📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 পরিচর্যাগত গুরুত্ব

📄 পরিচর্যাগত গুরুত্ব


বলা বাহুল্য, মানুষের মনের মাঝে অন্যের জন্য ভালোবাসা, অন্যের ভালো চাওয়া, অন্য কাউকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা, তার কাজগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করার প্রতি একটা স্বাভাবিক ঝোঁক থাকে। এমনিভাবে মানুষের মাঝে নিজের প্রতি আস্থা এবং সমাজের প্রতিও একটা আস্থা থাকে। তবে এমন সমাজের প্রতি, যে সমাজ সে মানুষকে নিজের পরামর্শ প্রদানের স্বাধীনতা দিয়ে থাকে। আর এ পরামর্শ প্রদানের স্বাধীনতা থাকার কারণে সেসব মানুষকে গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে সে মানুষটি সমাজের কল্যাণ কামনা, সমাজের উন্নতিকে গুরুত্ব প্রদান ও সমাজের বিভিন্ন কাজকে সঠিক পথে বাস্তবায়নের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকে।

কিন্তু যখন সমাজের কাউকে এমন সুযোগ না দেওয়া হয়, নিজের পরামর্শ বলার কোনো সুযোগ তার না থাকে, সমাজ তার উপকারী পরামর্শগুলো থেকে বঞ্চিত হয়—যেমনটি আমরা বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রে দেখে থাকি—সে সমাজের মাঝে তখন আত্মবিশ্বাসের কমতি দেখা দেয়, মানুষ নিজেকে নিয়ে তিক্ততা ও কষ্ট অনুভব করে, একপর্যায়ে সে অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে; এভাবে সে মানুষের কল্যাণকামিতার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বস্তুত, পরামর্শ-ব্যবস্থা না থাকার কারণে মানুষের পরিচর্যাগত দিকটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাহত হয়।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 সামাজিক গুরুত্ব

📄 সামাজিক গুরুত্ব


পরামর্শ প্রদানের সুযোগ থাকার কারণে একটি সমাজের সদস্যদের মাঝে মজবুত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে তাদের মাঝে পারস্পরিক বোঝাপোড়া ও ভালোবাসা দৃঢ় হয়। যার কারণে একটি সামাজিক কাঠামো হয় শক্ত ও প্রতিষ্ঠিত। সমাজটিকে মনে হবে শক্ত বাঁধনে বাঁধাই করা একটি সীসাঢালা প্রাচীর। অন্যদিকে পরামর্শ প্রদানের যদি সুযোগ না থাকে, তবে সমাজের সদস্যদের মাঝে দূরত্ব, সম্পর্ক বিনষ্ট হওয়া, তিক্ততা ও বিচ্ছিন্নতা ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মন-মানসিকতা থাকে বিভক্ত। ফলে তারা পর্যায়ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে বসে। তাদের মাঝে কল্যাণের মানসিকতা কমে আসে।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 রাজনৈতিক গুরুত্ব

📄 রাজনৈতিক গুরুত্ব


ইসলামি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দিকটির প্রতিষ্ঠা হলো উম্মাহর কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। যদি এতে পরামর্শ ও নসিহত প্রদানের নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে উম্মাহর প্রতিটি ভাগ, প্রতিটি সদস্যের প্রতিটি দিকের কল্যাণ সাধিত হয়। ফলে সকল মানুষই উত্তমকে গ্রহণ করতে পারবে, মন্দকে বর্জন করতে পারবে। এ রকম নীতি প্রতিষ্ঠার মাঝেই রয়েছে নিরাপদ ও শান্তিময় জীবনের নিশ্চয়তা। পরামর্শের সুযোগ থাকার ফলে শাসক ও শাসিতের মাঝে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে উভয় শ্রেণিই বিচ্ছিন্নতা ও কপটতার ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্ত জীবনযাপন করতে পারে। তাদের মাঝে আমিত্ববোধ, জোর-জবরদস্তি বা একচেটিয়া দখলের ভাব থাকে না। তাই শুরার রাজনৈতিক এ অতুলনীয় দিকটি কোনোমতেই পাশ কাটিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 অর্থনৈতিক গুরুত্ব

📄 অর্থনৈতিক গুরুত্ব


অভিজ্ঞজনের পরামর্শের ফলে অর্থনৈতিক দিকটি সমৃদ্ধ হবে। এতে বিভিন্ন ধরনের কল্যাণ নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্রের মাঝে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সুসংহত থাকবে। সাধারণ মানুষও নির্ঝঞ্ঝাট জীবনযাপন করতে পারবে। তাদের আর্থিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হবে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px