলাম কঠোরতা ও সংকীর্ণতা চায় না; বরং মানুষ সহজভাবে জীবনযাপন ও ধর্ম পালন করবে, এটিই ইসলামের মূলনীতি।

এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ
'তিনি তোমাদের পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।'

আল্লাহ তাআলা বলেন:
يُرِيدُ اللهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ
'আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা চান না।'

আল্লাহ তাআলা বলেন :
هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنফُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى
'তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভালো জানেন, যখন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব, তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনি ভালো জানেন, কে তাকে ভয় করে চলে।'

টিকাঃ
৩৫৫. সুরা আল-হজ: ৭৮
৩৫৬. সুরা আল-বাকারা: ১৮৫
৩৫৭. সুরা আন-নাজম: ৩২
৩৫৮. সুরা আন-নিসা : ৪৯

ইসলাম পরামর্শের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেয়নি যে, পরামর্শের ক্ষেত্রে তাদের সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে; বরং বিষয়টি তাদের ওপর স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়েছে, যাতে করে এটি তাদের জন্য সহজ হয়। আর ইসলামের একটি বড় মূলনীতি হলো, ইসলাম কঠোরতা ও সংকীর্ণতা চায় না; বরং মানুষ সহজভাবে জীবনযাপন ও ধর্ম পালন করবে, এটিই ইসলামের মূলনীতি।

এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ
'তিনি তোমাদের পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।'

আল্লাহ তাআলা বলেন:
يُرِيدُ اللهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ
'আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা চান না।'

আল্লাহ তাআলা বলেন :
هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُزَكُّوا أَنফُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى
'তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভালো জানেন, যখন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব, তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনি ভালো জানেন, কে তাকে ভয় করে চলে।'

টিকাঃ
৩৫৫. সুরা আল-হজ: ৭৮
৩৫৬. সুরা আল-বাকারা: ১৮৫
৩৫৭. সুরা আন-নাজম: ৩২
৩৫৮. সুরা আন-নিসা : ৪৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px